Year-20 # Issue-17 # 09 June 2013

একযোগে বদলি পুলিশের ১৪ ‍ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা
একযোগে বদলি পুলিশের ১৪ ‍ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা
নিজস্ব প্রতিবেদক
পুলিশের ডিআইজি (উপ-মহাপরিদর্শক) থেকে এডিশনাল এসপি (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার) পর্যায়ের ১৪ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপণ জারি করে। বদলিকৃত কর্মকর্তাদের মধ্যে ডিআইজি পদমর্যাদার ১ জন, অতিরিক্ত ডিআইজি ৪ জন, এসপি এবং এডিশনাল এসপি ৯ জন রয়েছেন। বদলি হওয়া পুলিশ কর্মকর্তারা হলেন, প্রস্তাবিত সন্ত্রাস দমন ইউনিট গড়ার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদর দফতরের ডিআইজি নাজিবুর রহমানকে রাজারবাগ টেলিকমে, ঢাকা পুলিশ স্টাফ কলেজের অতিরিক্ত ডিআইজি ফজলুর রহমানকে সারদা পুলিশ একাডেমিতে, ঢাকা এসবির (স্পেশাল ব্রাঞ্চ) অতিরিক্ত ডিআইজি মাহবুব হাকিমকে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার পদে, ঢাকা টেলিকমের অতিরিক্ত ডিআইজি হাসিব আজিজকে নোয়াখালি পিটিসি কমান্ড্যান্ট, ঢাকা পুলিশ স্টাফ কলেজের অতিরিক্ত ডিআইজি (চলতি দায়িত্বে) মোজাম্মেল হোসেনকে সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি (চলতি দায়িত্বে), ঢাকা পঞ্চম এপিবিএনের অধিনায়ক সারোয়ার মোর্শেদ শামিমকে দিনাজপুরের পুলিশ সুপার, নীলফামারির পুলিশ সুপার আলমগীর রহমানকে ঢাকা এসবির বিশেষ পুলিশ সুপার, ঢাকায় সংযুক্ত ডিএমপি পুলিশ সুপার মীজানুর রহমানকে ঢাকা আরআরএফের কমান্ড্যান্ট, মিশন হতে প্রত্যাগত পুলিশ সুপার আবু কালাম সিদ্দিককে ডিএমপি উপ-পুলিশ কমিশনার, লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামানকে ঢাকা এসবির বিশেষ পুলিশ সুপার, সিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার মনিরুজ্জামানকে লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার, ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বর্তমানে পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মোল্লা জাহাঙ্গীর হোসেনকে সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার, ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জোবায়ের রহমানকে নীলফামারির পুলিশ সুপার (চলতি দায়িত্বে) এবং নওগাঁর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাজিদ হোসেনকে গাইবান্ধার পুলিশ সুপার (চলতি দায়িত্বে) পদে বদলি করা হয়েছে। এছাড়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহাবুর রহমানকে খুলনা মেট্রোপলিটনে বদলি করা হয়েছে।


পোশাক খাতের মজুরি বোর্ড ঘোষণা
নিজস্ব প্রতিবেদক
সাবেক জেলা জজ অমূল্য কুমার রায়কে প্রধান করে পোশাক শ্রমিকদের মজুরি পুর্ননির্ধারণে ছয় সদস্যের বোর্ড ঘোষণা করেছে শ্রম ও কর্মসংস্থাণ মন্ত্রণালয়। শ্রমমন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কামাল উদ্দিন আহমেদকে বোর্ডের নিরপেক্ষ সদস্য, এম সাইফুদ্দিনকে মালিক পক্ষের এবং এ কে ফজলুল হক মন্টুকে শ্রমিক পক্ষের সদস্য করা হয়েছে। এছাড়া বিজিএমইএর পরিচালক আরশাদ জামাল দিপুকে মালিক পক্ষ এবং সিরাজুল ইসলাম রনিকে শ্রমিক পক্ষের অস্থায়ী সদস্য করা হয়েছে বলে জানান তিনি। আইন অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের পর ছয় মাসের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণের কথা থাকলেও শ্রমমন্ত্রী আশা করছেন, তার আগেই নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণ করবে এই বোর্ড। বর্তমান সরকার শ্রমিকবান্ধব এমন দাবি করে মন্ত্রী বলেন, চা এবং পাটকল শ্রমিকদেরও বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। পোশাক শ্রমিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এ দেশ তোমার, আমার ও সবার। আমি হাতজোড় করে অনুরোধ করছি আপনারা এ খাতকে রক্ষা করুন। এটা রক্ষা না হলে দেশের প্রতি আঘাত আসবে। এই মুজরি বোর্ড পোশাক শ্রমিকদের সব সমস্যার সমাধান করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন রাজিউদ্দিন রাজু। আশুলিয়া, সাভার ও ঢাকার পোশাক কারখানাগুলোকে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ার স্থানান্তর করা হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এজন্য গজারিয়ায় ৫০০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া সাত বিভাগে সাতটি গার্মেন্ট পল্লী করার পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে শ্রমমন্ত্রী বলেন, গার্মেন্ট পল্লী এলাকায় স্কুল-কলেজ, হাসপাতালসহ যা যা সুযোগ সুবিধা প্রয়োজন তার সবই হবে। মন্ত্রী জানান, বর্তমানে ৪০ লাখ মানুষ পোশাক খাতে কাজ করছেন, যাদের ৮০ শতাংশই নারী। এর আগে সর্বশেষ ২০১০ সালের ২৭ জুলাই পোশাক শ্রমিকদের নূ্যনতম মজুরি তিন হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। গত তিন বছরে মূল্যস্ফীতির কারণে ওই কাঠামো পর্যালোচনা করার দাবি জানিয়ে আসছিল শ্রমিক সংগঠনগুলো। বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রফতানিকারক দেশ হলেও আগের মজুরি কাঠামোই সব কারখানায় ঠিকমতো অনুসরণ করা হয় না বলেও অভিযোগ রয়েছে। গত বছরের নভেম্বরে তাজরীন ফ্যাশনসে আগুন এবং গত ২৪ এপ্রিল সাভারে রানা প্লাজা ধসের প্রেক্ষিতে বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যমে বাংলাদেশের পোশাক কারখানার কর্মপরিবেশ ও শ্রমিকদের স্বল্প মজুরির বিষয়টি নতুন করে সামনে চলে আসে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশি পোশাক বর্জনেরও হুমকি দেয়া হয়। এরপর পোশাক কারখানাগুলোর কর্মপরিবেশ ও নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি করে সরকার যার প্রধান করা হয় বস্ত্রমন্ত্রীকে। গত ১২ মে বস্ত্রমন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী সাংবাদিকদের জানান, শ্রমিক-মালিক সুসম্পর্ক বজায় রেখে অস্থিরতা নিরসন, কারখানা চালু রাখা এবং উত্পাদনের স্বার্থে নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করা হচ্ছে।
সিনেমা ছেড়ে দিচ্ছেন পূর্ণিমা
বিনোদন রিপোর্ট ॥ সিনেমা ছেড়ে দিচ্ছেন পূর্ণিমা। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রায় নিয়েই ফেলেছেন। নতুন কোন ছবির অফার গ্রহণ করছেন না। সবাইকে খোলাসা করে না বললেও ঘনিষ্ঠ কয়েকজন পরিচালক, অতীতে যাদের ছবিতে কাজ করে সুনাম কুড়িয়েছেন, যাদেরকে শ্রদ্ধা করেন, সম্মান করেন, যাদের কথা শোনেন, প্রয়োজনে বুদ্ধি-পরামর্শ নেন, তাদেরকে স্পষ্ট করেই জানিয়ে দিয়েছেন সিনেমায় অভিনয় আর করবেন না। তবে নাটক কিংবা বিজ্ঞাপনচিত্রের বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত পূর্ণিমা জানাননি। পূর্ণিমাকে নিয়ে ৩টি ছবি নির্মাণ করেছেন এমন একজন সিনিয়র পরিচালক তার নতুন ছবির জন্য প্রস্তাব দিলে পূর্ণিমা সিনেমা জগত ছেড়ে দেয়ার কথা তাকে পরিষ্কার করেই জানিয়েছেন। শুটিং চলা একটি ছবি ‘টু বি কন্টিনিউড’-এর শুটিং শেষ হওয়ার পর এ বিষয়ে তিনি ঘোষণা দেবেন বলে জানিয়েছেন। ইমপ্রেস টেলিফিল্মের প্রযোজনায় ‘টু বি কন্টিনিউড’ পরিচালনা করছেন ইফতেখার আহমেদ ফাহমি। পূর্ণিমা অভিনীত দুটি ছবি এখন মুক্তির মিছিলে। ছবি দুটি হচ্ছে সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘লোভে পাপ পাপে মৃত্যু’ এবং মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ পরিচালিত ‘ছায়া-ছবি’। তার অভিনীত সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি এফআই মানিক পরিচালিত ‘জজ ব্যারিস্টার পুলিশ কমিশনার’। এই ছবিতে তার নায়ক ছিলেন শাকিব খান। ছবিটি প্রত্যাশানুযায়ী সাফল্য পায়নি। পূর্ণিমার পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিনি এখন স্বামী সংসার নিয়েই ব্যস্ত থাকছেন। মাসখানেকেরও বেশি সময় পূর্ণিমা চট্টগ্রামে স্বামীর বাড়িতে কাটিয়ে এসেছেন। নিয়মিত ঢাকা-চট্টগ্রাম আসা-যাওয়া করতে হবে তার। তাছাড়া সিনেমার বিষয়ে শ্বশুর বাড়ির রয়েছে ঘোর আপত্তি। নাটকে অভিনয়ের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নিলেও ঈদের বেশ কয়েকটি নাটকের অফার পূর্ণিমা ফিরিয়ে দিয়েছেন বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে পূর্ণিমার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে তিনি বর্তমানে ঢাকায় নিকুঞ্জে নিজের বাড়িতেই অবস্থান করছেন বলে ঘনিষ্ঠ সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। নব্বই দশকের শেষের দিকে ঝানু প্রযোজক পরিচালক মতিউর রহমান পানুর হাত ধরে জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ‘এ জীবন তোমার আমার’ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে পদার্পণ করেন কিশোরী দিলারা হানিফ রীতা। আবিষ্কারক মতিউর রহমান পানু তার নাম দেন পূর্ণিমা। প্রথম ছবি সাফল্য না পেলেও পূর্ণিমা এক সময় চলচ্চিত্রের অন্যতম সেরা নায়িকা হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন। ‘মনের মাঝে তুমি’, ‘সুলতান’, ‘শাস্তি’, ‘সুভা’, ‘মেঘের পরে মেঘ’, ‘হৃদয়ের কথা’, ‘আকাশ ছোঁয়া ভালবাসা’, ‘স্বামী স্ত্রীর যুদ্ধ’, ‘পিতামাতার আমানত’ সহ অসংখ্য ভাল মানের ছবিতে অভিনয় করে পূর্ণিমা হয়ে ওঠেন নির্মাতাদের ভরসা। কাজী হায়াৎ-এর ‘ওরা আমাকে ভাল হতে দিল না’ ছবির জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন পূর্ণিমাকে অভিনেত্রী হিসেবেও স্বীকৃতি এনে দেয়। নির্মাতাদের ভরসা আর দর্শকদের ভালবাসা পাওয়ার পরও চলচ্চিত্রকে বিদায় জানাবার জন্য পূর্ণিমার সিদ্ধান্ত, শিল্পী সঙ্কটের দুর্যোগপূর্ণ সময়কে আরও দীর্ঘায়িত করবে বলে তাকে নিয়ে কাজ করা পরিচালকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

