Year-20 # Issue-24 # 28 July 2013
তত্ত্বাবধায়ক সরকার অধীনেই আগামী নির্বাচন হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বুধবার লন্ডনের গৌমেন হোটেল দ্য টাওয়ারসে যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে তিনি এ মন্তব্য করেন। ইফতার পূর্ব আলোচনা সভার প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক নিজ ভাবনা প্রকাশের খোলসে আগামী নির্বাচনে বিএনপির সম্ভাব্য ইশতেহারই যেন তুলে ধরেছেন নেতাকর্মী ও সাংবাদিকদের সামনে। তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন নির্বাচন নয়, মূল ইস্যু তত্ত্বাবধায়ক সরকার সিস্টেম। ভবিষ্যতসমৃদ্ধ বাংলাদেশের জন্যেই এ সিস্টেম ফিরিয়ে আনতে হবে। এ সিস্টেম ফিরিয়ে আনার ওপর নির্ভর করছে একটি জনসম্পৃক্ত, গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং উন্নয়ন ও উৎপাদনের রাজনীতিতে বিশ্বাসী কোনো রাজনৈতিক দলের ক্ষমতায় যাওয়া বা না যাওয়ার বিষয়।
বিএনপির যুক্তরাজ্য শাখার সভাপতি সাইস্তা চৌধুরী কুদ্দুসের সভাপতিত্বে ইফতারপূর্ব আলোচনা সভা পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক কয়সর এম আহমেদ।
আগামী নির্বাচনের ইশতেহার
গত ২/৩ দিন ধরে লন্ডনের কমিউনিটিতে আলোচিত ছিল বিএনপির এ ইফতার মাহফিল। তারেক রহমান কেন্দ্রীয় লন্ডনের পাঁচ তারকা এ হোটেলে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বক্তৃতা দেবেন এমন আভাসও দিচ্ছিলেন যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতারা।
ইফতার পূর্ব আলোচনায় তারেক বাংলাদেশ নিয়ে তার ভবিষ্যত ভাবনার কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাংবাদিকদের মতে, তারেক নিজ ভাবনা প্রকাশের খোলসে আগামী নির্বাচনে বিএনপির ইশতেহারই তুলে ধরেছেন নেতাকর্মী ও সাংবাদিকদের সামনে।
প্রতিপক্ষের সমালোচনা নেই
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তারেক কিছু বলবেন, এমন আশা নিয়ে দলের নেতাকর্মীসহ সাংবাদিকরা গিয়েছিলেন ইফতার মাহফিলে। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জোটের রাজনীতি বা প্রতিপক্ষের কোনো সমালোচনাই ছিল না তারেকের বক্তৃতায়।
প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে দেওয়া তারেকের এ বক্তৃতার পুরোটাই ছিল বাংলাদেশ নিয়ে তার ভবিষ্যত ভাবনা। কেমন হতে পারে বাংলাদেশ, তার এই ভাবনা দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে তুলে ধরে তিনি জানতে চেয়েছেন, এ ভাবনা বা স্বপ্নগুলো বাস্তবায়ন সম্ভব কি না। উত্তরে নেতাকর্মীরা সমস্বরে নেতাকে দিয়েছেন সাহস, বলেছেন, সবই সম্ভব তারেকের নেতৃত্বে।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ আমাদের গড়ে তুলতে হবে, যে দেশ আধুনিক পৃথিবীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারে।
তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য স্থির করতে হবে, যেকোনো জায়গায় ঢিল ছুঁড়লে চলবে না। অতীতমুখিতা নয়, ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে হবে, এমনই পরামর্শ তারেকের নেতাকর্মীদের প্রতি।
তারেক বলেন, গতানুগতিকতার মধ্যে আবদ্ধ থাকলে চূড়ান্ত লক্ষ্যে আমরা পৌঁছাতে পারবো না। প্রতিপক্ষের সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে উৎপাদন ও উন্নয়নের রাজনীতির কৌশল নির্ধারণ করে তা বাস্তবায়নে জোর দিতে হবে।
কেন পারবে না বাংলাদেশ
কৃষি, শিক্ষা, পর্যটন, বিদ্যুৎ, গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন সেক্টর নিয়ে নিজের ভাবনা প্রকাশ করে তারেক বলেন, পৃথিবীর অন্য দেশ যদি পারে তাহলে কেন পারবে না বাংলাদেশ?
কৃষি ক্ষেত্রে আরো ভর্তুকি বাড়িয়ে এ খাতকে রফতানিকেন্দ্রিক শিল্পে রূপান্তরের তার ভাবনার কথা প্রকাশ করে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, ব্রিটেনের সেইন্সবারি, আজদা, টেসকোসহ বড় বড় সুপার স্টোরগুলোতে গ্রোসারিজাত সব সামগ্রী বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। অন্যান্য দেশ যদি ব্রিটেনের মতো দেশের চাহিদা অনুযায়ী গ্রোসারি, পোল্ট্রিসহ অন্যান্য পণ্যের জোগান দিতে পারে, তাহলে বাংলাদেশ কেন পারবে না?
তিনি কৃষি খাতকে শিল্পায়নে রূপদানের মাধ্যমে এমন একটি প্লাটফরম তৈরি করার কথা বলেন, যে প্লাটফরম দেশের কৃষক ও পোল্ট্রি মালিকদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ীদের যোগসূত্র সৃষ্টি করে দেবে। কৃষি খাতে প্রয়োজনে আরো ভর্তুকি দিয়ে বাংলাদেশের কৃষিজাত ও পোল্টিজাত পণ্য বিদেশের বাজারে প্রবেশ করানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে তারেক বলেন, বাংলাদেশের কৃষি ও পোল্ট্রি প্র্রডাক্টের বর্তমান রফতানি বাজার ১.৫ বিলিয়ন ডলার। কৃষি খাতকে শিল্পায়নে রূপান্তরিত করা গেলে আগামী ৫ বছরে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে এ রফতানি বাজার ৫ বিলিয়ন ডলারে উত্তরণ সম্ভব।
গার্মেন্টসের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয়
গার্মেন্টস সেক্টরকে বাংলাদেশের বৈদেশিক আয়ের অন্যতম খাত উল্লেখ করে তারেক বলেন, এ খাত যেমন আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা দিচ্ছে, ঠিক তেমনি বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠির কর্মসংস্থানেরও ব্যবস্থা করেছে। এ খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত করে আরও আধুনিকায়ন করতে পারলে ৫ বছরে ২২ বিলিয়ন থেকে ৪৫ বিলিয়ন ডলার এ খাত থেকে আয় করা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তারেক।
তিনি বলেন, গার্মেন্টস সেক্টরের জন্যে আলাদা একটি মন্ত্রণালয় গঠন এখন সময়ের দাবি। গার্মেন্টস পণ্য ছাড়াও অন্যান্য পণ্যের ম্যানুফ্যাকচারিং এবং রফতানির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন দেশের প্রধান বিরোধী দলের শীর্ষ নেতা তারেক রহমান।
বহু ভাষায় দক্ষতা অর্জন জরুরি
শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নয়নের কথা বলতে গিয়ে বিএনপির আগামী দিনের এই কর্ণধার বলেন, ইংরেজিসহ অন্যান্য প্রধান ভাষা শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করতে হবে আমাদের। বিশ্ব চাকরি বাজারে আমাদের সন্তানরা যাতে নিজ যোগ্যতায় সহজেই ঢুকতে পারে, সে লক্ষ্যেই বহু ভাষায় দক্ষতা অর্জন প্রয়োজন তাদের।
কারিগরি শিক্ষার প্রতি গুরুত্বারোপ করে তারেক বলেন, কারিগরি শিক্ষা বেকারত্ব ঘোচাতে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত একটি জনগোষ্ঠি গড়তে পারলে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক গঠন করে এ জনগোষ্ঠিকে কাজে লাগানো সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পরিকল্পিত আবাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, ১৫ কোটি মানুষের বাসস্থানের ব্যবস্থার জন্যে পরিকল্পিত আবাসনের বিকল্প নেই। বিদ্যুৎ উৎপাদনে সোলার সিস্টেমকেও কাজে লাগানোর তাগিদ অনুভব করেন তারেক। দেশের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদনে এ সিস্টেম সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে বলে তার ধারণা।
পর্যটন শিল্পে বাংলাদেশের সোনালি সম্ভাবনা
পর্যটন শিল্পে বাংলাদেশের সোনালি সম্ভাবনা রয়েছে মন্তব্য করে তারেক বলেন, ব্রিটেনের সাফারি পার্কের মত আমাদের সুন্দরবনকে গড়ে তুলতে পারি আমরা। সুন্দরবনের অভ্যন্তরের খালগুলো সংষ্কার করে উন্নতমানের নৌ-যানের মাধ্যমে পর্যটকরা উপভোগ করতে পারেন মুক্ত পশু-পাখির অবাধ বিচরণ। কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতকে নান্দনিক রূপে সাজিয়ে তুললে পৃথিবীর অন্যতম আকর্ষণীয় সমুদ্র সৈকতে পরিণত হবে এটি।
সমু্দ্রের সিলিকনকে মূল্যবান সম্পদ আখ্যায়িত করে তারেক বলেন, আমেরিকায় সিলিকন ভ্যালি ও ব্রিটেনে সিলিকন প্যান থাকলে বাংলাদেশের কক্সবাজারকে কেন আমরা ‘সিলিক্যান বিচ সিটি’ নামে গড়ে তুলতে পারি না?
ব্যক্তি উদ্যোগে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা
ধোলাই খাল, বগুড়া ও সৈয়দপুরে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ও দক্ষতায় যন্ত্রপাতি নির্মাণের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ব্যক্তিগত উদ্যোগের এই সব ছোট ছোট কারখানাকে স্বীকৃতি দিয়ে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা দিলে যন্ত্রপাতি নির্মাণের বিশাল শিল্প গড়ে উঠতে পারে বাংলাদেশে।
কৃষি খাত, কনস্ট্রাকশন, অটোমোবাইল ও জাহাজ নির্মাণ সামগ্রীর বিরাট শিল্প গড়ে ওঠার সম্ভাবনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, একমাত্র কৃষি যন্ত্রপাতির আন্তর্জাতিক বাজার রয়েছে ১২৫ বিলিয়ন ডলারের। চীন যদি ১২ মিলিয়ন ডলারের কৃষি যন্ত্রপাতি বিশ্ববাজারে রফতানি করতে পারে, তাহলে বাংলাদেশ কি এই বাজারে নিজেদের তৈরি কৃষি যন্ত্রপাতি রফতানি করে ১২৫ বিলিয়ন ডলারের এক শতাংশও বছরে আয় করতে পারে না?
