Year-19 # Issue-19 # 24 June 2012

বিমানে চলছে কোটি কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্য 
ইশতিয়াক হুসাইন, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে চলছে কোটি কোটি টাকার লেনদেন বাণিজ্য। দৈনিক ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া কর্মীদের অনেকটা জিম্মি করেই বিমানের মানবসম্পদ বিভাগের কতিপয় অসাধু  দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা  জনপ্রতি দুই হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা আদায় করছে। জীবিকার তাগিদে অসহায় কর্মীরা এই টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছে। আর এদের জিম্মি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বিমানের প্রভাবশালী একটি চক্র। এই নিয়োগ বাণিজ্যের অর্থের একটি বড় অংশ বিমানের শীর্ষ কর্তাব্যক্তিরাও পাচ্ছেন। কঠিন সব শর্ত দিয়ে এসব চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়। এই শর্তের একটু ব্যত্যয় ঘটলে চাকরিও হারাতে হয়। বাংলানিউজের অনুসন্ধানে এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে। এ বিষয়ে বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কেউ এ ধরনের অভিযোগ আনলে বিমান কর্তৃপক্ষ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে। বিমানের এ বক্তব্যের ব্যাপারে ভুক্তভোগী কর্মীরা জানান, যাদেরকে তারা অর্থ দিয়ে চাকরি নেন, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করবে এই সাহস কার? তবে বছরের পর বছর ধরে অস্থায়ী ভিত্তিতে চাকরি করার কারণে এসব কর্মীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে। এ নিয়ে যেকোনো সময় বড় ধরনের কোনো অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। হাজার হাজার টাকা দিয়ে চাকরি পেলেই রেহাই মেলে না বিমান কর্মীদের। শোকজ, পদোন্নতি, বদলি, বিভাগ পরিবর্তনের নামেই আদায় করা হয় বিপুল অংকের টাকা। পদে পদে এদের ওপর চাকরি হারানোর হুমকিও থাকে সারাক্ষণ। সূত্র জানায়, এই সিন্ডিকেটের প্রধান সদস্য বিমানের একজন পরিচালক। যিনি আবার রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন্সে চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন আহমেদের ডানহাত হিসেবে পরিচিত। বিমান সূত্র জানায়, ২০০৭ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিমানে অতিরিক্ত লোকবল রয়েছে এ অভিযোগ তুলে তা কমানোর নির্দেশণা দেয়। ওই বছরের জুলাই মাসে বিমান স্বেচ্ছায় অবসর প্রকল্পের আওতায় (ভিআরএস) ১৮৭৬ কর্মীকে ছাঁটাই করে। এরপরপরই বিমান ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের প্রায় অর্ধেক জনবলকে দৈনিক ভিত্তিতে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়। বর্তমানে ক্যাজুয়াল ও ডেইলি বেসিস (দৈনিক ভিত্তিতে) বিমানের ১৩৬৮ জন কর্মী কাজ করছে। জীবনের মাঝপথে এসে চাকরি হারানো কর্মীরা খড়কুটো ধরে বেঁচে থাকার মতো তখন দৈনিক ভিত্তিক চাকরিতে যোগ দেওয়াকেই শ্রেয় মনে করেন। বিমানের ফ্লাইট ক্যাটারিং শাখার এক কর্মী নাম না প্রকাশের শর্তে বাংলানিউজকে বলেন, মাঝ বয়সে এসে স্থায়ী চাকরি হারানোর কষ্ট কেউ বুঝবে না। ছেলে মেয়ে নিয়ে বেঁচে থাকতে তখন দৈনিকভিত্তিক নিয়োগেই চাকরি নিতে বাধ্য হই। আর এজন্য বিমানের উচ্চপদস্থদের ঘুষ দিতে হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিমানের মানবসম্পদ বিভাগই এসব নিয়োগ বাণিজ্যের কাজটি সম্পন্ন করে । চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের একটি বড় অংশ কাজ করে বিমানের ফ্লাইট ক্যাটারিং সেন্টারে (বিএফসিসি)। বিএফসিসিতে তিন ধরনের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ হয়। ৫৮ জন স্থায়ী বাদে বাকি ৩৩৮ জনই চাকরি করে চুক্তি ভিত্তিতে। এর মধ্যে প্রতি তিন মাস অন্তর, এক বছর অন্তর এবং দুই বছর অন্তর চুক্তি হয় কর্মীদের সঙ্গে। সূত্র জানায়, বিএফসিসিতে এই নিয়োগ বাণিজ্য চলে মানবসম্পদ বিভাগের আলী নিয়াজের মাধ্যমে। তিনি ১১ বছর ধরে এই পদে কাজ করছেন। আলী নিয়াজ নিজেও চুক্তিভিত্তিক হিসেবে চাকরি করেন। অথচ তিনি এই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাণিজ্যের অন্যতম হোতা। বিমানের পরিচালক, প্রশাসনের ঘনিষ্ট হওয়ায় তার ব্যাপারে কেউ কথা বলার সাহস করে না। আলী নিয়াজের মতো বিমানের ট্রান্সপোর্ট, কার্গোসহ প্রতিটি বিভাগের মানবসম্পদ বিভাগের মাধ্যমেই নিয়োগ বাণিজ্য চলে। সর্বশেষ বিএফসিসিতে চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ৮০ জনকে। এদেরকে কোনো নিয়মনীতি ছাড়াই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে অর্থের বিনিময়ে। আগে সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি, লিখিত পরীক্ষা, সাক্ষাৎকারসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষেই এসব নিয়োগ দেওয়া হতো। কিন্তু সাম্প্রতিককালে নিয়োগ পাওয়া ৮০ জনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের নিয়মনীতি মানা হয়নি।
বিমানের বক্তব্য:
এ বিষয়ে বিমান কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানের মহাব্যবস্থাপক খান মোশাররফ হোসেন বাংলানিউজকে জানান, সরকারের নির্দেশনা অনুসারেই বিমানের লোকবল কমানো হয়েছিল। কিন্তু চাহিদা থাকায় পরবর্তীতে ক্যাজুয়াল ও দৈনিক ভিত্তিতে লোকবল নিয়োগ করা হয়। তবে এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম কিংবা আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ সঠিক নয়। আর এর সঙ্গে বিমানের উচ্চ পর্যায়ের  কেউ জড়িত থাকার প্রশ্নই ওঠে না। কেউ এ ধরনের লেনদেনের অভিযোগও করেনি। আর সত্যিই যদি কেউ এ অভিযোগ বিমান ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের গোচরে আনে তাহলে এর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ব্যর্থ রাষ্ট্রের তালিকায় চার ধাপ সরলো বাংলাদেশ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
 রাষ্ট্র হিসেবে ব্যর্থতার তালিকায় কিছুটা উন্নতি করেছে বাংলাদেশ। ব্যর্থতার তালিকায় এবার বাংলাদেশ গতবারের চেয়ে চার ধাপ সরে এসে ২৯তম অবস্থানে।  গত বছর বাংলাদেশ ছিল ২৫তম অবস্থানে। তবে ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকা (রিস্কি ক্যাটাগরি) থেকে বের হতে পারেনি। গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ফান্ড ফর পিস তাদের ওয়েবসাইটে ব্যর্থ রাষ্ট্রের এ তালিকা প্রকাশ করেছে। প্রতি বছর তারা এ তালিকা প্রকাশ করে থাকে। গতবারের মতো এবারও তালিকার শীর্ষে থেকে ব্যর্থতম রাষ্ট্রের অপবাদটি ধরে রেখেছে সোমালিয়া। তালিকার ১৭৮টি দেশের মধ্যে ব্যর্থতার দিক থেকে ক্রমানুসারে প্রথম দশটি রাষ্ট্র হলো- গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গো, সুদান ও দক্ষিণ সুদান, শাদ, জিম্বাবুয়ে, আফগানিস্তান, হাইতি, ইয়েমেন, ইরাক ও মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র। এদিকে তালিকায় সূচকের দিক দিয়ে সবচেয়ে বেশি উন্নতি করেছে কিরগিজস্তান। ৪ দশমিক ৪ পয়েন্ট কমে গিয়ে এ বছর দেশটির সূচক ৮৭ দশমিক ৪ পয়েন্টে পৌঁছেছে। আর সবচেয়ে বেশি অবনতি হয়েছে লিবিয়ার। গত বছর লিবিয়ার অবস্থান ছিল ১১১তম আর এ বছর তা ৫০তম। ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে অবস্থানের দিক দিয়ে সবচে বেশি এগিয়েছে (অপবাদ ঘুচিয়েছে) কিউবা। গত বছরের ৮৬তম অবস্থান থেকে এবার তা ১০১তম অবস্থানে নেমে গেছে। অন্যদিকে এবারের তালিকায় পাকিস্তান, মিয়ানমার ও নেপালের তুলনায় অনেক বেশি বাংলাদেশ ভালোর দিকে সরে এসেছে।
পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর মধ্যে- ভারত ৭৮তম, পাকিস্তান ১৩তম, মিয়ানমার ২১তম, নেপাল ২৭তম, শ্রীলঙ্কা ২৯তম এবং মালদ্বীপ ৮৮তম অবস্থানে রয়েছে। সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ১২টি সূচকের ওপর ভিত্তি করে ব্যর্থরাষ্ট্রের এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এখানে প্রতিটি সূচকের মান ১০। সে হিসাবে মোট স্কোরিং পয়েন্ট ১২০। সূচকগুলো হলো- জনসংখ্যার চাপ, শরণার্থী-সমস্যা, জনগণের দুঃখ-দুর্দশা, মানুষের অবস্থার পরিবর্তন, অসম উন্নয়ন পরিকল্পনা, অর্থনৈতিক অবক্ষয়, সরকারের অবৈধতা, রাষ্ট্রপ্রদত্ত চাকরি-সুবিধা, মানবাধিকার, নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার অনুপস্থিতি, অভিজাতদের দলাদলি এবং বাইরের হস্তক্ষেপ। জনসংখ্যার চাপ, শরণার্থী বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট গুরুতর মানবিক বিপর্যয়, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া প্রতিহিংসা বা গোষ্ঠীগত দুঃখ-দুর্দশা ও অভিবাসন- এই চারটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে সামাজিক ক্ষেত্রের অবস্থা নির্ণয় করা হয়েছে। আর অসম অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের ভিত্তিতে অর্থনীতির অবস্থা নির্ণয় করা হয়েছে। রাজনৈতিক অবস্থা পরিমাপ করা হয়েছে  রাষ্ট্রে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি বা আইনের শাসনের অভাব, জনপ্রশাসনের অবনতি, আইনের স্বেচ্ছাচারী ব্যবহার ও মানবাধিকারের লঙ্ঘন, নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক ‘রাষ্ট্রের ভেতরে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা’, এলিট শ্রেণীর উত্থান এবং বহিঃশক্তির হস্তক্ষেপের ওপর ভিত্তি করে।
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান করে বলেন, আপনারা মায়ানমারের উপরে চাপ প্রয়োগ করুন। কেনো সেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে-কেনো সেখানে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির উপরে নির্যাতন চলছেÑতার প্রতিকারের জন্য মায়ানমার সরকারের উপরে চাপ প্রয়োগ করুন। আমাদের এই ১৬ কোটি জনসংখ্যা অধ্যুষিত ছোট দেশের উপর বাড়তি চাপ প্রয়োগ করবেন না। যদি রোহিঙ্গা শরণার্থিদের আশ্রয় দিতেই হয়, তাহলেÑমায়ানমারের প্রতিবেশি আরো যেসব দেশ আছে সেখানে আশ্রয় দেয়ার ব্যবস্থা করুন। মঙ্গলবার রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এক বিবৃতিতে এ কথা বলেন। এরশাদ বলেন, আমি গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি গত কিছুদিন ধরে প্রতিবেশি মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সৃষ্ট সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কারণে রোহিঙ্গা মুসলিমরা দেশ থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেবার চেষ্টা করছে। গত ৩ দশক ধরেই রোহিঙ্গা শরণার্থিরা আমাদের দেশে আশ্রয় নিয়ে আছে। এই সমস্যা সমাধান হতে না হতেই আবার নতুন করে রোহিঙ্গা শরণার্থি বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছে। আমি রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতন, নিপিড়নের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। সেইসঙ্গে রাখাইন প্রদেশে শান্তি, শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠিকে সুখে-শান্তিতে বসবাস করার সুযোগ প্রদানের জন্য মায়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই। বর্তমানে কোনো অবস্থাতেই বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রোহিঙ্গা শরণার্থিদের আশ্রয় দেবার সুযোগ আছে বলে আমি মনে করিনা। রোহিঙ্গা শরণার্থি প্রশ্নে বর্তমান সরকার যে নীতি গ্রহণ করেছে তা সঠিক ও যথার্থ বলে আমি মনে করি এবং আমি এব্যাপারে সরকারের পদক্ষেপ সর্বান্তকরণে সমর্থন করি।  রোহিঙ্গা শরণার্থি সমস্যা অনেক আগে থেকে আমাদের জন্য একটি বিষফোঁড়া হয়ে আছে। বছরের পর বছর ধরে আমাদের দেশে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থি রয়েছেÑতাদের ফেরত পাঠানোর কোনো ব্যবস্থা হচ্ছেনা। বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা আমাদের জনগোষ্ঠির সাথে মিশে গেছে। তারা এখানে বিভিন্ন ধরণের অপরাধের সাথে যুক্ত। এরা পরিচয় গোপন করে বাংলাদেশের পাসপোর্ট গ্রহণ করে বিদেশে যাচ্ছে। সেখানে বাংলাদেশী পরিচয়ে বিভিন্ন ধরণের অপরাধ করছে। তার জন্য বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হচ্ছে। তাই আমরা কোনো অবস্থায় আর রোহিঙ্গাকে আমাদের দেশে আশ্রয় দিতে পারিনা।

ইভিএম নিয়ে বিপাকে ইসি 
রহমান মাসুদ
ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা দেখছে না খোদ নির্বাচন (ইসি) কমিশন সচিবালয়। ইভিএমের মনোপলি ব্যবসা ও রাজনৈতিক দলগুলোর একমতে পৌছুঁতে না পারার কারণেই এ পরিকল্পনা ভেস্তে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইসির কর্মকর্তারা। নির্বাচন কমিশনের একাধিক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বাংলানিউজকে এ কথা জানান।  ইসি কর্মকর্তারা বলেন, ‘ইভিএমের মূল অন্তরায় ইভিএম সংগ্রহ। বর্তমানে দেশে যে ধরনের ইভিএম ব্যবহৃত হয় তা অত্যন্ত ব্যয়বহুল।’ এ বিষয়ে ইসি সচিব ড. মোহাম্মদ সাদিক বাংলানিউজকে বলেন, ‘যেখানে দেশে ৩০ হাজার টাকার মধ্যে ভালো মানের ল্যাপটপ পাওয়া যায়, সেখানে একটি ইভিএমের দাম রাখা হয় ৪৬ হাজার টাকা। এটা যৌক্তিক কি না বর্তমান কমিশন তা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’ ইসির অপর এক কর্মকর্তা বলেন, ‘বর্তমানে ইসির যে ইভিএমগুলো আছে তা রক্ষণাবেক্ষণই এখন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটা রক্ষণাবেক্ষণের জন্য অতিরিক্ত টাকা দাবি করেছে সরবরাহকারী সংস্থা বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি।’ তিনি বলেন, ‘কেবল ইভিএমের ব্যাটারি সরবরাহের জন্যই প্রতিষ্ঠান দু’টি বিরাট অংকের টাকা দাবি করেছে।’ এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ সম্প্রতি বাংলানিউজকে বলেন, ‘কেবল কাউকে মনোপলি ব্যবসা করার জন্য ইভিএম ব্যবহার করা হবে না।’ তিনি বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা একটি বিশাল কর্মযজ্ঞের ব্যাপার। এ জন্য বিশাল একটি রিসোর্স টিম তৈরি করা দরকার। যাতে যে কোন জায়গায় কোন সমস্যা দেখা দিলে তা দ্রুত সমাধান করা যায়।’ শাহনেওয়াজ বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের জন্য সবার আগে দরকার নিবন্ধিত দলগুলোর মধ্যে একমত হওয়া। কিন্তু এখন পর্যন্ত তা হয়নি।’ তিনি বলেন, ‘সারাদেশে ব্যবহারের জন্য যে পরিমানের ইভিএম মেশিন দরকার তা তৈরি করাও এখন দুরূহ ব্যাপার। এতো অল্প সময়ে তা করা সম্ভব কি না তাও ভেবে দেখা দরকার।’
ইসি সচিবালয় মতে, ইভিএম ব্যবহারের জন্য সর্বপ্রথম দরকার এ জন্য প্রচুর টাকার ব্যবস্থা করা। কোথা থেকে এ টাকা আসবে সেটাও ভেবে দেখতে হবে। এখনো সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ে ইসি সচিবালয়ের আলোচনা চূড়ান্ত হয়নি বলেও সূত্র জানায়। সূত্রমতে, আগামী নির্বাচনে যদি সারা দেশে ইভিএম ব্যবহার নাও হয় তার মানে এই নয় যে, নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার হবে না। ইসি সব সময়ই ইভিএম ব্যবহারের প্রস্তুতি নিয়ে রাখবে। এ জন্য ইভিএমের সম্ভাব্য উৎসের খোঁজ চলছে।’ এ ক্ষেত্রে অধিক প্রযুক্তি সম্পন্ন, আর্থিকভাবে সাশ্রয়ী এবং ব্যবহার সহজ ও গ্রহণযোগ্য ইভিএমের সন্ধান করা হচ্ছে।
ইসি সূত্র জানায়, বর্তমান কমিশন দায়িত্ত নেওয়ার পরই আগের কমিশনের ইভিএম নিয়ে মাতামাতির বিপক্ষে অবস্থান নেয়। বর্তমান কমিশনের হাতে শুরুতেই হুদা কমিশনের ইভিএম ক্রয়ে কিছু দুর্নীতি নজরে আসে। ১৯ জুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রাকিবউদ্দীন আহমদ এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘হুদা কমিশনের কিছু অনিয়ম আমাদের নোটিশে এসেছে, আমরা তা খতিয়ে দেখবো।’ বর্তমানে ব্যবহৃত ইভিএমের কিছু দুর্বলতা ও বর্তমান কমিশনের নজরে এসেছে বলেও জানা গেছে।ডাচ-বাংলার বিকল এটিএম, গ্রাহক ভোগান্তি চরমে
সাইদ আরমান