প্রথমবারের মতো কোনো মিউজিক ভিডিওতে কাজ করতে যাচ্ছেন মডেল অভিনেত্রী শখ
প্রথমবারের মতো কোনো মিউজিক ভিডিওতে কাজ করতে যাচ্ছেন মডেল অভিনেত্রী শখ। শহীদ ও শুভমিতার গাওয়া গানটির মিউজিক ভিডিও পরিচালনা করবেন তানজিম মিশু।
‘ওগো তোমায় ভালোবাসবো সারাটি জীবন’ গানটির  কথা ও সুর করেছেন দ‍ুরবিন ব্যান্ড প্রধান শহীদ ও সংগীতায়োজন করেছেন রাফি। এ প্রসঙ্গে শখ বাংলানিউজকে বলেন, “এটি আমার প্রথম মিউজিক ভিডিওতে কাজ। কাজটি নিয়ে আমি অনেক আশাবাদি। শহীদ ভাইয়ের এর আগের মিউজিক ভিডিওগুলো দেখেছি। আমার ভালো লেগেছে। ইচ্ছা আছে কাজটি ভালো করে করার।” এ বিষয়ে শহীদ  বাংলানিউজকে বলেন, “আমার এ গানটি আছে ‘সারাটি জীবন’ শিরোনামের অ্যালবামে। আগামী সপ্তাহে মিউজিক ভিডিওটির শ্যুটিং করা হবে। এরই মধ্যে গানটি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। ইচ্ছে আছে ঈদে শ্রোতাদের হাতে গানটি তুলে দেব।” 

Year-20 # Issue-16 # 02 June 2013


‘আ.লীগ সরকার গণতন্ত্রের গলা চেপে ধরেছে’
‘আ.লীগ সরকার গণতন্ত্রের গলা চেপে ধরেছে’