প্রয়োজন আরেকটি সাবমেরিন ক্যাবল
প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অপার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ডাটা প্রসেসিং, কল সেন্টার, সফটওয়ার ডেভেলপমেন্টে আমাদের তরুণদের যোগ্যতা অন্যান্য দেশের তরুণদের চেয়ে কম নয়। এ যোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে প্রযুক্তি ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ আয় করতে পারে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা।
এক্ষেত্রে আরেকটি সাবমেরিন ক্যাবলের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দ্রুততর ইন্টারনেট সুবিধা ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে পারলে প্রযুক্তি ক্ষেত্রে আমরা বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারি। জনগণের পানির চাহিদা পূরণে বর্ষার সময় পানি সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তারেক রহমান বলেন, আমাদের প্রাণপ্রিয় নেতা জিয়াউর রহমান অনেক আগেই পানি সংরক্ষণের কৌশল আমাদের শিখিয়ে গিয়েছিলেন। নদ-নদী, খাল-বিল খনন করে আমরা বর্ষায় যদি পানি সংরক্ষণ করতে পারি, তাহলে এই পানি দিয়ে কৃষিকাজসহ অনেক কিছুই করা সম্ভব।
যেন ছাত্রদের ক্লাস নিচ্ছেন শিক্ষক
বক্তৃতার ফাঁকে ফাঁকে বিভিন্ন বিষয়ে নেতাকর্মীদের প্রশ্নও করেন তারেক। দেশ ও সাম্প্রতিক বিশ্ব সম্পর্কে কেমন ধারণা আছে নেতাকর্মীদের সে সম্পর্কে পরীক্ষাও নেন কারো কারো। যেন ছাত্রদের ক্লাস নিচ্ছেন কোনো শিক্ষক। তার কোনো কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে ব্যর্থ হওয়ায় কৌতুক করে কমিটি ভেঙ্গে দেওয়ার কথাও বলেন নেতাকর্মীদের। বক্তৃতার শেষের দিকে ঈদের পর আবারও নেতাকর্মীদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার ঘোষণা দেন তারেক। আর বক্তৃতা শেষে ঘুরে ঘুরে প্রতিটি টেবিলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন তিনি।
আইনমন্ত্রী কথা বলবেন, এজলাস থেকে নেমে আসুন
এজলাসে
আচমকা ঢুকলেন আইনপ্রণেতা মনিরুল ইসলাম মনি। তখন বিচারকাজ চলছিল একটি
মামলার। এমন অবস্থায় তিনি এগিয়ে গেলেন এজলাসের দিকে। দায়িত্বরত বিচারকের
পরিচয় জানতে চাইলেন। বিচারককে বললেন, আইনমন্ত্রী আপনার সঙ্গে কথা বলবেন।
আপনি নেমে আসুন। তার এ আবদার শুনে উপস্থিত আইনজীবীরা তাজ্জব বনে যান।
বিব্রত, বিচলিত আইনজীবীরা তৎক্ষণাৎ প্রতিবাদ শুরু করেন। হৈ চৈ হট্টগোলে
এমপি মনি বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি এজলাস কক্ষে। জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতার
সহযোগিতায় তিনি গা বাঁচান সেখান থেকে। ঘটনাটি ঘটে গতকাল বরিশালের একটি
আদালতে। মনিরুল ইসলাম মনি বরিশাল-২ আসনের সংসদ সদস্য। তিনি আদালতে
গিয়েছিলেন একটি মামলার বিষয়ে তদবির করতে। ওই মামলাটির শুনানির তারিখ ছিল
গতকাল।
প্রত্যক্ষদর্শী আইনজীবীরা জানান, এমপি মনি এজলাস কক্ষে ঢুকে মুঠোফোন বের করে বিচারক মো. জাহিদুল কবিরকে বলেন, ‘আইনমন্ত্রী আপনার সঙ্গে কথা বলবেন।’ তার এ কথা শুনে উপস্থিত আইনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তারা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। গতকাল বেলা পৌনে ১২টার সময় বরিশাল অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ ঘটনা ঘটে। তবে বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুস ওই সময় এমপি মনিকে আদালত থেকে বের করে নিয়ে এসে পরিস্থিতি সামাল দেন। মনিরুল ইসলাম মনি এমপি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আইনমন্ত্রীর একটি মেসেজ দিতে গিয়ে আদালতে গিয়েছিলেন। পরে আদালতে বিচার চলার কারণে এমপি ইউনুসের সঙ্গে বেরিয়ে আসেন তিনি। অপর প্রত্যক্ষদর্শী এডভোকেট এমএইচ সালেক জানান, গত ২৯শে মে উজিরপুর উপজেলা চত্বরে উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বাদল ও সংসদ সদস্য মনির ছেলে ড. রিয়াজুল ইসলাম সুমনের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় সংসদ সদস্য মনিরুল ইসলাম মনির গাড়ি ভাঙচুর করে উপজেলা চেয়ারম্যান বাদল সমর্থকরা। ওই ঘটনায় এমপি মনির স্থানীয় প্রতিনিধি নাসিরউদ্দিন বাদী হয়ে উপজেলা চেয়ারম্যানসহ নামধারী ১০ জন ও অজ্ঞাতনামা ৪০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বাদল জামিন নেন। পরে মামলার বাদী জামিনের বিরোধিতা করে নারাজি দেন। রোববার ওই নারাজির ওপর শুনানি চলছিল।
এদিকে এমপি মনিরুল ইসলাম মনির নানা কর্মকাণ্ডে ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী। খোদ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও তার ওপর ক্ষুব্ধ। গত শনিবার বানারীপাড়ায় এমপি’র সঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের দ্বন্দ্বের জের হিসেবে সলিয়াবাকপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ইউপি সদস্য মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের সভাপতিত্বে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সলিয়াবাকপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিয়াউল হক মিন্টুকে জাসদ নেতা কবির হত্যা মামলার আসামি করেন মনি। এছাড়াও বরিশালে ঠিকাদারি কাজ নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীকে লাঞ্ছিত করলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা তাকে ঘেরাও করে লাঞ্ছিত করে। এছাড়া, গত মাসে উপজেলা উন্নয়ন সভায় তাকে দাওয়াত না দেয়ায় অনুষ্ঠান পণ্ড করে দেয় মনি সমর্থকরা। এ সময় মনি ও তার পুত্রকে অবরুদ্ধ করা হয়। এক পর্যায়ে মনির পুত্র রিয়াজ অস্ত্র উঁচিয়ে এলাকা ত্যাগ করে। ওই ছবি প্রকাশের পর ব্যাপক আলোচিত-সমালোচিত হন এমপি মনি।
প্রত্যক্ষদর্শী আইনজীবীরা জানান, এমপি মনি এজলাস কক্ষে ঢুকে মুঠোফোন বের করে বিচারক মো. জাহিদুল কবিরকে বলেন, ‘আইনমন্ত্রী আপনার সঙ্গে কথা বলবেন।’ তার এ কথা শুনে উপস্থিত আইনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তারা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। গতকাল বেলা পৌনে ১২টার সময় বরিশাল অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ ঘটনা ঘটে। তবে বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুস ওই সময় এমপি মনিকে আদালত থেকে বের করে নিয়ে এসে পরিস্থিতি সামাল দেন। মনিরুল ইসলাম মনি এমপি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আইনমন্ত্রীর একটি মেসেজ দিতে গিয়ে আদালতে গিয়েছিলেন। পরে আদালতে বিচার চলার কারণে এমপি ইউনুসের সঙ্গে বেরিয়ে আসেন তিনি। অপর প্রত্যক্ষদর্শী এডভোকেট এমএইচ সালেক জানান, গত ২৯শে মে উজিরপুর উপজেলা চত্বরে উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বাদল ও সংসদ সদস্য মনির ছেলে ড. রিয়াজুল ইসলাম সুমনের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় সংসদ সদস্য মনিরুল ইসলাম মনির গাড়ি ভাঙচুর করে উপজেলা চেয়ারম্যান বাদল সমর্থকরা। ওই ঘটনায় এমপি মনির স্থানীয় প্রতিনিধি নাসিরউদ্দিন বাদী হয়ে উপজেলা চেয়ারম্যানসহ নামধারী ১০ জন ও অজ্ঞাতনামা ৪০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বাদল জামিন নেন। পরে মামলার বাদী জামিনের বিরোধিতা করে নারাজি দেন। রোববার ওই নারাজির ওপর শুনানি চলছিল।
এদিকে এমপি মনিরুল ইসলাম মনির নানা কর্মকাণ্ডে ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী। খোদ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও তার ওপর ক্ষুব্ধ। গত শনিবার বানারীপাড়ায় এমপি’র সঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের দ্বন্দ্বের জের হিসেবে সলিয়াবাকপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ইউপি সদস্য মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের সভাপতিত্বে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সলিয়াবাকপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিয়াউল হক মিন্টুকে জাসদ নেতা কবির হত্যা মামলার আসামি করেন মনি। এছাড়াও বরিশালে ঠিকাদারি কাজ নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীকে লাঞ্ছিত করলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা তাকে ঘেরাও করে লাঞ্ছিত করে। এছাড়া, গত মাসে উপজেলা উন্নয়ন সভায় তাকে দাওয়াত না দেয়ায় অনুষ্ঠান পণ্ড করে দেয় মনি সমর্থকরা। এ সময় মনি ও তার পুত্রকে অবরুদ্ধ করা হয়। এক পর্যায়ে মনির পুত্র রিয়াজ অস্ত্র উঁচিয়ে এলাকা ত্যাগ করে। ওই ছবি প্রকাশের পর ব্যাপক আলোচিত-সমালোচিত হন এমপি মনি।
দুই নেত্রীর খেয়ালে কাটছে না সংকট
এরপর আড়াই মাস পার করে সেই খালেদা জিয়াই সংলাপের ব্যাপারে নরম সুরে কথা বলতে শুরু করেছেন।
রমজান শুরুর পর থেকে অংশ নেওয়া প্রায় প্রতিটি ইফতার মাহফিলেই এখন তত্ত্বাবধায়ক পুনর্বহাল ইস্যু নিয়ে সংলাপে বসার আগ্রহ প্রকাশ করছেন তিনি।
যদিও সদ্য শেষ হওয়া বাজেট অধিবেশনে তত্ত্বাবধায়ক নিয়ে কোনো প্রস্তাব দেন নি বিরোধী দলীয় নেতা। গত ৩ জুন শুরু হওয়া মহাজোট সরকারের সর্বশেষ এই বাজেট অধিবেশনে উত্থাপনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক পুনর্বহাল বিষয়ক একটি মুলতবি প্রস্তাব জমা দেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে অধিবেশন শুরুর মাত্র কয়েক মিনিট আগে তা প্রত্যাহার করে নেয় বিএনপি। এরপর কয়েক দফা ওয়াকআউট করেও অধিবেশনে থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি পুনর্বহাল নিয়ে বিরোধী দল শুধু গরম গরম বক্তৃতাই দিয়েছে। কোনো ফরমাল প্রস্তাবই তোলে নি। এ পরিস্থিতিতে তত্ত্বাবধায়ক নিয়ে সংসদে আলোচনা না হওয়ার দায় বিরোধী দলের ওপরই চাপিয়েছে সরকার পক্ষ। কাজেই দেখা যাচ্ছে, একই ইস্যুতে যখন নরম হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, তখন বিরোধী দলীয় নেত্রী কঠোর হচ্ছেন। আর যখন বিরোধী দলীয় নেত্রী নরম হচ্ছেন, তখন কঠোর অবস্থানে চলে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। তাই যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকলেও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল নিয়ে সংলাপ আর হচ্ছে না। চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট থেকেও মুক্তি মিলছে না দেশবাসীর।
ক্ষমতায় থাকার ১২ কৌশল
ডক্টর তুহিন মালিক
ওয়ান-ইলেভেনের
আগে দেশের যা পরিস্থিতি বিদ্যমান ছিল বর্তমানের অবস্থা তার চেয়ে অনেক বেশি
খারাপ। গতবার তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধান নিয়ে একগুঁয়েমির কারণে সংঘাত
হয়েছিল। অথচ এবার পুরো তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাই বাতিল করা হলো। গতবার
নির্বাচনে কারচুপি হবে এমন অভিযোগে আওয়ামী লীগ আন্দোলন করলে দেশে জরুরি
অবস্থা চলে আসে। অথচ এবার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের কোনো
নিশ্চয়তা না পেলে বিএনপিও আগামী নির্বাচন বয়কট করবে নিঃসন্দেহে। তা ছাড়া
দলের শীর্ষ নেতাদের ফাঁসির দণ্ড মাথায় নিয়ে জামায়াত কোনো নির্বাচনে যাবে
কিনা তাতে সন্দেহ রয়েছে। ঈদের পর জাতীয় রাজনীতিতে এসব ঘটনায় অচলাবস্থা
সৃষ্টিকারী বিক্ষোভ-আন্দোলনের পরিমাণ বাড়বে মাত্রাতিরিক্ত। এই অচলাবস্থা
রাজপথের সংঘাতকে বাড়িয়ে দেবে আরও বহুগুণে। আসলে সংবিধানের পঞ্চদশ
সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতিটি শুধু বাতিলই করা হয়নি বরং
দলীয় সরকারের অধীনে দলীয় মন্ত্রী, এমপি, ডিসিদের তত্ত্বাবধানে নির্বাচন
করিয়ে নবনির্বাচিতদের বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার
বিধান রাখা হয়েছে।সংবিধানের ৫৭(৩) অনুচ্ছেদ মতে প্রধানমন্ত্রীর উত্তরাধিকারী কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই বহাল থাকবেন। পঞ্চদশ সংশোধনীর পর বর্তমান সংবিধানের ১২৩ (৩) অনুচ্ছেদ মতে, সংসদ ভেঙে যাওয়ার পূর্ববর্তী নব্বই দিনের মধ্যে সংসদ নির্বাচন হবে এবং বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা কার্যভার গ্রহণ করতে পারবেন না। তখন একই সময়ে একই আসনে দুইজন এমপি থাকবেন। সংবিধানের ৫৬(৪) অনুচ্ছেদ মতে সংসদ ভেঙে গেলেও বর্তমান মন্ত্রীরা ক্ষমতায় থাকতে পারবেন। তা ছাড়া অন্য কোনো দল নির্বাচনে জয়ী হলেও প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতা না ছাড়লে করার কিছু থাকবে না, যদি না তিনি স্বেচ্ছায় ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। ডিসিসির মতো একই ফর্মুলায় সীমানা নির্ধারণসহ যে কোনো আইনি জটিলতার অজুহাতে সংসদ নির্বাচনের ওপরও স্থিতাবস্থা আসতে পারে এবং জাতীয় নির্বাচনও বছরের পর বছর ঝুলে থাকতে পারে। গত সোমবার জাতীয় সংসদের একটি আসনের সীমানা পুনঃনির্ধারণ নিয়ে উচ্চ আদালতে একটি রিট মামলায় আদালত থেকে রুল জারি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের বিধানকে সামনে রেখে 'রাষ্ট্রপতি সর্বোচ্চ আদালতের পরামর্শ নিয়ে বর্তমান সংসদকে পুনরুজ্জীবিত' তত্ত্বটি সুরঞ্জিত বাবু জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন। প্রধানমন্ত্রীও বলে রেখেছেন, তত্ত্বাবধায়ক চাইলে নির্বাচনই হবে না। কী হতে পারে সামনের দিনগুলোতে? সরকারের ক্ষমতায় টিকে থাকার কৌশলগুলোই বা কী হতে পারে? বর্তমান সংশোধিত সংবিধানের সুযোগ নিয়ে মোটা দাগে ১২টি কৌশল সরকার ব্যবহার করতে পারে।
১. সংবিধানের ১২৩(৩) এবং ৫৭(৩) অনুচ্ছেদের সুযোগ নিয়ে পরবর্তী কোনো নির্বাচন না দিয়ে অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা।
২. ডিসিসির নির্বাচনের মতো আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে কোনো নির্বাচন না দিয়ে সংবিধানের দোহাই দিয়ে ক্ষমতায় থাকা।
৩. সুরঞ্জিত বাবুর 'রাষ্ট্রপতি সর্বোচ্চ আদালতের পরামর্শ নিয়ে বর্তমান সংসদকে পুনরুজ্জীবিত' তত্ত্ব দিয়ে ক্ষমতায় থাকা। যদিও সংবিধানের আওতায় এটা করা প্রায় অসম্ভব।
৪. জাতীয় নির্বাচনের জন্য সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ বিষয়ে আইনি জটিলতা তৈরি করে নির্বাচনী তফসিল স্থগিত করে ক্ষমতায় থাকা (ইতোমধ্যে ৫৩টি আসনে জটিলতা তৈরি হয়েছে এবং উচ্চ আদালতেও রিট করে রুল জারি হয়েছে)।