ডাচ-বাংলা ব্যাংকের (ডিবিবিএল) এটিএম বুথের বেশির ভাগই বিকল। এসব বুথ থেকে টাকা তুলতে গিয়ে ব্যাংকটির গ্রাহকরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের সমস্যা সমাধানে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। তাই গ্রাহকরা দিন দিন ফুঁসে উঠছেন। ডাচ-বাংলা ব্যাংকের অনিয়ম ও প্রতারণামূলক ব্যাংকিং নিয়ে অনলাইন নিউজপোর্টাল বাংলানিউজে প্রতিবেদন প্রকাশের পর অনেক গ্রাহক তাদের আর্থিক ক্ষতি, ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হওয়ার কথা লিখিতভাবে, ই-মেইলে এবং টেলিফোনে জানিয়েছেন বাংলানিউজকে। তারা এব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। জানা গেছে, বর্তমানে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ব্যাংকের প্রায় ২৩ লাখ ৫০ হাজার গ্রাহক এবং এটিএম বুথের সংখ্যা দুই হাজার ৭৯টি। আর কোনো ব্যাংকের এই পরিমাণন এটিএম বুথ নেই। কিন্তু এসব বুথ ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা নেই ব্যাংকটির। নেই প্রযুক্তিগত সামর্থ্যও। ফলে প্রতি দুটি বুথের একটি বিকল থাকছে নানা কারণে। ফলে গ্রাহকদের এক বুথ থেকে অন্য বুথে দৌড়াতে হয়। শেষ পর্যন্ত টাকা উত্তোলন করা নিয়েও অনিশ্চয়তা থাকে। এমন তিক্ত অভিজ্ঞতা প্রায় সব গ্রাহকের। গ্রাহকরা জানাচ্ছেন, টাক থাকে না, কখনো নেটওয়ার্ক থাকে না, মেশিন বিকল বা কার্ড রিড হয় না--এসব কারণে বেশির ভাগ বুথ থেকে তারা সেবা পাচ্ছেন না। অকার্যকর থাকে। ফলে যে আশা নিয়ে তারা এই ব্যাংকে হিসাব খুলেছিলেন তার কোনো সুফল নেই। ডাচ বাংলা ব্যাংকের হিসাবধারী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ শিক্ষার্থী মো. ফেরদৌস আলম। কথা হয় তার সঙ্গে। ‘ভাই পরীক্ষার ফিসহ আনুষঙ্গিক ফি দিতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের। বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে বাংলাবাজারে ডাচ-বাংলার এটিএম বুথে গিয়ে দেখি বন্ধ। তারপর গেলাম ভিক্টোরিয়ে পার্কের কাছে। কর্তব্যরত দারোয়ান জানান, টাকা নেই। গেলাম আহসান মঞ্জিল সংলগ্ন একটি বুথে। দেখি বন্ধ। কিন্তু টাকা তো লাগবেই।’
তিনি জানান, ছাত্র হিসাব থাকায় কোনো চেক বই নেই তার। লেনদেন করতে হয় কার্ডের মাধ্যমে। তাই কোনো উপায় নেই। শেষ পর্যন্ত বাবুবাজারে ডাচ-বাংলার শাখায় প্রায় তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করে টাকা উত্তোলন করেন ফেরদৌস। কিন্তু ততক্ষণে ফি জমা নেওয়ার সময় শেষ হয়ে গিয়েছিল। তার মতো অসংখ্য গ্রাহক প্রতিনিয়ত হয়রানি হচ্ছেন ডাচ-বাংলার এটিএম বুথে টাকা তুলতে গিয়ে। ডিবিবিএল গ্রাহক আকাশ জানান, শুধু যে বুথ বিকল থাকে তা নয়, ছেড়া টাকা, জাল টাকা পর্যন্ত পাওয়া যায়। তিনি বলেন, ‘আমি মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডের কাছে একটি বুথ থেকে নিয়মিত টাকা তুলি। কিন্তু সেখানে ছেড়া টাকা দেওয়া হয়। ফলে তা চালানো কষ্ট হয়। লোকজন নিতে চায় না। মাঝখান থেকে আমাকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। জাল টাকাও পেয়েছি আমি।’ সরেজমিনে একাধিক এটিএম বুথ ঘুরে বাংলানিউজ এর সত্যতা পেয়েছে। অনেক এটিএম বুথের প্রহরী বুথের কাছে যেতেই বলেন, ‘স্যার টাকা নেই।‘ আবার কেউ বলছেন, ‘নেটওয়ার্ক নেই।’ দায়িত্ব পালনরত একাধিক বুথের প্রহরী বাংলানিউজকে বলেন, ‘বুথগুলো অনেক সময়ই ঠিক থাকে না। ফলে যারা টাকা তুলতে এসে ঘুরে যান তারা আমাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন। গালিগালাজ করেন। কিন্তু আমাদের কিছু করার নেই। আমরা কর্তৃপক্ষকে জানালে বলেন, সমস্যা একটু আকটু থাকবেই।’ এদিকে ফার্স্ট ট্র্যাকের বুথগুলো নিয়ে গ্রাহকদের রয়েছে আরও বাজে অভিজ্ঞতা। এসব বুথে একজন গ্রাহক টাকা জমা দিতে পারেন। সকালে টাকা জমা দিলে সেদিন বিকেলের মধ্য টাকা হিসাবে জমা হওয়ার কথা জানানো হয়। কিন্তু অনেক গ্রাহক জানাচ্ছেন, টাকা সময়মতো জমা হচ্ছে না। আবার সেখানে গিয়ে টাকা জমা নিশ্চিত করতে হয়।
ডাচ-বাংলার অন্যায় ব্যাংকিং, অভিযোগ অব্যাহত
সাইদ আরমান

ডাচ-বাংলা ব্যাংকের (ডিবিবিএল) অন্যায্য ও অন্যায় ব্যাংকিংয়ের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে। বুধবারও গ্রাহকরা ই-মেইল ও ফোনে ব্যাংকটির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করেছেন। গত কয়েকদিন ধরে ভুক্তভোগী গ্রাহকরা বাংলানিউজে ফোন করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। গত ১৭ জুন বাংলানিউজে ‘গ্রাহকদের অতিরিক্ত ৫০০ কোটি টাকা নিচ্ছে ডাচ-বাংলা’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করার পর এ নিয়ে ব্যাংকপাড়া এবং এর গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। এরপর গ্রাহকদের প্রতিক্রিয়াসহ আরও কয়েকটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় বাংলানিউজে।
আরও অভিযোগ
তাজুল ফাত্তাহ নামের একজন পাঠক ডাচ-বাংলাকে ‘ডাকাত-বাংলা’ বলে ভর্ৎসনা করেছেন। ব্যাংকটির সমালোচনা করে তিনি প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য বাংলানিউজকে ধন্যবাদ জানান। তাজুল অভিযোগে করে বলেন, ‘ব্যাংকটি এটিএম বুথের চার্জ নেয় বেশি। অথচ প্রায় সব সময়ই বুথ নষ্ট থাকে। কিন্তু কে শুনে কার কথা, কে দেখে কার দুঃখ!’ বাংলানিউজ পাঠক চাকরিজীবী মোহাম্মদ বেলাল আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘অনুগ্রহ করে, সব কাস্টমারের পক্ষে আপনারা হাইকোর্টে রিট পিটিশন করুন।’ রনজু মিয়া নামের আরেকজন বাংলানিউজের ডাচ-বাংলার বিরুদ্ধে সাহসী প্রতিবেদনের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং এ ধরনের প্রতিবেদন অব্যাহত রাখার অনুরোধ করেন। লন্ডন থেকে বাংলানিউজের পাঠক সুমন আহমেদ জানান, তিনি তার মাকে লন্ডনে নেওয়ার সময় ডিবিবিএলের একটি কনফারমেশন লেটার আনতে যান। সেজন্য ব্যাংকটি তার কাছ থেকে ২০০ টাকা চার্জ নেয়। এছাড়া প্রতি মাসেই বিভিন্ন কারণে তারা চার্জ নেয়। এভাবে অন্যায় ব্যাংকিং করে তারা। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘ব্যাংকটি সাধারণ মানুষের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।’ বাংলানিউজের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আশা করি, আপনারা বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ও অর্থমন্ত্রীর কাছে বিষয়টি তুলে ধরবেন।’ ডাচ-বাংলা ব্যাংকের সঞ্চয়ী হিসাবধারী ওমর ফারুক বাংলানিউজে পাঠানো ইমেইল বার্তায় বলেন, ‘ডাচ-বাংলা ব্যাংকের গ্রাহক প্রতারণা নিয়ে রিপোর্টের জন্য আপনাদের অসংখ্য ধন্যবাদ। দুইটি জায়গায় ডাচ বাংলা ব্যাংক গ্রাহকদের কাছ থেকে অযৌক্তিকভাবে টাকা কেটে নিচ্ছে। এই বিষয়ে আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’ ওমর ফারুকের মতে দুটি অযৌক্তিক খাত:
১. ইন্টারনেট ব্যাংকিং
বেশির ভাগ বেসরকারি ব্যাংক ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবা চালু করেছে। এ সেবার মাধ্যমে একজন গ্রাহক ঘরে বসেই লগ-ইন করে হিসাব বিবরণী দেখা, ফান্ড ট্রান্সফারসহ অনেক ধরনের ব্যাংকিং কাজ করতে পারেন। বাংলাদেশের প্রতিটি ব্যাংক এই সেবা দিচ্ছে বিনামূল্যে, শুধু ডাচ-বাংলা ব্যাংক ছাড়া। ডাচ-বাংলা ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের জন্য গ্রাহকদর কাছ থেকে বছরে ২৩০ টাকা কেটে নেয়, অন্য কোনো ব্যাংক এ জন্য কোনো টাকা নেয় না।
২. এটিএম মিনি স্টেটমেন্ট ফি
এটিএম বুথ থেকে টাকা তুললে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর প্রতিটি ব্যাংক একটি মিনি স্টেটমেন্ট দেয়, যেখানে উত্তোলন করা টাকার পরিমাণ ও ব্যালেন্স উল্লেখ থাকে। বাংলাদেশ ও পৃথিবীর অন্য কোনো ব্যাংক এজন্য টাকা টাকা কাটে না। কেবল ডাচ-বাংলা প্রতিবার তিন টাকা করে কেটে নেয়। তিনি ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের কালের কণ্ঠসহ অন্য পত্রিকাগুলোয় এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের অনুরোধ করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বাংলানিউজ পাঠক ও ডাচ-বাংলার গ্রাহক তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘সম্প্রতি আপনারা ডাচ-বাংলা ব্যাংকের অতিরিক্ত চার্জ আদায় নিয়ে বেশ সাহসী প্রতিবেদন দিচ্ছেন। এজন্য আমাদের (গ্রাহক) তরফ থেকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আসলে সব গ্রাহকই এসব অতিরিক্ত চার্জের কারণে ক্ষুদ্ধ। কিন্তু সংবাদ মাধ্যমে এসব না আসলে কখনই টনক নড়বে না। আশা করি, সত্য প্রকাশে আপনারা এভাবেই অবিচল থাকবেন।’ ‘এখানে আমি একজন Bগ্রাহকের এক বছরে নানা রকম কর্তিত চার্জের নমুনা দিচ্ছি। আশা করি, এগুলো প্রকাশ করবেন। তবে আমি নাম প্রকাশে ইচ্ছুক না।’
*/2011 (A/C) Excise Duty - 2011 - SB Account 350.00
*/2011 (A/C) ATM Network Fee withVAT for-2011 230.00
*/2011 (A/C) Nexus Card Renewal Fee with VAT-Dec-11 460.00
*/2011 (A/C) Half Yearly SC and VAT - Dec 2011 345.00
*/2011 (A/C)IB Annual Fee for SEP-2011 to AUG-2012 200.00 *
রমজান না আসতেই বাড়ছে ভোজ্যতেল ও ডালের দাম
মফিজুল সাদিক
 রমজান না আসতেই বাজারে হু হু করে ভোজ্যতেল এবং ডালের দাম বাড়তে শুরু করেছে। তবে কমেছে চিনির দাম। রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে গত ১ সপ্তাহের ব্যবধানে এই সমস্ত জিনিসের দাম বাড়তে শুরু করেছে। ভোজ্যতেলের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে লিটার প্রতি বেড়েছে ২ টাকা করে। ১ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৩২ থেকে ১৩৪ টাকা লিটার। ১ সপ্তাহ আগে ৫ লিটার বোতলজাত তেলের দাম ছিল ৬৬০ টাকা এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৭০ টাকা। অপরদিকে, বিভিন্ন ধরনের ডালের দামও চড়া। মশুর ডাল বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ১০৬ থেকে ১১০ টাকা কেজি যা এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে ৬ থেকে ১০ টাকা করে। সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে ছোলার। ছোলা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭৫ থেকে ৮০ টাকায়।
কেজি প্রতি খেসারির ডাল বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকা থেকে ৫০ টাকা । মুগ ডাল বিক্রি হচ্ছে ১০৮ টাকা থেকে ১১০ টাকা করে। তবে মুরগির দাম স্বাভাবিক রয়েছে। কেজি প্রতি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৭৫ টাকা থেকে ১৮০ টাকা দরে।
১ টি ৮শ গ্রামের দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৪০ থেকে ২৫০ টাকা। প্রতিটি ৮শ গ্রাম পাকিস্তানি কক মুর্গি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা থেকে ১৯০ টাকা, লেয়ার কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে একই দরে। গরুর মাংস কেজি প্রতি ২৭০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে, খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৪২০ টাকা করে। তবে ডিমের দাম আগের সপ্তাহের মতোই রয়েছে। সাদা ডিমের হালি ৩৮ টাকা, লাল ডিম ৩৮ টাকা, দেশি মুরগির ডিম ৪০ টাকা হালি বিক্রি হচ্ছে। তবে রমজানের প্রয়োজনীয় পণ্যের মধ্যে কমেছে চিনির দাম। যা এখন বিক্রি হচ্ছে ৫২-৫৪ টাকা কেজি দরে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে এটি ছিল ৫৮ থেকে ৬০ টাকা। নতুন চালের দাম কমলেও পুরান চালের দাম এখন আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি ধরনের চাল বিক্রি হচ্ছে ২৮ টাকা থেকে ৩০ টাকা। নাজিরশাইল কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৩৬ থেকে ৪০ টাকায়। মিনিকেট নতুন চাল বিক্রি হচ্ছে ৩৮ টাকা এবং পুরান মিনিকেট ৪০ টাকা। সবজির দাম বেড়েছে। পটল বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ২৮-৩০ টাকা, করলা ৩৫-৪০, গাজর ৩৫ টাকা, আলু ২২, বরবটি ৩০, বেগুন ৪০, গাজর ৩৫, চিচিংগা ২৫ থেকে ২৮ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে পেঁপের দাম কমেছে এখন কেজিপ্রতি ২৫-৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
কারখানা ভাঙচুরে জড়িতদের সরকার খুঁজে বের করবে না: নজরুল
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
 ‘আশুলিয়ায় তৈরি পোশাক কারখানা ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের সরকার খুঁজে বের করবে না’ বলে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও শ্রমিক নেতা নজরুল ইসলাম খান। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বুধবার সকাল ১১টায় জাতীয়তাবাদী কৃষক দল আয়োজিত মানববন্ধনে দেওয়া প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ সংশয় প্রকাশ করেন। এ সময় আশুলিয়ায় শ্রমিক অসন্তোষ ও তৈরি পোশাকের কারখানা ভাঙচুরে সরকারের লোকেরাই জড়িত বলে অভিযোগ তুলে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্য দায়ীদের শাস্তি দেওয়ারও দাবি জানান নজরুল। তিনশ’ কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গার্মেন্টস শিল্পের ভবিষ্যত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘কোন শ্রমিক তার কারখানা ভাঙচুর করতে পারে বলে বিশ্বাস করি না। কারণ কারখানা তার (শ্রমিক) রুটিরুজি। কারা এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী তাদের খুঁজে বের করতে হবে। কিন্তু সরকার তাদের খুঁজে বের করবে না। কারণ, সরকারের লোকেরাই এতে জড়িত। তাদের শাস্তি দিতে হবে।’ অবিলম্বে বন্ধ কারখানা খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘গার্মেন্টস শিল্প আজ হুমকির মুখে। জীবনযাত্রার ব্যয় ২৫ শতাংশ বেড়ে গেছে। এর মানে ২৫ শতাংশ মজুরি কমে গেছে। তাই শ্রমিকদের বেতন বাড়ার দাবি ন্যায়সঙ্গত। আলোচনার মাধ্যমে এর সমাধান করতে হবে।’
কৃষিজীবীদের পক্ষে কাজ করার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিনামূলে সার দেবে বলে সরকার ফের সারের দাম বাড়িয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে দেশে আবারো দুর্ভিক্ষ আসবে। আবারো মানুষ আস্তাকুঁড়ে থেকে খাবার কুড়ে খাবে। আসমানিরা জাল দিয়ে লজ্জা নিবারণ করবে। এ পরিস্থিতিতে যেন পড়তে না হয়।’ ‘কৃষকদের নিরুৎসাহিত করার ফলে তারা উৎপাদনে উৎসাহ হারিয়ে ফেলবে’ মন্তব্য করে ‘অর্থনীতি আমদানি নির্ভর হয়ে যাবে’ বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন নজরুল ইসলাম খান। ‘কৃষিজীবী মানুষ বিগড়ে গেলে সরকারের জন্য সেটা ভালো হবে না’ বলেও সতর্ক করেন তিনি। নজরুল ইসলাম খান আরো অভিযোগ করেন, ‘দু’মাসের বেশি হলেও ইলিয়াস আলীর সন্ধান নাই। কারাফটক থেকে নেতাদের ফের আটক করা হয়। আদালত ছেড়ে দিলেও সরকার তাদের আটকে রাখে।’ কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ, জাতীয় বাজেট ভর্তুকি ও বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি, বিএনিপির সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীর সন্ধান, বিএনপি নেতা খায়রুল কবীর খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মীর শরাফত আলী সপু, সাইফুল আলম নীরব, আমীরুল ইসলাম খান আলীম, আজিজুল বারি হেলাল, ছাত্রদল নেতা আনিসুর রহমান খোকন, কৃষক দল নেতা লুৎফর রহমানসহ সকল রাজবন্দির মুক্তির দাবিতে এ মানবন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপি চেযারপারসনের উপদেষ্টা ও কৃষক দল নেতা শামসুজ্জামান দুদুর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান।
সংলাপ করতে হলে সংসদে আসতে হবে: সুরঞ্জিত
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বিরোধী দলকে উদ্দেশ্য করে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ও দপ্তরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত বলেছেন, “সংলাপ যদি করতে হয়, তবে সংসদে আসতে হবে। সংলাপের নামে এতোদিন যে প্রলাপ বকেছেন তা নয়, সংলাপ করতে হবে সমঝোতার জন্য। সংসদকে জিম্মি করে কখনও সংলাপ করা সম্ভব নয়। এজন্য সংসদকে শক্তিশালী করতে হবে।” প্রবীণ রাজনীতিবিদ বাহাউদ্দিন চৌধুরী ও ভাষা সৈনিক গাজীউল হক স্মরণে মঙ্গলবার আইডিইবি মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু একাডেমি আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সুরঞ্জিত বলেন, “বিরোধী দলীয় নেতা হচ্ছেন দেশের বিকল্প প্রধানমন্ত্রী। আপনারা রাস্তার বিরোধী দল নন, আপনারা হচ্ছেন অপোজিশন ইন পার্লামেন্টস। সংসদে যাদের প্রতিনিধিত্ব নেই, সভা-সমাবেশের মাধ্যমে তারা তাদের দাবি তুলে ধরবে। আপনারা যেহেতু সাংবিধানিক বিরোধী দল, তাই জঙ্গিবাদী গোষ্ঠীর দায় থেকে মুক্ত হয়ে সংসদে এসে গণতন্ত্রের দাবি নিয়ে কথা বলুন।” বিচার বিভাগ নিয়ে স্পিকারের রুলিং সম্পর্কে সুরঞ্জিত বলেন, “বিচার বিভাগ অবশ্যই সংবিধান লঙ্ঘন করেছে। এ বিষয়ে স্পিকারের রায় আইন সভার সর্বোচ্চ রায়। এটা সকলের জন্য প্রযোজ্য। তিনি যে রায় দিয়েছেন, সে রায় সকলকে নির্দিধায় মানতে হবে। জাতীয় সংসদের শিষ্টাচারে এই রায়ে রিভিউ করার কোনো সুযোগ নেই।” গণতন্ত্র নিয়ে বিরোধী দলের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে সুরঞ্জিত বলেন, “গণতন্ত্র গেল বলে চিৎকার করার কিছু নেই। গণতন্ত্রে আলোচনা হবে, কন্ট্রাডিকশন হবে। এভাবেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পাবে।”
রোহিঙ্গা প্রসঙ্গ নিয়ে সুরঞ্জিত বলেন, “রোহিঙ্গাদের নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এটা সাহসী, দেশপ্রেমী ও কার্যকরি সিদ্ধান্ত। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, কিছু বিদেশি গণমাধ্যম এটাকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করছে। তাদের কাছে মিয়ানমারের বিষয়টি নয়, রোহিঙ্গাদের কেন বাংলাদেশে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না- এটাই এখন বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।” গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “দেশের সবাই এখন দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে। সেখানে একমাত্র বিশ্বাসের জায়গা হচ্ছে গণমাধ্যম। অবিশ্বাসের মরুভূমিতে গণমাধ্যমই পারে আমাদের বিশ্বাসের ফুল ফোটাতে।” বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল এমপি বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ঠিক করতে হলে বিরোধী দলকে অবশ্যই আলোচনায় বসতে হবে। নিরপেক্ষ নির্বাচনের দোহাই দিয়ে বিরোধী দল যে কর্মসূচি দিচ্ছে, তা কোনোভাবেই জনগণ গ্রহণ করবে না। আওয়ামী লীগই একমাত্র অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।” জলিল বলেন, “জাতির এই ক্রান্তিকালে ঐক্যমতের প্রয়োজন। ঐক্যমতের ভিত্তিতেই আগামী নির্বাচন করতে হবে। আর এর মাধ্যমেই আমরা জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করব।” সংগঠনের সহ-সভাপতি ফাতেমা জাহান সাথীর সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেন পল্টু। বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ফয়েজ উদ্দিন মিয়া, কৃষক লীগের সাংগাঠনিক সম্পাদক এমএ করীম, বঙ্গবন্ধু একাডেমির মহাসচিব হুমাযূন কবীর মিজি প্রমুখ।
এমিরেটস ইনফ্লাইট বিনোদন ব্যবস্থা এখন আরো উন্নত
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