৭৪ সালের মতো আওয়ামী লীগ গণহত্যা করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, “দেশ শাসনে ব্যর্থ হয়ে ৭৪ সালে গণতন্ত্র হত্যা করেছিল আওয়ামী লীগ। আবার ঠিক একই কায়দায় আওয়ামী লীগ সরকার গণতন্ত্রের গলা চেপে ধরেছে এবং গণহত্যা শুরু করেছে।” মির্জা ফখরুল বলেন, “গভীর রাতে সরকার দিগন্ত ও ইসলামিক টিভির সম্প্রচার বন্ধ করেছে। মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার করে নির্যাতন করেছে। আমার দেশ পত্রিকা বন্ধ করেছে। সরকারের এহেন কর্মকাণ্ডে মনে হচ্ছে, একদলীয় বাকশালে ফিরে যাচ্ছে বর্তমান সরকার।”  তিনি বলেন, “এ অবস্থা থেকে দেশকে রক্ষা করতে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দুর্বার গণআন্দোলনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে মেনে নিতে বাধ্য করতে হবে।” শনিবার বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জিয়াউর রহমানের ৩২তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া উপস্থিত থাকলেও কোনো বক্তৃতা দেননি তিনি।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকার সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিঞা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সাবেক ভিসি ড. মোস্তাহিদুর রহমান, ঢাবির শিক্ষক ড. মাহবুব উল্লাহ, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ড. এম ওসমান ফারুক, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, যুবদলের সভাপতি আবদুস সালাম আজাদ, মহিলা দলের সভাপতি নুরী আরা সাফা, ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল কাদের ভূইয়া জুয়েল, মুক্তিযোদ্ধা সাদেক আহমেদ সিদ্দিকী প্রমুখ।
‘আবার এক-এগারো এলে বিরোধী দলীয় নেতাকে জেলে যেতে হবে’ প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, “আপনার কি মনে নেই, আপনি হাসতে হাসতে মঈন উদ্দিন, ফখরুদ্দীন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে বঙ্গভবনে গিয়েছিলেন?”
তিনি বলেন, “আপনি বলেছিলেন, এই সরকার আপনাদের আন্দোলনের ফসল। আপনি বিমানবন্দরে বলেছিলেন, ফখরুদ্দীন, মঈন উদ্দিন সরকারের সব কাজে বৈধতা দেবেন। তাহলে, এখন আপনি যে বক্তব্য দিচ্ছেন, তা আপনার চিরাচরিত মিথ্যাচার।”
তিনি  বলেন, “নির্যাতন, নিপীড়ন, জেল, জুলুম, হত্যা, গুম এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান সরকার খালেদা জিয়া, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান থেকে শুরু করে হাজার হাজার নেতাকর্মীর নামে মামলা দিয়েছে। বিএনপির এমন কোনো নেতা নেই যার নামে ২৫টির কম মামলা আছে।”
নাম উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, “আমাদের দলের নেতা এমকে আনোয়ার, বরকত উল্লাহ বুলু, আমান উল্লাহ আমান, মো. শাহজাহান, রিজভী আহমেদসহ হাজার হাজার নেতাকর্মী এখন কারাগারে।”
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “বন্ধুগণ, আমাদের আত্মতৃপ্তির কোনো কারণ নেই। সামনে জোর লড়াই অপেক্ষা করছে।”
মির্জা ফখরুল বলেন, “জিয়াউর রহমান ৭৫ থেকে ৮১ মাত্র পাঁচবছরে বাংলাদেশকে নতুন স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। তিনি বটমলেস বাস্কেট থেকে দেশকে উদীয়মান ব্যাঘ্রে পরিণত করেছিলেন।”
সভাপতির বক্তব্যে সাদেক হোসেন খোকা সরকারের মন্ত্রীদের ব্যাপক সমালোচনা করে বলেন, “তারেক রহমানকে সুবিধা মতো সময়ে লাখ মানুষ সম্মান জানিয়ে দেশে আনবে।” প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনার শুভাকাঙ্খী ও সুহৃদ হিসেবে বলতে চাই, এখনো সময় আছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার মেনে নিন।”
 তথ্যমন্ত্রী ইনুকে হুঁশিয়ারি করে দিয়ে তিনি বলেন, “জিয়াউর রহমান সম্পর্কে উল্টাপাল্টা কথা বন্ধ করেন। তা না হলে পরিণতি হবে ভয়াবহ!”
স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, “শেখ হাসিনা এমন সব কর্ম করেছেন এখন লেভেল প্লেইং ফিল্ডের মাধ্যমে নির্বাচনে যেতে ভয় পান। সারাদেশের মানুষ আজ এই সরকারের হাত থেকে মুক্তি চায়। তারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে, দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে সমর্থন দেওয়ার জন্য।”
তিনি বলেন, “এই সরকার দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে ভয় পায়। তারা তারেক রহমানকে ভয় পায়। তারেক রহমানের একটি বক্তৃতার কারণে পুরো সরকার ভয়ে ভীত হয়ে পড়েছে।”
ড. মোশাররফ বলেন, “আওয়ামী লীগ ও তাদের নেতা যেখানে ব্যর্থ হয়েছে, জিয়াউর রহমান সেখানে সফল হয়েছেন। সে জন্যই জিয়াউর রহমানের প্রতি তাদের এত গাত্রদাহ।” তিনি বলেন, “জিয়াউর রহমান এমন একজন মানুষ ছিলেন, যিনি সেনাবাহিনী থেকে জনগণের নেতায় পরিণত হয়েছিলেন। তিনিই সংবিধানে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপন করেছিলেন। আর এই সরকার সংবিধান থেকে আল্লার ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস তুলে দিয়েছে।”
ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, “৬টি কারণে জিয়াউর রহমানকে এদেশের মানুষ শত শত বছর স্মরণ রাখবে। এর প্রথমটি হলো- জিয়াউর রহমান এদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। পুরো জাতি যখন দিশেহারা ছিল, তখন জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে জাতিকে দিক-নির্দেশনা দিয়েছিলেন।
 দ্বিতীয়ত, জিয়াউর রহমান ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী জনতার স্বঃতস্ফূর্ত বিপ্লবের মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিতে আভির্ভূত হয়েছিলেন। পৃথিবীর কোনো দেশের ইতিহাসে এটা খুঁজে পাওয়া যায়নি যে, একজন সেনানায়ক জনগণের নেতায় পরিণত হয়েছেন।
 তৃতীয়ত, জিয়াউর রহমান গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সংবাদপত্র ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিলেন।
 চতুর্থত, জিয়াউর রহমান ইসলামী মূল্যবোধের ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা করেছেন। সংবিধানে বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম ও আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা সংযোজন করেছিলেন। পঞ্চমত, জিয়াউর রহমান বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা। তিনি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি স্থাপন করেন।
ষষ্ঠত, জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন আদর্শবান রাজনীতিবিদ, যা সব রাজনীতিবিদের জন্য অনুকরণীয়।”
মহাজোট যেন কাগুজে!
মহাজোট যেন কাগুজে
কাগজ-কলমে সীমিত হয়ে পড়েছে মহাজোটের কার্যক্রম। সরকারের শরিক হয়ে থাকলেও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ও  জোটগত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে মহাজোটে জাতীয় পার্টিকে (জাপা) এখন অদৃশ্যই বলা চলে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বরং জাপা প্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সরকার বিরোধী দৌড়ঝাঁপ মহাজোটের কাগুজে অবস্থানকেই আরো দুর্বল করে তুলছে। এ মহাজোট সরকার গঠনের পর থেকেই চাওয়া-পাওয়ার হিসেব নিকেশ নিয়ে জাতীয় পার্টির সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পর্কের টানাপড়েন শুরু হয়। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেই টানাপড়েন এতো বেড়েছে যে, এখন আর মহাজোট নয়, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৪ দলীয় জোটই মূলত সরকার পক্ষের রাজনীতি চাঙা রাখছে। এ সরকারের প্রথম দিকে ১৪ দলের শরিকদের মধ্যে বৈঠক অনিয়মিত ছিল। ২০১২ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে ১৪ দলের মধ্যে অনেকটা নিয়মিত বৈঠক হচ্ছে। জামায়াতের যুদ্ধাপরাধ ইস্যু, হেফাজত ইস্যুকে ঘিরে ১৪ দলের মধ্যে সর্ম্পক জোরদার হয়েছে।
অন্যদিকে ২০১১ সালের ডিসেম্বরের পর থেকে মহাজোটের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কোন বৈঠক হয় নি। মহাজোট সরকারের প্রায় সাড়ে চার বছর সময়ে শরিকদের সঙ্গে জাতীয় পার্টির বৈঠক হয়েছে ১টি কি ২টি।
আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দল বিভিন্ন সময় ঐক্যবদ্ধভাবে রাজনৈতিক কর্মসূচি দিলেও এর সঙ্গে জাতীয় পার্টির কোন সম্পৃক্ততা নেই। জাতীয় পার্টিকে বাদ দিয়ে ১৪ দলীয় জোট প্রতিনিয়ত আলাদাভাবে বৈঠক করে বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটকে মোকাবেলা করতে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।
বিগত নির্বাচনের চাওয়ার সঙ্গে পাওয়ার হিসেব না মিলাতে অনানুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পার্টি মহাজোট থেকে দূরে সরে গেছে।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় পাটির্র চেয়ারম্যান হুসাইন মুহম্মদ এরশাদের রাজনৈতিক ও প্রেস সচিব সুনীল শুভ রায় বাংলানিউজকে বলেন, “বৈঠকে আমরা যাচ্ছি না। এ সরকার গঠনের পর থেকে কবে বৈঠক হয়েছে জানি না।”
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর ১ জন সদস্য বাংলানিউজকে বলেন, “সত্যি কথা বলতে কি, সরকারের বাইরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও কর্মসূচি পালনের ক্ষেত্রে মহাজোটের অস্তিত্ব নেই।’
সরকারের সঙ্গে জাতীয় পার্টির দূরত্ব প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য বাংলানিউজকে বলেন, “সরকারের কাছে নিজেদের কদর বাড়াতে জাতীয় পার্টি সরকার বিরোধী অবস্থান নিয়েছে। তারা মহাজোট ছেড়ে যাবে কোথায়?”
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বাংলানিউজকে বলেন, “সত্যি কথা বলতে কি, জাতীয় পার্টি দূরেই আছে। তাদের সঙ্গে সে সর্ম্পক নেই। সে জন্য জাতীয় পার্টিকে সেভাবে পাওয়া যাচ্ছে না। তারা নিজস্ব চিন্তা বা সিদ্ধান্তে মহাজোট অথবা ১৪ দলের কোন বৈঠকে আসেন না।”
তিনি বলেন, “মহাজোটের শরিক জাকের পার্টির সঙ্গে অচিরেই বসবে ১৪ দল। পর্যায়ক্রমে জাতীয় পার্টিসহ অন্যদের সঙ্গেও বৈঠক হবে। সে প্রক্রিয়া আমরা শুরু করতে যাচ্ছি।” আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নূহ-উল আলম লেনিন বাংলানিউজকে বলেন, “মহাজোট হচ্ছে নির্বাচনী জোট। এ জোটের সঙ্গে জাতীয় পার্টি সরকারের অন্তর্ভুক্ত। যেহেতু মহাজোট একটি নির্বাচনী জোট তাই সব ইস্যুতে একমত হতে হবে তা নয়।’
ওয়ার্কার্স পার্টি সভাপতি রাশেদ খান মেনন বাংলানিউজকে বলেন, “মহাজোট হচ্ছে কেবল নির্বাচনী ঐক্য। নির্বাচন এলে মহাজোট আবার ঐক্যবদ্ধ হবে।’
এরশাদের মহাজোট ছাড়ার হুমকি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এটা তাদের ব্যাপার। তারা ছাড়ার কথা বলে, আবার থাকেও তো। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মনে হয়, তারা মহাজোট ছেড়ে যাবে না।” এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বাংলানিউজকে বলেন, “আনুষ্ঠানিকভাবে মহাজোটের মিটিং হয় নি। এমনিতে তো টেলিফোনে, দেখা হলে আলোচনা কখনো কখনো হয়ে থাকে। যেটা না হলেই চলে না সেটা হয়ে থাকে।”
তিনি বলেন, ‘মহাজোটের সঙ্গে আমাদের আন্ডারস্ট্যান্ডিং আছে। আমরা এখনো মহাজোটে আছি। কিন্তু আমাদের দলের একটি ভিন্নতা আছে। আমাদের আদর্শ ভিন্ন এবং পথ ও মতের পার্থক্য রয়েছে। আমাদের অবস্থানে থেকে জাতীয় পার্টিকে সংগঠিত করা এবং আগামী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার কার্যক্রম আমাদের চলছে।” মহাজোট থেকে বের হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় পার্টির মহাসচিব বলেন, “চাওয়া পাওয়ার মধ্যে ব্যাপক দূরুত্ব। সে জন্য দলের একটি অংশের চাপে আমরা থেকে এসেছি। কর্মীদের এবং মাঠ পর্যায়ের সমর্থকদের প্রত্যাশা পূরণে যথেষ্ট অবদান আমরা রাখতে পারি নি। সেই শুরু থেকে এটা আছে। তারপরেও আমাদের নেতা-কর্মীদের সিদ্ধান্ত পার্টির চেয়ারম্যান মহাজোট বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত নেবেন সেটা হবে আমাদের।”
আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসছে না কেন?
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বার বার মহাজোট ছাড়ার কথা বললেও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেন নি। এরশাদের বিরুদ্ধে থাকা মামলার বিষয়টি বিবেচনা করে তিনি মহাজোট ছাড়ার ঘোষণা দেন নি বলে একটি সূত্রে জানা গেছে।
এছাড়া জাতীয় পার্টি মহাজোটের মধ্যে থেকে সরকার বিরোধী অবস্থান নিয়ে এন্টি আওয়ামী লীগ ভোট নিজেদের কোর্টে নিয়ে দলের অবস্থান শক্তিশালী করতে চাইছে।
সার্বিক পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে সামনে এগুচ্ছে জাতীয় পার্টি। পরিস্থিতির বিবেচনায় আগামীতে বিএনপি যদি নির্বাচনে না আসে তবে জাতীয় পার্টি নিজেদের প্রধান বিরোধী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে একক নির্বাচনে যাবে। অথবা বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট এবং আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোটের যার পাল্লা ভারি থাকবে তার সঙ্গে জোট করবে বলে জাতীয় পার্টি সূত্রে জানা যায়।
আগামীতে জাতীয় পার্টি একক নির্বাচন করবে কি না জানতে চাইলে দলটির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন,  “আমাদের এককভাবে নির্বাচন করারই কথা বার্তা চলছে। একক ভাবে নির্বাচন করার জন্য আমরা পার্টিকে শক্তিশালী করে চলছি।”
 ‘জাতির ক্রান্তিকালে জিয়া স্বাধীনতার ঘোষণা দেন’