৫. দেশে সংঘাত সৃষ্টি করে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়কে ব্যবহার করে দেশে সংবিধানের ১৪১ক অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করিয়ে সংবিধানের মৌলিক অধিকার স্থগিত করে কোনো নির্বাচন না দিয়ে ক্ষমতায় থাকা।
৬. নির্বাচন তফসিল ঘোষণা করে পরিকল্পিতভাবে দেশব্যাপী আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়ে নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করে কোনো নির্বাচন না দিয়ে সংশোধিত সংবিধানের সুযোগ নিয়ে ক্ষমতায় থাকা।
৭. পরিকল্পিতভাবে দেশব্যাপী আইন-শৃঙ্খলার মারাত্দক অবনতি ঘটিয়ে তৃতীয় কোনো শক্তির কাছে নিরাপদ প্রস্থানের শর্তে ক্ষমতা অর্পণ করে নিজেদের রক্ষা করা।
৮. বাছাই করা কিছু রাজনীতিবিদকে বিরোধী দল হিসেবে শ'খানেক আসন দিয়ে বিএনপিবিহীন নির্বাচন করে ক্ষমতায় থাকা (তবে এটা বর্তমান বাস্তবতায় বেশ দুরূহ কাজ)।
৯. বর্তমান সাংবিধানিক আইনের আওতায় ক্ষমতায় থেকেই বিএনপিকে বাদ দিয়ে একতরফা নির্বাচনের চেষ্টা (সরকারের কাছে এটাই বোধহয় সবচেয়ে লোভনীয় কৌশল)।
১০. বর্তমান সাংবিধানিক আইনের আওতায় ক্ষমতায় থেকে বিএনপিসহ সব দলকে সঙ্গে নিয়েই নির্বাচনের প্রয়াস এবং একটি সাজানো নির্বাচনে ফলাফল ঘোষণায় জয়ী হয়ে ক্ষমতায় বহাল থাকার চেষ্টা।
১১. সরকার ও বিরোধী দল থেকে সমানসংখ্যক প্রতিনিধি নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন একটি সরকার গঠন করে সরকারপ্রধান হিসেবে নিজেদের লোকদের বসিয়ে পছন্দমতো সাজানো নির্বাচন করে ক্ষমতায় ফিরে আসা।
১২. গণআন্দোলনের মুখে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল হলেও নিজেদের পছন্দমতো উপদেষ্টাদের দিয়ে নির্বাচন করিয়ে 'পোলিং ক্যু' ঘটিয়ে পুনরায় ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করা (তবে এতে টিকে থাকা কঠিন হবে)।
লেখক : আইনজ্ঞ ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ।
পরিবহনে দিনে তিন কোটি টাকা
মোস্তফা কাজল
পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনের ব্যানারে প্রায় দেড় লাখ বাস-মিনিবাস ও কাভার্ড ভ্যান থেকে প্রতিদিন তিন কোটি টাকারও বেশি চাঁদা তোলা হচ্ছে। এটি স্বাভাবিক সময়ের চাঁদার প্রায় দ্বিগুণ। মালিক-শ্রমিকের কল্যাণ, বখশিশ ও ইফতার আয়োজনের কথা বলেই পুলিশ ও বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে এসব চাঁদার টাকা তোলা হচ্ছে। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে চাঁদার রেট দিন দিন ততই বাড়ছে। পেশাদার চাঁদাবাজদের পাশাপাশি পুলিশের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন পরিবহন ব্যবসায়ীরা। ভুক্তভোগী পরিবহন ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদ মানেই চাঁদার নামে চলে মানসিক নির্যাতন। এখন ব্যবসা করতে হলে স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, পেশাদার সন্ত্রাসী, পুলিশ, চাঁদাবাজসহ অনেককেই নিয়মিত টাকা দিতে হয়। পাশাপাশি পরিবহন চাঁদাবাজির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়া পুলিশদের কাছ থেকেও কোনো নিস্তার মেলে না। ট্যাঙ্কি্যাব থেকে শুরু করে হিউম্যান হলার, বাস, মিনিবাস ও ট্রাক কিছুই চলতে পারছে না ঈদ বখশিশ বা চাঁদার টাকা না দিয়ে। ঈদ এলেই সন্ত্রাসীদের অস্ত্র আর পুলিশের টোকেন বাণিজ্যের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েন পরিবহন ব্যবসায়ীরা। আর পুলিশকে টাকা না দিয়ে রাস্তায় গাড়ি নামানোর প্রশ্নই ওঠে না। বিআরটিএর তথ্যমতে, সারা দেশে বর্তমানে ৩৭ হাজার ১৭১টি বাস, ৩৫ হাজার ৫৯৭টি মিনিবাস ও ৭১ হাজার ৫০৫টি ট্রাক রয়েছে। সব মিলিয়ে ১ লাখ ৪৪ হাজার যানবাহন থেকে ঈদ মৌসুমে প্রতিদিন প্রায় তিন কোটি টাকার বেশি চাঁদা তুলছে মালিক-শ্রমিকের সংগঠন ও পুলিশ। অবশ্য এর সঙ্গে ক্যাব, সিএনজি, হিউম্যান হলারের চাঁদা যোগ করলে সেই অঙ্কের পরিমাণ আরও অনেক বাড়বে। রাজধানীর ফুলবাড়িয়া সিটি বাসস্ট্যান্ড থেকেই প্রতিদিন চাঁদা উঠছে প্রায় দেড় লাখ টাকা। ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতির সদস্যরা এই টাকা নিজেদের তহবিলে জমা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একইভাবে গাবতলী, মহাখালী, সায়েদাবাদ, আবদুল্লাহপুর ও সদরঘাট থেকে প্রতিদিন কয়েক লাখ চাঁদার টাকা উঠছে। এই টাকা উঠছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন, ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতি ও বাংলাদেশ বাস ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নামে। অভিযোগ রয়েছে, এ তিন সংগঠনের সদস্যরা প্রতিদিন এসব টার্মিনাল এলাকা থেকে চাঁদার টাকা তোলেন। এ ছাড়াও বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার বাসস্ট্যান্ড থেকেও যথেচ্ছ হারে চাঁদার টাকা তোলা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, ঢাকার বাইরে চাঁদাবাজির নেতৃত্ব দিচ্ছে মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতি, বাংলাদেশ বাস ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন। মূলত ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতির নেতারাই বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির নেতৃত্বে রয়েছেন। এই তিন সংগঠনের জেলা ও আঞ্চলিক শাখা কমিটির নামে উঠছে চাঁদার টাকা। জানা গেছে, রমজানের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে পরিবহন ব্যবসায়ীদের কাছে নির্দিষ্ট অঙ্কের চাঁদা দাবি করে সালাম পেঁৗছে দিচ্ছে মালিক শ্রমিক সংগঠনগুলো। ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে চাঁদাবাজদের দৌরাত্দ্য ততই প্রকট আকার ধারণ করছে। কোথাও কোথাও পরিবহন ব্যবসায়ীদের কাছে চিরকুট পাঠিয়ে ঈদের বকশিশের সালাম পেঁৗছে দিচ্ছে। চিরকুটে সন্ত্রাসীরা চাঁদা দেওয়ার নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করে দিচ্ছে। এখন সড়ক থেকে মহাসড়ক, লঞ্চঘাট, ফেরিঘাট, বাস টার্মিনাল সর্বত্রই চলছে বেপরোয়া চাঁদাবাজি। নীরব-সরব দুই ধরনের চাঁদাবাজির কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে পরিবহন সেক্টর। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ঘটছে নীরব চাঁদাবাজির ঘটনা। পরিবহন ব্যবসায়ীরা বলেছেন, পুলিশের লাইনম্যান আবার কোথাও কমিউনিটি পুলিশের সদস্যরা চাঁদাবাজদের সোর্স হিসেবে কাজ করছে। পরিবহন মালিকদের অভিযোগ, ঈদ এলেই বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন, রাজধানীতে ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতি ও পুলিশের নামে বেপরোয়া চাঁদাবাজি শুরু হয়। এ ছাড়া চাঁদাবাজি চলছে শাসক দলের শ্রমিক সংগঠনের নেতা-কর্মীদের নামেও। ইদানীং ঈদ বখশিশের নামে বিভিন্ন এলাকায় শাসক দলের কর্মীরা পরিবহন কাউন্টারে গিয়ে হানা দিচ্ছে। কোথাও কোথাও সড়ক ও মহাসড়কে বাঁশকল ফেলে চাঁদা আদায় করছে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা আরও বলছেন, ঈদের সময় অভিযোগ করে কোনো লাভ নেই। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ঈদের বাজার পাড়ি দিতে হচ্ছে। তাই সবাইকে 'ম্যানেজ' করেই চাঁদা দিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যেতে হচ্ছে। যেভাবে চলছে চাঁদাবাজি : ঈদ ঘনিয়ে আসায় দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস-মিনিবাস ও পণ্য পরিবহনের যানবাহনকে পুলিশ ও শ্রমিক নামধারীদের পথে পথে দিতে হচ্ছে ঈদ বখশিসের নামে টাকা। ঢাকা থেকে খুলনাগামী আনন্দ পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসের চালক হুমায়ুন কবির বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, এতদিন এই রুটের পাঁচ জায়গায় চাঁদা দিতে হতো। ঈদ ঘনিয়ে আসায় ১২ জায়গায় দিতে হয়। গতকাল থেকে এই রুটে চলাচলকারী প্রতিটি যাত্রীবাহী বাসকে ২০০ টাকার পরিবর্তে প্রতি ট্রিপের জন্য ৫০০ টাকা দিতে হয়। এই টাকা দিতে না চাইলে নানা অজুহাতে শ্রমিক ও পুলিশ নানা ধরনের হয়রানি চালায়। ঢাকা থেকে মেহেরপুরগামী মেহেরপুর এঙ্প্রেস পরিবহনের সুপারভাইজার বাবুল আহমেদ ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, গতকাল থেকে এই রুটে ছয় জায়গার পরিবর্তে ১৪ জায়গায় ঈদ বকশিসের নামে চাঁদা দিতে হচ্ছে। এতদিন চাঁদার হার ছিল ২৫০ টাকা। গতকাল থেকে হয়েছে ৭০০ টাকা। এছাড়া চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, নড়াইল ও মাগুরা জেলার প্রতিটি বাস ও মিনিবাসকে একইহারে চাঁদার টাকা গুনতে হচ্ছে। ঢাকা-রংপুর রুটের চলাচলকারী আলম পরিবহনের মালিক আবদুল আউয়াল খোকন অভিযোগ করে বলেন, ঈদকে সামনে রেখে মহাসড়কের বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের বেপরোয়া চাঁদাবাজি শুরু হয়ে গেছে। দুই দিন ধরে এই রুটের প্রতিটি বাসকে ২৫০ টাকার জায়গায় ৬০০ টাকা দিতে হচ্ছে। ঢাকা-সিলেট রুটে চলাচলকারী অগ্রণী পরিবহনের চালক মোতালেব মিয়া বলেন, আগে সিলেট পর্যন্ত সাত জায়গায় ৪০০ টাকা দিতে হত। এখন দিতে হচ্ছে ৮৫০ টাকা। আরেক ব্যবসায়ী মিলন সর্দার বলেন, পুরান ঢাকার বাদামতলীতে কাঁচামাল বোঝাই ট্রাক নামার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ পিছু নেয়। ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হয় চাঁদা। চাঁদা না দিলে পণ্যবাহী ওই ট্রাক ও এর চালকের নামে মামলা দেওয়াসহ বিভিন্নভাবে হেনস্তা করা হয়। ঈদের বাজারে এ অবস্থা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। চালকেরা জানিয়েছেন, হাইওয়ে পুলিশ ও সার্জেন্টরাই তাদের সবচেয়ে বেশি হয়রানি করে। মোটা অঙ্কের টাকা না দিলে তারা কাঁচামাল ট্রাক থেকে নিচে নামিয়ে ফেলে। অবৈধ কিছু আছে কি না তা যাচাই করতে অহেতুক হয়রানি শুরু করে। আর টাকা দিলে চোরাচালানের গাড়িও ছেড়ে দেওয়া হয়। ট্রাকচালক জালাল জানান, যেখান থেকে ট্রাকে কাঁচামাল তোলা হয় সেখান থেকেই চাঁদাবাজি শুরু হয়। প্রথমে টার্মিনাল ফির নামে ১০০ থেকে ২০০ টাকা নেওয়া হয়। তারপর ট্রাক নিয়ে সড়কে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় পুলিশের চাঁদাবাজি। কখনো সার্জেন্ট, কখনো হাইওয়ে পুলিশ, যার যেমন ইচ্ছা সিগন্যাল দিয়ে ট্রাক থামায়। আবার মাওয়া ঘাটে এলে সেখানে ফেরির সিরিয়াল পেতেই দিতে হয় চার-পাঁচশ টাকা। ঢাকায় প্রবেশের জন্য গুনতে হয় আলাদা মাশুল। আর যে রুটেই গাড়ি যায় তার পেছনে ছুটতে থাকে ট্রাফিক কনস্টেবল। সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে নাছোড়বান্দার মতো। তার কথা অমান্য করলে মামলার বই নিয়ে হাজির হন সার্জেন্ট। এভাবে চাঁদাবাজ চক্রের কাছে জিম্মি হয়ে পরিবহন খরচ বেড়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতির সহ-সভাপতি এনামুল হক বলেন, ঈদকে সামনে রেখে গতকাল থেকে মহাসড়কের মোড়ে মোড়ে পরিবহন মালিক, শ্রমিক ও পুলিশের নামে চাঁদাবাজি শুরু হয়েছে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত ১২ জায়গায় ১২০০ টাকা গুনতে হচ্ছে। একইভাবে সিলেট পর্যন্ত ১০ পয়েন্টে ১০০০ হাজার টাকা চাঁদাবাজদের হাতে তুলে দিতে হচ্ছে। না দিলে মারধরের ঘটনাও ঘটছে। এ ছাড়া রাজশাহী পর্যন্ত ১৪ পয়েন্টে গুনতে হচ্ছে ১৪০০ টাকা। ভুক্তভোগী চালকরা জানান, দক্ষিণাঞ্চল থেকে ঢাকায় আসতে হাইওয়ে পুলিশকে আড়িয়াল খাঁ, ফরিদপুরের ভাঙ্গা, হাসারা, নিমতলী, কালীগঞ্জ নতুন রাস্তা ও পদ্মার দুই পাড়ে টাকা দিতে হয়। এ ছাড়া রাজধানীতে ঢোকার সময় বাবুবাজার অথবা পোস্তগোলায় পুলিশের টোকেন নিতে হয়। উত্তরবঙ্গ থেকে ট্রাক নিয়ে ঢাকায় ঢুকতে গাজীপুর চৌরাস্তা, বাইপাইল, আশুলিয়ায় হাইওয়ে পুলিশ ও সার্জেন্টরা ওঁত পেতে থাকে। ট্রাক দেখামাত্রই ঘিরে ধরে। এসব স্পটে চাঁদা না গুনলে রেহাই পাওয়া যায় না। যমুনা ব্রিজের ওপারে সিরাজগঞ্জ থেকে পুলিশের অত্যাচার শুরু হয়। তারপর ব্রিজের এ পারে এলেঙ্গা, টাঙ্গাইল, চন্দ্রা, জিরিয়া বাজার এসব এলাকায় বকশিশ দিয়ে পার হতে হয়। ঢাকা মেট্রো-ড-১২-১২২৪ নম্বরের চালক ইয়াছিন অভিযোগ করে বলেন, ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যেতে গতকাল থেকে চার জায়গার পরিবর্তে ১০ জায়গায় চাঁদা দিতে হচ্ছে। এসব জায়গায় আগে দিতে হতো ৩৫০ টাকা। এখন দিতে হয় ৯০০ টাকা। ঈদকে কেন্দ্র করে দৌলতদিয়া, পাটুরিয়া ও মানিকগঞ্জে চলছে টোকেন বাণিজ্য। এটা এখন রীতিতে পরিণত হয়েছে। রাস্তায় কেউ আটকালে টোকেন দেখাতে না পারলে রক্ষা নেই। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মহাপুলিশ পরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, পরিবহন চাঁদাবাজি ঠেকাতে নানা ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তালিকাভুক্ত পরিবহন চাঁদাবাজদের ধরার জন্য জেলা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিতে জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. ওসমান আলী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আমাদের সংগঠনের কোনো সদস্য চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নয়। সংগঠনের সুনাম নষ্ট করার জন্য প্রতিপক্ষের কেউ এ কাজ করে থাকতে পারে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেন, আমাদের সংগঠনের কোনো সদস্য কখনোই চাঁদাবাজির ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল না। আমাদের সংগঠন পরিবহন মালিক ও শ্রমিকের কল্যাণধর্মী কাজ নিয়ে ব্যস্ত। যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, বর্তমান সরকার ঈদ মৌসুমে ঘরমুখো যাত্রীদের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে বদ্ধপরিকর। এ ছাড়া ঈদকে কেন্দ্র সড়ক ও মহাসড়কে কোনো চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটলে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে দায়ভার নিতে হবে। সরকার কোনো চাঁদাবাজকে ছাড় দেবে না। প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে বিচার করার চিন্তা-ভাবনা চলছে।
ঢাকাইয়া চলচ্চিত্রে অপু বিশ্বাস গত কয়েক বছর ধরে একক ভাবে রাজত্ব করে যাচ্ছেন। শাকিব খানের সঙ্গে জুটি হয়ে ৫০টিরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। গত ছয় মাস বিরতী নিয়েছিলেন। আবার ফিরছেন অভিনয়ে। কেন এই বিরতী? কেনই বা ফিরে আসছেন? তার ছবি কী এখন দর্শক দেখে? এরকম নানা প্রশ্নের উত্তর জানতে কথা হয় এই অভিনেত্রীর...