এমিরেটস এয়ারলাইন ইনফ্লাইট বিনোদন ব্যবস্থাকে আরো আকর্ষণীয় ও উপভোগ্য করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে নতুন বোয়িং ৭৭৭ বিমানগুলোতে সব শ্রেণীর যাত্রীদের জন্য বড়, প্রশস্ত ও উন্নত ডিজিটাল টিভি স্ক্রিন সংযোজন করেছে। এখন এমিরেটস যাত্রীরা প্রথম শ্রেণীতে ২৭ ইঞ্চি, বিজনেস শ্রেণীতে ২০ ইঞ্চি ও ইকোনমি শ্রেণীতে ১২.১ ইঞ্চি টিভি পর্দায় এয়ারলাইনটির পুরস্কার বিজয়ী বিনোদন প্রোগ্রাম উপভোগ করার সুযোগ পাচ্ছেন। এছাড়াও প্যানাসনিক এভিওনিক্স কর্পোরেশন কর্তৃক উদ্ভাবিত হাই ডেফিনেশন (এইচডি) রেজুলেশনসমৃদ্ধ এই টিভি পর্দাগুলোতে ভিডিও চিত্র আরো উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত দেখাবে। যাত্রীদের ব্যবহারের সুবিধার্থে এমিরেটস তাদের ইনফ্লাইট বিনোদন ব্যবস্থায় ইতোপূর্বে প্যানাসনিকের গ্রাফিকাল ইউজার ইন্টারফেস (জিইউআই) সংযোজন করেছে। ফলে যাত্রীরা অতি সহজে ‘সোয়াইপিং’ বা ‘স্ক্রলিং করে ১৩০০টির অধিক চ্যানেলের মাধ্যমে নিজের পছন্দনীয় প্রোগ্রাম বেছে নিতে পারছেন। এছাড়াও এসএমএস ও ইমেল পাঠানো, চলমান মানচিত্র অবলোকন, ইনফ্লাইট ল্যান্ডস্কেপ ক্যামেরার ব্যবহার, সর্বশেষ সংবাদসহ অন্যান্য সুবিধা ভোগ করার সুযোগ পাচ্ছেন যাত্রীরা। শিশুদের কাছে এমিরেটস ফ্লাইটগুলোকে আরো উপভোগ্য আকর্ষণীয় করার লক্ষ্যে খুব শিগগিরই ইনফ্লাইটে স্কুলগামী ও স্কুলপূর্ব শিশুদের জন্য নতুন খেলনা সামগ্রী সংযোজন করা হচ্ছে।
কালো তালিকা থেকে বের হচ্ছে বাংলাদেশ
ইশতিয়াক হুসাইন

ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিশেন অর্গানাইজেশন (আইকাও) প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফরে আসছে মঙ্গলবার। আইকাও প্রতিনিধি দল এর আগে তাদের দেওয়া সুপারিশগুলো বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) বাস্তবায়ন করেছে কিনা তা খতিয়ে দেখতেই এ সফরে আসা। ২০০৯ সালে ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিশেন অর্গানাইজেশন (আইকাও) বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) কার্যক্রমে নানা অসঙ্গতির কারণে বাংলাদেশকে নিরাপত্তা উদ্বেগের বিষয়ে সিগফিকেন্ট সেফটি কনসার্নের (এসএসসি) তালিকাভুক্ত করে। যা বিমান চলাচল ব্যবসায় কালো তালিকা হিসেবে ধরা হয়। তালিকাভুক্ত করার পর এ তালিকা থেকে বের হওয়ার জন্য আইকাও বেবিচককে কয়েকটি সুপারিশ দেয়। বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) বলছে, আইকাও’র সুপারিশ অনুযায়ী সব ধরনের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। তাই এবার তারা এ কালো তালিকা থেকে বের হয়ে আসতে পারবে। দুই সদস্যের একটি আইকাও পরিদর্শক দল মঙ্গলবার এলেও ২১ থেকে ২৭ জুন পর্যন্ত বেবিচকের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করবে তারা। প্রতিনিধি দল মূলত ৫টি বিষয়ে আলাদাভাবে পরিদর্শন করবে। এর মধ্যে রয়েছে এয়ার ওয়ার্দিনেস, লাইসেন্স প্রদান, অপারেশনাল কার্যক্রম, অর্গানোগ্রাম ও এভিয়েশনের বিভিন্ন নিয়ম কানুন। আইকাও থেকে এ ৫টি বিষয়ে ৩৯টি পর্যবেক্ষণে ৩০৪টি প্রশ্ন দেওয়া হয়েছে বেবিচককে। সে প্রশ্নগুলোর উত্তর যথাযথভাবে দিতে পারলেই বাংলাদেশ আইকাও’র কালো তালিকা থেকে বের হতে পারবে। প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ এর বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করবে। পরিদর্শকরা আইকাও প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে ২ থেকে ৬ সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট দিবে। জানা গেছে, আইকাওয়ের চাহিদা অনুযায়ী এয়ার ওয়ার্দিনেসের ক্ষেত্রে বেবিচক এরই মধ্যে একটি পরিকল্পনা ছক তৈরি করেছে। এই ছকের মাধ্যমেই চলতি মাস থেকে কাজ শুরু করেছে।  অর্গানোগ্রাম ও এভিয়েশনের আইন তৈরি করে অনুমোদনের জন্য যথাক্রমে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং আইন মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া লাইসেন্স প্রদান ও অপারেশনাল কার্যক্রম নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে। এর জন্য আইকাওয়ের নির্দেশ অনুযায়ী প্রায় ২০টির মত ম্যানুয়েল তৈরি করেছে বেবিচক। ইতিমধ্যে  বিমান সংস্থাগুলোর এয়ার অপারেশন লাইসেন্স নিয়ে যেসব ত্রুটি ছিল সেগুলো ঠিক করা হয়েছে। কয়েকটি বিমান সংস্থার লাইসেন্স, এয়ার ওয়ার্দিনেস সার্টিফিকেট ও এয়ার ট্রান্সপোর্ট অপারেশনাল লাইসেন্স (অ্যাটল) সংশোধন করা হয়েছে। এসব কাজ পর্যবেক্ষণের জন্য বেবিচক গত এপ্রিল মাসে আইকাও থেকে একজন বিশেষজ্ঞ এনেছিল। সেই পর্যবেক্ষকের রিপোর্টও ইতিবাচক। এ প্রসঙ্গে বেবিচকের পরিচালক (সেফটি অ্যান্ড রেগুলেশন) উইং কমান্ডার এস এম নাজমুল আনাম বলেন, “আমরা সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। এখন আইকাওয়ের পরিদর্শন  দলের অপেক্ষায় রয়েছি। আশা করি আমরা পরিদর্শকদের খুশি করতে পারবো।” এদিকে এসএসসিতে থাকার ফলে আমেরিকান ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) বেবিচককে ক্যাটাগরি-২ তে রেখেছে। ক্যাটাগরি-২ থেকে বের হওয়ার জন্য এফএএ ৬১টি বিষয়ে সুপারিশ করেছে। সূত্র জানায়, বেবিচক আইকাও’র সুপারিশগুলোর বাস্তবায়নের পাশাপাশি এফএএ এর সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করছে। ৬১টি সুপারিশের মধ্যে ৪৬টির কাজ এরই মধ্যে শেষ করেছে বেবিচক। ১৫ বছরের পুরনো আইএলএস (ইন্সট্র-মেন্টাল ল্যান্ডিং সিস্টেম) পাল্টে আন্তর্জাতিক মানের সিস্টেম সংযোজন করা হয়েছে। আগে উড়োজাহাজ ল্যান্ডিংয়ের জন্য পাইলটদের একমাত্র উপায় ছিল রানওয়ের বাতি। একই সঙ্গে স্থাপন করা হয়েছে এভিয়েশন ওয়েদার অবজারভেশন সিস্টেম (এডব্লিউওএস)। পাইলটদের দৃষ্টিসীমাকে সহায়তা করার জন্য স্থাপন করা হয়েছে রানওয়ে ভিজ্যুয়াল রেঞ্জ (আরভিএস) মেশিন। আগামী অক্টোবর থেকে বিমানবন্দরের রানওয়ের সংস্কার কাজও শুরু হবে। আগস্টে আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করার জন্য কয়েকজন আন্তর্জাতিক মানের বিশেষজ্ঞ আনা হবে। এ প্রসঙ্গে বেবিচকের পরিচালক (সেফটি অ্যান্ড রেগুলেশন) উইং কমান্ডার নাজুল আনাম বলেন, “এসএসসি থেকে যদি আমরা বের হতে পারি তাহলে ক্যাটাগরি-২ এর বিষয়টি অনেক সহজ হয়ে যাবে। তাই  আমরা এসএসসি থেকে বের হওয়ার পাশাপশি ক্যাটাগরি-২ থেকে উন্নীত করার লক্ষ্যে কাজ করছি। সবকিছু ঠিক থাকলে আশা করি আগামী নভেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে এফএএ এর একটি পরিদর্শক দল ঢাকায় আসবে।” প্রসঙ্গত, আইকাও এর একটি দল ২০০৯ সালের মে মাসে বেবিচকের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করে একটি রিপোর্ট প্রদান করে। ওই রিপোর্টে বলা ছিল, বাংলাদেশের সিভিল এভিয়েশন (বেবিচক) থেকে যেসব বিমান সংস্থাকে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে তার বেশির ভাগের উড্ডয়ন নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সুক্ষ্ম যন্ত্রপাতি, সরঞ্জাম, রক্ষণাবেক্ষণ, প্রশিক্ষণ, যোগ্য জনবল বা অন্যান্য ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি রয়েছে। এর মধ্যে লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে ১২টি, পরিচালনার ক্ষেত্রে ৭টিসহ প্রকৌশল, এয়ার নেভিগেশন ও আইন মানার ক্ষেত্রে সিভিল এভিয়েশনের অনেক ত্রুটি চিহ্নিত করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত আইকাওয়ের নিয়ম মানা হয়নি। আর এসব দক্ষভাবে পর্যবেক্ষণ, পরিচালনা ও মান উন্নয়নে নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষর (বেবিচক) ঘাটতি রয়েছে। আইকাও এ ধরনের নিয়ন্ত্রণকারী লাইসেন্স পাওয়া বিমান সংস্থাকে ঝূঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত  করছিল। বেবিচক এসএসসিতে  থাকার ফলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স তাদের নিউইয়র্ক রুট চালু করতে পারছে না। দেশের কোনো বিমান সংস্থা যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও নতুন করে আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি পাচ্ছে না। এছাড়া দেশের বিমান সংস্থাগুলো ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি পেতে বেগ পেতে হচ্ছে।
ধনীর সংখ্যায় হংকংকে ছাড়ালো সিঙ্গাপুর
ফিচার ডেস্ক
এশিয়ার ধনী ব্যক্তিদের সংখ্যায় হংকংকে ছাড়িয়ে গেছে সিঙ্গাপুর। গত বছরের পরিসংখ্যান টেনে ক্যাপজেমিনি এবং আরবিসি ওয়েল্থ ম্যানেজমেন্ট এ তথ্য জানিয়েছে। ব্রিটেনের সাবেক কর্তৃত্বাধীন এবং বর্তমানে চীনের অঙ্গ হংকংয়ের স্টক মার্কেটে অব্যাহত দর পতনের কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানায় প্যারিসভিত্তিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা সংস্থা ক্যাপজেমিনি। উল্লেখ্য, হংকংয়ের স্টক মার্কেট গত বছর ধপাস করে এক ধাক্কায় শতকরা ১৬.৭ ভাগ পড়ে যায়। এর ফলে সৃষ্ট সংকটের মুখে সেখানকার শেয়ারবাজারে এক মিলিয়ন ডলারের ওপরের বিনিয়োগকারীর সংখ্যা আশংকাজনক ‍হারে কমে যায়। কারণ, তাদের বিনিয়োগের বিরাট এক অংশ স্টক-শেয়ারে আটকা পড়ে। এ কারণে হংকংয়ের দক্ষিণ এশীয় প্রতিদ্বন্দ্বী সিঙ্গাপুর ছাড়িয়ে যায় তাকে। তবে এটাও সত্য বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দার স্রোতে দক্ষিণ এশিয় দেশগুলো এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর চেয়ে মন্দাবস্থা শক্তভাবে মোকাবেলা করে। দক্ষিণ এশিয় দেশগুলোর অভ্যন্তরীন ব্যয়প্রবাহ সংকটে ধুঁকতে থাকা তাদের রফতানি আয়ের ক্ষতিটা ভালোমত পুষিয়ে দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ধনীদের সংখ্যায় ২০০৮ সালে পিছিয়ে পড়ার পর ২০১২ সালে হংকং ফের সিঙ্গাপুরকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এদিকে, মঙ্গলবার প্রকাশিত ক্যাপজেমিনি এবং আরবিসি ওয়েল্থ এর ওয়ার্ল্ড ওয়েলথ রিপোর্টের তথ্যমতে, দ্রুত বর্ধশীল অর্থনৈতিক অঞ্চল এশিয়া কোটিপতির সংখ্যায় গত বছর প্রথমবারে মত উত্তর আমেরিকাকে ছাড়িয়ে যায়। তবে সিঙ্গাপুর যে কোটিপতিদের সংখ্যায় হংকংকে ছাড়িয়ে গেছে তার কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি গবেষণা সংস্থাটি। অর্থনৈতিক ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরের স্থিতি আর ক্রমোন্নতির কারণে আকৃষ্ট হয়ে গত কয়েক বছরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে দলে দলে ধনী আর সম্পদশালী ব্যক্তিরা সেখানে গিয়ে ঘাঁটি গেড়েছেন। এ দলে আছেন সামাজিক ওয়েবসাইট ফেসবুকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এদুয়ার্দো সাভেরিনও। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করে সাভেরিন সিঙ্গাপুরে থিতু হন। ছোট্ট নগর রাষ্ট্র সিঙ্গাপুর সম্পর্কে আরেকটি চমকপ্রদ তথ্য হচ্ছে, এদেশে ইন্দোনেশিয়ান বংশোদ্ভূত কোটিপতির সংখ্যা ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার কোটিপতিদের সংখ্যার চেয়েও বেশি।
বিভক্তির গ্যাঁড়াকলে অধিকার : ফুঁসছে চা শ্রমিকরা
অপূর্ব শর্মা
ফুঁসছে চা শ্রমিকরা। বাগানে বাগানে বিরাজ করছে অসন্তোষ। দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন উর্ধগতি সত্বেও চা শ্রমিকদের দাবীকৃত মজুরি বৃদ্ধি না করায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষোভ অসন্তোষ যে কোনো সময়ে অস্থিতিশীল পর্যায়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন খোদ চা শ্রমিক নেতারা। পরিস্থিতি যখন এই পর্যায়েÑতখন চা শ্রমিক নেতৃত্বে বিভাজন শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে প্রতিবন্ধকতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মালিকপক্ষ বিভেদের কারণে চুক্তি নবায়ন থেকে বিরত রয়েছে। বিভক্ত শ্রমিক নেতৃত্বের কোন পক্ষের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করা হবে এমন প্রশ্ন রেখে কৌশলে মালিক পক্ষ ৭টাকা করে প্রত্যেক শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে। তবে, বিভক্ত শ্রমিক নেতৃত্বের উভয় পক্ষই এই ঘোষণায় অসন্তুষ্ট বলে জানিয়েছে। উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের নভেম্বর মাসে চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। মূলতঃ সে সময়ই দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে যায় ইউনিয়ন। তের মাসের মাথায় ‘চা শ্রমিক ইউনিয়নের এডহক কমিটি’র ব্যানারে নির্বাচিত কমিটিকে হটানো হয়। এডহক কমিটি শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত চা শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয় লেবার হাউস নিজেদের দখলে নিয়ে নেয়। তাদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম শ্রম আদালতে মামলা করে নির্বাচিত পক্ষ। এরপর থেকেই বিবদমান অবস্থায় দু’টি পক্ষ শ্রমিকদের বেতনবৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবি আদায়ে আন্দোলন সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছে। বিভক্তভাবে কর্মসূচি পালনের কারণে লক্ষ্যে পৌঁছতে পারছে না কোনো পক্ষই। বিশেষ করে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির ব্যাপারে উভয়পক্ষ সোচ্চার থাকলেও মামলা এবং বিভক্তির গ্যাঁড়াকলে পড়ে আটকে আছে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির বিষয়টি। নিয়মানুযায়ী প্রতি দুই বছর পর পর শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির কথা। সর্বশেষ ২০০৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর চা শ্রমিকদের মজুরি সর্বোচ্চ ৪৮ টাকা করা হয়। সেই অনুযায়ি গত বছরের ৩১ আগস্ট চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। সিলেটের চা শ্রমিক ইউনিয়ন সূত্রে জানা যায়, প্রতি দুই বছর অন্তর চা-শ্রমিক ইউনিয়ন ও চা সংসদের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির মাধ্যমে দেশের ১৬৫টি চা-বাগানে কর্মরত ৮৫ হাজার নিবন্ধিত ও প্রায় ১৫ হাজার অনিবন্ধিত শ্রমিকের মজুরি, রেশনসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত হয়।
কিন্তু চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেও মালিক পক্ষ বিভক্ত দুইপক্ষের মধ্যে কোনো পক্ষের সঙ্গেই চুক্তি করছে না এবং আদালতে মামলা চলমান থাকায় চুক্তি নবায়ন থেকে বিরত রয়েছে। তবে, বাগান মালিকেরা উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ৭টাকা করে মজুরি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিগত সেপ্টেম্বর মাস থেকে তা কার্যকর হবে। মজুরি বৃদ্ধির টাকা বকেয়া দুই কিস্তিতে শ্রমিকদের মধ্যে বন্টন করা হবে এবং আগামী ১ জুলাই থেকে নিয়মিত ৫৫ টাকা মজুরি পাবে শ্রমিকরা। মালিকপক্ষের এইহারে মজুরি বৃদ্ধিতে শ্রমিকসহ বিভক্ত নেতৃত্বের কোনো পক্ষই সন্তুষ্ট নয়। এদিকে, চা শ্রমিক ইউনিয়নের এডহক কমিটির নেতৃত্বে ১৫০ টাকা মজুরি নির্ধারণসহ ১৮ দফা দাবিতে ২১ জুন থেকে দেশের সবগুলো বাগানে লাগাতার ধর্মঘট শুরুর যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল তা স্থগিত করা হয়েছে। চা শ্রমিক ইউনিয়নের এডহক কমিটির আহ্বায়ক বিজয় বুনার্জি বাংলানিউজকে বলেন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রীর আশ্বাস এবং বাংলাদেশ চা সংসদ নেতৃবৃন্দের অনুরোধে এই কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। তারা জানিয়েছেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি দাওয়া প্রদানে উভয় পক্ষকে নিয়ে সমস্যার সমাধান করা হবে। দৈনিক ৭ টাকা মজুরি বৃদ্ধিকে মালিকপক্ষের কৌশল হিসেবে মনে করেন বিজয় বুনার্জি। তবে, চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরী বুধবার বাংলানিউজকে বলেন, চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা করাসহ ২০ দফা দাবিতে যে আন্দোলন চলছে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে। তিনি জানান, আগামী মাসে শ্রীমঙ্গলে চা শ্রমিকদের নিয়ে মহাসমাবেশ আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে, মহাসমাবেশ থেকে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করা হবে।
পথের ক্লান্তি ভুলিয়ে দেয় শান্ত জলের ধর্ম সাগর...
মুনিফ আম্মার
দীর্ঘ জট। সামনে গাড়ির লম্বা সারি। মনের কোণে কালো মেঘ জমতে শুরু করেছে। সেরেছে, আজ বুঝি আর কুমিল্লা পৌঁছা যাবে না। গাড়িতে বাজতে থাকে কোলকাতার আধুনিক গান “তুমি না থাকলে সকালটা আজ মিষ্টি হতো না”। যাত্রীরা কেউ কেউ বলে বসলেন, “সকাল আর মিষ্টি হতে হবে না....।”
কুমিল্লার প্রথম যাত্রাটা এমন বিরক্তিকর হবে তা আগে মনে হয়নি। বিশেষ করে যাত্রাসঙ্গী রুবী নাহারের কাছে কুমিল্লার যে বর্ণনা শুনেছি, তাতে অন্তত এমনটি মনে হবার কোনো কারণ ছিল না। হাল ছেড়ে চোখ বুঁজলাম। ঘুম ভাঙ্গলো রুবীর ধাক্কা খেয়ে। এবার আর গান ভেসে এলো না। ‘কান্দিরপাড়, চকবাজার...’ ইত্যাদি অনেক শব্দ শুনতে পেলাম চারপাশ থেকে। ইজিবাইকের চালকরা দলবেঁধে বসে আছে যাত্রীর অপেক্ষায়। শহরের যে জায়গায় বাস থেকে নামলাম তার নাম শাসনগাছা। রিক্সা আর অটোবাইক চালকরা যাত্রীদের ওপর এখানে একপ্রকার শাসন করেন বলেই দেখা গেল। তাদের ডাকে সাড়া না দিলে রাঙা চোখের শাসনে পড়তে হতে পারে। গরম-ঘাম আর ক্লান্তি নিয়ে কুমিল্লা শহরটাকে তখন ভাল করে দেখার ইচ্ছাটা সুপ্ত রইলো। একটা ব্যাটারি চালিত অটোবাইকে চড়ে বসলাম। গন্তব্য নানুয়া দীঘির পাড়। মূল শহর কান্দিরপাড় পেরিয়েই চোখে পড়লো বিশাল এক দীঘি। পাশেই বিখ্যাত বিদ্যাপীঠ ভিক্টোরিয়া কলেজ। অতোবড় দীঘি দেখে ভেবেছি এটাই বুঝি নানুয়া দীঘি। ভুল ভেঙ্গেছে যখন বাহনটি এ দীঘির পাড়ে যাত্রা বিরতি করেনি। পরে জেনেছি এই দীঘির নাম রাণীর দীঘি। খানিক পরেই নানুয়া দীঘির পাড়ে এসে দাঁড়াল বাইকটি। তুলনামূলক নানুয়া দীঘি রাণীর দীঘির চাইতে খানিকটা বড়। এই শহরটায় এতো বড় বড় দীঘি দেখে অবাক হলাম খুব। আজকাল শহরের মাঝেও এতো বড় দীঘি থাকতে পারে! মত বদলালাম; শহর ঘুরে দেখতে হবে এখনই। যে শহর জলের সাথে এতো সুন্দর মিতালী পাতায়, সে শহর দেখার ইচ্ছার কাছে ক্লান্তিরা হার মেনেছে। বেরিয়ে পড়লাম অল্পসময়ের মধ্যেই।
বাহন হিসেবে জুটল রিক্সা। সোজা চলে গেলাম ধর্মসাগর পাড়ে। বলা চলে শহরের ঠিক মাঝখানে ধর্মসাগরের অবস্থান। প্রথম দেখাতেই ভীষণ মুগ্ধ হয়ে গেলাম। এমনিতেই জলের প্রতি আমার দারূণ টান, তার ওপর ধর্মসাগরের জল কেমন শান্ত বয়ে চলছে বাতাসের ছোঁয়ায়- মুগ্ধ না হওয়ার মত এতটা বেরসিক আপনি হতে পারবেন না। ধর্মসাগরের নাম শুনে সাগর মনে হলেও এটা আসলে বড় একটা দীঘি। রানীর দীঘি ও নানুয়া দীঘির চাইতেও বড়। প্রাচীনকালের গল্পে অতো বড়ো দীঘির নাম শোনা যায়। বাস্তবে ধর্মসাগরের মত বড় দীঘির দেখা মেলে খুবই কম। সেদিন ধর্মসাগর পাড়ে দিনের আলো খুব একটা পাইনি। তবে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার প্রিয় মুহূর্তটি ধরা দিয়েছে বেশ আপন করে। শহরের মাঝে হলেও কোলাহলমুক্ত ধর্মসাগর। পাড় জুড়ে অসংখ্য মানুষের আড্ডা। কুমিল্লা ও আশপাশের জেলাগুলো থেকে প্রতিদিনই মানুষের সমাগম ঘটে এখানে। কোমল বাতাসের দোলায় মন ভরাতে সবাই ছুটে আসে এখানে। অদ্ভূত সুন্দর এক আবেশ ছড়িয়ে আছে ধর্মসাগরের জল আর পাড় জুড়ে। দক্ষিণ পাড়ে গড়ে উঠেছে কুমিল্লা মহিলা মহাবিদ্যালয়। বেশ পুরোনো একটি দালানে চলে এ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম। সামনে সবুজ ঘাসের মাঠটি দেখে অনায়াসে গা এলিয়ে দিতে মন চাইবে। বিকেল হলে এ মাঠেও আড্ডা জমিয়ে তুলে ধর্মসাগর দেখতে আসা মানুষগুলো। ধর্মসাগরের পুরো পশ্চিমপাড়টা বেশ সুন্দর করে সাজানো। পায়ে হাঁটার দারূণ রাস্তা। রাস্তার পাশে একটু পর পর বসার ব্যবস্থাও আছে। হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হয়ে গেলে একটু জিরিয়ে নিতেও পারবেন। উত্তর পশ্চিম কর্নারে বেশ সুন্দর করে বানানো হয়েছে ‘অবকাশ’। গোল ছাউনি দেয়া বিশ্রাম নেওয়ার এ ‘অবকাশে’ প্রায় জমে ওঠে বিভিন্ন সাহিত্য আড্ডা আর ছোট্ট সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। শহরের সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষগুলোর প্রিয় একটি স্থান এটি। উত্তরপাড় থেকেই শুরু হয়েছে কুমিল্লা পৌর উদ্যান। ছায়াঘেরা শীতল পরিবেশ এক। যদিও অযত্ন আর অবহেলার ছাপ স্পষ্ট। তবুও ইট পাথরের শহরে এমন সবুজের দেখা পাওয়া কম কিসে? প্রত্মতত্ব অধিদপ্তরের আওতায় থাকা রাণীর কুঠিটিও ধর্মসাগরের পাড়েই। উত্তর পাশের মাঝামাঝি জায়গা জুড়ে অবস্থিত এটি। কয়েকশ বছরের পুরোনো রাণীর কুঠি’র ইতিহাসও অনেক বিস্তৃত। লাল ইটের রাণীর কুঠি’তে আভিজাত্যের ছাপ স্পষ্ট। সামনের সুবিশাল সিঁড়িই বলে দেয়, এ সিঁড়ি বেয়ে একসময় তৎকালীন বৃটিশ শাসক-কর্মকর্তাদের উঠানামা ছিল। বর্তমানের আমরাও উঠে গেলাম সিঁড়ি বেয়ে। ভিতরটা অন্যরকম সুন্দর। বসার জায়গাটাতে এখনো সেই পুরোনো ধাঁচ রয়ে গেছে। রুম পেরিয়ে পিছন দিকটায় যেতেই চোখ জুড়িয়ে গেল। রানী’র কুঠি’র এ দিকটায় বাতাসের ধাক্কায় ধর্মসাগরের জল আছড়ে পড়ে। শান বাঁধানো বড় একটা ঘাট। নামতে নামতে একদম পানির খুব কাছে গিয়ে মিশে গেছে। উত্তর পাড়ে হওয়ায় দখিনের সব বাতাস ভীড় করে এখানে এসে। রাণী’র কুঠি সবার জন্য উন্মুক্ত নয়। প্রত্মতত্ব অধিদপ্তরের প্রাক্তণ ভাণ্ডার রক্ষক আবুল কাশেম জানালেন, রাণীর কুঠি একসময় পল্লী উন্নয়ন একাডেমির আওতায় ছিল। তারা এটিকে অতিথিশালা হিসেবে ব্যবহার করতো। গেল বছর সরকার গেজেট করে রাণীর কুঠিকে প্রত্মতত্ব অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করে।
Dhormo-Sagorধর্মসাগর পাড়ের ঐতিহ্যমণ্ডিত এ কুঠিকে নগর জাদুঘর করার দাবি করছেন কুমিল্লার অনেকেই।
কুমিল্লা কালচারাল কমপ্লেক্স আর সংস্কৃতি সদন অফিস- সবই ধর্মসাগরের পাড়ে। কুমিল্লা আর্ট কলেজও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ধর্মসাগরের পাড় ঘেঁষেই। মুক্তবুদ্ধি চর্চার এ যেন এক উন্মুক্ত উদ্যান। সময় কাটানো, ঘুরে বেড়ানোই নয় কেবল, ধর্মসাগর পাড়ে নিয়মিত বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার আসর জমে ওঠে। কুমিল্লার নাট্য ও কবিতা আবৃত্তির দলগুলো তাদের অনুশীলন কর্মযজ্ঞ নিয়ে বসে এই ধর্মসাগর পাড়েই। ধর্মসাগর ঘিরে এত সব আয়োজনের চিত্র দেখে মুগ্ধতায় মন ভরে গেল। কুমিল্লায় যাবার পথে যানজটের কবলে পড়ে পানসে হয়ে আসা অনুভূতিটা দূর হয়ে গেল মন থেকে। ধর্মসাগর দর্শনের পর মনে হল-- এর চাইতে বেশি কষ্ট পেয়ে হলেও বারবার আমি ছুটে আসবো ধর্মসাগর পাড়ে। এখানকার জল-বাতাসে নিজেকে নিমগ্ন করার চাইতে আনন্দ আর কি হতে পারে?