বগুড়া : বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি ভিপি সাইফুল ইসলাম বলেছেন, ‘১৯৭১ সালে দেশের মানুষ যখন আওয়ামী লীগের দিক নির্দেশনার জন্য তাকিয়েছিলো, তখন শীর্ষ নেতাসহ অনেকেই এদেশের আপামর জনসাধারণকে বিপদে ফেলে রাতের অন্ধকারে ভারতে পালিয়ে গেছেন।
জাতির এমন ক্রান্তিকালে জিয়াউর রহমানই প্রথম স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন।  উপহার দিয়েছিলেন বাংলাদেশ নামক একটি ভূ-খন্ডের, উপহার দিয়েছিলেন লাল-সবুজ পতাকার।’
শনিবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৩২তম শাহাদৎ বার্ষিকী উপলক্ষ্যে বগুড়া জেলা বিএনপি ঘোষিত ৯ দিনব্যাপী কর্মসূচির শেষ দিনে শোক ৠালি বের হওয়ার আগে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, “জনগণের প্রতি আস্থা হারিয়ে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার হরণ করে একদলীয় নির্বাচন করে আবারও ক্ষমতায় আসতে চায় আওয়ামী লীগ। জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপির নেতৃত্বে ১৮ দলীয় জোট যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনরায় প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করছে, তখন সরকার মামলা, হামলা, হত্যা, গুম করে আন্দোলন স্তব্ধ করতে নানামুখী তৎপরতা চালাচ্ছে। কিন্তু সে স্বপ্ন কোনোদিন পূরণ করতে দেবে না বিএনপি ও সচেতন দেশবাসী।” কর্মসূচি চলাকালে বগুড়া জেলা বিএনপি`র সভাপতি ছাড়াও সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি ফজলুল বারী তালুকদার বেলাল, সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চান, সংসদ সদস্য মোস্তফা আলী মুকুল, জেলা বিএনপি নেতা ও সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলী আজগর হেনা, বগুড়া শহর কমিটির সভাপতি মাহবুবুর রহমান বকুল, সাবেক সংসদ সদস্য  নূর আফরোজ বেগম জ্যোতি, সদর উপজেলা সভাপতি মাফতুন আহম্মেদ খান রুবেল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শাহ্ মেহেদী হাসান হিমু, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আরাফাতুর রহমান আপেল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
পরে শহরের নবাববাড়ীস্থ দলীয় কার্যালয় থেকে একটি শোক ৠালি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