শেষ পর্যন্ত আপনিও নাটকে অভিনয় করলেন?
আরে কি যে বলেন, এটা অভিনয় নাকি? আমি আমার চলচ্চিত্রের প্রচারণার কাজে ঐ নাটকে অংশ নিয়েছিলাম। আমি এখন সিনেমার প্রচারণার জন্য আরো বেশ কিছু অনুষ্ঠানে যাবো। টেলিভিশন টক শো, সংগীতানুষ্ঠান থেকে শুরু করে নানা অনুষ্ঠানেই যাবো। এটাকে আমি অভিনয় বলবো না।
হঠাৎ প্রচারণায় এত মনোযোগী হলেন যে?
আসলে আমাদের পাশের দেশ ভারত ফিল্মের জন্য যে লেভেলের প্রচার প্রচারণা করে তার ধারে কাছেও আমরা নেই। তাই আমি এখন থেকে ফিল্মের প্রমোশনে জোর দিতে চাই।
এবার ঈদে তো আপনার একটাই ছবি মুক্তি পাচ্ছে?
হ্যাঁ। একটাই ছবি ‘মাই নেইম ইজ খান’। আর এ ছবির প্রচারণার জন্যই আমি এখন নানা অনুষ্ঠানে যাচ্ছি।
ছবিটা নিয়ে আপনি কতটা আশাবাদী?
আমি খুব আশাবাদী এ সিনেমা নিয়ে। ভালো ব্যবসায় করবে।
ঈদে হলে গিয়ে ছবিটা দেখার সময় পাবেন?
এখনো বলতে পারছি না। একটা সিনেমার কাজে দেশের বাইরে যাওয়ার কথা। ঐ কাজটি হলে ঈদের আগেই দেশের বাইরে যাবো। ফিরবো ঈদের পরে। তখন হয়তো হলে গিয়ে ছবিটা দেখবো।
আপনি দীর্ঘ ছয় মাস অভিনয় থেকে বিরতী নিয়েছিলেন। হাতে সিনেমা নেই বলেই কি এ বিরতী?
[এবার একটু হাসলেন এ নায়িকা। তারপরেই সিরিয়াস ভঙ্গিতে কথা বলা শুরু করলেন ]
আমার মনে হচ্ছিলো আমি দর্শককে ঠকাচ্ছি। আমি খুব মুটিয়ে গিয়েছিলাম যা পর্দায় দেখতে খারাপ লাগছিলো। তখন আমার মনে হল তাহলে দর্শক কেন আমার ছবি দেখবে হলে গিয়ে। আমি তো নিজেই এরকম মোটা ফিগারের কারো অভিনয় দেখতাম না। তখন আমি সিদ্বান্ত নিলাম এভাবে আর না। নিজেকে একটু তৈরি করতে হবে। সময় দিতে হবে। নতুন করে নিজেকে উপস্থাপন করতে হবে। তাই আমি ওজন কমানো শুরু করলাম। মূলত ফিগার ঠিক করতেই বিরতীতে ছিলাম।
তাহলে এই ছয় মাসে কয় কেজি ওজন কমালেন?
এই কত আর হবে ১৭ থেকে ১৮ কেজি হবে। আমি আমার ফিগারটাকে জিরো ফিগারে নিয়ে আসছি। এর জন্য আরো মাস খানেক সময় লাগবে। জিরো ফিগার নিয়ে নতুন করে পর্দায় ফিরবো আমি।
ওজন কমানোর জন্য আপনি বিশেষ কোন চিকিৎসা নিচ্ছেন কী?
আমি কোন চিকিৎসা নিচ্ছি না। ডায়েটও করছি না। আমি যেটা করি সেটা হল নিয়মিত জীমে ব্যায়াম করছি। একজন ট্রেইনার আছেন আমার। তিনি আমাকে নিয়মিত গাইড করেন। সেদিন ফেসবুকে আমার ওজন কমানো নিয়ে স্ট্যাটাস দিলাম। দেখলাম অনেক ভক্তরাই এটাকে পজেটিভ ভাবে নিয়েছেন।
নায়িকাদের ফিগার যেমন গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় তেমনি পোষাকও খুব গুরুত্বপূর্ণ । পোশাক নিয়ে আপনি কি ধরনের পরিকল্পনা করেন অভিনয়ের আগে?
সত্যি কথা বলতে কি আমি যে বয়সটায় অভিনয় শুরু করেছিলাম তখন অনেক কিছুই বুঝতাম না। তখন আমার বয়স ছিল ১৬। এখন আমি ২০ ক্রস করলাম। ঐ সময়টায় আমি এ বিষয়গুলোতে খুব বেশি গুরুত্ব দেইনি। তবে এখন এসব বিষয়ে আমি খুবই সিরিয়াস।
সিনেমার জন্য নাচও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আপনি তো নৃত্যশিল্পী ছিলেন। নাচের চর্চাটা কী ছেড়ে দিয়েছেন?
নাচটা আসলে করা হয় না। তবে বিভিন্ন টিভি অনুষ্ঠানে বা এমনি স্টেজে মাঝে মধ্যে আমি নাচ করি।
অনেকেই বলেন আপনার বাজার নেই। আপনার হাতে নাকি এখন ছবি নেই?
নিন্দুকেরা তো অনেক কথাই বলে। এটা আসলে ভুল কথা। ছবি আছে আমার হাতে। এই তো সেদিনও একটা নতুন ছবিতে অভিনয়ের জন্য চুক্তি করেছি। আর ছয়মাস যেহেতু আমি একটু নিজেকে সময় দিয়েছি তাই নতুন কাজ হাতে নেইনি। এখনও প্রচুর সিনেমার প্রস্তাব আছে কিন্তু আমি একটু সময় নিচ্ছি। দর্শকে আর ঠকাতে চাই না।
আপনাকে নিয়ে নানা ধরনের স্ক্যান্ডাল শোনা যায়। বিশেষ করে শাকিব খানকে কেন্দ্র করে। এ বিষয়টাকে আপনি কিভাবে দেখেন?
আমি স্ক্যান্ডাল খুব এনজয় করি। যখন ছোট ছিলাম তখন ভাবতাম শাহরুখ-কাজল এরা মনে হয় জামাই বউ, আমাদের এখানকার রাজ্জাক-কবরী ও শাবনূর- সালমান শাহ জুটিকেও আমার স্বামী স্ত্রী মনে হত। এখন লোকজন আমাকে আর শাকিবকে নিয়ে নানা ধরনের কথা বলে এটা আমি খুব এনজয় করি। আমি কেন সিনেমায় পেট দেখাই না সেটা নিয়ে নানা রসালো গল্প আছে মিডিয়ায়। স্ক্যান্ডালটা নিয়ে মানুষ বেশি আলোচনা করে। এবং এতে করে কিন্তু এক ধরনের প্রচারনা হয় শিল্পীদের বা সিনেমার।
আপনার আইডল শিল্পী কারা...
[আবারও ভাবনায় চলে গেলেন অপু। ভেবে চিন্তে বললেন...
দেশের বাইরের শিল্পীদের মধ্যে আছেন অভিনেত্রী কাজল। আর দেশে আছেন কবরী ম্যাডাম ও শাবনূর আপা। আমি কবরী আপার হাসি নকল করার ট্রাই করি। আর শাবনূর আপা যে প্রেম ও আবেগময় দৃশ্যগুলো অসাধারণ অভিনয় করতেন তা ফলো করি। আমি তো শাবনূর আপার অন্ধ ভক্ত ছিলাম। সালমান শাহ’র সাথে তার একটি ছবির গান দেখে ঐ ছবিতে শাবনূর আপা যে ড্রেসটা পরেছিলেন সেই ড্রেসটা আমি বানিয়েছিলাম।
শাকিব খান হিরো হিসাবে কেমন?
[এবার এক কথায় উত্তর দিলেন]
ভালো।
নাটক প্রসঙ্গ দিয়ে কথা শুরু করেছিলাম আবার সেই প্রসঙ্গে জানতে চাই। মৌসুমী, পূর্ণিমা ও পপি এখন নিয়মিত নাটকে অভিনয় করেন। আপনাকেও এরকম রেগুলার টিভি পর্দায় পাওয়া যাবে কি কখনো?
দেখুন আমার মাত্র চলচ্চিত্রে অভিনয় ক্যারিয়ার শুরু। ছয় বছর ধরে অভিনয় করছি। আপনি যাদের নাম বললেন তারা এক দেড় যুগ সিনেমায় টানা কাজ করে এখন নাটকে মাঝে মধ্যে কাজ করেন। সেটা আসলে সময় বলে দিবে আমি নাটকে কাজ করবো কী করবো না।
Year-20 # Issue-23 # 21 July 2013
থামানো যায়নি আটশ’ মানুষের অনিশ্চিত যাত্রা
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সেন্টমার্টিনের অদূরে মিয়ানমারের নিকটবর্তী সাগরের মৌলভীশীল নামক পয়েন্টে অপেক্ষারত জাহাজটি শুক্রবার ভোরে যাত্রা দিয়েছে। আটশ’ জনের বেশি যাত্রী নিয়ে থাইল্যান্ডের এ জাহাজটি রওয়ানা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে একাধিক সূত্র। এ বিষয়ে একাধিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলেও থামানো যায়নি ৮শ’ মানুষের অনিশ্চিত যাত্রা। আপাচারকারী দালাল, প্রলোভনে মালয়েশিয়া যাত্রা দেওয়া লোকজন এবং বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, গভীর সাগরে থাইল্যান্ড ভিত্তিক একটি বড় জাহাজ সেন্টমার্টিন দ্বীপ থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণে মিয়ানমারের নিকটে অবস্থান করছিল গত ৩ জুলাই থেকে। জুনের মধ্যবর্তী সময়ে এ জাহাজটি থাইল্যান্ড থেকে পণ্য নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। সেখানে পণ্য খালাস করে থাইল্যান্ড ভিত্তিক পাচারকারীরা জাহাজটি মিয়ানমারের উপকূলে এনে কক্সবাজার কেন্দ্রিক দালালদের খবর জানায়। পরে ৩ জুলাই রাত থেকে ট্রলারে করে ওই জাহাজে যাত্রী পৌঁছে দেওয়া শুরু করে। সবশেষ বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত ওই জাহাজে পৌঁছানো হয় বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের ৮শ’ নারী-পুরুষ। যদিও এ সময়ের মধ্যে বিজিবি, র্যাব, কোস্টগার্ড ও ডিবি পুলিশের সদস্যরা অভিযান চালিয়ে প্রায় ৪শ’ জনকে আটক করেছে। এর মধ্যে ১৭ জুলাই ৬ জন, ১৬ জুলাই ৭, ৪ জুলাই ২৩, ৬ জুলাই ২৩, ৮ জুলাই ২২০, ১৪ জুলাই ৯ এবং ১৫ জুলাই ১৪ জনকে আটক করা হয়। অবৈধভাবে সাগরে পথে মালয়েশিয়ায় মানবপাচারকারী চক্র নানা কৌশলে ওই জাহাজে পৌঁছে দিয়ে টার্গেটের ৮শ’ যাত্রী। আর ওই ৮শ’ যাত্রী নিয়ে জাহাজটি অনিশ্চিত পথে যাত্রা দিয়েছে শুক্রবার ভোরে। প্রায় সাড়ে ৩শ’ দালাল কৌশলে এসব যাত্রীদের জাহাজে পৌঁছে দেয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভূক্ত এসব দালালের মধ্যে রয়েছে প্রভাবশালীরাও। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানান, আনলাইন সংবাদ মাধ্যম বাংলানিউজ এর ইনভেষ্টিগেটিভ টিম মানবপাচারের মূল পয়েন্ট কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ ও সেন্টমার্টিন সরেজমিনে ঘুরে গত ২২ ডিসেম্বর থেকে ধারাবাহিক অনুসন্ধানি প্রতিবেদন প্রকাশ। এ সংবাদে ওই সব দালাল নামও পরিচয় রয়েছে।
বিএনএফ আতংকে বিএনপি
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট (বিএনএফ) নিয়ে আতঙ্কে ভুগছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। চলতি মাসেই নিবন্ধনের জন্য আবেদিত এ রাজনৈতিক দলটির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলেছে তারা। এমনকি সদ্য শেষ হওয়া সপ্তাহে বিএনএফকে নিবন্ধন দিলে ইসির বিরুদ্ধে আন্দোলনের হুমকি দিয়েছে প্রধান বিরোধী দল।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে করা বিএনপির আগের অভিযোগে বিএনএফের নিবন্ধনের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ না থাকলেও এবার বেশ কোমর কষেই বিরোধিতায় নেমেছে চার দলীয় ঐক্যজোট নেতা। বিএনএফের বিরুদ্ধে বিএনপির অভিযোগ, জিয়াউর রহমানের ছবি ও ১৯ দফা এবং দলীয় প্রতীক হিসেবে গমের শীষ ব্যবহারের। এমকে আনোয়ারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের অভিযোগকারী সংসদীয় দলের অন্য দুই সদস্য ছিলেন ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ও শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী। এ দলের প্রধান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এমকে আনোয়ার এই বিএনএফ এর উত্থানকে দেখছেন বিএনপি ভাঙার ষড়যন্ত্র হিসেবেই। সদ্য গঠিত এ দলটি তাদের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে দাবি করেছেন জিয়াউর রহমানকে। তাদের দলীয় পতাকায়ও রয়েছে বিএনপির সঙ্গে সাদৃশ্য। তারা প্রতীক হিসেবে নিয়েছে গমের শীষ। দলের নামও রেখেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট। এমকে আনোয়ার বলেন, বিএনএফ তাদের পোস্টারে বিএনপির লোগো, জিয়াউর রহমানের ছবি ও তার ১৯ দফা ব্যবহার করে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করছে। এই বিএনএফ সেই বিএনএফ [জিয়া প্রতিষ্ঠিত] নয়। বিএনপিকে ভাঙার জন্য একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে। ১/১১ এর সময়ও ষড়যন্ত্রকারীরা বিএনপিকে ভাঙার ব্যর্থ চেষ্টা করেছিলো, এবারো তারা সফল হবে না। বিএনপির সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপিকা জাহানারা বেগমের নেতৃত্বে নতুন এ দলটি ইসিতে নিবন্ধনের আবেদন করে ২০১২ সালের অক্টোবরে। বস্তুত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ৪৩টি দল নিবন্ধনের আবেদন করে ইসিতে। এরমধ্যে বিএনএফ ও সাংস্কৃতিক জোট নামে দু’টি দলকে নিবন্ধনের জন্য বাছাই করে মাঠ পর্যায়ে খোঁজ খবর নিয়েছে কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিব উদ্দীন আহমদ বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, বিএনএফ সম্পর্কে মাঠ পর্যায়ে অনুসন্ধান চলছে। এরপর গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে মতামত নেওয়া হবে। তখন কারো আপত্তি থাকলে বলতে পারবে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ বলেন, এখনো নতুন কাউকে আমরা নিবন্ধন দেই নি। নিবন্ধন পেলেই প্রতীক দেওয়া হবে। এদিকে বিএনপির অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তবাদী ফ্রন্ট প্রেসিডেন্ট আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের আদর্শেই তার (জিয়া) প্রতিষ্ঠিত বিএনএফ-এর ধারাবাহিকতায় নতুন দলের আত্মপ্রকাশ করেছি। বিএনপিকে ভাঙার জন্য এ দল নয়। বরং বিএনপি নিজেদের ধরে রাখতে না পারলেই আপনা আপনি ভেঙে যাবে। আবুল কালাম আজাদকে প্রধান সমন্বয়ক ও অধ্যাপিকা জাহানারা বেগমকে সহ-সমন্বয়ক করে চলতি বছরের ২ মে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে বিএনএফ। দলের পোস্টারে জিয়াউর রহমান এবং ধান গাছ ও সবুজ জমিনে দলীয় পতাকা ব্যবহার করছে দলটি। এর আগে দলের প্রাথমিক যাত্রায় আহবায়ক ছিলেন সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী ও বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা। নতুন এ রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ক আজাদ জানান, ছয়টি দলের সমন্বয়ে (ন্যাপ ভাসানী, ছাত্তারের জাগদল, শাহ আজিজের মুসলীম লীগ, কাজী জাফরের ইউনাইটেড পিপলস পার্টি, লেবার পার্টি ও জাতীয় ফেডারেশন) ১৯৭৮ সালের ২ মে জিয়াউর রহমানের বিএনএফ আত্মপ্রকাশ করে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনএফ আর বিলুপ্ত না করেই ১ সেপ্টেম্বর বিএনপি গঠন করেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছর ৭ নভেম্বর কাজ শুরু করে বর্তমান বিএনএফ। আর যাত্রা শুরু করে গত ২ মে। নিবন্ধন পেলেই ইসির দেওয়া প্রতীকে আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আশা রাখেন আবুল কালাম আজাদ। এদিকে বিএনপিকে ধ্বংস করতে রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্রে অংশ নিলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিএনপি আন্দোলনে যাবে বলে হুঁশিয়ার করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তরের দায়িত্বে থাকা যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ডাকা এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। লিখিত বক্তব্যে নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশ্যে রিজভী বলেন, বিএনপির নির্বাচনী প্রতীকের অনুরূপ কোন প্রতীক, অফিসিয়াল লোগো, ১৯ দফা কর্মসূচি এবং দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ছবি সম্বলিত কোন ভূঁইফোড় সংগঠনের নিবন্ধনের আবেদন অনুমোদনের উদ্যোগ থেকে সরে আসবেন। অন্যথায় বিএনপিকে ধ্বংস করতে সরকারের অশুভ পরিকল্পনার অংশীদার হলে বিএনপি’র নেতৃত্বে ১৮ দলীয় জোট তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আন্দোলনের পাশাপাশি প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সব কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে। তিনি বলেন, নামগোত্রহীন উচ্ছিষ্ট ও আগাছা নিয়ে গঠিত দলে নির্বাচন কমিশন মনোযোগ দিলে কমিশনের সঙ্গে বিরোধীদলের আলোচনার সুযোগটুকুও থাকবে না। এতে তাদের জন্য বাড়া ভাতে ছাই-এর মতো অবস্থা হবে।
সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে নামছে আ’লীগ
বিএনপি-জামায়াতসহ হেফাজতের অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে নামছে বলে জানিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গণভবনে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘আজকের কার্যনির্বাহী সভায় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে রোজাকে কেন্দ্র করে প্রচার-প্রচারণায় নামবে আওয়ামী লীগ। এ জন্য টিম গঠন করা হবে। যে টিমগুলো সরকারের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের পাশাপাশি নির্বাচনী জনমত গঠনে কাজ করবে।’ ঈদের পরপরই আওয়ামী লীগ সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে নামবে বলেও জানান তিনি। পদত্যাগ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আশরাফ বলেন, ‘গুজব নিয়ে কি বলবো। সে রকম কিছু হলে আমি তো আপনাদের সামনে আসতাম।’ এদিকে বৈঠক সূত্রে জানা যায়, প্রচার প্রচারণার জন্য আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠন যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য সহযোগী সংগঠনগুলো আলাদা আলাদা টিম করবে। আওয়ামী লীগের টিম প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি তত্ত্বাবধায়নে গঠিত হবে। আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতাদের সমন্বয়ে এসব টিম গঠন করা হবে। নেতাদের এলাকাকে প্রাধ্যন্য দিয়ে টিম গঠন করা হবে। টিমগুলো মূলত বিএনপি-জামায়াত, হেফাজতের বিভিন্ন অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কাজ করবে। পাশাপাশি তারা সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড জনগণের কাছে তুলে ধরবেন। একই সঙ্গে সরকারের বিভিন্ন ব্যর্থতার যৌক্তিক কারণ ও বাস্তবতা পরিষ্কার করবেন জনগণের কাছে। এভাবে কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে নেতা-কর্মীদের চাঙা করে ঈদের পরই সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে নামবে আওয়ামী লীগ। ঈদের পর বিভিন্ন এলাকা সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠক সূত্রে জানা যায়, আগামী ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের পর পুরো মাস জুড়ে টানা কর্মসূচি রাখার সিদ্ধান্ত হয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক থেকে।
অনৈক্যই দ.এশিয়ায় বন্যা সতর্কীকরণে বড় বাধা
অনৈক্য ও অসহযোগিতামূলক মনোভাবের কারণেই সময়মত বন্যার পূর্বাভাষ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তন জনিত ঝুঁকির মুখে দাঁড়িয়ে থাকা দক্ষিণ এশীয় রাষ্ট্রগুলো । ফলে বিপুল প্রাণহানি এবং সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির শিকার হতে হচ্ছে এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষকে। শুধু সময়মত পূর্বাভাষ আদান প্রদান সম্ভব হলে ভারত, বাংলাদেশ ও নেপালের বন্যাপ্রবণ এলাকার অসংখ্য মানুষের প্রাণ এবং সম্পদ রক্ষা পেত। শুক্রবার বিবিসি অনলাইনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব বিষয় তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে বন্যা নিয়ন্ত্রণে মূলত এ অঞ্চলের দেশগুলোর পারস্পরিক যোগাযোগ এবং তথ্য আদান-প্রদানের ঘাটতির কথা উঠে আসে। দক্ষিণ এশিয়ায় বন্যার অন্যতম একটি কারণ হলো অতিবৃষ্টি। অতিবৃষ্টির কারণে এই অঞ্চলে প্রায়ই মারাত্মক বন্যা দেখা দেয়। সম্প্রতি হয়ে যাওয়া ভারতের উত্তরাখণ্ড এবং নেপালের বন্যা এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। কিন্তু পানি ভাগাভাগি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের কারণে বৃষ্টিপাত ও বন্যার গতিপ্রকৃতি সম্পর্কীয় (হাইড্রোলজি) কোন তথ্য আদান-প্রদানে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে এক ধরনের অনীহা দেখা যায়।অবশ্য সাম্প্রতিক বিপর্যয়ের পরিপ্রেক্ষিতে কর্মকর্তারা অনুধাবন করছেন, বন্যা ও নদীর পানির প্রবাহের তথ্য আদান প্রদানের জন্য এ অঞ্চলে একটি আলাদা নেটওয়ার্ক প্রয়োজন। গত মাসে হয়ে যাওয়া ভয়াবহ বন্যার কথা উল্লেখ করে পশ্চিম নেপালের দারচুলা জেলার প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা চিরঞ্জীবী অধিকারী বলেন, “বন্যা সম্পর্কে আমরা ভারতের পক্ষ থেকে কোন পূর্ব সতর্কীকরণ পাইনি।” নেপালের এ অঞ্চলটি ভারতের উত্তরাখণ্ড সংলগ্ন হওয়ায় সেখানেও ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়। গত মাসের ওই বন্যায় ভারতের উত্তরাখণ্ডের প্রায় সহস্রাধিক লোক প্রাণ হারান। এখনও নিখোঁজ আছেন কয়েক হাজার মানুষ। অধিকারী বিবিসিকে আরও জানান,“আমরা বন্যার কারণ সম্পর্কে জানতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগে চেষ্টা করছি, কিন্তু তাদের সঙ্গে এখনও টেলিফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।” একইভাবে ২০১০ সালে কাবুল নদীর প্লাবন থেকে পাকিস্তানে সংঘটিত ভয়াবহ বন্যার উদাহরণও টানা যায়। আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানের সীমান্তের অনেকটা পথ দিয়ে প্রবাহিত হলেও বন্যাপ্রবণ এই নদীর পানি প্রবাহের পূর্বাভাষ আদান প্রদানের ক্ষেত্রে দেশদু’টির মধ্যে কোনো ব্যবস্থা নেই। এ ব্যাপারে পাকিস্তানের প্রধান আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ রিয়াজ বলেন, “অবশ্যই কাবুল নদী আমাদের জন্য হুমকি, কিন্তু দুই দেশের মধ্যে বৃষ্টিপাত কিংবা বন্যা সম্পর্কিত কোন তথ্য আদান প্রদানের ব্যবস্থা নেই।” সমস্যা সমাধানে নীতি নির্ধারণী মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। এছাড়া ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যেও তথ্য আদান প্রদানের ক্ষেত্রে কিছু জটিলতা রয়েছে। চাইলেই পাকিস্তানের পক্ষে ভারত থেকে তথ্য পাওয়া সম্ভব নয়। আর যেটুকু তথ্য পাওয়া যায়, সেটা বন্যা পূর্বাভাষের জন্য যথেষ্ট নয়। বিবিসির প্রতিবেদনে উঠে আসে বাংলাদেশের বন্যা পরিস্থিতিও। বেশ কয়েকটি অভিন্ন নদী ভাগাভাগি করলেও নদীর প্রবাহ কিংবা বন্যার পূর্বাভাষ সম্পর্কে বাংলাদেশ নেপাল কিংবা ভারত থেকে খুব কমই তথ্য পায়। এ ব্যাপারে নেপালের কর্মকর্তারা জানান, আগে ফ্যাক্সের মাধ্যমে ঢাকায় তথ্য পাঠানো হলেও বর্তমানে কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে তা ব্যাহত হচ্ছে। তবে বাংলাদেশের কর্মকর্তারা বলছেন, বন্যা ও নদীর পানি প্রবাহ সংক্রান্ত তথ্য আদান প্রদানের ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের কিছুটা উন্নতি হয়েছে। বর্তমানে গঙ্গার তিনটি এবং ব্রহ্মপুত্রের চারটি বন্যা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে তথ্য পেয়ে থাকে বাংলাদেশ। এছাড়া ব্রহ্মপুত্রের বন্যা পরিস্থিতির ওপর চীনা নিয়ন্ত্রিত তিব্বত থেকেও নিয়মিত তথ্য পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা আমিরুল হোসেন। তবে আরও অগ্রবর্তী তথ্যের জন্য তিনি ভারতের থেকে পাওয়া তথ্যের ওপর অধিক গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন,“যেহেতু আমাদের দেশের লোকজন কমপক্ষে এক সপ্তাহ আগেই বন্যার ব্যাপারে আগাম সতর্কীকরণ তথ্য পেতে চায়, তাই আমাদের প্রয়োজন ভারতের থেকে প্রাপ্ত তথ্য।” তবে নদীর পানি ভাগাভাগি নিয়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিরোধ থাকায় এ সংক্রান্ত তথ্য আদান প্রদান একটি স্পর্শকাতর বিষয়। এসব সমস্যা তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, একমাত্র সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতামূলক মনোভাব এবং সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রসমূহের উর্ধ্বতন মহলের পদক্ষেপ গ্রহণই এ সমস্যার সমাধান করতে পারে।
একাডেমির সুযোগ সুবিধা পাবেন আমির!
স্পোর্টস ডেস্ক
নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে মোহাম্মদ আমির যেন শিগগিরই জাতীয় দলে ফিরতে পারে সেজন্য তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। এবার বোর্ডের কোচদের তত্ত্বাবধায়নে জাতীয় ক্রিকেট একাডেমিতে আমিরকে সুযোগ সুবিধা দিতে আইসিসির অনুমোদন চেয়েছে তারা।
জাতীয় ক্রিকেট একাডেমিতে আমিরকে সুযোগ দেওয়ার ব্যাপারে সর্বশেষ বোর্ড সভায় আইসিসিকে অনুরোধ করেছিল পিসিবি,‘আমরা এই অনুরোধটি করেছিলাম। আমরা আশাবাদী এ বছরের শেষদিকে আমরা অনুমতি পাব আইসিসির কাছ থেকে। এই সময়ের মধ্যে আমির পাঁচ বছরের নিষেধাজ্ঞার চার বছর পূর্ণ করবে।’ শাস্তির শেষ সময়ে এসে আইসিসি আমিরকে ক্লাব ক্রিকেট খেলারও অনুমোদন দিবে এমনটাই আশা পিসিবি কর্মকর্তার,‘দুর্নীতিবিরোধী আইনবিধি অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা শেষ না হওয়া পর্যন্ত একজন খেলোয়াড় তার বোর্ডের কোনো সুযোগ সুবিধা পেতে পারে না। তবে শাস্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই আমির যেন তা পায় সে ব্যাপারে আমরা অনুরোধ করেছি।’ তবে আইসিসি আমিরকে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে অনুমোদন দিয়েছে সংবাদমাধ্যমের এমন খবরকে ভিত্তিহীন বলেছেন বোর্ডের সিনিয়র এক কর্মকর্তা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা পিটিআই’কে জানালেন, অক্টোবরে আমিরের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি নিয়ে আইসিসির নির্বাহী বোর্ডের গঠিত চারসদস্য বিশিষ্ট সাব-কমিটি আলোচনা করবে।
অন্ধ হয়েছেন লাক্সতারকা ইশানা!