‘সৌদিতে আছে সোনা, মেঘনায় গলদার পোনা’
রায়পুর সংবাদদাতা
রায়পুর উপজেলার চরবংশী গ্রামের জেলে আবদুল আজিজ বলেন, ‘সৌদি আরবে আছে সোনা, আর আমগো মেঘনা নদীতে আছে গলদা চিংড়ির পোনা। এ পোনার কারণে আমগো জেলেদের বাইগ (ভাগ্য) খুলি গেছে’।
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার মেঘনা নদী ও সংযোগ খাল থেকে মৌসুমে প্রায় ১৫০ কোটি টাকার গলদা চিংড়ি পোনা আহরণ করা হয়। এতে জেলে, ফড়িয়া ও আড়তদারদের সত্যিই ভাগ্য খুলেছে। কিন্তু নির্বিচারে পোনা নিধনের ফলে মেঘনার মৎস্য সম্পদের জন্য তা বড় ক্ষতি বয়ে আনছে। নিষিদ্ধ হলেও বছরের চৈত্র থেকে জ্যৈষ্ঠ মাস পর্যন্ত মেঘনা পাড়ের প্রায় ১০ হাজার জেলে চিংড়ি পোনা সংগ্রহ করে। এ সময় বিভিন্ন প্রজাতির মাছের প্রচুর পোনা নষ্ট করে ফেলা হয়। জেলেদের সংগ্রহ করা পোনা কেনার জন্য যশোর, খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা থেকে মৌসুমের শুরু থেকে প্রতিদিন ব্যবসায়ীরা নদীর তীরে ভিড় জমায়। 
পোনা আহরণ
মেঘনার চাঁদপুরের হাইমচর থেকে রামগতির আলেকজান্ডার পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার নদী এলাকায় গলদা চিংড়ি পোনার অবাধ বিচরণ ক্ষেত্র। চৈত্র থেকে জ্যৈষ্ঠ মাস পর্যন্ত এ চিংড়ি চাষের উপযুক্ত সময়। এতে এ মৌসুমে মেঘনা পাড়ের প্রায় ১০ হাজার জেলে মশারি, নেট জাল, ছাকনি ও চাদর দিয়ে এ পোনা আহরণ করে। জেলে মাহাবুব হোসেন ও সোহেল মিয়া জানান, একজন জেলে ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ২০০০ হাজার পোনা ধরতে পারে। দেশের বিভিন্ন স্থানে যায় এ পোনা। যে কারণে প্রতি মৌসুমেই মেঘনা পাড়ে গলদা চিংড়ি পোনা আহরণকারীদের ভিড় লেগে যায়।
মেঘনার পোনার ব্যাপক চাহিদা
চিংড়ি চাষিদের কাছে মেঘনা নদীর গলদা চিংড়ি পোনার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এ পোনা ৩-৪ মাসের মধ্যেই বিক্রির উপযুক্ত হয়ে যায়। এ সময় ৪-৫টি চিংড়ি ১ কেজি ওজনের হয়ে যায়। এতে চিংড়ি চাষিরা অল্প সময়ে বেশি লাভবান হন। ১০ বছর ধরে চিংড়ি পোনার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, মেঘনা নদীর গলদা চিংড়ির পোনা অল্প সময়ে বড় হয়ে যায়। এজন্য চিংড়ি ঘের মালিকদের কাছে মেঘনার পোনার কদর বেশি। প্রতি মৌসুমে এখানে ১৫০ কোটি টাকার গলদা চিংড়ির পোনা কেনাবেচা হয় বলে জানা গেছে।
পোনার হাট
মেঘনা নদী এলাকায় প্রতি মৌসুমে গলদা চিংড়ির পোনার প্রায় ১৫০ কোটি টাকার লেনদেন হয়। পোনা সংগ্রহ করার জন্য দেশের দক্ষিণাঞ্চল থেকে ব্যবসায়ীরা এখানে আসেন। এ ব্যবসা ঘিরে নদীর পাড়ের হাজিমারা, পানিরঘাট, নতুন ব্রিজ, বালুরচর ও মেঘনার বাজারে  প্রতিদিন হাট বসে।
ব্যবসায়ীরা জেলেদের কাছ থেকে প্রতিটি পোনা ১ থেকে ১ টাকা ৫০ পয়সা দরে কেনেন। তারা ড্রাম ও বড় পাতিল ভর্তি করে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে নিয়ে চিংড়ি ঘের মালিকদের কাছে প্রতিটি পোনা বিক্রি করেন দুই থেকে আড়াই টাকায়। পোনা ব্যবসায়ী সালাউদ্দিন বলেন, ‘গলদা চিংড়ির পোনা ধরা যে অবৈধ, তা আমরাও জানি। এ ব্যবসায় আমাদের লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ রয়েছে। এর সঙ্গে জড়িত আছে কমপক্ষে ১৫ হাজার মানুষ’।
আড়তদারের হাত হয়ে চিংড়ি ঘেরে
রায়পুর উপজেলার মেঘনা নদী এলাকার হাজিমারা, নতুন ব্রিজ, পানির ঘাট, বালুর চর ও মেঘনার বাজারে ৫০টি পোনার আড়ৎ রয়েছে। জেলেরা নদীতে গলদার পোনা ধরে এসব আড়ৎতে এক থেকে দেড় টাকা বিক্রি করে। আড়ৎদার খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটের আড়ৎদারের কাছে প্রতিটি পোনা বিক্রি করে দুই থেকে আড়াই টাকা। তাদের কাছ থেকে গলদার পোনা কিনে নেয় চিংড়ি ঘের মালিকরা। চিংড়ি পোনার আড়ৎদার আবদুর রহিম বলেন, ‘মৌসুমে তিন মাস গলদা চিংড়ির ব্যবসা হয়। প্রতি বছর এ ব্যবসায় আমার লেনদেন হয় ৬০-৭০লাখ টাকা’।
বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধংস
মশারির জাল দিয়ে নদীর পানি ছেঁকে গলদার পোনা ধরা হয়। এসব পোনা ধরার সময় বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা ও ডিম মশারিতে উঠে আসে। চিংড়ির পোনা বাছাইয়ের পর অন্য মাছের  ডিম ও পোনা অধিকাংশই নষ্ট হয়ে যায়। রায়পুর উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘এভাবে পোনা নিধন অব্যাহত থাকলে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের বৈচিত্র্য হারিয়ে মেঘনা নদী মাছশূন্য হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেবে। গলদা চিংড়ির পোনা ধরা নিষিদ্ধ। পোনা নিধন প্রতিরোধে মেঘনায় অভিযান চালানো হবে’।
তৎপরতা নেই প্রশাসনের
গলদা চিংড়ি পোনা ধরা নিষিদ্ধ। কিন্তু থেমে নেই পোনা ধরা। প্রতিদিন হাজারো মানুষ মশারির জাল দিয়ে নদীর পানি ছেঁকে ওই পোনা ধরছে। অবাধে পোনা নিধন চললেও প্রশাসন এ জন্য এখনও অভিযান  চালায়নি। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রায়পুর উপজেলার হাজিমারা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ফরহাদ হোসেন বলেন, মেঘনা নদীর পাড়ে গলদা চিংড়ির পোনা বিক্রি হয় বলে শুনেছি। অবৈধ বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ যুগের বিদ্যাসাগর ইমন
আশরাফুল ইসলাম
 কোনো বিষয় বা শব্দের সঙ্গে সার্থক প্রতিতুলনা করার সুযোগ সহসাই ঘটে না আমাদের। তবে কদাচিৎ ঘটেও যায় সবকিছুর অলক্ষ্যেই। ব্যস্ত নগর জীবনে আমরা কতটাই বা নজর দেই চারপাশের অসঙ্গতির দিকে। সমাজের হাজারো বিচ্যুতির মাঝেও কিছু ঘটনা মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন যে কোনো মানুষকে নাড়া দেয়। কিছু না করতে পারলেও অন্তত: করার আকাঙ্খা যোগায়।
পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তেমনি এক ঘটনা প্রত্যক্ষ করার সুযোগ ঘটে। আমাদের অনেকেরই এ থেকে শিক্ষা নেওয়ার কিছু রয়েছে, এমন ধারণায় বিষয়টি এখানে অবতারণার প্রয়াস পেয়েছে। প্রতিদিনের ন্যায় শনিবার দিবাগত রাতেও রাজধানীর চিত্র দেখতে বাংলানিউজের টিম ঢাকার রাজপথে। সঙ্গে ছিলেন বাংলানিউজের আলোকচিত্রী শোয়েব মিথুন। রাজধানীর অন্যতম প্রবেশপথ উত্তরা থেকেই শুরু হবে রাতের ঢাকা পরিভ্রমণ-এমনটাই চূড়ান্ত হলো মিথুন ও আমার মধ্যে। সারাদিনের প্রচন্ড যানজট কিংবা খরতাপের বালাই কোনোটাই নেই, রাতের শুরুতে ১০টার দিকে সামান্য বৃষ্টিপাতও হয়েছে, তাই বাতাসের কিছুটা হিমেল আলিঙ্গনে বেশ আরামেই পার হচ্ছিল রাতের সময়, যদিও তখনও মুখোমুখি হয়নি কোনো সংবাদের। রাতের ফাঁকা রাস্তায় দুর্দান্ত ট্রাকের বায়ুঝাপ্টা আর চাঁদের আলো বেশ রোমাঞ্চেরই সঞ্চার করছিল মনে।
আমাদের গন্তব্য রাজধানী ঢাকার উত্তর সীমান্ত আব্দুল্লাহপুর। গাড়ি থেকে নেমে পায়চারি করছি সেই সঙ্গে চোখ কাজ করছে সংবাদ সন্ধানে। অনেক সময় পার করলেও আশায় গুড়েবালি। রাত তখন তিনটে বেঁজে ২০ মিনিট হবে। গাড়ি ঘুরিয়ে অফিসে ফিরবো, তাই আমাদের সিএনজির চালককে ডাকছিলাম। ঠিক সেই সময় চোখে পড়ে পাশের সিএনজি পাম্পের একপাশে একটি চা-পানের দোকানের দিকে। আগ্রহ নিয়ে এগিয়ে যাই। কারণ গভীররাতে ওই চা’য়ের দোকানে বিক্রেতা হিসেবে যাকে দেখা গেলো, তা দেখে বিস্মিত হলাম। পাঁচ কি ছয় বছরের এক শিশু, ক্ষীণকায় দেহ, চোখ দু’টি কোটরে ঢুকে গেছে। ‘তন্দ্রায় ঢুলু ঢুলু’ অবস্থায় চা’র কাপে গরম পানি ঢালছে ওই শিশু। চিনি, দুধ দিয়ে চামচ দিয়ে নাড়তে গিয়ে পড়ি পড়ি অবস্থা। বিস্ময় নিয়ে দেখছিলাম তাকে, তবে তখনো এতটা বিস্মিত হইনি, যতটানা হলাম ওর সঙ্গে কথা বলার পর। ওর সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, তার নাম ইমন। বাড়ি নোয়াখালির রায়পুরে। শৈশবে এক কঠোর বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে গত মাস তিনেক আগে সে পাড়ি জমিয়েছে ঢাকায়। জীবন সংগ্রামী এই শিশুটির বাবা পারু মিয়া কয়েক মাস আগে দ্বিতীয় বিয়ে করে নিরুদ্দেশ। ২ বোন ১ ভাই আর মা জোসনা বেগমকে বাঁচাতে, তাদের মুখে দু’বেলা আহার যোগাতে ইমনের এই ঢাকা আসা। মামাতো ভাই মুহিমের সঙ্গে থেকে তারই চা-পানের দোকানে কাজ করছে সে। বেতন নির্ধারিত নেই। খাবার আর কাপড় ছাড়া নগদ কোনো অর্থ পায় না ইমন। দু’মাস পর পর ইমনের মা’য়ের কাছেই টাকা পাঠায় মুহিম। আব্দুল্লাহপুর আরএস ফিলিং স্টেশনের প্রবেশ পথে ডান দিকের ভাসমান এই দোকানে ইমনকে কাজ করতে হয় রাতের বেলায়। দিনের বেলায় সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিশ্রাম! এরপর থেকে টানা সারারাত চা-পান-সিগারেট বিক্রি করতে হয়। ঘুম ঘুম চোখে ইমন বাংলানিউজকে জানায়, তার বাবা যখন একসঙ্গে ছিল তখন সে স্থানীয় সোনালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিল। দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় বাবা বিয়ে করে চলে গেলে তাদের সংসারে নেমে আসে অন্ধকার। এত অল্প বয়েসে পরিবারের সবাইকে ছেড়ে চলে এলেও কষ্ট নেই ইমনের। ‘মা’য়ের দু:খ-কষ্ট দূর করতেই তার এত দূর আসা। বড় কিছু হওয়ার স্বপ্নও নেই তার। কেবল মা’য়ের মুখটা যেন থাকে হাসিতে, এটাই তার চাওয়া।’ আধুনিক সমাজ ব্যবস্থায় পারিবারিক বন্ধন দিন দিন হালকা হচ্ছে। সন্তানরা বড় হয়ে বৃদ্ধ মা-বাবাকে রেখে আসছে বৃদ্ধাশ্রমে। কেউবা খোঁজও রাখছে না।
বহুযুগ পূর্বে ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মা’য়ের জন্য বিশাল নদী পাড়ি দিয়েছিলেন। মা’য়ের জন্য সন্তানদের আত্মত্যাগের এমন দৃষ্টান্ত কদাচিৎ দেখা যায়।
তবে শিশু ইমনের মাতৃপ্রেমের এমন দৃষ্টান্ত আমাদের বর্তমান পঙ্কিল সমাজ ব্যবস্থায়  বিদ্যাসাগরের সঙ্গে খানিকটা তুলনা করলে ভুল হবে না বৈকি!
নেত্রকোনায় বঙ্গবন্ধুর ব্যতিক্রমী ভাস্কর্য
মাহবুব আলম
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে বাঙালির আবেগের শেষ নেই। এই মহান নেতাকে নিয়ে আগে অনেক শিল্পী মূর্তি বানিয়েছেন, প্রতিকৃতি এঁকেছেন। তার জীবদ্দশার বিভিন্ন সময়ের বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি নকল করে আলাদা আলাদা ভাস্কর্য এবং প্রতিকৃতি রয়েছে সারা দেশেই।
কিন্তু একটি ভাস্কর্যেই সেসব মুহূর্তের অবিকল অঙ্গ-ভঙ্গি ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা হয়ত কেউ করেননি। আর সে কাজটিই করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টার গোপালপুর গ্রামের এক সাধারণ শিল্পী গোলাম মোস্তফা। কখনো তর্জনি উঁচিয়ে, কখনো নিরাবেগ ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে অথবা হাতে সেই পাইপ নিয়ে চিন্তিত ভঙ্গিতে চেয়ারে বসা অবস্থার জীবন্ত ভাস্কর্য নির্মাণ করেছেন তিনি। সাধারণ শিল্পীর এ অসাধারণ শিল্পকর্ম দেখে অভিভূত এলাকাবাসী। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসছে ভাস্কর্যটি দেখতে। পাথর খোদাই করে নয়, রড-সিমেন্ট কিংবা আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা নিয়েও নয়; শুধু কাঠ, ফোম আর রংতুলি দিয়ে তৈরি এ ভাস্কর্য একেবারেই ব্যতিক্রমী। ভাস্কর্যটির অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের পরিবর্তনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ও দুর্লভ মুহূর্তগুলো ইচ্ছেমতো ফুটিয়ে তোলা যায় এতে। কখনো তর্জনি উঁচিয়ে ভাষণ দেওয়া অবস্থায়, কখনো ছোট্ট টেবিলে বসে দু’আঙ্গুলের ফাঁকে প্রিয় পাইপ রেখে কারও সঙ্গে নিবিষ্ট মনে আলাপ, কখনো দাঁড়িয়ে গভীর ভাবনায় মগ্ন বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি দেখা যায় গোলাম মোস্তফার এ একটি ভাস্কর্যেই। গায়ে সাদা পাঞ্জাবি,  বিখ্যাত হাতাকাটা কালো কোট, চোখে কালো ফ্রেমের চশমা আর পায়ে কালো স্যান্ডেল। চেহারায় শৌর্যবীর্য ও ব্যক্তিত্ব ফুটে উঠেছে এ শিল্পকর্মে। এ ভাস্কর্যের ব্যাপারে বারহাট্টা উপজেলা চেয়ারম্যান খায়রুল কবির খোকন বাংলানিউজকে বলেন, ‘গোলাম মোস্তফা তার মেধা ও শ্র্রম দিয়ে বঙ্গবন্ধুর মূর্তি তৈরি করে এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। অনেক দূর-দূরান্ত থেকে ছেলে-বুড়োরা প্রতিদিনই এটি দেখতে আসে।’ বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে এমন বিশেষ বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ভাস্কর্য আর দ্বিতীয়টি নেই বলেও মনে করেন সাবেক এ ছাত্রলীগ নেতা। কাষ্ঠনির্মিত আলাদা এ ভাস্কর্যের বিভিন্ন দিক নিয়ে ভাস্কর গোলাম মোস্তফা খোলামেলা কথা বলেছেন বাংলানিউজের স্থানীয় এ প্রতিবেদকের সঙ্গে। তিনি জানান, ১৯৯৭ সালের দিকে মাটি দিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে প্রথমে মাথার আকৃতি তৈরি করেন তিনি। সফল হওয়ার পর কাঠ দিয়ে সম্পূর্ণ মূর্তি নির্মাণের কাজ হাতে নেন।
মাঝে আর্থিক অনটনের কারণে কাজ বন্ধ রাখতে হয় মোস্তফাকে। ২০০৮ সালের পর আবার কাজ শুরু করেন। শত আর্থিক সংকটের মাঝেও তিলে তিলে গড়ে তুলেছেন জাতির পিতার এই প্রতিকৃতি। নিজের সর্বোচ্চ মেধা ও শ্রম নিয়োজিত করেছেন এতে। ঢেলে দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর জন্য পুষিয়ে রাখা সব আবেগ। তিনি বলেন, ‘আমার পণ ছিল যেভাবেই হোক জাতির পিতার ভাস্কর্য তৈরি করব। সে লক্ষ্যে পেশাগত কাজের পাশাপাশি এই কাজও শুরু করি।’
ভাস্কর্য শিল্পে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই গোলাম মোস্তফার। স্বপ্ল জ্ঞান আর অভিজ্ঞতা পুঁজি শুধু তীব্র আবেগের বশেই এ কাজে তিনি হাত দেন।
এ প্রসঙ্গে বাংলানিউজের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘১৯৭০-এর নির্বাচনের আগে। তখন দশম শ্রেণীতে পড়ি। বারহাট্টা রেলওয়ে স্টেশনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এসেছিলেন নির্বাচনী প্রচারণায়। এসময় তার ভাষণ শুনে অনুপ্রাণিত হই। সেই থেকে বঙ্গবন্ধু হয়ে ওঠেন আমার আদর্শ।’
সেই অনুপ্রেরণা থেকেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সংগঠন বাংলাদেশ কৃষক লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত আছেন তিনি।
ভাস্কর্যটি নির্মাণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে  শিল্পী গোলাম মোস্তফা জানান, ছাতিম কাঠ দিয়ে এটি তৈরি। ভাস্কর্যের প্রতিটি অঙ্গ-প্রতঙ্গ আলাদাভাবে কাঠের টুকরো বানিয়ে স্ক্রুর সাহায্যে জোড়া লাগানো। এরপর কাঠের গায়ে ফোম ও রং ব্যবহার করা হয়েছে। এতে মূর্তির গায়ে হাত দিলে যে কারো জীবন্ত মনে হবে।
তিনি বলেন, এ ভাস্কর্যের বড় বিশেষত্ব হলো বিভিন্ন প্রকাশভঙ্গি। দর্শনার্থীরা যেভাবে দেখতে চান ঠিক সেভাবেই দেখতে পান বঙ্গবন্ধুকে। ভাস্কর্যের জয়েন্টগুলোকে একটু নড়-চড় করে নানা ভঙ্গিতে প্রদর্শন করা যায়। বিশিষ্ট কবি নির্মলেন্দু গুণ সম্প্রতি গোলাম মোস্তফার বাড়িতে গিয়ে ভাস্কর্যটি দেখেছেন। তিনি বাংলানিউজকে মুঠোফোনে বলেন, ‘এ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর যত প্রতিকৃতি বা ভাস্কর্য দেখেছি, সবগুলোই স্থির। কিন্তু শিল্পী গোলাম মোস্তফার গড়া ভাস্কর্যটি সম্পূর্ণ ভিন্ন।’ শিল্পীর শিল্পকর্ম দেখে মুগ্ধ হয়েছি  উল্লেখ করে কবি বলেন, ‘এই ভাস্কর্যের অন্যতম আর্কষণ ও বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এতে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক মুহূর্তগুলো একেক সময় একেকভাবে প্রকাশ করা যায়।’ আগামী ১৫ জুন বারহাট্টার কাশবনে “বীরচরণ” মঞ্চে এই শিল্পকর্মটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের কথা রয়েছে। ওই দিন বিকেল সাড়ে ৩টায় কবি নির্মলেন্দু গুনের সভাপতিত্বে যোগাযোগ ও রেলমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ভাস্কর্যটি উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছেন কাশবন পরিচালনা পরিষদের মহাপরিচালক এবং কবি নির্মলেন্দু গুণের সহোদর নীহারেন্দু গুণ চৌধুরী। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে এই সৃষ্টিকর্ম তুলে দেওয়ার আশা গোলাম মোস্তফার। তিনি বলেন, ‘আমি চাই জাতির জনককে নিয়ে আমার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস বঙ্গবন্ধু জাদুঘর অথবা জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হোক।’ এতে বঙ্গবন্ধুর দুর্লভ ও ঐতিহাসিক মুহূর্তগুলো দেখে তার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে দেশ ও জাতির প্রতি ভালবাসা জন্মিলে তবেই আমার শ্রম স্বার্থক হবে- বলেন শিল্পী গোলাম মোস্তফা।পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী পদে মখদুম মনোনীত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

 সিনিয়র নেতা মখদুম শাহাবুদ্দিনকে প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য মনোনীত করেছে ক্ষমতাসীন দল পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি)। দেশটির সুপ্রিম কোর্ট প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানিকে অযোগ্য ঘোষণার পর পিপিপি এ মনোনয়ন দিল।
বুধবার সকালে পিপিপি নেতাদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি। পাকিস্তানি সংবাদ মাধ্যমের বরাত দিয়ে এনডিটিভি এ তথ্য জানিয়েছে। তবে পিপিপি কিংবা প্রেসিডেন্টের দফতর থেকে এ ব্যাপারে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা বিবৃতি দেওয়া হয়নি। পাকিস্তানি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টে আস্থা ভোট হতে পারে। এদিনই পার্লামেন্টের নেতা নির্বাচন করা হবে। এই ব্যাপারে আইনপ্রণেতাদের সমর্থন আদায় করতে উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় ওই বৈঠকে। পিপিপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পর্ষদ ও ক্ষমতাসীন জোটের শরিক নেতাদের অংশগ্রহণে দুটি বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী পদে মখদুম শাহাবুদ্দিনের মনোনয়নের ব্যাপারে জারদারির অনুমোদন নেওয়া হয়। পিপিপির পার্লামেন্টারি কমিটির বৈঠকের পর বুধবার দুপুরের পর এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। ক্ষমতাসীন জোটের নেতারা প্রেসিডেন্ট জারদারিকে নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার নিশ্চয়তা দিয়েছে। তবে মখদুমের মনোনয়নের ব্যাপারে পিপির রাতের বৈঠকে গিলানি আপত্তি করেছেন বলে জানা যায়। তার এই আপত্তির ফলে পাঞ্জাবের দক্ষিণাংশে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীতা তীব্র হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, গিলানি ও মখদুম উভয়েই পাঞ্জারের এই অংশের রাজনীতির প্রতিনিধিত্ব করছেন। পাঞ্জাবের এই অংশে সেরাইকি থেকে আলাদা নতুন একটি প্রদেশ গঠনের পরিকল্পনাও পিপিপির রয়েছে বলে জানা যায়। বৈঠকে নেতারা প্রেসিডেন্ট জারদারিকে উচ্চ আদালতের মুখোমুখি না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এর আগে পাকিস্তানের দৈনিক দ্য নিউজ জানিয়েছে, আদালতের রায়ের পরই পিপিপি নির্বাহি কমিটি বৈঠক করে। মখদুম শাহাবুদ্দিন এবং চৌধুরী আহমেদ মুক্তারকে নতুন প্রধানমন্ত্রী করার কথা ভাবা হচ্ছিল। পিপিপি সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য সাবেক মন্ত্রী হিনা রাব্বানি খের, খুরশেদ শাহ এবং সামিনা গুরকির নামও প্রস্তাব করা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত মখদুমকেই প্রাথমিকভাবে মনোনীত করেন বৈঠকে উপস্তিত নেতারা। ২০০৮ সাল থেকেই গিলানির মন্ত্রীসভায় বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন মখদুম। গত বছর ফেব্রুয়ারিতে গিলানি সরকারের মন্ত্রীসভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী পদে মখদুমকে অভিষিক্ত করার কথা ছিল। পরে সে সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়। প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার পাকিস্তানের প্রধান বিচারতি ইফতিখার চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ৩ জন বিচারকের একটি বেঞ্চ গিলানিকে অযোগ্য ঘোষণা করেন। রায়ে ২৬ এপ্রিল থেকেই প্রধানমন্ত্রী পদ শূন্য বলে ঘোষণা করে আদালত। এ রায়ে গিলানিকে পার্লামেন্টে সদস্য হিসাবেও অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গিলানিকে অযোগ্য ঘোষণা করা হবে না পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার ফাহমিদা মির্জার এমন সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে চলা বিচার কাজ শেষে এ রায় দিল পাকিস্তানি আদালত। এদিকে ৭ জন বিচারপতির অপর এক বেঞ্চেও গিলানির বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ প্রমাণিত হয়। প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারির বিরুদ্ধে একটি দুর্নীতির মামলা নতুন করে শুরু করতে অস্বীকার করায় গিলানির বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার এ অভিযোগ করা হয়।
বুট তুলে রাখলেন শেভচেঙ্কো
স্পোর্টস ডেস্ক