Year-20 # Issue-15 # 26 May 2013

নির্দলীয় সরকার গঠনে সংলাপের আহ্বান বিএনপি স্থায়ী কমিটির
নির্দলীয় সরকার গঠনে সংলাপের আহ্বান বিএনপি স্থায়ী কমিটির
ঢাকা: জাতীয় নির্বাচনকালীন নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের বিষয়ে ঐক্যমত গঠনের জন্য বিরোধী দলের সঙ্গে সংলাপে বসার জন্য আবারো সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটি।
বিরোধী দলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ২২ মে বুধবার রাতে অনুষ্ঠিত জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভায় এ আহ্বান জানানোর পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানা যায়।
এছাড়া সভায় দেশের চলমান রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
সভার প্রস্তাবে বলা হয়, সর্বক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের সীমাহীন ব্যর্থতা, অপশাসন, দুঃশাসন, কুশাসন, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, সমন্বয়হীনতা এবং দায়িত্বশীলদের কাণ্ডজ্ঞানহীন উস্কানিমূলক বক্তব্য ও হটকারী আচরণ দেশকে এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতিতে ঠেলে দিয়েছে। সর্বগ্রাসী সংকটে জাতি আজ হাবুডুবু খাচ্ছে।
জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভায় বলা হয়, এমন সংঘাতপূর্ণ অনিশ্চিত পরিবেশ বাংলাদেশে এর আগে আর কখনো সৃষ্টি হয়নি। জাতীয় সম্পদের এমন নিষ্ঠুর লুণ্ঠন, এমন নির্লজ্জ জঘন্য দলীয়করণ ও এমন বর্বর পৈশাচিক রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের কোনো অভিজ্ঞতা স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের মানুষের আর কখনো হয়নি।
দেশের চলমান পরিস্থিতিতে জাতীয় স্থায়ী কমিটি উদ্বেগ প্রকাশ করে জানায়, সরকারের এই দুঃশাসন ও সর্বব্যাপী ব্যর্থতার প্রতিবাদে সারা দেশের মানুষ যখন ক্ষোভে ফেটে পড়েছে ও বিরোধী দল যখন দেশবাসীর অধিকার, জাতীয় স্বার্থ ও গণতন্ত্র রক্ষায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় আন্দোলন গড়ে তুলছে, সেই সময় সরকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দলীয় সন্ত্রাসী বাহিনীর মতো ব্যবহার করে গণহত্যা চালাচ্ছে।
বিএনপিসহ ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলায় পাইকারি গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে জাতীয় স্থায়ী কমিটি বলে, দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব থেকে শুরু করে সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে পর্যন্ত হাস্যকর সব মিথ্যা অভিযোগে বারংবার গ্রেফতার করা হচ্ছে।
বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলায় আটক করে তাদের বিরুদ্ধে সরকারি দলের নেতা ও মন্ত্রীদের পাশাপাশি প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পর্যন্ত প্রকাশ্যে মিডিয়ায় রাজনৈতিক ধাঁচের উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখছে।
সরকারের সমালোচনা করে সভায় বলা হয়, সরকার এই শৃঙ্খলা ও আইন ভঙ্গ এবং এখতিয়ার বহির্ভূত অপতৎপরতায় মদদ দিচ্ছে এবং তাদের নানাভাবে পুরস্কৃত করছে। বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলে, বার বার সতর্ক করা সত্ত্বেও প্রজাতন্ত্রের চাকরিরত কিছু সদস্য জনগণ ও বিরোধী দলের বিরুদ্ধে দলীয় সন্ত্রাসীর মতো আচরণ করছে।
জাতীয় স্থায়ী কমিটির পর্যবেক্ষণে বলা হয়, সরকার দেশে অঘোষিত একদলীয় বাকশাল পদ্ধতি প্রবর্তন করে গণতন্ত্রের নাম-নিশানাও মুছে দিতে চায়। এই অসদুদ্দেশ্য হাসিলের জন্য তারা এক অ¯পষ্ট ও বেআইনি নির্দেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য সভা-সমাবেশ করার গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করেছে। এমনকি দেশের বৃহত্তম বিরোধী দল বিএনপিকে দোয়া মাহফিল পর্যন্ত করতে বাধা দেওয়া হয়েছে।
বিএনপির কোনো কর্মসূচিই সরকার পালন করতে দিচ্ছে না জানিয়ে স্থায়ী কমিটি জানায়, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় বেশির ভাগ সময়ে পুলিশ-র‌্যাব দিয়ে কার্যত অবরোধ করে রাখা হচ্ছে। দলের পক্ষ থেকে যে নেতাই মিডিয়ায় কথা বলছেন, তাকেই মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার করে নিয়ে যাচ্ছে। বিরোধী দলের প্রতিটি কর্মসূচিতেই সশস্ত্রভাবে বাধা এবং মামলা দেওয়া হচ্ছে।
জামিনে মুক্ত নেতাকর্মীদের জেলগেট থেকে ধরে আবারো জেলে ঢোকানো হচ্ছে। এভাবে বিরোধী দলের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা কার্যত অসম্ভব করে তোলা হচ্ছে।
জাতীয় স্থায়ী কমিটি মনে করে, গত ৫ মে ঢাকার শাপলা চত্বরে অবস্থানরত হেফাজতে ইসলামের লাখ লাখ নেতাকর্মীকে হঠাতে আলো নিভিয়ে গভীর রাতে রক্তক্ষয়ী অভিযান চালাবার পর দেশে-বিদেশে সরকার যে ভয়ঙ্কর চেহারায় আবির্ভূত হয়েছে, তা আড়াল করতে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে শাসক দলের বিভিন্ন নেতা বিরোধী দল বিশেষ করে বিএনপি ও খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এক ঘৃণ্য প্রচারাভিযান শুরু করেছে।
বিএনপি সরকারের প্রতি আলোচনায় বসতে আহ্বান জানিয়েছিল জাতীয় কমিটির সভায় উল্লেখ করা হয়, বিতর্কিত মন্ত্রীদের বাদ দিয়ে ভালোভাবে দেশ চালাবার জন্য খালেদা জিয়া গত ৪ মের ঢাকার জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন, জাতীয় নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের ব্যাপারে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আলোচনায় বসুন। এ ব্যাপারে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে চায়ের আমন্ত্রণও জানিয়েছিলেন।
সরকার সে আহ্বানে সাড়া না দিয়ে সমঝোতা প্রতিষ্ঠার এক গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেছে বলে জাতীয় স্থায়ী কমিটি মনে করে।
ইসলামী টিভি ও দিগন্ত টিভি বন্ধ করার সমালোচনা করে সভায় বলা হয়, গণমাধ্যম ও মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে সরকার শৃঙ্খলিত করেছে। এভাবে কোনো স্বৈরাচার দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। এছাড়া বিভিন্ন সোস্যাল মিডিয়ার ওপর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণে সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জাতীয় স্থায়ী কমিটি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়। এছাড়া আগামী ৩০ মে সারাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতার ঘোষক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বীর অধিনায়ক, আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের শাহাদৎবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের আহ্বান জানানো হয়। 
পাহাড়ে জেএসএস ও ইউপিডিএফের অস্ত্র ভাণ্ডার
বান্দরবান: পাহাড়ের আঞ্চলিক রাজনীতিকে আরও ব্যাপকভাবে অস্ত্র নির্ভর করে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে নতুন মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) এবং ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টসহ (ইউপিডিএফ) বিবদমান সংগঠনগুলো। ফলে পাহাড়ে শান্তির জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করলেও কার্যত তা ব্যর্থ হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পাহাড়ে শান্তির জন্য পাহাড়ে নাগরিক কমিঠি নামে একটি গ্রুপ দুই বছর আগে কাজ শুরু করে। তাদের ডাকে সাড়া ইউপিডিএফ সাড়া দিলেও জেএসএস এ ব্যাপারে সাড়া দেয়নি। ২০মে (সোমবার) পার্বত্য ছাত্র পরিষদের (পিসিপি) দুই যুগপূর্তী অনুষ্ঠানে উভয় দলের নেতারা একে অপরকে যে কোনো মূল্যে প্রতিরোধের ঘোষণা দেয়।
এদিকে আন্ডারগ্রাউন্ডে থাকা নেতারা দলের কর্মীদের উজ্জিবিত করতে ফের প্রকাশ্যে আসার কারণে সামনের দিনগুলোতে পাহাড় আরও অশান্ত হয়ে ওঠার পূর্বাভাস হিসাবে দেখছে স্থানীয়রা।
খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফ সভাপতি প্রসিত বিকাশ খীসা বলেন, “আন্দোলনের সামনে দিনগুলো হতে পারে প্রাকৃতিক দুর্যোগপূর্ণ, আসতে পারে মনুষ্য সৃষ্ট বাধা, সব বাধা অতিক্রম করে এগিয়ে যেতে হবে।”
অন্যদিকে রাঙামাটিতে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টকে (ইউপিডিএফ) `চুক্তিবিরোধী শক্তি` উল্লেখ করে তাদের নির্মূলের ঘোষণা দিয়ে চুক্তি বাস্তবায়নে প্রয়োজনে সোজা আঙুল বাঁকা করার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন সন্তু লারমা সমর্থিত পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের (পিসিপি) নেতারা।
সংঘাতের শুরু যেভাবে:
মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা (এমএন লারমা) পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগণের সাংবিধানিক স্বীকৃতি, বিশেষ অঞ্চলের মর্যাদা দেওয়ার দাবি এবং পাহাড়িদের বাঙালি হিসেবে জাতীয় পরিচয়ের প্রতিবাদে ১৯৭২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি গঠন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস)। অধিকার আদায়ে সশস্ত্র আন্দোলন করার পর সংগঠনটি ১৯৯৭ সালে ২ ডিসেম্বর সরকারের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদন করে।
ওই চুক্তিতে আদিবাসীদের মুক্তি মিলবে না এবং একে কালো চুক্তি উল্লেখ করে প্রসিত খীসার নেতৃত্বে ১৯৯৮ সালে গঠিত হয় ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)। এরপর থেকে মূলত চুক্তির পক্ষ-বিপক্ষ অবস্থানকে কেন্দ্র করে পাহাড়ে আধিপত্য ধরে রাখতে একে অপরকে ঘায়েল করতে মাঠে নামে সংগঠন দুটি।
শান্তির আহ্বানে সাড়া নেই:  
তিন পার্বত্য জেলায় আদিবাসীদের নিয়ে গড়া নাগরিক কমিটি জেএসএস ও ইউপিডিএফের সংঘাত বন্ধ করে মানববন্ধন, সভা-সমাবেশ করে উভয় সংগঠনকে শান্তির পথে আসার জন্য আহ্বান জানালে ইউপিডিএফ একে স্বাগত জানালেও জেএসএসের কোনো জবাব মেলেনি।
বান্দরবান নাগরিক কমিঠির আহ্বায়ক রাজপুত্র নু শৈই প্রু বাংলানিউজকে বলেন, “সংঘাতময় কর্মকাণ্ড পার্বত্য জেলাসহ দেশের জন্য ভালো নয়, দেশের শান্তি প্রিয় মানুষজন পাহাড়ে শান্তি চায়। সহিংসতা কেউ পছন্দ করেনা, আমার বিশ্বাস তারা বিষয়টি অনুধাবন করে গনতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে পাহাড়ে শান্তি ফিরিয়ে আনবে।”
পাহাড়ে অপহরণের রেকর্ড:
গত ১৬ ফেব্রুয়ারি রাঙামাটির লংগদু থেকে ৫২ আদিবাসীকে অপহরণ করা হয়। এ অপহরণের জন্য ইউপিডিএফকে দায়ী করা হলে তারা তা অস্বীকার করে। অন্যদিকে তাদের উদ্ধারে প্রশাসনের কোনো উদ্যোগ না থাকা এবং উভয় দলের নমনীয়তা অভাবের কারণে অপহৃতরা বেঁচে আছে কিনা সে ব্যাপারে সন্দেহ প্রকাশ করছে পার্বত্যবাসী। গত ৯ ফেব্রুয়ারি একই জেলার কুতুকছড়ি এলাকা থেকে গ্রামীণফোনের একজন প্রকৌশলীসহ দুই কর্মচারী অপহৃত হন ইউপিডিএফ সমর্থিত সন্ত্রাসীদের হাতে। এরপর গ্রামীনফোন তিন জেলায় তাদের অফিস গুটিয়ে নেয়। গত সোমবার (২০ মে) খাগড়াছড়ির পানছড়ির ধুধুকছড়ায় সন্ত্রাসীরা প্রায় ৪০ জনকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।  পরে অনেক চেষ্ঠা তদবিরের পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
চুক্তির পর হত্যা-অপহরণ:
সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, পার্বত্য শান্তি চুক্তির পর থেকে জেএসএসের ৩ শতাধিক, ইউপিডিএফের ২৪৭, ও জেএসএস- এমএন লারমার গ্রুপের ২৪ জন নিহত এবং অপহরণ হয়েছে ১ হাজারেরও বেশি। পরস্পর সংঘাতে প্রাণ গেছে মূলত আদিবাসীদেরই।
পাহাড়ে শান্তির ডাক প্রসঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির বান্দরবান জেলা সভাপতি মিল্টন ত্রিপুরা বাংলানিউজকে জানান, “নাগরিক কমিটি জেএসএসকে শান্তির জন্য কোনো আহ্বান জানায়নি, তাদের লক্ষ ও উদ্দেশ্য অস্পষ্ট।”
অস্ত্র ভান্ডার সমৃদ্ধ করছে সংগঠনগুলো:
ইউপিডিএফ ও জেএসএসের মধ্যে ১৯৯৭ সাল থেকে যে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে তা বন্ধে সাড়া দিচ্ছে না দলগুলো। সংঘাত বন্ধে দুটি দলের মধ্যে সমঝোতার উদ্যোগও বার বার ভেঙে যাচ্ছে। পাহাড়ে প্রতিদিন অপহরণ, চাঁদাবাজি, খুন, গুমের ঘটনা ঘটছে। আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে উভয় গ্রুপই ভারতের মিজোরাম ও ত্রিপুরা থেকে ভারী অস্ত্র সংগ্রহ করেছে, সমৃদ্ধ করছে অস্ত্র ভাণ্ডার।
ভারতীয় ইংরেজি দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়াসহ অন্য দৈনিকগুলো তাদের খবরে জানায়, গত ৮ মার্চ মিজোরামের লেংপুই বিমানবন্দরের কাছের খামারবাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করেছে মিজোরাম পুলিশ ও আসাম রাইফেলস। অভিযানে ৩১টি একে-৪৭ রাইফেল, একটি এলএমজি, একটি স্বয়ংক্রিয় রাইফেল, ৮০৯টি গুলি ও ৩৩টি ম্যাগজিন উদ্ধার করা হয়। জানা যায়, এ অস্ত্র চালানের গন্তব্য ছিল পার্বত্য জেলা।
শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের আন্দোলনের চেয়ে তারা একে অপরকে ঘায়েল করতেই সংঘাত বাড়িয়ে দেওয়ার কারণে মরছে মানুষ, নি:স্ব হচ্ছে আদিবাসীরা।
আন্ডারগ্রাউন্ডে থাকা প্রসিত প্রকাশ্যে:
প্রসিত বিকাশ খিসা এক যুগ আত্মগোপনে থেকে সংবাদ মাধ্যমে বক্তব্য-বিবৃতি দিয়ে নিজের উপস্থিতির জানান দেন। যাকে সরাসরি দেখা দূরে থাক, ফোনে কথা বলাটায় যেন ঢাকা ও পাহাড়ের সাংবাদিকদের জন্য দুস্কর ছিলো। পাহাড়ের এ অন্তরালের রাজনীতিবীদ ইউপিডিএফের কর্ণধারকে ২০০১ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় প্রকাশ্যে দেখা গেলেও দীর্ঘ এক যুগ পর বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের (পিসিপি) প্রতিষ্ঠার দুই যুগপূর্তি উপলক্ষে গত সোমবার খাগড়াছড়িতে বক্তব্য রেখে প্রকাশ্যে আসেন।