শুক্রবার ঢাকার বনানী থানার আশেপাশের বিভিন্ন লোকেশনে অন্ধ হয়ে শুটিং করছেন
তিনি। আসছে ঈদের জন্য নির্মিত ছয় পর্বের ‘চোখ’ শিরোনামের একটি নাটকে অন্ধ
মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইশানা। আসিফ রহমান জয়ের রচনায় নাটকটি
নির্মাণ করছেন জামাল মল্লিক। এ নাটকে আরো অভিনয় করছেন বিজরী বরকতউল্লাহ,
তৌকির আহমেদ, পীযুষ বন্দোপাধ্যায় প্রমূখ। নাটকটি নিয়ে ইশানা
বাংলানিউজকে বলেন, ‘এই প্রথম এমন একটি চরিত্রে অভিনয় করছি। এখানে আমার
চরিত্রের নাম মিথিলা। আমার বড়বোন বিজরী এবং দুলাভাইয়ের চরিত্রে তৌকির ভাই
অভিনয় করছেন। গল্পে আমার বোন ও দুলাভাইয়ের কোন সন্তান থাকে না। আমি মফস্বল
থেকে শহরে এসে তাদের কাছে নিজের মেয়ের মতই বড় হতে থাকি। কিন্তু হঠাৎ এক
দুর্ঘটনায় আমার চোখের কর্ণিয়া নষ্ট হয়ে যায়। এরপর আমার জীবনে ঘটে নানা
দুর্ঘটনা।’ ঈদে যে কোন একটি চ্যানেলে নাটকটি প্রচার হবে বলে জানা গেছে।
বলিউডে আলিয়া ভাটের অভিষেক
‘স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার’ দিয়ে। করণ জোহর পরিচালিত আলিয়া ভাটের
মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ওই একটাই। বলিউডের খ্যাতিমান পরিচালক মহেশ ভাটের
কন্যা আলিয়া বর্তমানে শুটিং করছেন একাধিক চলচ্চিত্রে। টাইমস অব ইন্ডিয়ায়
প্রকাশিত এই সাক্ষাৎকারটি অনুবাদ করেছেন সিয়াম আনোয়ার।
টু স্টেটস চলচ্চিত্রে আপনার সহঅভিনেতা অর্জুন কাপুর...
হ্যাঁ। ওর মুখের মধ্যে একরাশ বিরক্তি, অহংকার আর শান্তভাব আছে। ওর এই মুখটার জন্য আমার খারাপ লাগে। ওকে আমি ডাকি বদমেজাজি বিড়াল বলে। তবে অর্জুন এক বিস্ময়কর মানুষ। মজার, বুদ্ধিমান এবং প্রাণবন্ত। আমার দেখা অন্যতম সেরা ভালো মানুষ। ওর সেন্স অব হিউমার আমার ভালো লাগে। আমি বিশ্বাস করি ‘কভার দেখে বইকে মুল্যায়ন করিও না’ প্রবাদ বাক্য। অর্জুন দেখতে যেমন আসলে তেমন না। যদিও ওর খুনো একটা হাসি আছে।
‘স্টুডেন্ট অব দি ইয়ার’ করার সময় দুই সহঅভিনেতার সাথেই সমান ভাবে ছিলেন। কীভাবে এই সংযোগ সামলেছেন?
আমার মনে হয় না সম্পর্ক সামলে চলতে হয়। আমি বরুণ ধাওয়ান এবং সিদ্ধার্থ মালহোত্রা দু’জনের সাথেই যুক্ত ছিলাম। কারণ ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় উভয়ের সাথে আমাকে দেখা গেছে। ওরা দুজনই আমার কাছে বিশেষ।
আপনার বড় প্রতিযোগী ?
পরিণীতা চোপড়া। যখন আমি তাকে ‘লেডিস ভার্সেস রিকি ভাল’ সিনেমায় দেখেছি, তখন নিজেকে বলেছি ‘আমি আছি রোলার কোস্টার রাইডেই’। আক্ষেপ হয় ভাষার উপর পরিণীতার মত দখল যদি আমার থাকত! ইশকজাদে চলচ্চিত্রের পর আমি তাকে বলেছি ‘তুমি আমাকে শিখিয়েছ কীভাবে কাঁদতে হয়’। তবে ওর সাথে আমার প্রতিযোগিতায় নেতিবাচক কিছু নেই। আমি সবসময় পরিণীতার ভক্ত হয়ে থাকতেই পছন্দ করব।
আপনাকে ডেটিংয়ে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানাতে একজন পুরুয়ের কী গুণ থাকতে হবে?
তাকে
লম্বা হতে হবে। খোঁচা খোঁচা দাড়ি থাকবে। ব্যক্তিত্বসম্পন্ন এবং মজার
মানুষ হতে হবে। যদি মজার মানুষ না হয় তবে হবে না। আর খুব সুন্দর হাসি থাকতে
হবে। হাসি এমন একটা ব্যপার যেটি আমাকে খুব তাড়াতাড়ি আকর্ষণ করে। তাই কেউ
যদি সুন্দর করে হাসতে পারে, আমাকে সহজেই আকর্ষণ করতে পারবে। আর একটা কথা
আমি শুধু পুরুষদের পারফিউম ব্যবহার করি। প্রতিমাসেই আমার পারফিউম বদল করি।
অভিনেত্রী না হলে কী হতেন?
আমি কিছুই হতাম না। বেঁচে থাকতেও চাইতাম না।
পছন্দের পরিচালক কারা?
জয়া আখতার, রাজু হিরানী, অয়ন মুখার্জি এবং আমার ভাই মোহিত সুরি।
আপনার স্টাইল মন্ত্র কী?
আমার বয়স মাত্র ২০ চলছে। আমার স্টাইলও পরিবর্তন হচ্ছে। প্রতি মাসে প্রতি সপ্তাহে নতুন কিছু আমাকে টানে। আমি আমার জন্য উপযুক্ত স্থান খুঁজি সবসময়। আমি এখনো তরুণী। আমি যদি শুধু জিন্স আর টি-শার্ট পরে দৌড়াই, তবে জীবন অনেকটা ছোট হয়ে যায়। তাই এখন আমার জন্য জীবন উপভোগের সময়। ঝুকি নেয়া নিয়ে আমি ঘাবড়াই না।
রোমান্টিক ডেট নিয়ে আপনার ধারণা?
রোমান্টিক ডেট চলচ্চিত্রে দেখতে খুব দুর্দান্ত হয়। একটা বার্গার নিয়ে ড্রাইভে বের হওয়া এবং খুবই বাধাবিঘ্নহীন এক মজার মুহুর্ত। আমার জন্য রোমান্টিক ডেট হবে পাজামা পরে আমি যাকে চাই তাকে নিয়ে বসে থাকা।
আপনার কাছে সৌন্দর্যের ব্যাখ্যা কী ?
কেউ একজন আমাকে বলেছিল ঘুম থেকে জেগে উঠার পর তোমাকে সুন্দর দেখায়। আমার কাছে সৌন্দর্যের ধারণাটাই এমন যে, আপনি জেগে ওঠার পর যেমন থাকবেন, আপনি তেমনই সুন্দর। যদি আপনি সুন্দর হন, তবে মেকআপ, পোষাক আর সুবিন্যস্ত চুল ছাড়াই সুন্দর।
ভক্তদের জন্য আপনার বার্তা...
আমি বিশ্বাস করি আমাকে মোমের মত নরম হতে হবে। তাই যদি কখনো আমাকে এই ভাবে না দেখা যায় তবে আমাকে ক্ষমা করবেন। কারণ এটা আসল আমি নই। ভুল আমিও করতে পারি, এবং অনেক সময়ই করি। যদি আমার ভুলের পরও আমাকে ভালোবাসেন তবে আমিও আপনাদের সব সময় ভালোবেসে যাব।
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সেন্টমার্টিনের অদূরে মিয়ানমারের নিকটবর্তী সাগরের মৌলভীশীল নামক পয়েন্টে অপেক্ষারত জাহাজটি শুক্রবার ভোরে যাত্রা দিয়েছে। আটশ’ জনের বেশি যাত্রী নিয়ে থাইল্যান্ডের এ জাহাজটি রওয়ানা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে একাধিক সূত্র। এ বিষয়ে একাধিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলেও থামানো যায়নি ৮শ’ মানুষের অনিশ্চিত যাত্রা। আপাচারকারী দালাল, প্রলোভনে মালয়েশিয়া যাত্রা দেওয়া লোকজন এবং বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, গভীর সাগরে থাইল্যান্ড ভিত্তিক একটি বড় জাহাজ সেন্টমার্টিন দ্বীপ থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণে মিয়ানমারের নিকটে অবস্থান করছিল গত ৩ জুলাই থেকে। জুনের মধ্যবর্তী সময়ে এ জাহাজটি থাইল্যান্ড থেকে পণ্য নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। সেখানে পণ্য খালাস করে থাইল্যান্ড ভিত্তিক পাচারকারীরা জাহাজটি মিয়ানমারের উপকূলে এনে কক্সবাজার কেন্দ্রিক দালালদের খবর জানায়। পরে ৩ জুলাই রাত থেকে ট্রলারে করে ওই জাহাজে যাত্রী পৌঁছে দেওয়া শুরু করে। সবশেষ বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত ওই জাহাজে পৌঁছানো হয় বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের ৮শ’ নারী-পুরুষ। যদিও এ সময়ের মধ্যে বিজিবি, র্যাব, কোস্টগার্ড ও ডিবি পুলিশের সদস্যরা অভিযান চালিয়ে প্রায় ৪শ’ জনকে আটক করেছে। এর মধ্যে ১৭ জুলাই ৬ জন, ১৬ জুলাই ৭, ৪ জুলাই ২৩, ৬ জুলাই ২৩, ৮ জুলাই ২২০, ১৪ জুলাই ৯ এবং ১৫ জুলাই ১৪ জনকে আটক করা হয়। অবৈধভাবে সাগরে পথে মালয়েশিয়ায় মানবপাচারকারী চক্র নানা কৌশলে ওই জাহাজে পৌঁছে দিয়ে টার্গেটের ৮শ’ যাত্রী। আর ওই ৮শ’ যাত্রী নিয়ে জাহাজটি অনিশ্চিত পথে যাত্রা দিয়েছে শুক্রবার ভোরে। প্রায় সাড়ে ৩শ’ দালাল কৌশলে এসব যাত্রীদের জাহাজে পৌঁছে দেয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভূক্ত এসব দালালের মধ্যে রয়েছে প্রভাবশালীরাও। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানান, আনলাইন সংবাদ মাধ্যম বাংলানিউজ এর ইনভেষ্টিগেটিভ টিম মানবপাচারের মূল পয়েন্ট কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ ও সেন্টমার্টিন সরেজমিনে ঘুরে গত ২২ ডিসেম্বর থেকে ধারাবাহিক অনুসন্ধানি প্রতিবেদন প্রকাশ। এ সংবাদে ওই সব দালাল নামও পরিচয় রয়েছে।
বিএনএফ আতংকে বিএনপি
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট (বিএনএফ) নিয়ে আতঙ্কে ভুগছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। চলতি মাসেই নিবন্ধনের জন্য আবেদিত এ রাজনৈতিক দলটির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলেছে তারা। এমনকি সদ্য শেষ হওয়া সপ্তাহে বিএনএফকে নিবন্ধন দিলে ইসির বিরুদ্ধে আন্দোলনের হুমকি দিয়েছে প্রধান বিরোধী দল।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে করা বিএনপির আগের অভিযোগে বিএনএফের নিবন্ধনের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ না থাকলেও এবার বেশ কোমর কষেই বিরোধিতায় নেমেছে চার দলীয় ঐক্যজোট নেতা। বিএনএফের বিরুদ্ধে বিএনপির অভিযোগ, জিয়াউর রহমানের ছবি ও ১৯ দফা এবং দলীয় প্রতীক হিসেবে গমের শীষ ব্যবহারের। এমকে আনোয়ারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের অভিযোগকারী সংসদীয় দলের অন্য দুই সদস্য ছিলেন ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ও শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী। এ দলের প্রধান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এমকে আনোয়ার এই বিএনএফ এর উত্থানকে দেখছেন বিএনপি ভাঙার ষড়যন্ত্র হিসেবেই। সদ্য গঠিত এ দলটি তাদের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে দাবি করেছেন জিয়াউর রহমানকে। তাদের দলীয় পতাকায়ও রয়েছে বিএনপির সঙ্গে সাদৃশ্য। তারা প্রতীক হিসেবে নিয়েছে গমের শীষ। দলের নামও রেখেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট। এমকে আনোয়ার বলেন, বিএনএফ তাদের পোস্টারে বিএনপির লোগো, জিয়াউর রহমানের ছবি ও তার ১৯ দফা ব্যবহার করে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করছে। এই বিএনএফ সেই বিএনএফ [জিয়া প্রতিষ্ঠিত] নয়। বিএনপিকে ভাঙার জন্য একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে। ১/১১ এর সময়ও ষড়যন্ত্রকারীরা বিএনপিকে ভাঙার ব্যর্থ চেষ্টা করেছিলো, এবারো তারা সফল হবে না। বিএনপির সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপিকা জাহানারা বেগমের নেতৃত্বে নতুন এ দলটি ইসিতে নিবন্ধনের আবেদন করে ২০১২ সালের অক্টোবরে। বস্তুত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ৪৩টি দল নিবন্ধনের আবেদন করে ইসিতে। এরমধ্যে বিএনএফ ও সাংস্কৃতিক জোট নামে দু’টি দলকে নিবন্ধনের জন্য বাছাই করে মাঠ পর্যায়ে খোঁজ খবর নিয়েছে কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিব উদ্দীন আহমদ বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, বিএনএফ সম্পর্কে মাঠ পর্যায়ে অনুসন্ধান চলছে। এরপর গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে মতামত নেওয়া হবে। তখন কারো আপত্তি থাকলে বলতে পারবে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ বলেন, এখনো নতুন কাউকে আমরা নিবন্ধন দেই নি। নিবন্ধন পেলেই প্রতীক দেওয়া হবে। এদিকে বিএনপির অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তবাদী ফ্রন্ট প্রেসিডেন্ট আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের আদর্শেই তার (জিয়া) প্রতিষ্ঠিত বিএনএফ-এর ধারাবাহিকতায় নতুন দলের আত্মপ্রকাশ করেছি। বিএনপিকে ভাঙার জন্য এ দল নয়। বরং বিএনপি নিজেদের ধরে রাখতে না পারলেই আপনা আপনি ভেঙে যাবে। আবুল কালাম আজাদকে প্রধান সমন্বয়ক ও অধ্যাপিকা জাহানারা বেগমকে সহ-সমন্বয়ক করে চলতি বছরের ২ মে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে বিএনএফ। দলের পোস্টারে জিয়াউর রহমান এবং ধান গাছ ও সবুজ জমিনে দলীয় পতাকা ব্যবহার করছে দলটি। এর আগে দলের প্রাথমিক যাত্রায় আহবায়ক ছিলেন সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী ও বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা। নতুন এ রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ক আজাদ জানান, ছয়টি দলের সমন্বয়ে (ন্যাপ ভাসানী, ছাত্তারের জাগদল, শাহ আজিজের মুসলীম লীগ, কাজী জাফরের ইউনাইটেড পিপলস পার্টি, লেবার পার্টি ও জাতীয় ফেডারেশন) ১৯৭৮ সালের ২ মে জিয়াউর রহমানের বিএনএফ আত্মপ্রকাশ করে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনএফ আর বিলুপ্ত না করেই ১ সেপ্টেম্বর বিএনপি গঠন করেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছর ৭ নভেম্বর কাজ শুরু করে বর্তমান বিএনএফ। আর যাত্রা শুরু করে গত ২ মে। নিবন্ধন পেলেই ইসির দেওয়া প্রতীকে আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আশা রাখেন আবুল কালাম আজাদ। এদিকে বিএনপিকে ধ্বংস করতে রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্রে অংশ নিলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিএনপি আন্দোলনে যাবে বলে হুঁশিয়ার করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তরের দায়িত্বে থাকা যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ডাকা এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। লিখিত বক্তব্যে নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশ্যে রিজভী বলেন, বিএনপির নির্বাচনী প্রতীকের অনুরূপ কোন প্রতীক, অফিসিয়াল লোগো, ১৯ দফা কর্মসূচি এবং দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ছবি সম্বলিত কোন ভূঁইফোড় সংগঠনের নিবন্ধনের আবেদন অনুমোদনের উদ্যোগ থেকে সরে আসবেন। অন্যথায় বিএনপিকে ধ্বংস করতে সরকারের অশুভ পরিকল্পনার অংশীদার হলে বিএনপি’র নেতৃত্বে ১৮ দলীয় জোট তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আন্দোলনের পাশাপাশি প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সব কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে। তিনি বলেন, নামগোত্রহীন উচ্ছিষ্ট ও আগাছা নিয়ে গঠিত দলে নির্বাচন কমিশন মনোযোগ দিলে কমিশনের সঙ্গে বিরোধীদলের আলোচনার সুযোগটুকুও থাকবে না। এতে তাদের জন্য বাড়া ভাতে ছাই-এর মতো অবস্থা হবে।
সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে নামছে আ’লীগ
বিএনপি-জামায়াতসহ হেফাজতের অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে নামছে বলে জানিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গণভবনে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘আজকের কার্যনির্বাহী সভায় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে রোজাকে কেন্দ্র করে প্রচার-প্রচারণায় নামবে আওয়ামী লীগ। এ জন্য টিম গঠন করা হবে। যে টিমগুলো সরকারের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের পাশাপাশি নির্বাচনী জনমত গঠনে কাজ করবে।’ ঈদের পরপরই আওয়ামী লীগ সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে নামবে বলেও জানান তিনি। পদত্যাগ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আশরাফ বলেন, ‘গুজব নিয়ে কি বলবো। সে রকম কিছু হলে আমি তো আপনাদের সামনে আসতাম।’ এদিকে বৈঠক সূত্রে জানা যায়, প্রচার প্রচারণার জন্য আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠন যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য সহযোগী সংগঠনগুলো আলাদা আলাদা টিম করবে। আওয়ামী লীগের টিম প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি তত্ত্বাবধায়নে গঠিত হবে। আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতাদের সমন্বয়ে এসব টিম গঠন করা হবে। নেতাদের এলাকাকে প্রাধ্যন্য দিয়ে টিম গঠন করা হবে। টিমগুলো মূলত বিএনপি-জামায়াত, হেফাজতের বিভিন্ন অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কাজ করবে। পাশাপাশি তারা সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড জনগণের কাছে তুলে ধরবেন। একই সঙ্গে সরকারের বিভিন্ন ব্যর্থতার যৌক্তিক কারণ ও বাস্তবতা পরিষ্কার করবেন জনগণের কাছে। এভাবে কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে নেতা-কর্মীদের চাঙা করে ঈদের পরই সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে নামবে আওয়ামী লীগ। ঈদের পর বিভিন্ন এলাকা সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠক সূত্রে জানা যায়, আগামী ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের পর পুরো মাস জুড়ে টানা কর্মসূচি রাখার সিদ্ধান্ত হয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক থেকে।
অনৈক্য ও অসহযোগিতামূলক মনোভাবের কারণেই সময়মত বন্যার পূর্বাভাষ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তন জনিত ঝুঁকির মুখে দাঁড়িয়ে থাকা দক্ষিণ এশীয় রাষ্ট্রগুলো । ফলে বিপুল প্রাণহানি এবং সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির শিকার হতে হচ্ছে এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষকে। শুধু সময়মত পূর্বাভাষ আদান প্রদান সম্ভব হলে ভারত, বাংলাদেশ ও নেপালের বন্যাপ্রবণ এলাকার অসংখ্য মানুষের প্রাণ এবং সম্পদ রক্ষা পেত। শুক্রবার বিবিসি অনলাইনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব বিষয় তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে বন্যা নিয়ন্ত্রণে মূলত এ অঞ্চলের দেশগুলোর পারস্পরিক যোগাযোগ এবং তথ্য আদান-প্রদানের ঘাটতির কথা উঠে আসে। দক্ষিণ এশিয়ায় বন্যার অন্যতম একটি কারণ হলো অতিবৃষ্টি। অতিবৃষ্টির কারণে এই অঞ্চলে প্রায়ই মারাত্মক বন্যা দেখা দেয়। সম্প্রতি হয়ে যাওয়া ভারতের উত্তরাখণ্ড এবং নেপালের বন্যা এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। কিন্তু পানি ভাগাভাগি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের কারণে বৃষ্টিপাত ও বন্যার গতিপ্রকৃতি সম্পর্কীয় (হাইড্রোলজি) কোন তথ্য আদান-প্রদানে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে এক ধরনের অনীহা দেখা যায়।অবশ্য সাম্প্রতিক বিপর্যয়ের পরিপ্রেক্ষিতে কর্মকর্তারা অনুধাবন করছেন, বন্যা ও নদীর পানির প্রবাহের তথ্য আদান প্রদানের জন্য এ অঞ্চলে একটি আলাদা নেটওয়ার্ক প্রয়োজন। গত মাসে হয়ে যাওয়া ভয়াবহ বন্যার কথা উল্লেখ করে পশ্চিম নেপালের দারচুলা জেলার প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা চিরঞ্জীবী অধিকারী বলেন, “বন্যা সম্পর্কে আমরা ভারতের পক্ষ থেকে কোন পূর্ব সতর্কীকরণ পাইনি।” নেপালের এ অঞ্চলটি ভারতের উত্তরাখণ্ড সংলগ্ন হওয়ায় সেখানেও ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়। গত মাসের ওই বন্যায় ভারতের উত্তরাখণ্ডের প্রায় সহস্রাধিক লোক প্রাণ হারান। এখনও নিখোঁজ আছেন কয়েক হাজার মানুষ। অধিকারী বিবিসিকে আরও জানান,“আমরা বন্যার কারণ সম্পর্কে জানতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগে চেষ্টা করছি, কিন্তু তাদের সঙ্গে এখনও টেলিফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।” একইভাবে ২০১০ সালে কাবুল নদীর প্লাবন থেকে পাকিস্তানে সংঘটিত ভয়াবহ বন্যার উদাহরণও টানা যায়। আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানের সীমান্তের অনেকটা পথ দিয়ে প্রবাহিত হলেও বন্যাপ্রবণ এই নদীর পানি প্রবাহের পূর্বাভাষ আদান প্রদানের ক্ষেত্রে দেশদু’টির মধ্যে কোনো ব্যবস্থা নেই। এ ব্যাপারে পাকিস্তানের প্রধান আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ রিয়াজ বলেন, “অবশ্যই কাবুল নদী আমাদের জন্য হুমকি, কিন্তু দুই দেশের মধ্যে বৃষ্টিপাত কিংবা বন্যা সম্পর্কিত কোন তথ্য আদান প্রদানের ব্যবস্থা নেই।” সমস্যা সমাধানে নীতি নির্ধারণী মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। এছাড়া ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যেও তথ্য আদান প্রদানের ক্ষেত্রে কিছু জটিলতা রয়েছে। চাইলেই পাকিস্তানের পক্ষে ভারত থেকে তথ্য পাওয়া সম্ভব নয়। আর যেটুকু তথ্য পাওয়া যায়, সেটা বন্যা পূর্বাভাষের জন্য যথেষ্ট নয়। বিবিসির প্রতিবেদনে উঠে আসে বাংলাদেশের বন্যা পরিস্থিতিও। বেশ কয়েকটি অভিন্ন নদী ভাগাভাগি করলেও নদীর প্রবাহ কিংবা বন্যার পূর্বাভাষ সম্পর্কে বাংলাদেশ নেপাল কিংবা ভারত থেকে খুব কমই তথ্য পায়। এ ব্যাপারে নেপালের কর্মকর্তারা জানান, আগে ফ্যাক্সের মাধ্যমে ঢাকায় তথ্য পাঠানো হলেও বর্তমানে কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে তা ব্যাহত হচ্ছে। তবে বাংলাদেশের কর্মকর্তারা বলছেন, বন্যা ও নদীর পানি প্রবাহ সংক্রান্ত তথ্য আদান প্রদানের ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের কিছুটা উন্নতি হয়েছে। বর্তমানে গঙ্গার তিনটি এবং ব্রহ্মপুত্রের চারটি বন্যা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে তথ্য পেয়ে থাকে বাংলাদেশ। এছাড়া ব্রহ্মপুত্রের বন্যা পরিস্থিতির ওপর চীনা নিয়ন্ত্রিত তিব্বত থেকেও নিয়মিত তথ্য পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা আমিরুল হোসেন। তবে আরও অগ্রবর্তী তথ্যের জন্য তিনি ভারতের থেকে পাওয়া তথ্যের ওপর অধিক গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন,“যেহেতু আমাদের দেশের লোকজন কমপক্ষে এক সপ্তাহ আগেই বন্যার ব্যাপারে আগাম সতর্কীকরণ তথ্য পেতে চায়, তাই আমাদের প্রয়োজন ভারতের থেকে প্রাপ্ত তথ্য।” তবে নদীর পানি ভাগাভাগি নিয়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিরোধ থাকায় এ সংক্রান্ত তথ্য আদান প্রদান একটি স্পর্শকাতর বিষয়। এসব সমস্যা তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, একমাত্র সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতামূলক মনোভাব এবং সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রসমূহের উর্ধ্বতন মহলের পদক্ষেপ গ্রহণই এ সমস্যার সমাধান করতে পারে।
স্পোর্টস ডেস্ক
নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে মোহাম্মদ আমির যেন শিগগিরই জাতীয় দলে ফিরতে পারে সেজন্য তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। এবার বোর্ডের কোচদের তত্ত্বাবধায়নে জাতীয় ক্রিকেট একাডেমিতে আমিরকে সুযোগ সুবিধা দিতে আইসিসির অনুমোদন চেয়েছে তারা।
জাতীয় ক্রিকেট একাডেমিতে আমিরকে সুযোগ দেওয়ার ব্যাপারে সর্বশেষ বোর্ড সভায় আইসিসিকে অনুরোধ করেছিল পিসিবি,‘আমরা এই অনুরোধটি করেছিলাম। আমরা আশাবাদী এ বছরের শেষদিকে আমরা অনুমতি পাব আইসিসির কাছ থেকে। এই সময়ের মধ্যে আমির পাঁচ বছরের নিষেধাজ্ঞার চার বছর পূর্ণ করবে।’ শাস্তির শেষ সময়ে এসে আইসিসি আমিরকে ক্লাব ক্রিকেট খেলারও অনুমোদন দিবে এমনটাই আশা পিসিবি কর্মকর্তার,‘দুর্নীতিবিরোধী আইনবিধি অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা শেষ না হওয়া পর্যন্ত একজন খেলোয়াড় তার বোর্ডের কোনো সুযোগ সুবিধা পেতে পারে না। তবে শাস্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই আমির যেন তা পায় সে ব্যাপারে আমরা অনুরোধ করেছি।’ তবে আইসিসি আমিরকে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে অনুমোদন দিয়েছে সংবাদমাধ্যমের এমন খবরকে ভিত্তিহীন বলেছেন বোর্ডের সিনিয়র এক কর্মকর্তা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা পিটিআই’কে জানালেন, অক্টোবরে আমিরের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি নিয়ে আইসিসির নির্বাহী বোর্ডের গঠিত চারসদস্য বিশিষ্ট সাব-কমিটি আলোচনা করবে।
| অন্ধ হয়ে শুটিং করছেন ইশানা! |
| পুরুষের পারফিউম ব্যবহার করি : আলিয়া ভাট বিনোদন ডেস্ক |
টু স্টেটস চলচ্চিত্রে আপনার সহঅভিনেতা অর্জুন কাপুর...
হ্যাঁ। ওর মুখের মধ্যে একরাশ বিরক্তি, অহংকার আর শান্তভাব আছে। ওর এই মুখটার জন্য আমার খারাপ লাগে। ওকে আমি ডাকি বদমেজাজি বিড়াল বলে। তবে অর্জুন এক বিস্ময়কর মানুষ। মজার, বুদ্ধিমান এবং প্রাণবন্ত। আমার দেখা অন্যতম সেরা ভালো মানুষ। ওর সেন্স অব হিউমার আমার ভালো লাগে। আমি বিশ্বাস করি ‘কভার দেখে বইকে মুল্যায়ন করিও না’ প্রবাদ বাক্য। অর্জুন দেখতে যেমন আসলে তেমন না। যদিও ওর খুনো একটা হাসি আছে।
‘স্টুডেন্ট অব দি ইয়ার’ করার সময় দুই সহঅভিনেতার সাথেই সমান ভাবে ছিলেন। কীভাবে এই সংযোগ সামলেছেন?
আমার মনে হয় না সম্পর্ক সামলে চলতে হয়। আমি বরুণ ধাওয়ান এবং সিদ্ধার্থ মালহোত্রা দু’জনের সাথেই যুক্ত ছিলাম। কারণ ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় উভয়ের সাথে আমাকে দেখা গেছে। ওরা দুজনই আমার কাছে বিশেষ।
আপনার বড় প্রতিযোগী ?
পরিণীতা চোপড়া। যখন আমি তাকে ‘লেডিস ভার্সেস রিকি ভাল’ সিনেমায় দেখেছি, তখন নিজেকে বলেছি ‘আমি আছি রোলার কোস্টার রাইডেই’। আক্ষেপ হয় ভাষার উপর পরিণীতার মত দখল যদি আমার থাকত! ইশকজাদে চলচ্চিত্রের পর আমি তাকে বলেছি ‘তুমি আমাকে শিখিয়েছ কীভাবে কাঁদতে হয়’। তবে ওর সাথে আমার প্রতিযোগিতায় নেতিবাচক কিছু নেই। আমি সবসময় পরিণীতার ভক্ত হয়ে থাকতেই পছন্দ করব।
আপনাকে ডেটিংয়ে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানাতে একজন পুরুয়ের কী গুণ থাকতে হবে?
অভিনেত্রী না হলে কী হতেন?
আমি কিছুই হতাম না। বেঁচে থাকতেও চাইতাম না।
পছন্দের পরিচালক কারা?
জয়া আখতার, রাজু হিরানী, অয়ন মুখার্জি এবং আমার ভাই মোহিত সুরি।
আপনার স্টাইল মন্ত্র কী?
আমার বয়স মাত্র ২০ চলছে। আমার স্টাইলও পরিবর্তন হচ্ছে। প্রতি মাসে প্রতি সপ্তাহে নতুন কিছু আমাকে টানে। আমি আমার জন্য উপযুক্ত স্থান খুঁজি সবসময়। আমি এখনো তরুণী। আমি যদি শুধু জিন্স আর টি-শার্ট পরে দৌড়াই, তবে জীবন অনেকটা ছোট হয়ে যায়। তাই এখন আমার জন্য জীবন উপভোগের সময়। ঝুকি নেয়া নিয়ে আমি ঘাবড়াই না।
রোমান্টিক ডেট নিয়ে আপনার ধারণা?