ভালো খেলেও গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নিয়েছে সহআয়োজক ইউক্রেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন অধিনায়ক আন্দ্রেই শেভচেঙ্কো। প্রায় দুই দশক ধরে ইউক্রেনের হয়ে আলো ছড়াচ্ছেন শেভচেঙ্কো। ১৯৯৫ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হয় তার। ১১১ ম্যাচ খেলে ৪৮টি গোল করেছেন ৩৫ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড। ২০০৬ সালে তার নেতৃত্বে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে ইউক্রেন। এর দুই বছর আগে দুর্দান্ত পারফরমেন্স করায় জেতেন ফিফা ব্যালন ডি’ওরের পুরস্কার। ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে দারুণ খেলেও ১-০ গোলে ইংলিশদের কাছে হেরে যাওয়ায় শীর্ষ আটের টিকিট পায়নি ইউক্রেন। বিষয়টি মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে শেভচেঙ্কোর। বলেন, ‘আমরা ভালো খেলেছি। সুযোগও তৈরি করেছিলাম। অবশ্যই গোল করা উচিৎ ছিলো আমাদের।’ আগে থেকেই অবসরের পরিকল্পনা নিয়ে রেখেছিলেন শেভচেঙ্কো। বলেন, ‘অবসর নেওয়ার আগে পরিবার, বন্ধু ও সমর্থক যারা আমাকে অনেক বছর ধরে সমর্থন দিয়ে আসছিলেন তাদের জন্য কয়েকটি ম্যাচ খেলতে চেয়েছিলাম। কেননা এ মুহূর্তটি প্রত্যেকের জীবনেই আসে।’


দুই বছর পর ক্যামেরার সামনে বাঁধন
বিনোদন প্রতিবেদকলাক্স সুন্দরী বাঁধন প্রায় দুই বছর বিরতির পর মিডিয়ায় নিয়মিত হচ্ছেন। দীর্ঘ বিরতির পর বাঁধন দাঁড়ালেন দেশটিভির সেলিব্রিটি শো ‘মুখ ও মুখরতা’-এর ক্যামেরার সামনে। অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন আগামী দিনের পরিকল্পনা সম্পর্কে। জনপ্রিয় অভিনেত্রী বিজরী বরকতুল্লাহর উপস্থাপনায় বাঁধন ‘মুখ ও মুখরতা’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দর্শকদের সামনে হাজির হবেন ২২জুন শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে। এবারের মুখ ও মুখরতার মাধ্যমে দর্শক নতুন এক বাঁধনকে আবিষ্কার করবেন বলে জানা গেছে অনুষ্ঠান সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে। ফরিদা লিমার প্রযোজনায় এবং আসাদ উল্লাহ সারোয়ারের গ্রন্থণা ও গবেষণায় ‘মুখ ও মুখরতা’ অনুষ্ঠানের প্রতি পর্বের্  একজন সেলিব্রেটিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। সঞ্চালক বিজরী বরকত উল্লাহর সঙ্গে আলাপচারিতায় উঠে আসে সেলিব্রেটির জীবনে ঘটে যাওয়া শৈশব, কৈশোর এবং তারুণ্যের সময়কার নানান অজানা  ঘটনা। সেই সঙ্গে তার ক্যারিয়ার, বর্তমান ব্যস্ততা, ভবিষ্যত পরিকল্পনা, সমসাময়িক নানাপ্রসঙ্গে গল্প আড্ডায় জানা হয় সেলিব্রেটির মুখরিত জীবনের কাহিনী, তার চিন্তা, চেতনা, লক্ষ্য, আদর্শসহ আরো অনেক কিছু।
এবারের ‘মুখ ও মুখরতা’-এর আড্ডায় লাক্স তারকা বাঁধন জানিয়েছেন তার শৈশব, কৈশোরের অনেক মজার ঘটনা। বলেছেন তার বিয়ে নিয়ে লুকোচুরির কারণ, তার সন্তানকে ঘিরে স্বপ্ন এবং ব্যস্ততার কথা। সেই সঙ্গে তার দীর্ঘ সময়ের বিরতির কারণ এবং আবার কবে থেকে মিডিয়ায় নিয়মিত হবেন সেই কথাও জানিয়েছেন। অভিনেত্রী বাঁধনের আরেক পরিচয় তিনি একজন ডেন্টিস্ট। এ অনুষ্ঠানে ডেন্টিস্ট বাঁধনের পরিকল্পনার কথাও উঠে এসেছে। মুখ ও মুখরতার আসরে অভিনেত্রী বাঁধনকে দর্শক দেখতে পাবেন, অভিনেত্রী হিসেবে নয়, ডাক্তার হিসেবেও নয়, একজন মা হিসেবে। তার প্রতিটি কথায় ঘুরেফিরে শুধু তার মেয়ের কথাই এসেছে বারবার। বাঁধন ভক্তরা বর্তমান সময়ের বাঁধনকে জানতে হলে এবারের মুখ ও মুখরতার মাধ্যমে অনেক কিছুই জানতে পারবেন।
লোগো উন্মোচন অনুষ্ঠানে এশিয়ান টিভির জমকালো আগমনী বার্তা
বিপুল হাসান
 লোগো উন্মোচন অনুষ্ঠানে দেশসেরা তারকাদের পারফর্মেন্সের মধ্য দিয়ে এশিয়ান টিভি জানিয়ে দিলো, তাদের সম্প্রচার কার্যক্রমের জমকালো আগমনী বার্তা। একই মঞ্চে শাকিব খান, অপু বিশ্বাস, মৌসুমী, ফেরদৌস, আমিন খান, ইলিয়াস কাঞ্চন, দিতি, মৌ, ফারিয়া, মিম, শখ, নিলয়, সারিকা, নিরব, মেহজাবীন ও আরো অনেক তারকাকে একত্রিত করে প্রমাণ করলো তাদের সাংগঠনিক নৈপুণ্য। ‘ইউর চ্যানেল’ শ্লোগান নিয়ে গত ২০ জুন বৃহস্পতিবার asiaসন্ধ্যায় রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলের বলরুমে অনুষ্ঠিত হলো নতুন স্যাটেলাইট চ্যানেল এশিয়ান টিভির লোগো উন্মোচন অনুষ্ঠান। উল্লেখ্যযোগ্য সংখ্যক তারকাশিল্পী এ অনুষ্ঠানে নাচে গানে দর্শকদের মন মাতিয়েছেন। স্মরণকালে কোনো অনুষ্ঠানে শীর্ষ সারির এতো তারকাকে এক মঞ্চে পারফর্ম করতে দেখা যায় নি। এশিয়ান টিভির লোগো উন্মোচন অনুষ্ঠানের শুরুতেই ছিল চমক। ‘এলো প্রাণের প্রতিচ্ছবি, ইউর চ্যানেল এশিয়ান টিভি’ শীর্ষক থিম সঙ নিয়ে মঞ্চে উঠেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গায়িকা রুনা লায়লা। কোনো টিভি চ্যানেল তথা কোনো প্রতিষ্ঠানের থিম সং পরিবেশন করতে এবারই প্রথম দেখা গেলো রুনা লায়লাকে। থিম সং পরিবেশনের পরপরই শুরু হলো আলোচনা পর্ব। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য মন্ত্রী জিএম কাদের, বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী ফারুক খান, তথ্য সচিব হেদায়েতুল্লাহ্ আল মামুন প্রমুখ। অনুষ্ঠানে এশিয়ান টিভির চেয়ারম্যান মো: হারুন-অর-রশিদ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: মিজানুর রহমান স্বাগত বক্তব্য রাখেন। তারা বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনোদন সংবাদকে গুরুত্ব দিয়ে আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড নিয়ে শিগগিরই শুরু হবে এশিয়ান টিভির সম্প্রচার কার্যক্রম।
এশিয়ান টিভির আনুষ্ঠানিক লোগো উন্মোচনের পর শুরু হয় জমকালো স্টেজ পারফর্মেন্স। দেবাশীষ বিশ্বাস ও নওশীনের যৌথ উপস্থাপনায় দেশসেরা তারকাদের বর্ণিল পরিবেশনায় তৈরি হয় উৎসব মুখর পরিবেশ। র‌্যাম্প কিউতে মডেলদের মাঝে মৌসুমী, ফেরদৌস, শাকিব খান, অপু বিশ্বাস, মৌ, আমিন খান প্রমুখের মতো শীর্ষ তারকাদের দেখে উচ্ছসিত হয় দর্শকরা। সঙ্গী-সাথীদের নিয়ে সারিকা ও বিদ্যা সিনহা মিমের ড্যান্স পারফর্মেন্স ছিল দর্শনীয়। পাশাপাশি দ্বৈত পরিবেশনায় শখ-নিলয় আর নিরব-মেহজাবীনের অনবদ্য পারফর্মেন্স মুগ্ধ করে দর্শকদের। এশিয়ান টিভির লোগো উন্মোচন অনুষ্ঠান জাক-জমকে হার মানিয়েছে যে কোনো টিভি চ্যানেলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকেও। যদিও অনুষ্ঠানে র‌্যাম্প মডেলদের পোশাক-আশাক আর হিন্দি গান-বাজনা অনেকের মনেই প্রশ্ন তুলেছে, দেশীয় টিভি চ্যানেল হয়েও এ কোন সংস্কৃতির উপস্থাপন করলো এশিয়ান টিভি !
মোনালিসা বাগদানের ঘটনা স্বীকার করলেন ফেসবুকেই
অনন্যা আশরাফ জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী মোনালিসা নিজের বাগদানের খবরটি নিশ্চিত করেছেন ফেসবুকের মাধ্যমে। আমেরিকা প্রবাসী ফাইয়াজ শরীফের সঙ্গে তার বাগদান হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় ১৭ জুন রবিবার সন্ধ্যায় পাত্রের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজনদের উপস্থিতিতে তাদের আংটি বদলের কাজটি সম্পন্ন হয় । মোনালিসার বর ফাইয়াজ শরীফ ছোটবেলা থেকেই নিউইয়ার্কে বাস করছেন। তিনি বাবা-মার একমাত্র সন্তান। ফাইয়াজ সম্প্রতি নিউইয়র্কের আয়ানা বিশ্ববিদ্যালয়ে বায়োলোজিতে মাস্টার্স করেছেন। খুব শিগগিরই তিনি ক্যলিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে একই বিষয়ের ওপর পিএইচডি করতে ভর্তি হবেন। মোনালিসা গত সপ্তাহে ঢালিউড অ্যাওয়ার্ডে অংশ নিতেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়েন। কিন্তু অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান তার পারফর্ম করার কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেননি। কারণ সেদিন্ই সম্পন্ন হয় তার বাগদান। ফেসবুকের মাধ্যমে বাংলানিউজকে মোনালিসা বলেন, আমেরিকাতে যাওয়ার পর হুট করেই আমার হাতে আংটি পরিয়ে দেয়া হয়েছে। সেখানে আমি, আমার বড় বোন মুনিরা এবং তার স্বামী মানিক ভাই ছিলেন। আমার মা, বোন মারিয়া ছিলেন বাংলাদেশে। আমি চাই সবার উপস্থিতি, আমার মিডিয়ার বন্ধু বান্ধব, সাংবাদিক ভাইদের সঙ্গে নিয়ে একটি বাগদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে। ফাইয়াজের সঙ্গে কী আগে চেনা-জানা ছিল ? উত্তরে মোনালিসা বলেন, একদমই না। পুরো ঘটনাটি ঘটেছে অনেকটা সিনেমার চিত্রনাট্যের মতো। এবার আমেরিকায় এসেছি ঢালিউড অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে অংশ নিতে। ফাইয়াজের পরিবার আমাকে এতটাই পছন্দ করলেন, আংটি পরিয়ে দিলেন। আমার বোন-দুলাভাইরাও অনেকদিন ধরে চাইছিলেন আমার বিয়ে দিতে। তাই সবার ইচ্ছায় আংটি পরে নিলাম। মোনালিসা বাংলানিউজকে আরো  বলেন, ফাইয়াজের পরিবার চায় বিয়ের পরও আমি মিডিয়ায় কাজ চালিয়ে যাই। তারা আমাকে আমার মতোই করেই জীবনযাপন করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। আমি আমার ইচ্ছা মত আমার জীবনটাকে সাজাতে পারবো। তাদের মত পরিবারকে পেয়ে আমি সত্যিই ভাগ্যবান।সবশেষে মোনালিসা বলেন, হুট করে আংটি পরায় দেশের সবার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারিনি। এজন্য আমি ক্ষমা চাইছি। আশা করছি দেশে ফিরে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একটি অনুষ্টানের আয়োজন করে সবার কাছে দোয়া চাইবো। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন।  মোনালিসার বাগদানের কয়েকটি ছবি  ১৯ জুন মঙ্গলবার ফেসবুকে প্রকাশ পায়। এরপর থেকেই ভক্তরা ছবির নিচে মোনালিসার নতুন জীবনের শুভ কামনা জানাতে থাকেন। ভক্তদের এই শুভকামনাকে স্বাগত জানিয়ে মোনালিসা বলেন, আমি ও ফাইয়াজ দুজনই ভক্তদের শুভকামনাগুলো পড়েছি।  ভক্তদের এ ভালোবাসা দেখে সত্যি ভালো লাগছে। আমাদের জন্যে সবাই দোয়া করবেন। মোনালিসা এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জ্যামাইকায় অবস্থান করছেন। আগামী ২৪ জুন রবিবার মোনালিসা যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরে আসবেন বলে বাংলানিউজকে জানিয়েছেন।
নারীদের প্রতিযোগিতা ‘আজকের অনন্যা’
অনন্যা আশরাফনারীর পরিধি এখন চারদেয়ালের মধ্যে সীমিত নেই। ঘরে-বাইরে সর্বত্রই নারীরা পালন করে চলেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। ‘আজকের অনন্যা’ অনুষ্ঠানটি হলো সেই সব নারীদের প্ল্যাটফর্ম, যারা নিয়মিত জীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপুর্ণ কাজ করেন। নারীদের মধ্যে যারা সংসারের পাশাপাশি চাকরি, ব্যবসা, সেবামূলক কাজ যুক্ত তাদের জন্য জিটিভির নিয়মিত অনুষ্ঠান ‘আজকের অনন্যা’। ঘর-সংসার আর অন্যসব কাজের বাইরেও এমন অনেক নারী আছেন যারা আরো অনেক কিছু করতে পারেন ও করতে চান। যাদের মধ্যে আছে সুপ্ত প্রতিভা, যা সময় সুযোগের অভাবে প্রকাশ  হয়নি। সেই সকল নারীদের ইচ্ছা এবং প্রতিভার প্রকাশ ঘটাতেই এ অনুষ্ঠানটি প্রচারিত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানের প্রতি পর্বে অংশগ্রহণ করেন নিজেকে প্রকাশ করতে চান এমন চারজন আপামনি। তাদের মধ্য থেকে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক গেম এর মাধ্যমে প্রতিপর্বে একজন হয়ে উঠেন ‘আজকের অনন্যা’। তানিয়া আহমেদের উপস্থাপনায় ও উষ্ণীষ চক্রবর্তীর প্রযোজনায় ‘আজকের অনন্যা’ অনুষ্ঠানটি প্রতি শুক্রবার রাত ৯টা ০৫ মিনিটে জিটিভিতে প্রচারিত হচ্ছে।