আত্মগোপনে থাকা পাহাড়ের এ নেতা ফের প্রকাশ্যে আসার কারণে অনেকে মনে করছেন, নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে ও নিজেদের শক্তির জানান দিতেই তার এ প্রকাশ্যে আসা।

এদিকে স্থানীয় আদিবাসীরাই মনে করছে, পাহাড়ের আদিবাসীদের স্বাধীকার আন্দোলনের কথা বলেই আন্দোলন করতে যাওয়া সংগঠনগুলোর এ সংঘাতে ক্ষোধ আদিবাসীরাই আজ অসহায়, এর থেকে মুক্তি মিলবে কখন? এর উত্তর জানা নেই কারো কাছ।
তিন বছর কারাভোগের পর দেশে ফিরল ৬০ বাংলাদেশি নারী
বেনাপোল(যশোর): অবৈধ ভাবে ভারতে প্রবেশের অভিযোগে মুম্বাই পুলিশের হাতে আটক হওয়ার ৩ বছর পর বাংলাদেশের ৬০ নারী বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোষ্ট দিয়ে দেশে ফিরে এসেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে স্বদেশ ভূমিতে ফিরে আসে তারা।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান বাংলানিউজকে জানান, সংসারে অভাব অনটনের কারণে বিভিন্ন সময়ে দালালের খপ্পরে পড়ে সীমান্ত পথে এসব নারীরা ভারতে যায়। সেখানে অবৈধভাবে বসবাসের অভিযোগে মুম্বাই পুলিশ তাদের আটক করে জেলহাজতে পাঠায়।
সেখান থেকে ভারতীয় রেসকিউ ফাউডেশন নামে একটি এনজিও সংস্থা তাদের জেল থেকে ছাড়িয়ে নিজেদের হেফাজতে রাখে। পরে দু দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যোগাযোগের মাধ্যমে ট্রাভেল পারমিট নিয়ে এরা স্বদেশে ফিরে আসে। এদের মধ্যে বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতি ৩১ জন, যশোর রাইটস ৩৩ জন ও অ্যাসোসিয়েশন ফর কমিউনিটি ডেভোলেপমেন্ট ১ জনকে বেনাপোল ইমিগ্রেশন থেকে গ্রহণ করে তাদের জিম্মায় নিয়ে যায়। পরে এসব এনজিও সদস্যরা ফিরে আসা নারীদের পরিবারের অভিভাবকদের হাতে তুলে দেবে। বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির যশোর এরিয়া ম্যানেজার এ বি এম মুহিত হোসেন বাংলানিউজকে জানান, এসব নারী দুই থেকে তিন বছর পর ভারত থেকে দেশে ফিরে এসেছে। যশোর, নড়াইল, সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, সিলেট ও চট্রগ্রামসহ জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের বাড়ি। এসময় তিনি আরো জানান, শুক্রবার আরো ৩৭ জন নারী ট্রাভেল পারমিট নিয়ে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে স্বদেশে ফিরবে।
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রীনকার্ড পাওয়ার অপেক্ষা শেষ হচ্ছে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রীনকার্ড পাওয়ার অপেক্ষা শেষ হচ্ছে
ভারতীয় নাগরিক সংকেত সেন্ট দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান ২১ বছর বয়সে। ভারত থেকে প্রকৌশল বিদ্যায় মাস্টার্স করেন সংকেত সেন্ট। তারপর ভালো বেতন আর চাকরির আশায় যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রীও নেন।

যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ ১৪ বছর অতিবাহিত করলেও সংকেত সেন্ট এখনো নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের একজন আগন্তুক হিসেবেই দেখেন।  কারণ দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে স্থায়ীভাবে থাকার জন্য গ্রীনকার্ডের আবেদন করেও পাননি তিনি। আবেদন করার পর ছয় বছর পার হলেও এখনও অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে তার গ্রীনকার্ডটি। ফলে গ্রীনকার্ড নিয়ে এখন অনেকটাই হতাশ তিনি।
শুধু সেন্ট নয়, এরকম প্রায় দেড় লক্ষাধিক গ্রীনকার্ডের আবেদন পড়ে আছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের কাছে।
তবে এবার দেশটির কংগ্রেস যুক্তরাষ্ট্রে একপ্রকার অবৈধভাবে থাকা এসব অভিবাসীদের গ্রীনকার্ড সমস্যা দূর করতে পদক্ষেপ নিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট জুডিশিয়ারি কমিটি বৃহস্পতিবার নতুন একটি অভিবাসী আইনের খসড়া অনুমোদন করেছে। এই আইনের বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে বিজ্ঞান, গনিত এবং প্রকৌশল বিদ্যায় ডিগ্রীধারীরা সহজেই গ্রীন কার্ড পাবেন।
তবে প্রতিটি দেশ থেকে ঠিক কতজন করে গ্রীন কার্ড পাবে তা ঐ দেশের জনসংখ্যার ঘনত্বই ঠিক করে দেবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে গ্রীনকার্ড সহজীকরণে নতুন এই আইন দেশটির দুই দলের সংসদ সদস্যরাই সমর্থন করেন। প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রায় অর্ধেকের বেশি বিদেশী ছাত্র-ছাত্রী।
ফেইসবুক, মাইক্রোসফটের মতো বিশ্বখ্যাত টেকনোলজি কোম্পানিগুলো যুক্তরাষ্ট্রের এসব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরো ছাত্র-ছাত্রী নিয়োগ দিতে চায়। আর এজন্যই তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে গ্রীনকার্ড সহজীকিকরণে লবিং করে আসছিল।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক প্রযুক্তিবিদই নতুন এই আইনের বিরোধীতা করেছেন। এর ফলে আমেরিকান শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার হুমকির মুখে পড়বে বলে অনেক বিশেষজ্ঞ মত দেন।
আর এইচ-১বিএস নামে পরিচিত ওয়ার্কার ভিসার অধীনে যেসব শ্রমিকরা যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করছেন তাদের গ্রীনকার্ড সম্পর্কে নতুন এই অভিবাসন আইনে কিছুই বলা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রে আসা প্রতি তিনজনের একজন এই এইচ-১বি ভিসার অধীনে কাজ করছে।  মাশরাফি-সাকিবকেও আকসুর জিজ্ঞাসাবাদ

চিটাগং কিংস ও ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের ম্যাচ শুরুর কয়েক ঘণ্টা পূর্বেই ফ্র্যাঞ্চাইজি সেলিম চৌধুরী তার মিডিয়া ম্যানেজারকে দিয়ে জানায়, মাশরাফি বিন মুর্তজা খেলবে না। তার বদলি হিসেবে মোহাম্মদ আশরাফুল যে দলের নেতৃত্ব দেবেন সে কথাও বলেন তিনি। এই খবর তখনও মাশরাফি এবং দলের কোচ পর্যন্ত জানেন না।
সেই মুহূর্ত থেকে সন্দেহ ডালপালা মেলতে থাকে। পুরো ম্যাচে গ্ল্যাডিয়েটরসের খেলোয়াড়দের অভিনয় দেখে বিস্মিত না হয়ে পারেনি দর্শকরাও। ক্রিকেট সংশ্লিষ্টদের একটা বড় অংশই প্রকাশ্যেই বলেছেন, পাতানো ম্যাচ খেলেছে গ্ল্যাডিয়েটরস। এনিয়ে খেলা পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নবানে জর্জরিত হতে হয় বদলি অধিনায়ক আশরাফুলকে। কথার মারপ্যাচে অধিনায়ক সেদিন পাশ কাটাতে পারলেও উত্তরটা কারও মনপুত ছিল না।
ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের মালিক সেলিম চৌধুরী পর্যন্ত তীব্র প্রতিবাদ করেছিলেন ম্যাচ পাতানোর প্রশ্নে। প্রতিপক্ষ দলের কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন সাংবাদিকদের প্রশ্ন উড়িয়ে দিয়েছিলেন এক ফুৎকারে। বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের কর্মকর্তাদের কাছে পাতানোর প্রশ্ন তুলতে আপত্তি জানিয়েছিলেন। বিপিএলে দুর্নীতি পাহাড়া দিতে আসা আকসু সদস্যরাও বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন। এতকিছুর পরও খবরের কাগজগুলো ঘটনার বর্ণনা দিয়ে প্রমাণ রেখে দেয়। সেই আকসুর নির্দেশে আইসিসি দুর্নীতিদমন বিভাগের কর্মকর্তারা ঢাকায় এসে সন্দেহভাজন ক্রিকেটারদের সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন। ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের বিদেশি ক্রিকেটারদের দেশে গিয়েও প্রশ্ন করেছেন সন্দেহভাজন ম্যাচ ইস্যুতে।
২ ফেব্রুয়ারির ওই ম্যাচে গ্ল্যাডিয়েটরসের অধিনায়ক আশরাফুলকে দুবার ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে আকসু। সে কথা অস্বীকার করেননি আশরাফুল,‘আমাকে অনেক প্রশ্ন করেছে। যা যা জানতে চেয়েছে আমি তার উত্তর দিয়েছি।’ নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, আকসুর সামনে হাজির হতে হয়েছে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের সকল ক্রিকেটারকেই। এই তালিকা থেকে মাশরাফি বিন মুর্তজা এবং সাকিব আল হাসানও বাদ যাননি। যদিও সে ম্যাচে এই দুজনের কেউ-ই খেলেননি। মাশরাফিকে বসিয়ে দেওয়া হয়েছিল আর সাকিব চোটাক্রান্ত ছিলেন। চিটাগং কিংসের কয়েকজন ক্রিকেটারকেও ডেকেছিল আকসু। সন্দেহের তালিকায় থাকা সকলকেই আকসুর মুখোমুখি হতে হবে বলে জানায় বিসিবি সূত্র।
ক্রিকেটারদের জিজ্ঞাসাবাদ করলেও এখনও ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে দেখা করেনি আকসু প্রতিনিধি দল। সেলিম চৌধুরী বিদেশে থাকায় সেদিকে এখনও যায়নি তারা। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দেশে ফিরিছেন গ্ল্যাডিয়েটরস মালিক। এ সম্পর্কে তিনি বলেছেন,‘ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস আকসুকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। প্রয়োজনে আমরাও আলাদা করে তদন্ত করতে প্রস্তুত।’ এদিকে বিসিবি থেকে পুর্ণ সহযোগিতা পাচ্ছে আকসু দল। বিসিবি ভারপ্রাপ্ত সিইও নিজামউদ্দিন চৌধুরীর সাহায্যে কার্য সম্পাদন করছেন তারা। এডহক কমিটির সদস্য গাজী আশরাফ হোসেন লিপু বলছিলেন,‘বিষয়টি গোপন রাখার কোনো সুযোগ নেই। আকসু অভিযোগ খতিয়ে দেখছে। তখন যে পত্রপত্রিকায় লেখালেখি হয়েছিল সেগুলো তথ্য উপাত্ত হিসেবে কাজে লাগাতে পারে তারা।’ মৃত্যুর পরেও ধনী মাইকেল জ্যাকসন!

মৃত্যুর পরেও ধনী মাইকেল জ্যাকসন!
বিনোদন ডেস্ক : প্রয়াত পপ সম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের রেখে যাওয়া সম্পদ থেকে এ পর্যন্ত আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬০০ মিলিয়নে। এটি জ্যাকসনের রেকর্ড পরিমাণ আয় করা ‘থ্রিলার’ অ্যালবামের চেয়েও বেশি। ৬০০ মিলিয়নের বিশাল এই অর্থ মূলত টিকেট বিক্রি থেকে এসেছে। ২০০৯ এর জুনে মৃত্যুর পর অর্জিত হয়েছে এ অর্থ। ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউকে’র মতে জীবিত যেকোন শিল্পীর একই সময়ের আয়ের চেয়ে এটি অনেক বেশি। মাইকেল জ্যাকসনকে নিয়ে নির্মিত ‘মাইকেল জ্যাকসন’স ওয়ান’ এবং কনসার্ট পারফরমেন্স নিয়ে নির্মিত ‘দিস ইজ ইট’ ছবির টিকেট বিক্রি থেকে এসেছে বেশ বড় রকমের অর্থ। ইউএস ডকুমেন্টারী অনুসারে ‘মাইকেল জ্যাকসন’স সিক্সটি মিনিটস’ সারাবিশ্ব ব্যাপি ৩০০ মিলিয়নের বেশি আয় করেছে। আইটিউনসে এখনো সবচেয়ে বেশি অ্যালবাম বিক্রি হচ্ছে জ্যাকসনের। তার মৃত্যুর পর থেকে প্রায় ৫০ মিলিয়ন কপি অ্যালবাম বিক্রি হয়েছে এ পর্যন্ত। সবমিলিয়ে মৃত্যুর পরও দিন দিন ধনী হচ্ছেন মাইকেল জ্যাকসন।
বৃষ্টির দিন, বৃষ্টির গান
বৃষ্টির দিন, বৃষ্টির গান
 বৃষ্টির জীবনের রোমাঞ্চকর আর স্মরণীয় দিন ২০১২ সালের ৬ মার্চ। হওয়াটাই স্বাভাবিক। এদিন রাতেই যে চ্যানেল আই সেরাকন্ঠ ২০১২ প্রতিযোগীতার চ্যাম্পিয়নের মুকুট মাথায় তুলেছেন তিনি।
“ইতিমধ্যে আড়াই মাসের মতো পেরিয়ে গেছে। অথচ ভাবতে গেলে মনে হয় ওই সময়টাতে আমি এখনো দাঁড়িয়ে আছি। এখনো উত্তেজনায় কাঁপছি। বুকে কাঁপনধরা উৎকন্ঠা নিয়ে তাকিয়ে আছি কখনো বিচারক আর কখনো আব্বু আম্মুর দিকে’’-বলেছিলেন বৃষ্টি।
চ্যানেল আই সেরাকন্ঠ ২০১২ এর গ্রান্ড ফিনালে বৃষ্টির জন্য ছিল নানা কারণেই অপেক্ষার। সেইসাথে উদ্বেগেরও। ৬৫ হাজার প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে প্রথম হওয়ার ব্যাপারটাতো আছেই। ছিল ‘অদেখা’ অনেক মানসিক বাধা।
সেটি কেমন?
জিজ্ঞেস করতেই বৃষ্টি জানালেন, “২০০৮ সালের সেরাকন্ঠে আমার বড় বোন নির্বাচিতা সেরা দশে ছিলেন। মা-বাবার প্রত্যাশা ছিল এবার আমি সেরা তিনে থাকব। কিন্তু ফলাফল ঘোষণার সময় দেখা গেল আমি তৃতীয়তে নেই। নেই দ্বিতীয়তেও।
আগে থেকেই আরেকটা ভয় ছিল। আমরা হলাম সংখ্যালঘু, ধর্মে বড়‍ুয়া। প্রথমও হয়তো দিবে না। মা-বাবার দিকে তাকিয়ে দেখি তাদের চোখমুখ কালো হয়ে গেছে। সবকিছু মিলিয়ে আমিও হতাশ। রীতিমত হেলে একপাশে পড়ে যাওয়া অবস্থা।”
এসময়ই বিচারকের আসনে বসা সাবিনা ইয়াসমিনের কন্ঠে ভেসে আসে ‘আয় বৃষ্টি ঝেপে’। মুহুর্তেই যেন বদলে যায় পৃথিবীটা। ততক্ষণে বোঝা হয়ে গেল, বাকি থাকা এক নাম্বার আসনটির বিজয়ী বৃষ্টি নিজেই।
সব আশংকার মেঘ কেটে গিয়ে মঞ্চে তখন শুধুই বৃষ্টির বারতা। সবাই এসে জড়িয়ে ধরছে বৃষ্টিকে। মাথায় উঠল চ্যাম্পিয়নের মুকুট। এতদিনের এত পরিশ্রম আর অপেক্ষার অবসান ঘটল। শেষ হল এক দীর্ঘযাত্রা।
আসলেই কী শেষ হল পথের যাত্রা? না। শেষ হইয়াও হইল না শেষ বলে একটা কথা আছে রবীন্দ্রনাথের। এই শেষ তো শেষ না। নতুন একটা শুরু।
বৃষ্টির ভাষায়, “যোগ্যতার সাথে সুযোগের একটা নিবিড় সম্পর্ক আছে। এ দুইয়ের যোগফলেই আসে সাফল্য। গানের সাথে আছি দীর্ঘদিন। কিন্তু আমার যা সামর্থ, তা প্রকাশের জন্য, বিকশিত করার জন্য একটা প্লাটফর্মের দরকার ছিল। সেটি পেয়ে গেছি সেরাকন্ঠের মাধ্যমে। এখন আমাকে সুযোগটা কাজে লাগাতে হবে।”
সুযোগ কাজে লাগানোর অংশ হিসেবে এখন দেশে, দেশের বাইরে ষ্টেজ শো নিয়ে ব্যস্ত আছেন বৃষ্টি। ওমানের মাসকটে শো করে এসেছেন ইতিমধ্যে। এবার যাচ্ছেন ইতালি। ফিরবেন জুনের প্রথম দিকে। বৃষ্টি বন্দরনগরী চট্রগ্রামের মেয়ে। বাবা রনদ্বীপ মুৎসুদ্দী আর মা শেলী বড়‍ুয়া। গানের সাথে সরাসরি জড়িত না থাকলেও বাবা-মা সবসময় চাইতেন সন্তানেরা গান শিখুক। প্রথমে মায়ের কাছেই গানের হাতেখড়ি। পাঁচ বছর বয়স থেকেই গান শেখা শুরু করেন বড় বোন নির্বাচিতার সাথে। প্রথমে ভর্তি হন চট্রগ্রামের খ্যাতনামা সঙ্গীত প্রতিষ্ঠান ‘সঙ্গীত পরিষদ’-এ। পরেশ চন্দ্র কুড়ির কাছে শেখেন ক্ল্যাসিক্যাল এবং নজরুল সঙ্গীত। পরবর্তীতে গান শেখেন ওস্তাদ নির্মলেন্দু চৌধুরীর কাছে। ছোটবেলা থেকেই আঞ্চলিক এবং জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগীতায় অংশ নিয়েছেন।
এর মধ্যে একবার জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগীতায় দেশাত্মবোধক, নজরুলগীতিতে প্রথম স্থান লাভ করেন। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে পদ্মকুড়ি কমলকুড়ি, শিক্ষা সপ্তাহসহ চট্রগ্রামের আঞ্চলিক প্রতিযোগীতায় অর্জন করেছেন অসংখ্য পুরস্কার।
সেরাকন্ঠে বিজয়ী হওয়ার পর বৃষ্টি এখন ঢাকায় স্থায়ী হচ্ছেন। পড়ালেখা করছেন বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় আইইউবিতে। “ ঢাকার বাইরে থাকলে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণে সমস্যা হয়। আর পড়ালেখার ব্যপারটাতেও খুব ভালো করে মনোযোগ দিচ্ছি। যে কারণে ঢাকায় চলে আসা।”
বৃষ্টি জানালেন সামনেই তার অনার্স ফাইনাল। তখন প্রথম একক তৈরীর কাজে হাত দেবেন তিনি। তবে তারও আগে গানটাকে আরো ভালো করে শিখতে চান । বৃষ্টির মতে, “যতই পড়িবে ততই শিখিবে, তাই শেখাটা আমি সবসময় চালিয়ে যেতে চাই।”

Year-20 # Issue-14 # 19 May 2013



রাসিক নির্বাচন
জামায়াত প্রার্থী নিয়ে বিপাকে বিএনপি
রাজশাহী প্রতিনিধি
আসন্ন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে জামায়াতকে নিয়ে বিপাকে বিএনপি। মেয়র পদে মহানগর জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি কারাবন্দি ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরের প্রার্থী হওয়ার সদ্ধিানে্ত অনড় জামায়াত। এ নিয়ে বিএনপি একাধিকবার বৈঠকের চষ্টো করলেও জামায়াত রাজি হচ্ছে না। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে জোর তদবির চালানো হচ্ছে। সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে জটিলতা কাটেনি। বিএনপির পক্ষ থেকে কয়েকবার সমঝোতার চষ্টো করলেও জামায়াত তাতে সাড়া দিচ্ছে না। জামায়াত নেতাদের ক্ষোভ, ১৮ দলীয় জোটে জামায়াত থাকলেও মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতারা বিগত দিনে রাজনৈতিক কর্মসূচিগুলো তাদের ছাড়াই পালন করেছে। পুলিশি ঝামেলা এড়াতে জামায়াতকে তাদের সাথে নেয়নি। এছাড়াও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মিজানুর রহমান মিনু বারবার জামায়াতের ভোট ব্যাংক ব্যবহার করে রাজশাহী সিটি মেয়র ও সংসদ সদস্য হয়েছেন। কিন্তু পরবর্তীতে তাদের আর মূল্যায়ন করেননি। আর এ কারণেই আসন্ন সিটি নির্বাচনে জামায়াত একক প্রার্থী দেয়ার সদ্ধিান্ত নিয়েছে। এবছর সাবেক মেয়র ও বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিনু সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। তার পরিবর্তে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ও মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে সম্মিলিত নাগরিক ফোরামের ব্যানারে মেয়র প্রার্থী করা হয়েছে। তবে, মহানগর জামায়াতের প্রার্থী ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বিএনপি ও বুলবুলের জন্য প্রাচীর হয়ে দঁাড়িয়েছেন। কোনো কিছু দিয়েই তারা এ প্রাচীর সরাতে পারছেন না। একদিকে জামায়াত অনড় অন্যদিকে বিএনপি সমঝোতার চষ্টো অব্যাহত রেখেছে। এদিকে, বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু কিংবা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হলে জামায়াত তাদের সদ্ধিানে্ত অনড় থাকতো। তবে বিএনপি নেতা মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল মেয়র প্রার্থী হওয়ার সদ্ধিান্ত নেয়ায় জামায়াত হয়তোবা ছাড় দিতে পারে। সূত্রটি আরো জানায়, এখনও জামায়াত তাদের সদ্ধিানে্ত অনড় রয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এ জটিলতা নিরসন হতে পারে। আর যদি জামায়াতকে ম্যানেজ করতে বিএনপি ব্যর্থ হয় তবে তাদের পরাজয় হতে পারে। ইতোমধ্যেই মহানগর বিএনপি নেতারা জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের সাথে বৈঠকে বসার চষ্টো করছেন। তারা জামায়াতের ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরের মেয়র পদে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের চষ্টো করছেন। এ কারণেই বিএনপি সম্মিলিত নাগরিক ফোরামের ব্যানারে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের নাম ঘোষণা করতে পারছে না। রাজশাহী মহানগর জামায়াতের শীর্ষ নেতা এমাজ উদ্দিন জানান, ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরের মেয়র পদে নির্বাচনের সদ্ধিান্ত প্রত্যাহারের জন্য বিএনপির পক্ষ থেকে অনবরত যোগাযোগের চষ্টো করা হচ্ছে। তবে জামায়াত নেতৃবৃন্দ এখনও তাতে সাড়া দেয়নি। জামায়াত তাদের সদ্ধিানে্ত অনড় রয়েছে। উলে্লখ্য, তফশিল অনুযায়ী রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৬ মে। প্রতীক বরাদ্দ ২৭ মে। ভোটগ্রহণ করা হবে ১৫ জুন।