রোমান্টিক ডেট চলচ্চিত্রে দেখতে খুব দুর্দান্ত হয়। একটা বার্গার নিয়ে ড্রাইভে বের হওয়া এবং খুবই বাধাবিঘ্নহীন এক মজার মুহুর্ত। আমার জন্য রোমান্টিক ডেট হবে পাজামা পরে আমি যাকে চাই তাকে নিয়ে বসে থাকা।
আপনার কাছে সৌন্দর্যের ব্যাখ্যা কী ?
কেউ একজন আমাকে বলেছিল ঘুম থেকে জেগে উঠার পর তোমাকে সুন্দর দেখায়। আমার কাছে সৌন্দর্যের ধারণাটাই এমন যে, আপনি জেগে ওঠার পর যেমন থাকবেন, আপনি তেমনই সুন্দর। যদি আপনি সুন্দর হন, তবে মেকআপ, পোষাক আর সুবিন্যস্ত চুল ছাড়াই সুন্দর।
ভক্তদের জন্য আপনার বার্তা...
আমি বিশ্বাস করি আমাকে মোমের মত নরম হতে হবে। তাই যদি কখনো আমাকে এই ভাবে না দেখা যায় তবে আমাকে ক্ষমা করবেন। কারণ এটা আসল আমি নই। ভুল আমিও করতে পারি, এবং অনেক সময়ই করি। যদি আমার ভুলের পরও আমাকে ভালোবাসেন তবে আমিও আপনাদের সব সময় ভালোবেসে যাব।
Year-20 # Issue-22 # 14 July 2013
ইরাকের জাহেদি জাতের খেজুর গরিবের খেজুর নামেই পরিচিত। পুরান ঢাকার বাদামতলীতে অনেকে আবার একে ‘হলুদ বস্তা’ খেজুর নামেও অভিহিত করে থাকেন। ইরাক থেকে হলুদ বস্তায় আমদানি হওয়ার কারণেই এর এমন নামকরণ।রমজানে দেশের ৮০ শতাংশ খেজুরের চাহিদা মেটায় জাহেদি খেজুর। তবে রমজানে এর দাম বেড়ে গেছে। চলতি রমজানে রাজধানীর পাইকারি বাজারগুলোতে জাহেদি খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা প্রতি কেজি দরে। অথচ গত রমজানেও পাইকারি বাজারে জাহেদি খেজুর মিলত ৫০ থেকে ৬০ টাকা প্রতি কেজিতে। জানা গেছে, বাদামতলী পেরুলেই খেজুরের দাম বেড়ে যায় কেজি প্রতি ৭০ থেকে ৮০ টাকা। লালবাগের কেল্লার মোড়ের খুচরা বাজারে প্রতি কেজি জাহেদি খেজুর বিক্রি হতে দেখা গেছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়। বাজারের সবচেয়ে দামি খেজুর হচ্ছে ইরানের মরিয়ম খেজুর। বাদামলীতে প্রতি কেজি মরিয়ম খেজুর ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি আলজেরিয়ার ফরিদা খেজুর ২০০ টাকা, সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাগাল খেজুর ১২০ টাকা, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সায়ের খেজুর ১২০ টাকা, আলজেরিয়ার আল-শাহদ ২০০ টাকা, সৌদি আরবের লুলু ১৩৫ টাকা, ইরানের হারমানি ১০০ টাকা এবং দুবাইয়ের দাবাস খেজুর ১১৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্যাকেটজাত আলজেরিয়ান খোরমা খেজুর ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৫ কেজির প্যাকেটজাত তিউনিসিয়ার খেজুর ১৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ১০ কেজির প্যাকেটজাত দুবাই ক্রাউন খেজুর ২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
খুচরা বাজারে খেজুরের দাম পাইকারি বাজারের থেকে বেড়ে যায় কয়েকগুণ। বাইতুল মোকাররমের সামনে প্রতি কেজি ইরানি মরিয়ম খেজুর ১ হাজার টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে, অথচ বাদামতলীর সাথী ফ্রেশ ফ্রুটে একই খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে দরে। তবে শুধু খুচরা বাজারই নয়, খেজুরের দামের কারসাজি দেখা গেছে পাইকারি বাজারেও। বাদামতলীর আল মদিনা ফার্মে প্রতি কেজি জাহেদি খেজুর ৯০ টাকা প্রতি কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ কয়েক গজ দূরে আহসানউল্লাহ রোডে অবস্থিত বন্ধু মেসার্সে একই খেজুরকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
বাদামতলীর অন্যতম খেজুরের পাইকারি আড়ৎ সাথী ফ্রেশ ফ্রুট। এখানে ৫ কেজি প্যাকেটজাত মরিয়ম খেজুর বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার টাকায়। অথচ একই খেজুর পাশের মৌসুমী এন্টারপ্রাইজে বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ১শ’ টাকায় পর্যন্ত। মাত্র কয়েক গজ দূরত্বেই খেজুরের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে ১ হাজার টাকারও বেশি!
তবে বাদামতলীর পাইকারি বিক্রেতারা অবশ্য দাম বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে দায়ী করছেন রফতানিকারক দেশগুলোতে খেজুরের উৎপাদন কমে যাওয়াকেই।
মধ্যপ্রাচ্যে এ বছর খেজুরের উৎপাদন কম হয়েছে। বাদামতলীতে সাধারণত ইরাক, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, মিশর, তিউনিসিয়া, আলজেরিয়া থেকে খেজুর আমদানি করা হয়। প্রতি বছর খেজুরের ফলন সমান হয় না। এক বছর পর পর খেজুরের ফলন ভাল হয়। ২০১২ সালে খেজুরের ফলন ভাল হওয়ায় আবার ২০১৪ সালে খেজুরের ফলন ভাল হবে আশা করছেন পাইকারি খেজুর বিক্রেতারা। রমজানে ইফতারির অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ খেজুর। সুস্বাদু ও মিষ্টি খেজুর ছাড়া যেন ইফতারি জমেই ওঠে না। খেজুর দিয়ে ইফতারি করা সুন্নত। পাশাপাশি খেজুরে খাদ্যের অনেক পুষ্টিগুণাগুণ থাকে। শর্করা, প্রোটিন, কার্বো-হাইড্রেড, ইনভার্ট সুগার, পটাশিয়াম, ফসফরাস,ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম প্রচুর পরিমাণে থাকে খেজুরে। এ সব কারণে রমজানে মানুষের মাঝে খেজুরের চাহিদা অনেক বেশি থাকে। ক্রেতাদের খেজুরের প্রতি এই দুর্বলতার সুযোগে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা রমজানে প্রতারণার ফাঁদ পেতে বসেন। আর তাদের প্রতারণার অসহায় শিকারে পরিণত হতে হয় ক্রেতাদের। খেজুরের দামের কারসাজি প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর ফল আমদানি-রফতানিকারক ও আড়তদার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন,“ সরকারকে ৪ শতাংশ পোর্ট ডিউটি খরচ দিতে হয় যা গত বছর ছিল না। এর ফলে প্রতি কেজি খেজুরে বাড়তি খরচা ৭ টাকা পড়ে যায়। যা গত বছর ছিল মাত্র ৩ টাকা। তা ছাড়া আমাদের দেশে প্রায় ৮০ ভাগ খেজুরের চাহিদা পূরণ করে জাহেদি খেজুর। এবার ইরাকে এই খেজুরের উৎপাদন কমেছে। ফলে এবার খেজুরের আমদানি কম। কিছু খেজুর পাইপ লাইনে আছে। আমরা চট্টগ্রাম বন্দরে জাহেদি খেজুর ৭৩ টাকা দরে বিক্রি করছি এবং ঢাকায় বিক্রি করছি ৮৫ টাকা দরে। এক সপ্তাহের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পাইপ লাইনে থাকা খেজুর খালাস হলে আশা করা যায় দাম কিছুটা কমবে।”
রাশিয়া ও বেলারুশে পোশাক শিল্পের বড় বাজার সৃষ্টি হবে। শুধু রাশিয়া এবং বেলারুশ নয় বিশ্বের পূর্ব পশ্চিম ও উত্তর দক্ষিণের সব দেশই বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের চাহিদা ধীরে ধীরে বাড়বে। কারণ এত সস্তায় বাংলাদেশ ছাড়া বিশ্বের কোনো দেশ পোশাক দিতে পারবে না। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদ এ কথা জানান। শনিবার শেরে বাংলানগর আগারগাঁওস্থ এলজিইডি ভবনের অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ এমব্রয়ডারি ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স এ্যাসোসিয়েশনের (বিইএসইএ) ১৫তম বার্ষিক সাধারণ সভা ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বেলারুশে গিয়ে একটি ইতিবাচক সাড়া পেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর বেলারুশ সফরে আমিও সঙ্গী ছিলাম যোগ করেন এফবিসিসিআই সভাপতি এসব সম্ভাবনার কথা বলেন। কাজী আকরাম উদ্দিন বলেন, এমব্রয়ডারি শিল্প বাংলাদেশের দেশীয় ও রপ্তানিমুখী পোশাক খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বিদ্যমান সমস্যা নিরসন করে এমব্রয়ডারি শিল্পকে একটি আধুনিক রপ্তানিমুখী শিল্পে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে বিইএমইএকে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে কাজী আকরাম উদ্দিন বলেন, দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য উন্নতি করতে হলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা জরুরি। সামনে নির্বাচন। এ নিয়ে আমরা চিন্তায় আছি। নির্বাচন উপলক্ষে কি হবে আমরা বলতে পারছি না। তবে আমরা চাই একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের ক্ষমতা হস্তান্তর হোক। কোনো রক্তপাত ও হানাহানি ছাড়াই যেন ক্ষমতা হস্তান্তর হয়। এটাই আমাদের সবার প্রত্যাশা।
এ অনুষ্ঠানে বিইএমইএ-এর সভাপতি শাহনেওয়াজ চৌধুরির সভাপতিতে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি মোশারফ হোসেন, মহাসচিব আহসান হাবীব দুলাল এবং যুগ্ম-মহাসচিব গোলাম জব্বার সনেট।
বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে অংশগ্রহণকারী প্যানেল বক্তা ও দর্শক-শ্রোতারা বলেছেন, সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থার সংস্কার বা তুলে দেওয়ার এখনই সময়। বর্তমানে কোটা ব্যবস্থার অনেক ক্ষেত্রে অপব্যবহার হচ্ছে। শনিবার বিকেলে বাংলা একাডেমীর মিলনায়তনে বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে তারা এ কথা বলেন।
বিবিসির সংবাদদাতা আকবর হোসেনের সঞ্চালনায় প্যানেল আলোচক ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান ও ‘উন্নয়ন বিকল্পের নীতি নির্ধারণী গবেষণা’র (উবিনীগ) নির্বাহী পরিচালক ফরিদা আখতার।
এক বক্তা জানতে চান, বিসিএসসহ সব সরকারি চাকরির কোটা ব্যবস্থার পুনর্বিন্যাস বা সংস্কারের সময় কি এসেছে? এর জবাবে ফরিদা আখতার বলেন, “কোটা বৈষম্য তৈরি করছে। আন্দোলনকারীদের দাবি যৌক্তিক।” তবে অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য কোটা রাখার পক্ষে মত দেন তিনি। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ’র (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “অব্যশই এই কোটার পুনর্বিন্যাস দরকার। মেধাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব ও বিবেচনা করে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ দিতে হবে। দেশে ৫৬ ভাগ কোটার প্রচলন আছে। কিন্তু, এগুলোর বিপরীতে প্রার্থী নেই। তাই, পদগুলো শূন্য থেকে যাচ্ছে। এগুলো মেধা দিয়ে পূরণ করা উচিত।” খাদ্যমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “সার্বিকভাবে কোটা পুনর্বিন্যাস করার সুযোগ এসেছে। মেধাকে বিবেচনা করেই সরকারি চাকরিতে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।” কোটাবিরোধী আন্দোলন সরকার বিরোধী আন্দোলন কিনা, একজন দর্শক-শ্রোতা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “মোটেও না। এটাকে আমরা সরকারবিরোধী আন্দোলন ভাবছি না। তবে আন্দোলনের নামে যে ভাঙচুর করা হয়েছে, তা ঠিক হয়নি।” বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, “কোটা কমিয়ে আনা বা পুনর্বিন্যাস করার সময় এখনই।” আন্দোলনকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, “বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কোটা প্রস্তুতি পুনর্বিন্যাস করা হবে।” জেলা ও নারী কোটাও পুনর্বিন্যাস করার কথা বলেন তিনি। এ সময় তিনি আন্দোলনকারীদের ওপর সরকার দলীয় ও পুলিশের আচরণের নিন্দা জানান।
রাজনৈতিক দলগুলোকে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত করে যে রিপোর্ট প্রকাশ করে টিআইবি, তা কি উদ্দেশ্যমূলক, সৈয়দা সীমা করিমের এমন প্রশ্নের জবাবে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “টিআইবির অবশ্যই উদ্দেশ্য আছে। তবে তা বাংলাদেশের জনগণ দেশকে যেভাবে দেখতে চায়, টিআইবি রিপোর্ট সেই উদ্দেশ্যেই। মূল রিপোর্ট ভিন্নখাতে উপস্থাপিত হয়নি। বরং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক দলগুলোকে সংশোধন করতেই এই রিপোর্ট।” খাদ্যমন্ত্রী বলেন, “এখানে অবশ্যই অন্য উদ্দেশ্য থাকতে পারে। যেমন- ওয়ান-ইলেভেনে বিশ্বব্যাংক তৃতীয় শক্তিকে ক্ষমতায় আনতে চেয়েছিল। এবারও এ ধরনের কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে। তাই, দলীয়ভাবে অভিজ্ঞতার আলোকে এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছি।” ড. মোশাররফ বলেন, “টিআইবি যে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে, তা নিয়ে জনসম্পৃক্ততা আছে কিনা, সে প্রশ্ন থাকে। এবার যেহেতু টিআইবির রিপোর্টে রাজনৈতিক দলের বিষয়টি প্রথমে এসেছে, তাই, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।” তিনি বলেন, “রাজনৈতিক দলের নাম না এসে যদি রাজনৈতিক ব্যক্তির নাম আসতো, তাহলে বিষয়টি আরো পরিস্কার হতো।” তিনি বলেন, “আমরা মনে করি, টিআইবির রিপোর্টে রাজনৈতিক দল হিসেবে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগকে বোঝানো হয়েছে। কারণ, বিরোধীদল দুর্নীতি করবে, তা ঠিক নয়।” ফরিদা আখতার বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলোতে দুর্নীতি অবশ্যই আছে। প্রকৃত রাজনীতিবিদদের নমিনেশন না দিয়ে টাকার বিনিময়ে ব্যবসায়ীদের নমিনেশন দেওয়া হচ্ছে। সে কারণে রাজনৈতিক দলগুলোতে দুর্নীতি বাড়ছে।” এ ছাড়া সংলাপে পোশাক খাতের নিরাপত্তা বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)