চট্টলার মেহেদী হাসান
সোহরাব খানের মখমলী কণ্ঠে মুগ্ধ শ্রোতা
আল রাহমান
সব ধরনের গানের চর্চা করলেও গজল গানেই স্বচ্ছন্দ বোধ করেন শিল্পী সোহরাব খান। চট্টগ্রামের উদীয়মান ও প্রতিশ্রুতিশীল এ শিল্পীর গজলের ইন্দ্রজালে এখন বন্দরনগরীর রুচিশীল শ্রোতারা আপ্লুত। তার গায়কীতে আছে সদ্যপ্রয়াত শেহেনশাহ-ই-গজল মেহেদী হাসানের মখমলী গলার আবেশ- এটা পাহাড় বেষ্টিত, সাগরবিধৌত চট্টলার সুররসিকদের মূল্যায়ন। হালে চট্টগ্রামের রুচিশীল শ্রোতাদের আলোচনায় উঠে আসা গায়ক সোহরাবের বিষয়ে জানতে পাঠকদের পক্ষ থেকে বাংলানিউজ তার মুখোমুখী হয়। আমাদের স্টাফ করেসপন্ডেন্ট আল রাহমানকে গজল শিল্পী সোহরাব বলেছেন এ জগৎ সম্পর্কে তার দৃষ্টিভঙ্গি আর ধারণার কথা। তার সঙ্গে একান্ত আলাপনে শুদ্ধসংগীতের (ক্লাসিক্যাল) প্রচার-প্রসার-চর্চার ক্ষেত্রে সংকট ও সীমাবদ্ধতা, গজল গানের সাম্প্রতিক অবস্থা, তরুণ শিল্পীদের নানা প্রতিবন্ধকতা ও চাওয়া-পাওয়া, অল্প পরিশ্রমে তারকা খ্যাতি পাওয়ার মোহ, পৃষ্ঠপোষকের অভাবসহ বিবিধ বিষয় উঠে আসে। গজল গানের প্রতি আগ্রহী হলেন কিভাবে- এমন প্রশ্নের জবাবে সোহরাব বলেন, সব ধরনের গানের চর্চা করলেও গজল গানেই স্বচ্ছন্দ বোধ করি। এ গান একটু উঁচু শ্রেণির সমঝদার শ্রোতাদের জন্য। তবে তিনি মনে করেন, এই একই কারণে এই গানের সিডি-অ্যালবাম বের করলে ব্যবসাসফল হয় না। তাই সমাজেরসঙ্গীত পিয়াসু রুচিশীল বিত্তবানদের এর পৃষ্ঠপোষকতায় এগিয়ে আসা দরকার, এটাকে তাদের দায়িত্ব বলে বিবেচনা করতে হবে।
সংগীতে কখন হাতেখড়ি, কার কাছে?
১৯৭৫ সালের ১০ আগস্ট জন্ম চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া গ্রামে। ৫ বছর বয়সে মা আয়েশা খানমের কাছেই সংগীতে হাতেখড়ি। মা তালিম নিয়েছিলেন বড় ওস্তাদের কাছে। বড়ভাই সাদেক খান ছোটবেলায় আমাকে বেতারসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিয়ে যেত, সেও খুব ভালো গাইত। এরপর আমার গুরু ছিলেন দীলিপ দাশ। তার কাছে উচ্চাঙ্গ, নজরুল, পল্লীগীতি ও দেশাত্মবোধক গান শিখতাম। যখন আমি সপ্তম শ্রেণির ছাত্র তখন ঢাকায় একটি অনুষ্ঠানে ওস্তাদ রশিদ খানের সঙ্গে এবং অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় চিটাগাং ক্লাবে মেহেদী হাসানের সঙ্গে হারমোনিয়াম বাজিয়েছি। এছাড়া ভারতের ব্যাঙ্গালোরে ছিলাম ৩ বছর, সেখানেই গ্রাজুয়েশন করেছি। তখন কলকাতায় মাঝেমধ্যে ওস্তাদ রশিদ খানের মজলিসে যেতাম, বসতাম আর কি।
কখন ঠিক করলেন গজল গানের শিল্পী হবেন?
ওস্তাদ নীরদবরণ বড়–য়ার কাছে শিখতে যাওয়ার পর উনিই ঠিক করে দিলেন। বললেন গজল গানই আমার কণ্ঠের সঙ্গে বেশি মানাবে।
গজল গানে খুব বেশি প্রেরণা পেয়েছেন এমন কোনো ঘটনা আছে আপনার জীবনে?
কলকাতায় একটি অনুষ্ঠানে আমার গুরুজি ছিলেন। আরও ছিলেন অজয় চক্রবর্তী ও হৈমন্তী শুক্লা। মধ্যপ্রদেশ, কলকাতা, বোম্বে, দিল্লিসহ বিভিন্ন অঞ্চলের ক্ল্যাসিক গানের শিল্পীরা একে একে পরিবেশন করছেন। আমি তখনো জানতাম না এখানে পুরস্কারের ব্যবস্থা আছে। খেয়াল, ভজন, রাগ পরিবেন করছেন শিল্পীরা। তখনো আমি ভাবতাম এদের তুলনায় আসলে আমার কিছুই শেখা হয়নি। একসময় আমার পালা এলো এবং আমিই বেস্ট পারফরমারের পুরস্কার পেলাম। ওই রাতে এ গুণী শিল্পীদের কাছে তালিম নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলাম। এখনো অ্যালবাম বের হয়নি কেন প্রশ্নের জবাবে শিল্পী বলেন, সাড়ে তিন বছর আগে অ্যালবাম বের হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাসার ৫ তলার ছাদ থেকে পড়ে ৬ মাস বিছানায় ছিলাম। এ দুর্ঘটনা আমার অনেক ক্ষতি করেছে। তবে এটা ঠিক, গানই আমাকে বাঁচিয়ে দিয়েছে। ওই সময় গান গেয়েই অসহায়ত্ব, একাকিত্ব দূর করতাম। ডাক্তার চন্দনের তত্ত্বাবধানে সুস্থ হয়ে উঠেছিলাম। আশার কথা, এখন একটি অ্যালবামের কাজ গুছিয়ে নিয়েছি অনেকটা।
মঞ্চে নিয়মিত ডাক পড়ছে, সমঝদার শ্রোতাদের বুঁদ করে রাখছেন গজল গেয়ে। কেমন লাগছে?
আমি মনে করি, শ্রোতা তৈরির দায়িত্ব শিল্পীকেই নিতে হবে। আগেই বলেছি, উচ্চাঙ্গ সংগীতের, গজল গানের শ্রোতারা উচুঁ শ্রেণির। আধুনিক গানের মতো বেশি নয়। তবে হ্যাঁ, বেশি বেশি, প্রতিদিন প্রোগ্রাম করলে কণ্ঠের ওপর চাপ পড়ে। তাই মাঝেমধ্যে কণ্ঠকে বিশ্রাম দিতে হয়। তাই ৭ থেকে ৮ দিন পরপর প্রোগ্রাম নিতে পছন্দ করি। সম্প্রতি তরুণদের মধ্যে তারকা বনে যাওয়ার প্রবণতা সম্পর্কে তিনি বলেন, আমি উপলব্ধি করি, যেকোনো গানের চর্চা করতে হলে উচ্চাঙ্গ সংগীতের মজবুত ভিত্তি থাকা চাই। নয়তো বেশিদিন টিকে থাকা যাবে না। এখন শিশু-কিশোর-তরুণ সবাই রাতারাতি তারকা হতে মরিয়া। রাতারাতি বিখ্যাত হওয়ার প্রতিযোগিতা। তাই একদিকে শুদ্ধ সংগীত হচ্ছে না, অন্যদিকে সাময়িক তারকা হলে দীর্ঘমেয়াদে কিন্তু তারা হারিয়েই যাচ্ছে। পরিচিতি মানে কিন্তু যোগ্যতা নয়। অবশ্য আমি কখনো মঞ্চে উচ্চাঙ্গ সংগীত পরিবেশন করিনি। সত্যি কথা হচ্ছে মিউজিক শেখা কখনো শেষ হয় না। এখনো কলকাতা ও ঢাকায় গিয়ে শিখি। নিয়মিত রাতদুপুরে ও ভোরে চেন রেওয়াজ করি। কারণ ক্লাসিকে চেন প্র্যাকটিসের একটি ব্যাপার আছে।প্রসঙ্গক্রমে এসে যায় বাংলা গানের কথা। সোহরাব খান বলেন, ইদানীং যে বাংলা গান লেখা হচ্ছে তাতে মানোত্তীর্ণ গীতিকবিতা মিলছে না। এখন বাংলা গান ক্যাসেট সর্বস্ব, সফটওয়্যার সর্বস্ব হয়ে পড়ছে। বেসুরো গানও সফটওয়্যারের কারণে সুরেলা হয়ে যাচ্ছে। অনেক সময় শিল্পীকণ্ঠ চাপা পড়ে যাচ্ছে যন্ত্রসংগীতের কাছে। কণ্ঠের যে সূক্ষ্ম কারুকাজ তা বোধগম্য হচ্ছে না। বন্দরনগরী চট্টগ্রামে সংগীতচর্চার সীমাবদ্ধতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানে স্টুডিও নেই বললেই চলে। চট্টগ্রামের প্লাটফর্ম ছোট। বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রে (সিটিভি) শুদ্ধসংগীতের স্ট্যান্ডার্ড কাজ হচ্ছে না। এ বিষয়টা আমাদেরই অযোগ্যতা, কারও ওপর দোষ চাপাতে চাই না। গান শেখানোর যেসব প্রতিষ্ঠান আছে তাদের আরও সিরিয়াস হতে হবে। সংগীত হয়তো সার্বিক পৃষ্ঠপোষকতা পাচ্ছে না। এ প্রতিষ্ঠান থেকে অনেক গুণী শিল্পী বেরোতো যদি প্রতিষ্ঠান পরিচালনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা উদ্যোগী হতেন। শিল্পী সম্মানী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ব্যাপারটা কষ্টের। শিল্পী সম্মানী খুবই কম, যথেষ্ট নয়। রয়্যালিটির নিশ্চয়তা না থাকলে মিউজিককে পেশা হিসেবে নিতে পারেন না শিল্পীরা। পাশাপাশি শিল্পীদের ক্ষেত্রে সরকারি সহযোগিতাও অপ্রতুল। আমি মনে করি ব্যক্তি উদ্যোগেও শিল্পীদের পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া যেতে পারে।
প্রিয় গান
নিয়াজ মোহাম্মদের ‘আজ এই বৃষ্টির কান্না দেখে’ ও ‘জীবন আনন্দ হয়ে সংসারে আজও আমি’, মোহাম্মদ রফির ‘তোমাদের আশীর্বাদে এ শতদল মাথায় রাখি’ (সুর: সতীনাথ), শাকিল বদাউনির লেখা ‘বাহারো ফুল বারসাও মেরা মেহবুব আয়া হে’, ডা. গোলাম মোস্তফার লেখা ‘শুধু এই রাতটাকে স্মরণের বাঁধনে বেঁধে রাখো’, বাসু দেব ঘোষের লেখা ‘মনে পড়ে যায় সেই কিশোর বেলায় দিদিমার শেষ কটি গল্প’ গাইতে খুব পছন্দ সোহরাবের। বাংলাদেশে প্রিয় গজলশিল্পীর নাম জানতে চাইলে বলেন, অনেকের গানই আমার প্রিয়। বারবার শুনতে ইচ্ছে করে। আবু কাওয়াল, আমিনুল ইসলাম কাওয়াল, ওয়াকিল কাওয়াল, চট্টগ্রামের গজলশিল্পী জান্নাতুল ফেরদৌস টুম্পা, আরিফুল ইসলাম মিঠু, সানি জোবায়ের সৌরভ, নাজিরহাটের শাহজাহান খান, জামাল ইসলাম খান, রূপতনু শর্মা (একসময় ভালো গজল ও ভজন গাইতেন), সন্দ্বীপন, এসএম বাকের প্রমুখের গান ভালো লাগে। সন্দ্বীপন চট্টগ্রামের গান গেয়ে খ্যাতি পেলেও গজল থেকে শুরু করে সব গানই গাইতে পারেন।
ডিজে রিমিক্সে তিশমা
বিনোদন প্রতিবেদক
 জনপ্রিয় পপগায়িকা তিশমা এখন নিজের গান নিয়ে করে চলেছেন নানারকম এক্সপেরিমেন্ট। তার ক্যারিয়ারের নবম একক অ্যালবামের নামও ‘এক্সপেরিমেন্ট’। সম্পূর্ণ নিজের সুর ও সংগীতায়োজনে এ অ্যালবামটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেন তিনি। অনলাইনে এ অ্যালবামের গানগুলো জনপ্রিয়তাও পেয়েছে। এখানেই থেমে নেই তিশমার এক্সপেরিমেন্ট। অ্যালবামটি সিডি আকারে বাজারে ছাড়ার আগে এর কয়েকটি গানের ডিজে রিমিক্স করেছেন তিনি। ‘এক্সপেরিমেন্ট’ অ্যালবামটির সবচেয়ে জনপ্রিয় গান ‘ভালবাসি তোমায় কত জানে অন্তর্যামী’সহ কয়েকটি গান ডিজে রিমেক্সে বোনাস ট্র্যাক হিসেবে পাওয়া যাবে সিডিতে। এর আগে কোন অ্যালবামের গান নিজে ডিজে রিমিক্স করেননি তিশমা। সেদিক থেকে শ্রোতারা অ্যালবামে এই প্রথম ডিজে হিসেবে তাকে পেতে যাচ্ছেন। এই অ্যালবামে রাশিয়ান পপ গায়িকা লিনার সঙ্গে তিশমার করা দ্বৈত গান ‘অ্যাঞ্জেল’ ও ‘জানে অন্তর্যামী’র মিউজিক ভিডিও এরই মধ্যে প্রচার হচ্ছে বিভিন্ন চ্যানেলে। ডিজে রিমিক্সে গান করা করা প্রসঙ্গে তিশমা বলেন, আসলে আমি স্টেজে ডিজে করেছি বেশ কয়েকবার। সেই অভিজ্ঞতাটাই কাজে লাগাতে অ্যালবামের কয়েকটি গানের ডিজে রিমিক্স করছি।  শ্রোতাদের ভিন্নতার স্বাদ দেওয়ার বিষয়টি মাথায় রেখেই ডিজে রিমিক্স করা। আশা করছি, ডিজে রিমিক্স করা গানগুলো শ্রোতাদের ভাল লাগবে। খুব শিগগিরই ‘এক্সপেরিমেন্ট’ অ্যালবামটি সিডি আকারে প্রকাশ করতে যাচ্ছি। এছাড়াও অনলাইনে সম্প্রতি অনন্য এক গড়েছেন তিশমা। বিশ্বের অন্যতম বড় আন্তর্জাতিক মিউজিক্যাল ওয়েবসাইট রিভার্বনেশন ইন্টারন্যাশনাল চার্টে বাংলাদেশের গায়িকাদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছেন তিনি। মূলত শ্রোতাদের সর্বাধিক গান শোনার মাধ্যমেই এই সাইটের টপচার্ট নির্ধারিত হয়ে থাকে।
মিস এন্ড মিসেস অদ্বিতীয়ায় সেরা ৮ সুন্দরী
বিনোদন প্রতিবেদক
‘দুই বাংলা খুঁজছে তোমায়, তুমি কি সেই অদ্বিতীয়া’ শ্লোগান নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিম বাংলার সুন্দরী প্রতিযোগিতা ‘কেয়া শেঠস মিস ও মিসেস অদ্বিতীয়া’র বাংলাদেশ অংশের চূড়ান্ত পর্বে নির্বাচিত হয়েছেন ৪ জন মিস ও ৪ জন মিসেস। বাংলাদেশ পর্বে সেরা তিনজন করে মিস ও মিসেস নির্বাচন করার কথা থাকলেও গত ১৯ জুন চূড়ান্ত অনুষ্ঠানে আয়োজকরা চারজন মিস ও চারজন মিসেসের নাম ঘোষণা করেন। কলকাতায় অনুষ্ঠেয় ‘কেয়া শেঠস মিস ও মিসেস অদ্বিতীয়া ২০১২’ এর গ্রান্ড ফিনালে পশ্চিম বাংলার সুন্দরীদের সঙ্গে তারা সৌন্দর্যের লড়াইয়ে অংশ নেবেন। বাংলাদেশ পর্বের ফাইনালে বিজয়ী চার মিস হলেন- আনহা আমিন, জাকিয়া কামাল মুন, নাদিয়া হোসেন ও রেশমা আক্তার কোয়েল। আর চার মিসেস হলেন ফারিয়া, রিহফাত আরা, শাম্মি ও সুদীপ্তা। সৌন্দর্যের পাশাপাশি বুদ্ধিমত্তা ও অভিনয়, সংগীত, কিংবা নৃত্য যেকোনো বিষয়ে পারদর্শিতার জন্য তাদের নির্বাচিত করেন বিচারকমন্ডলী। মূল আয়োজক কেয়া শেঠের সঙ্গে বিচারক প্যানেলে ছিলেন দিতি, লায়লা হাসান, বিজরী বরকতউল্লাহ, ফ্যাশন ডিজাইনার বিপ্লব সাহা ও ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের পক্ষে এনামূল হক মুকুল। পশ্চিম বাংলার নির্বাচিত ৩২ জনসহ এই ৩৮ জন নিয়ে কোলকাতায় আবাসিক কর্মশালার মাধ্যমে হবে পার্সোনালিটি ও বিউটি গ্র“মিং। এরপর ২৮ জুলাই কলকাতার নেতাজী ইনডোর স্টেডিয়ামে ৩০ হাজার দর্শকের সামনে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নির্বাচন করা হবে মিস ও মিসেস অদ্বিতীয়া। প্রতিযোগিতায় দেশের চারটি অঞ্চল ঢাকা, চট্টগ্রাম, বগুড়া ও খুলনা থেকে ১৬ জন মিস ও ৯ জন মিসেস চূড়ান্ত পর্বের জন্য নির্বাচিত হন। এদের মধ্য থেকেই নির্বাচিত হন সেরা মিস ও মিসেস। বাংলাদেশের চারটি অঞ্চল থেকে প্রতিযোগী নির্বাচন নিয়ে বৈশাখী টেলিভিশন কয়েকটি অনুষ্ঠান নির্মাণ করেছে। এ ছাড়া গ্র্যান্ড ফিনালের জন্য দুই বাংলার প্রতিযোগীদের গ্র“মিং নিয়ে তৈরি করা হবে আরো কয়েকটি অনুষ্ঠান। গ্র্যান্ড ফিনালের পুরো অনুষ্ঠান প্রচার করবে বৈশাখী টেলিভিশন।

লন্ডনের রাজপ্রাসাদে কেট উইন্সলেট
১৯৯৭ সালে ‘টাইটানিক’ ছবিতে দুর্দান্ত অভিনয়শৈলী দেখিয়ে সারা বিশ্বেই তুমুল জনপ্রিয়তা লাভ করেন হলিউড অভিনেত্রী কেট উইন্সলেট। এই ছবির মাধ্যমে রাতারাতি তারকাখ্যাতি পেয়ে যান তিনি। এরপর একাধিক ছবিতে অভিনয় করে সফলতা অর্জন করেছেন তিনি। সেই ধারাবাহিকতায় ২০০৯ সালে ‘দ্য রিডার’ ছবিতে অভিনয় করে সেরা অভিনেত্রী হিসেবে একাডেমী অ্যাওয়ার্ড অর্জন করার গৌরব লাভ করেন। এখন পর্যন্ত যে ক’টি ছবিতে কেট অভিনয় করেছেন তার সবই প্রশংসিত হয়েছে। হাল সময়ের সবচেয়ে সফল হলিউড অভিনেত্রী হিসেবেও গণনা করা হয়ে থাকে তাকে। তন্বী এবং গ্ল্যামারাস এই অভিনেত্রীকে সম্প্রতি লন্ডনের ২য় রানী এলিজাবেথ আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন নিজের রাজপ্রাসাদে। নিজের জন্মদিনকে উপলক্ষ করেই হলিউডের জনপ্রিয় এই অভিনেত্রীকে আমন্ত্রণ জানান রানী। রাজপ্রাসাদে কেট এর পাশাপাশি আমন্ত্রিত হয়ে এসেছিলেন অভিনেতা-পরিচালক কিনিথ ব্রেনাফসহ আরও বেশ কিছু সংখ্যক অতিথি। মূলত রানী বছরে দুইবার বিশেষ অতিথিদের রাজপ্রাসাদে আসার আমন্ত্রণ জানান। প্রতি বছর জুনে নিজের জন্মদিনে এবং ইংরেজি নববর্ষে এসব অতিথিদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করেন তিনি। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও আমন্ত্রিত হয়েছিলেন বিশেষ বিশেষ অতিথিরা। এদিকে ৩৬ বছর বয়সী কেট উইন্সলেট ২য় রানী এলিজাবেথের রাজপ্রাসাদে এসে দারুণ অভিভূত ও মুগ্ধ।  এ বিষয়ে কেট বলেন, বৃটিশ রাজপ্রাসাদে আমন্ত্রিত হয়ে এসে অনেক ভাল লেগেছে। অনেক গর্বিত এখানে এসে। আর রানী কতটা অতিথি পরায়ণ সেটা বুঝেছি এখানে এসে। রাজপ্রাসাদ ঘুরে ঘুরে দেখেছি আমরা। রানীর সঙ্গে কিছুক্ষণ কথাও বলেছি। তিনি আমার অভিনয়ের প্রশংসা করেছেন। বিশেষ করে ‘টাইটানিক’ ছবিতে আমার অভিনয় তাকে মুগ্ধ করেছে বলেও জানিয়েছেন। এখানে আসলে অনেক ভাল একটা সময় পার করেছি। এই ভাল লাগার স্মৃতি আজীবন মনে গেঁথে থাকবে।
নাম না হওয়ায় প্রীতি ঝাঙ্গানিয়া
অনেক দিন ধরেই বলিউডে অনুপস্থিত প্রীতি ঝাঙ্গানিয়া। যশরাজ ফিল্মসের সুপারহিট ছবি ‘মোহাব্বাতে’ এর মধ্যে দিয়ে বলিউডে পা রেখেছিলেন তিনি। এই ছবিতে কাজ করে বেশ আলোচনায়ও এসেছিলেন তিনি। কিন্তু পরবর্তীতে সেই ধারাবাহিকতা রাখতে পারেননি। বিশেষ করে অভিনয়ে সেভাবে কোন ছবিতেই আর মেলে ধরতে পারেননি প্রীতি। এদিকে মোহাব্বাতে’র পর তাকে প্রধান নায়িকা করে বানানো একাধিক ছবি বলিউড বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ে। যার ফলে ফ্লপ নায়িকার খাতায় নাম লেখান প্রীতি। ধীরে ধীরে বলিউডে কাজও কমতে থাকে। যার ফলে এক সময় নিজে থেকেই দূরে সরে যান প্রীতি। গত দুই বছরে প্রীতি ঝাঙ্গানিয়া কোন ছবিতেই কাজ করেননি। তবে এবার নতুন একটি ছবিতে কাজ করতে যাচ্ছেন তিনি। কিন্তু বলিউডে নয়, টলিউড ছবিতে অভিষেক হচ্ছে তার। ইতিমধ্যে নাম না হওয়া একটি বাংলা ছবিতে তিনি চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। অনেকটা চুপে চুপেই এই ছবির শুটিংয়ে অংশ নিচ্ছেন তিনি। সবাইকে চমকে দেয়ার জন্যই এমনটা করেছেন প্রীতি। তবে নিজের বাংলা ছবিতে অভিনয়ের বিষয়টি সম্প্রতি খোদ জানিয়েছেন এ নায়িকা। তবে বাকি বিষয়গুলো গোপন করে গেছেন তিনি। সম্প্রতি নিজের টুইটারে প্রীতি ঝাঙ্গানিয়া লিখেছেন, আমার ভক্তদের উদ্দেশে অনেক ভালবাসা রইলো। তাদের জন্য সুখবর হলো অনেক দিন পর হিন্দির বাইরে অন্য ভাষার ছবিতে অভিনয় করছি। এর আগে আমি দক্ষিণ ভারতের অনেক ছবিতে কাজ করেছি। প্রথমবারের মতো বাংলা ছবিতে কাজ করছি। তাই অনেক উত্তেজনা কাজ করছে। অনেক সুন্দর একটি প্রেমের গল্পের ছবি বলেই এতে অভিনয় করেছি। তবে এই বিষয়ে এখনই সব কিছু বিস্তারিত জানাচ্ছি না। বাংলা ছবির দর্শকদের জন্য এটা একটি চমক হয়েই থাক। ছবির শুটিং শেষ হওয়া মাত্রই ঘোষণা দিয়েই সব কিছু জানাবো বলে ঠিক করেছি।
১২ বছর পর ভারত-সুন্দরীর ‘মিস এশিয়া প্যাসিফিক’ শিরোপা জয়
বিনোদন ডেস্ক
দীর্ঘ প্রায় ১২ বছর পর ভারতের আরেক সুন্দরী হিমাঙ্গিনি সিং জাদু এ বছরের ‘মিস এশিয়া প্যাসেফিক ২০১২’এর মুকুট জিতেছেন। এর আগে ২০০০ সালে আজকের বলিউড অভিনেত্রী দিয়া মির্জা এ শিরোপা জিতেছিলেন। সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ায় এক জমকালো আয়োজনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হলো এ বছরের ‘মিস এশিয়া প্যাসেফিক’ প্রতিযোগিতা। এশিয়ার  অন্যসব সুন্দরীদের পেছনে ফেলে এ মুকুট জিতে নেন ভারতের ইন্দোরের মেয়ে হিমাঙ্গিনি। মিস এশিয়া প্যাসিফিক শিরোপা জয়ের পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে হিমাঙ্গিনি বলেন, আমার বিশ্বাস হচ্ছেনা! আমার স্বপ্ন সত্যি হয়েছে! কঠোর পরিশ্রম, সময় ও চেষ্টা আজ আমাকে এ চ্যালেঞ্জ জিতে নেওয়ার হাতিয়ার হয়ে কাজ করেছে। ২০১০ সালে ’আইএমসি’ প্রতিযোগিতায় সেরা সুন্দরী নির্বাচিত হন হিমাঙ্গিনি সিং জাদু। এই শিরোপা জয়ের পর তিনি ‘মিস ইউনিভার্স’ ও ‘মিস এশিয়া প্যাসিফিক’এর প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। মিস ইউনিভার্সে সুবিধা করতে না পারলেও জিতে নিয়েছেন মিস এশিয়া প্যাসিফিক খেতাব। শিরোপা জয়ের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে হিমাঙ্গিনি আরও বলেন, আমার এ মুকুট জয়ের পেছনে ‘আইএমসি’র অবদান অনেক বেশি । সেই সঙ্গে সুস্মিতা ম্যামের অবদানের কথাও ভুলতে পারবো না। তাদের সহযোগিতা ছাড়া এই জয় কোনোভাবেই সম্ভব ছিলনা। হিমাঙ্গিনি সিং জাদু ভারতের ইন্দোরের ইন্টারন্যাশনাল ইনিস্টিটিউট অফ প্রফেশনাল স্টাডিস থেকে বিসিএ গ্রাজুয়েশন করছেন। ২০০৬ সালে তিনি ‘মিস ইন্দোর’ খেতাব জিতেছিলেন। ফ্যাশন শো’র নিয়মিত র‌্যাম্প মডেল হিসেবেও কাজ করেছেন হিমাঙ্গিনি সিং জাদু।
 অবশেষে শাহরুখ-ক্যাটরিনা জুটির প্রথম ছবির নাম চূড়ান্ত
বিনোদন ডেস্ক 
শাহরুখ ও ক্যাটরিনাকে নিয়ে নতুন ছবির শুটিং প্রায় শেষ করলেও ছবির নাম ঠিক করা নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন বলিউডের পরিচালক ইয়াশ চোপড়া। ছবির শুটিং শুরুর প্রায় ৭ মাস পর ছবিটির নাম চুড়ান্ত করেছেন তিনি। ছবির নাম রাখা হয়েছে ‘ইয়ে কাহা আ গ্যায়ে হাম’। শাহরুখ ও ক্যাটরিনা জুটির প্রথম ছবিটির নাম নিয়ে বিভিন্ন সময় নানা কথা। লন্ডন প্রবাসী তরুণ ও তরুণী প্রেমের কাহিনী নিয়ে ছবিটি নির্মিত হওয়ায় অনেকেই ধারণা করেছিলেন ছবির নাম হবে ‘লন্ডন ইশক’। তবে এতো সাধারণ নাম ইয়াশ চোপড়ার পছন্দ হয় নি। তিনি তার নতুন ছবির জন্যে এমন একটি নাম খুঁজছিলেন যা শুনেই প্রেমের গভীরতার ছাপ ফুটে উঠে। অনেক যাচাই-বাছাইয়ের পর তিনি খুঁজে পান উপযুক্ত নাম। আর তা হল ইয়াশ চোপড়ার তুমুল জনপ্রিয় ছবি ‘ছিলছিলা’র একটি গানের প্রথম লাইন ‘ইয়ে কাহা আ গায়ে হাম’। প্রডাকশন হাউজ সূত্রে জানা যায়, ছবির নাম নিয়ে ইয়াশ চোপড়া ও আদিত্য চোপড়া অনেকদিন থেকেই চিন্তা করছেন। কিন্তু কোন নামই ছবির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে হয়নি তাদের। হঠাৎ অমিতাভ,জয়া ও রেখার অভিনীত সুপারহিট ছবি ’ছিলছিলা’-এর একটি গানের কথার সঙ্গে ছবির গল্পের মিল খুঁজে পান। তাই জনপ্রিয় এ গানের প্রথম লাইনটিকেই ছবির নাম হিসেবে বেছে নিয়েছেন। ইয়াশ রাজের রোমান্টিকধর্মী ছবি ‘ইয়ে কাহা আ গ্যায়ে হাম’ এর প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন শাহরুখ খান ও ক্যাটরিনা কাইফ। ছবির বেশিরভাগ শুটিং শেষ করা হয়েছে লন্ডনে। চলতি বছর দিওয়ালি উপলক্ষে ছবিটি মুক্তি দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন পরিচালনক ইয়াশ চোপড়া।

আইটেম গানে রানী মুখার্জি
বিনোদন ডেস্ক 
ক্যাটরিনা, কারিনা আর বিদ্যা বালানের পর এবার আইটেমে গানে নাম লিখিয়েছেন বলিউডের মিস্টি হাসির নায়িকা রানী মুখার্জি। তাও একটা নয়, একই ছবিতে তিনি তিনটি আইটেম গানে পারফর্ম করবেন। ছবির নাম ‘আইয়া’। রানী মুখার্জির আইটেম গানে পারফর্ম করার বিষয়টি সম্প্রতি নিশ্চিত করেছেন পরিচালক শচীন কুন্ডলকর। তিনি বলেন, ‘আইয়া’ ছবিটির গল্পে বাস্তবতা ও স্বপ্ন দুটি বিষয়কেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। ছবিটির আইটেম গানে পারফর্ম করবেন রানী। স্বপ্ন দৃশ্যের অংশ হিসেবে তিনটি আইটেম গানে তাকে যাবে। পরিচালক শচীন কুন্ডলকর আরো জানান, ছবির জন্য মোট ছয়টি গান তৈরি করেছেন অমিত ত্রিবেদী। এর মধ্যে তিনটিই আইটেম গান। দক্ষিণী অভিনেতা পৃথি¦রাজ ছবিতে রানীর বিপরীতে অভিনয় করবেন। ‘আইয়া’ ছবিতে বাঙালি বংশোদ্ভূত জনপ্রিয় এ অভিনেত্রীকে মারাঠি নারীর ভূমিকায় দেখা যাবে। চরিত্রটিকে বাস্তব করে তোলা জন্য রানী মারাঠি ভাষা শিখেছেন । ছবির পরিচালকের বলেন, রানী খুবই পরিশ্রমীঅভিনেত্রী। মারাঠি ভাষা ভালোভাবে রপ্ত হওয়ার পরই কাজ শুরুকরেছেন। শুধু তাই নয়, তিনি ছবির সেটে তো পুরোপুরি মারাঠি নারীই বনে গেছেন।` রানী মুখার্জি গতবছর মুক্তি পাওয়া ‘নো ওয়ান কিল্ড জেসিকা’ ছবিতে সর্বশেষ অভিনয় করেছিলেন। চলতি বছর ‘আইয়া‘ ছাড়াও রানীর ‘তালাশ‘ নামের আরো একটি ছবি মুক্তি পাবে।

আদনান সামি-সাবাহ'র দাম্পত্যজীবনের ইতি
দীর্ঘ দাম্পত্যজীবনের আবারও ইতি টানলেন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ভারতের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আদনান সামি। গতকাল বোম্বে হাইকোর্ট থেকে বিবাহ বিচ্ছেদের কাগজ সম্পন্ন হয়। উল্লেখ্য, আদনান সামি ২০০১ সালে দুবাইয়ের নাগরিক সাবাহকে বিয়ে করেন। বিয়ের তিন বছরের মাথায় ২০০৪ সালে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। তারপর থেকে আদনান সামি একাই ছিলেন। বিচ্ছেদের তিন বছরের মাথায় অর্থাত্ ২০০৭ সালে আদনান সামি ও সাবাহ আবারও বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং সংসার করেন। কিন্তু পুনরায় তৈরি করা এই সংসারও নড়বড়ে প্রায় তিন বছর ধরে। গত ২০০৯ সাল থেকেই এই দু’জনার সম্পর্ক ভালো চলছিল না। একই সালে আদনান সামির বিরুদ্ধে সাবাহ নারী নির্যাতনের অভিযোগ তুলেন এবং আদালতে বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদন করেন। আর এই বিচ্ছেদে উভয়ের আগ্রহ থাকায় গতকাল বোম্বে হাইকোর্টের বিচারক রোশান দালভী তাদের বিচ্ছেদের রায় দিয়েছেন।

সেলিব্রিটি হতে নারাজ অ্যাডেলি
সেলিব্রেটি পরিচয়ে পরিচিত হতে কার না সাধ জাগে? সেটা যদি হয় কোন অভিনেতা অভিনেত্রী কিংবা কোন গায়ক গায়িকার ক্ষেত্রে তাহলে তো কোন কথাই নেই। কিন্তু নিজের নামের সাথে সেলিব্রেটি যুক্ত করতে চান না এমন ব্যক্তিটি হলেন ২৪ বছর বয়সী গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড জয়ী ব্রিটিশ গায়িকা অ্যাডেলি। সম্প্রতি নাইনটিন ও টুইনটি ওয়ান নামের দুটো অ্যালবাম বের করে সাড়া ফেলেছেন গানের জগতে। এ দুটি অ্যালবাম অনেক নামিদামি তারকাদের অ্যালবামের সাথে লড়াই করে বেস্ট সেলারের খেতাব কুড়িয়েছে। এত জশখ্যাতি পাওয়া সত্ত্বেও অ্যাডেলি জনসম্মুখে সেলিব্রেটি হিসেবে পরিচিত হতে চান না। তিনি বলেন ‘আমি চাই গান তৈরি করতে, কিন্তু আমি চাই না আমাকে নিয়ে আপামর জনতা আলোচনা করুক। আমার কোন ছবি যখন কোন ম্যাগাজিনের কভার পেইজে দেখা যাবে তখন আমি আর আমি থাকব না।’ এরকম চাওয়ার কারণ হিসেবে এই গায়িকা দেখিয়েছেন যখন তিনি বেশি পরিচিত হয়ে যাবেন, মানুষ তাকে নিয়ে বেশি বেশি আলোচনা করবে এবং তার সম্বন্ধে অনেক গুজব রটবে।
 ঝলমলে চুল পেতে
ঝলমলে সুন্দর চুল কে না চায়। চুলটা একটু রেশমি হোক, নরম হোক, তবেই না সাজের সঙ্গে মিলিয়ে খেলা করা যাবে চুলের সঙ্গে। রেশমের মতো নরম ও চকচকে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল চুল পেতে দেখে নিন হারমনি স্পার প্রধান রূপ বিশেষজ্ঞ রাহিমা সুলতানার দেওয়া কিছু পরামর্শ। তিনি বলেন, চুল মূলত চার ধরনের হয়। ধরন বুঝে কিছু প্রাকৃতিক যত্ন নিলে ঘরে বসেই পেতে পারেন রেশমি ও ঝলমলে চুল।
তৈলাক্ত চুল
তৈলাক্ত চুল সারাক্ষণই চটচটে হয়ে থাকে। ভেজা ভাব থাকে, ফলে খুব দ্রুত খুশকি ও ময়লা জমে। এ চুল সপ্তাহে অন্তত তিন দিন খুব ভালো শ্যাম্পু দিয়ে ঠান্ডা পানিতে ধুতে হবে। খুব বেশি ম্যাসাজ বা তেল দেওয়া যাবে না। অনেকক্ষণ চিরুনি দিয়ে আঁচড়াবেন না। এতে আরও বেশি তেল নিঃসৃত হবে। শ্যাম্পু শেষে সাধারণ কন্ডিশনার ব্যবহার করতে পারেন। তারপর এক মগ পানিতে চার টেবিল চামচ লেবুর রস মিলিয়ে ধুয়ে ফেলবেন।
মিশ্র চুল
অনেকের চুল মিশ্র প্রকৃতির হয়। এই চুলের গোড়া চটচটে থাকে, কিন্তু উপরিভাগ রুক্ষ প্রকৃতির হয়। মিশ্র চুলে সপ্তাহে অন্তত তিন দিন শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহার করতে হবে। শ্যাম্পুর আগে কুসুম গরম তেলে লেবুর রস মিশিয়ে হালকা ম্যাসাজ করে নেবেন। পানিতে গ্লিসারিন মিশিয়েও ম্যাসাজ করতে পারেন।
রুক্ষ চুল
আজকাল রুক্ষ চুলও খুব বেশি দেখা যায়। ধুলাবালি, রোদের ক্ষতিকর প্রভাবে চুল রুক্ষ হতে পারে। রুক্ষ চুলে কোনো চকচকে ভাব থাকে না, চুলের আগা ফাটা হয়। এই চুল অন্তত তিন দিন খুব ভালো ম্যাসাজ করতে হবে তেল দিয়ে। ময়েশ্চারসমৃদ্ধ শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে ও ডিপ কন্ডিশনিং করা চাই। শ্যাম্পুর আগে তেলের বদলে ঘৃতকুমারীর (অ্যালোভেরা) শাঁস বা দুধ ও মধুর মিশ্রণ দিয়েও ম্যাসাজ করা যায়। শ্যাম্পু শেষে এক মগ পানিতে দুই টেবিল চামচ লেবুর রস ও চার টেবিল চামচ মধু মিলিয়ে চুল ধুতে পারেন।
স্বাভাবিক চুল
যাঁদের চুল স্বাভাবিক, তাঁদের চুল নিয়ে খুব কমই ভাবতে হয়। তাঁদের চুল স্বাভাবিকভাবেই রেশমি হয়। তাঁরা সপ্তাহে এক দিন শ্যাম্পু করলেও চলে। মাঝেমধ্যে রিঠা, শিকাকাই ও আমলকী ভেজানো পানি চুলে ম্যাসাজ করতে পারেন।
সবশেষে রাহিমা সুলতান বললেন, যেকোনো ধরনের চুল সপ্তাহে এক দিন চা-পাতার লিকার দিয়ে ধুলে চুল রেশমি থাকে। ডিমের কুসুমের সঙ্গে গোলাপজল মিলিয়ে চুলে ম্যাসাজ করলেও চুলের কন্ডিশনারের কাজ হয়। মেথির দানা পানিতে ভিজিয়ে চুলে ম্যাসাজ করে কুসুম গরম পানিতে ধুলেও চুলের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে ও সিল্কি হয়ে উঠবে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন