Year-19 # Issue-11 # 29 April 2012

আমাদের শেরে বাংলা 
অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী আবুল কাশেম ফজলুল হকের নাম তোমরা নিশ্চয়ই শুনেছ। কিন্তু তোমরা কী জানো, তার আরো একটি পরিচয়। হ্যাঁ, তার আরো একটি পরিচয় আছে। তাকে বলা হয় ‘শেরে বাংলা’। যার অর্থ বাংলার বাঘ। ফজলুল হক ১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর ত‍ৎকালীন বাকেরগঞ্জ জেলার সাটুরিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম কাজী মুহাম্মদ ওয়াজেদ এবং মায়ের নাম সাঈদুন্নেসা খাতুন। তার পড়াশোনা শুরু হয় স্থানীয় মাদ্রাসায়। পরবর্তীতে তিনি বরিশাল জিলা স্কুলে ভর্তি হন। এই জিলা স্কুল থেকেই ১৮৯০ সালে তিনি এন্ট্রান্স (এসএসসি) পাস করেন। কলকাতা থেকে ১৮৯২ সালে পাস করেন এফএ (এইচএসসি)। এরপর কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে রসায়ন, গণিত এবং পদার্থবিজ্ঞানে সম্মানসহ বিএ পাস করেন। ১৮৯৭ সালে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে এমএ পাস করেন একে ফজলুল হক। উপমহাদেশের তৎকালীন রাজনৈতিক অঙ্গনের অন্যতম পুরোধা ছিলেন একে ফজলুল হক। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্বপালন করেন। ১৯১৮-১৯ সাল সময়কালে তিনি ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেসের জেনারেল সেক্রেটারি ছিলেন। এরপর ১৯৩৫ সালে হিন্দু নেতা নলিনী বাবুকে পরাজিত করে তিনি কলকাতার প্রথম মুসলিম মেয়র নির্বাচিত হন। অকৃত্রিম মানবিক গুণের অধিকারী এই নেতা ক্ষমতায় গিয়ে ঋণ সালিশী বোর্ডের মাধ্যমে মহাজনদের ঋণের টাকা কিস্তিতে আদায় করার ব্যবস্থা করে গরীব চাষীদের ওপর দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন। এ কারণে তাকে ‘গরীবের নেতা’ও বলা হয়ে থাকে। তবে তিনি কিন্তু শুধু গরীবের নেতাই ছিলেন না। তিনিই ছিলেন গরীবের প্রকৃত দরদী বন্ধুও। ১৯৩৭-১৯৪৩ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী। ১৯৫৫-৫৬ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ১৯৫৬-৫৮ সাল পর্যন্ত পূর্বপাকিস্তানের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন একে ফজলুল হক। ১৯১৩ সালে মাত্র ৩৯ বছর বয়সে একে ফজলুল হক বঙ্গীয় আইন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯১৪ সালে নিখিল ভারত কংগ্রেস দলে যোগ দেন। ১৯১৮ সালে তিনি ভারতীয় কংগ্রেসের সেক্রেটারি জেনারেল নির্বাচিত হন। ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ লাহোরে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মুসলিম লীগের অধিবেশনে ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের উপস্থাপক ছিলেন একে ফজলুল হক। পরবর্তী সময়ে এই লাহোর প্রস্তাবই পাকিস্তান প্রস্তাব হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকায় ইন্তেকাল করেন গরীবের নেতা একে ফজলুল হক।  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দোয়েল চত্বরের পাশে তিন নেতার মাজার হিসেবে পরিচিত সমাধি সৌধে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও খাজা নাজিমুদ্দিনের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন শেরে বাংলা অর্থাৎ বাংলার বাঘ একে ফজলুল হক।
আপনার দানে বেঁচে যাবে একটি তাজা প্রাণ!
ডেস্ক রিপোর্ট

এ বছর তার এইচএসসি পরীক্ষায় বসার কথা ছিল। কিন্তু সহপাঠীরা যখন পরীক্ষার হলে নিবিষ্ট মনে প্রশ্নের উত্তর লেখায় ব্যস্ত, একদিনের পরীক্ষা শেষে বাড়িতে এসে পরবর্তী পরীক্ষার প্রস্তুতিতে নিমগ্ন- তখন বিছানায় শুয়ে মুত্যৃর প্রহর গুণছে ১৮ বছরের তরুণ আব্দুল ওহাব। কিছুদিন আগে হঠাৎ করে মারাত্মক অসুখের খবরটি জানতে পারে রাজশাহী সিটি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী এই ছাত্র। চিকিৎসক জানান, তার ওরাল ক্যান্সার হয়েছে। ওহাবের পিতা মোখলেসুর রহমান একজন সাধারণ ইলেকট্রিশিয়ান। পুত্রকে নিয়ে তিনি এখন মহাসঙ্কটে। রাজধানীর মিরপুরের ক্যান্সার ইন্সটিটিউটের ডা. আব্দুল হাইয়ের তত্ত্বাবধানে চিকি‍ৎসাধীন আব্দুল ওহাবকে সুস্থ করে তুলতে ১১ লাখ টাকা প্রয়োজন। কিন্তু তার অতিদরিদ্র পরিবারের পক্ষে এই বিশাল অঙ্ক যোগাড় করা অসম্ভব। তবে দেশে-বিদেশে অনেক সহৃদয় বিত্তবান আছেন যাদের কাছে এই পরিমাণ অর্থ তেমন বড় বিষয় নয়- যদি এতে করে বেঁচে যায় একটি সম্ভাবনাময় তাজা তরুণ প্রাণ। অনন্যো‍পায় হয়ে মোখলেসুর দেশ-বিদেশের সহৃদয় ব্যক্তিদের কাছে আকুল আবেদন করেছেন পুত্র ওহাবের চিকিৎসা সাহায্যে এগিয়ে আসার জন্য। সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা : এমডি মোখলেসুর, অ্যাকাউন্ট নং- ৭১৬, উত্তরা ব্যাংক, রায়পুর শাখা, থানা রায়পুর, জেলা লক্ষ্ণীপুর। মোবাইল: ০১৭১২-৫৩০০৩১।
চাল-সবজির দাম কিছুটা কমেছে, বেড়েছে সয়াবিনের দাম
মহিউদ্দিন মাহমুদ


গত কয়েক দিনে বাজারে চালসহ বেশির ভাগ সবজির দাম কমলেও ভোজ্যতেলের দাম কিছুটা বেড়েছে। ভোজ্যতেলের দাম হঠাৎ করে বৃদ্ধির কারণ জানেন না বিক্রেতারাই। ব্রয়লার মুরগির মাংস ছাড়া সব ধরনের ডাল, মাছ, মাংস আগের মতই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহ খানেকের মধ্যে বেশ কিছু সবজির দাম কেজিতে ৫-১০ টাকা করে কমেছে। নিউমার্কেট ও পলাশী বাজারে দেখা গেছে, প্রতি কেজি ঢেঁড়সের দাম ৪ টাকা কমে ৩৬ টাকায়, চিচিঙ্গা, ঝিঙ্গা ও ধুন্দলের দাম ৫০ টাকা থেকে কেজিতে ৮-১০ টাকা কমে ৪০-৪২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। করলার দাম ৫-১০ টাকা কমে ৪০-৪৫ টাকা, শশার দাম ৫ টাকা কমে ২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এসব সবজির দাম কমলেও বেশ কিছু সবজির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। পটলের দাম অপরিবর্তিত ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একই ভাবে টমেটো ৩০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৫৫-৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে বেগুনের দাম ২-৫ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দাম কমা সর্ম্পকে সবজি বিক্রেতা নিজামউদ্দিন বলেন, ‘বাজারে সবজির আমদানি বেড়েছে, তাই দাম কমছে। তাছাড়া বৃষ্টির কারণে পচে যাওয়ার ভয়ে কৃষকরা মাঠ থেকে বেশি করে সবজি তুলে ফেলছেন।’ আগামীতে এ দাম কমা অব্যাহত থাকবে কিনা এ সর্ম্পকে কিছুই বলতে পারেননি নিজামউদ্দিন। তার মতে, এখন যেসব কারণে দাম কমেছে, এর বাইরেও দাম বাড়া-কমা নির্ভর করে ফড়িয়াদের ওপর।
মাংসের বাজারে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ৫ টাকা কমে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ডিম আগের মতোই হালি ৩৫-৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে গুরুর মাংস ২৬০ টাকা, খাসির মাংস ৪৫০ টাকা ও খাসির মাংস ৩৮০-৪০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
মাছের দামে আগের মতোই আগুন লেগে আছে। চলছে চড়া দামে বেচাকেনা আর দাম নিয়ে নৈরাজ্য। কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ১ কেজি ওজনের ইলিশের দাম ১৩০০-১৪০০ টাকা ও ৬০০-৭০০ গ্রামের ইলিশ প্রতিটি ১০০০-১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি চিংড়ি মাছ ৯০০-১১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি থেকে বড় আকারের আইড় মাছের কেজি ৫০০-৬৫০ টাকা, ২ থেকে ৩ কেজি ওজনের দেশি রুই ৩০০-৩৫০ টাকা, ছোট আকারের রুই ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, হাইব্রিড রুই মাছের কেজি ১৮০-২২০ টাকা, ২ থেকে ৩ কেজি ওজনের কাতলের কেজি ৩৫০-৪০০ টাকা, কেউ কেউ তার চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করছেন। ৩-৪ কেজি ওজনের বোয়াল মাছের কেজি ৫০০-৫৫০ টাকা, তেলাপিয়া মাছের কেজি ১৬০-১৮০ টাকা, কই মাছের কেজি ২০০ টাকা থেকে ২২০ টাকা, টেংরা মাছের কেজি ৪০০-৪৫০ টাকা, শিং মাছ ৫০০-৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে বাজারে নতুন চাল আসতে শুরু করায় সব ধরনের চালের দাম কেজিতে ২-১ টাকা করে কমেছে। পুরাতন নাজির শাইল চালের দাম কমে এখন বিক্রি হচ্ছে ৪৬-৫৫ টাকা, মিনিকেট ৪০/৪১-৪৪ টাকায়, বিআর-২৮ চাল ৩৬-৩৭ টাকা, পাইজাম/পারি ৩০-৩২ টাকা, মোটা চাল ২৭/২৮ টাকা, পোলাও চাল ১০৫ টাকা থেকে কিছুটা কমে ১০৩-১০৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে পুরাতন চালের দাম খুব একটা না কমলেও পুরাতন চালের চেয়ে নতুন চাল বেশ কম দামে বিক্রি করা হচ্ছে। নতুন বিআর-২৮ চালের দাম ৩৩-৩৪ টাকা, নতুন পাইজাম/পারি চালের দাম ২৮-৩০ টাকা। চালের দাম সর্ম্পকে কারওয়ান বাজারের চাল বিক্রেতা লিয়াকত হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, ‘নতুন চালের ভাত এখন খেতে ততোটা সুস্বাদু হবে না। এ জন্য দামের এ পার্থক্য। নতুন চালের এ আচরণের জন্য পুরাতন চালের দামেও খুব একটা প্রভাব ফেলছে না। অন্যদিকে কোনো কারণ ছাড়াই প্যাকেট করা ভোজ্যতেলের দাম কেজিতে ২ টাকা করে বেড়ে গেছে।
দাম বাড়ার পর এখন ১ লিটার প্যাকেটজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৩৩ টাকায়, ৬৫০ টাকার ৫ লিটার সয়াবিনের ক্যান ১০ টাকা বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ৬৬০ টাকায়। তবে খোলা ভোজ্যতেল আগের মতোই ১৩৫ টাকা লিটার দরে বিক্রি হচ্ছে। এর দাম বাড়ার কারণ সম্র্পকে পলাশী বাজারের ইসমাইল স্টোরের দোকানদার মনির হোসেন বলেন, ‘কোম্পানিগুলো ইচ্ছেমতো দাম বাড়ায়। আগে থেকে জানায় না তারা। ফলে বেকায়দায় পড়তে হয় আমাদের। আর তারা কি কারণে যখন তখন দাম বাড়ায় এটা কেউ জানে না।’ নিত্যপণ্যের দরদাম নিয়ে মোটেও সন্তুষ্ট নন ক্রেতারা। জাকির হোসেন বলেন, ‘চাল বা সবজির দাম কিছুটা কমেছে। কিন্তু কমার পরেও এটি আমাদের ক্রয়সীমার বাইরে। আমাদের আয় যেহেতু বাড়ছে না, সেহেতু দাম নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা জরুরি।
পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের এডিপি বাস্তবায়ন অগ্রগতি হ্রাস
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

গত অর্থবছরের (২০১০-১১) প্রথম নয় মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছরের (২০১১-১২) একই সময়ে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের আওতাধীন বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন হ্রাস পেয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১০-১১ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে যেখানে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের আওতাধীন এডিপি’র বাস্তবায়ন অগ্রগতি ছিল ৫১ দশমিক ৫৪ শতাংশ, সেখানে চলতি অর্থবছরে একই সময়ে এ হার দাঁড়িয়েছে ৪৭ দশমিক ৫২ শতাংশ। সম্প্রতি পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের ‘বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি পর্যালোচনা’ সংক্রান্ত এক সভায় এ তথ্য তুলে ধরা হয়। সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক গত অর্থবছরের প্রথম নয় মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছরের একই সময়ে এডিপি বাস্তবায়নের অগ্রগতি হ্রাস পাওয়ার কথা উল্লেখ করে ‘চলমান প্রকল্পসমূহে কাজের গতি বাড়ানোর জন্য প্রকল্প পরিচালকদের নির্দেশ দেন’ বলে বৈঠক সূত্র জানায়। এছাড়া সমবায় ভিত্তিক দুগ্ধ উৎপাদন প্রকল্প, সমবায় অধিদপ্তরের আইসিটি সেল ও ই-সিটিজেন সার্ভিস উন্নয়ন প্রকল্প এবং গারো সম্প্রদায়ের জীবনমান উন্নয়নে গৃহীত প্রকল্পসমূহ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন প্রতিমন্ত্রী। সভায় ‘একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প’, দেশের দুগ্ধ চাহিদা মেটাতে ‘মিল্ক ভিটা কার্যক্রম’, ‘সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন কর্মসূচী’, মঙ্গাপীড়িত এলাকার জন্য ‘চরজীবিকায়ন প্রকল্প’, পল্লী উন্নয়ন ও দারিদ্র বিমোচনে বার্ড ও আরডিএ’র সার্বিক কার্যক্রমসহ অন্যান্য প্রকল্পের সফলতা ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি ‘একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প’, ‘সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন কর্মসূচী’ ও ‘অংশীদারিত্বমূলক পল্লী উন্নয়ন’ এ প্রকল্প তিনটির সমন্বয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের একটি ইউনিয়নে ‘মডেল প্রকল্প’ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া ‘একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পে’র সাথে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের আওতাধীন প্রকল্পসমূহের সমন্বয় সাধন এবং নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে মিল্ক ভিটার বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নেরও নির্দেশ দেওয়া হয় বৈঠকে। 

গণতন্ত্রের মৃত্যু ঘটিয়েছে সরকার : মওদুদ
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট


বর্তমান সরকারকে আজব সরকার বলে অভিহিত করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ এমপি বলেছেন, কেবলমাত্র ফঁ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচার শব্দ দিয়েই এ সরকারকে সংজ্ঞায়িত করা যায় না। তিনি বলেন, ‘সরকার দেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের মৃত্যু ঘটিয়েছে। যে গণতন্ত্রের কথা আমরা জানি, তা এখন দেশে নেই।’  শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টায় জাতীয় প্রেস ক্লাব অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ আয়োজিত ‘বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকার’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, বর্তমান সরকার যে দুর্নীতিবাজ, তা তারা সব ক্ষেত্রে, বিশেষ করে সুরঞ্জিত ও পদ্মা সেতুর ক্ষেত্রেই প্রমাণ করেছে। ইলিয়াস আলীর গুম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারের ভেতরে এমন এক শক্তি আছে, যার খবর সরকারের মন্ত্রীরাও জানেন না। একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই ইলিয়াসের খবর জানেন বলেও মন্তব্য করেন মওদুদ। দলের ৭ জন স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ৮ জন এমপিসহ ১৮ দলীয় জোটের নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, অলি আহমেদ, খোকন, দুলু, শফিউল আলম প্রধান, পার্থসহ সবাই ঘটনার দিন ঢাকার বাইরে ছিলেন। অথচ তারাও মামলা থেকে রেহাই পাননি। সরকারের নিজস্ব এজেন্টই সচিবালয়ের সামনে বোমা ফাটিয়েছে বলে অভিযোগ করে মওদুদ বলেন, এ সবই তাদের পূর্বপরিকল্পিত। বিএনপির নেতারা মামলার ভয়ে আত্মগোপন করে আছেন এ অভিযোগ খণ্ডন করে তিনি বলেন, ‘আমাদের নেতাকর্মীরা মামলায় ভয় পান না। তবে আমরা চাই না, সরকারের পুলিশ বাহিনী রিজভীর মতোই ফখরুলকেও রিমান্ডে নিয়ে যাক। রিমান্ড মানেই তাদের অত্যাচারের সুযোগ।’ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফের প্রতি ইঙ্গিত করে মওদুদ বলেন, মামলা দিয়ে বিএনপিকে ঠাণ্ডা করা যাবে না। অতি শিগগিরই এটা বুঝতে পারবেন। প্রধান বিচারপতির উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টকে অবাধ করে দিন। জামিনযোগ্য ব্যক্তিদের জামিন পাওয়ার সুযোগ করে দিন। বিচার বিভাগের ওপর সরকারের অনৈতিক হস্তক্ষেপ দূর করুন।’ সংগঠনের আহ্বায়ক মাহমুদুর মাহমুদুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর এমাজউদ্দিন আহম্মেদ, বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু। সংগঠনের মহাসচিব ডা. জাহিদের পরিচালনায় সভায় মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন। বক্তব্য রাখেন চলচ্চিত্রকার চাষী নজরুল ইসলাম।
বিএনপি মহাসচিব মওদুদ! 
আবিদ রহমান
 শেষাবধি মনোবাঞ্ছা পূরণ হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের সেরা ‘সর্বদলভূক’ রাজনীতিক মওদুদ আহমদের। সমস্ত ইঙ্গিত ও আলামত সাক্ষ্য দিচ্ছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি’র মহাসচিব পদ হাসিল করতে যাচ্ছেন তিনি। কিন্তু কিভাবে?
চির রোগীরা নিত্য আত্মীয়-স্বজনদের খোঁজ-খবর না-রাখলেও ডাক্তারের হাল হকিকত সম্বন্ধে পুরোপুরি ওয়াকিবহাল। ডিসেপেনসারিগুলোর সাথেও চিররোগীদের সখ্য থাকে নিবিড়। চিররোগীরা নিজেরাই ছোট খাটো একেকজন ডাক্তার! অনায়াসে বলে দিতে পারেন কোন ঔষধের কী মাহাত্ম্য! চোর-ছিনতাইকারীদের কাছে আশেপাশের থানাগুলোর পুলিশদের পূর্ণ বায়োডাটা থাকে। সংগে থাকে ‘জামিন অনায়াস করতে সক্ষম’ উকিল-পেশকার-মুহুরীদের তালিকা। বাংলাদেশের প্রশ্নবিদ্ধ রাজনীতিতে দুর্নীতি এক ওপেন সিক্রেট। ভাসুরের নাম উচ্চারণের ‘বেয়াদবির’ মতো কেউ বিস্তারিত বলেন না। দুর্নীতিগ্রস্তদের মানসিক শক্তি কিছুটা কম হয়। সেই সংগে যুক্ত হয় রাজনৈতিক ‘হয়রানিমূলক’ মামলার আশংকা। অন্য সব ব্যবসার মতোই রাজনীতি-ব্যবসায়ও আয়-ব্যয়ের হিসাব কষতে হয়। রাজনীতি ‘ব্যবসার’ জন্যে বড় ধরনের ইনভেস্টমেন্ট না লাগলেও লিগ্যাল ফির অংকটা মোটামুটি ভালো মানের। সেকারণেই ‘রাজনৈতিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো’ সব সময় ইন-হাউজ লিগ্যাল টিমের ওপর জোর দেন। সব রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরেই আইন পেশাদারদের আধিক্য ও দাপট অনেক বেশি। দলের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার বলয়ে আইনজ্ঞদের দাপট বেশি। গিভ অ্যান্ড টেকের হিসাবে আইন পেশার সাথে জড়িতরা নামি দামি পদ ও আনুকূল্য(ফেভার) পান। বিনিময়ে নিখরচায় নেতাদের মামলাগুলো লড়ে দিতে হয় যখন-তখন। অবশ্য বিনামূল্যে মিডিয়ার পাবলিসিটিটা বাড়তি পাওনা।
কিছুটা ক্লিন ইমেজের মির্জা ফখরুল ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ‘মনোনীত’ হলেও তা দলের তৃণমূলের সাথে সম্পর্কহীন হেভি ওয়েটদের ইজ্জতে লাগে। রাজপথে হাঁটতে কষ্ট পান এমন এয়ারকন্ডিশন্ড-নেতাদের কাছে সঙ্গত কারণেই ‘নন-এসি’ ফখরুলের নেতৃত্ব মনোপীড়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায় । কেএম ওবায়েদের পর মির্জা ফখরুলই একমাত্র প্রমাণিত কার্যকর(ইফেকটিভ) মহাসচিব, যদিও এখনো তার নামের আগের ভারপ্রাপ্তটি বহাল আছে। লংমার্চ থেকে শুরু করে সরকার বিরোধী সকল আন্দোলনে মির্জা ফখরুল রাজপথে-আন্দোলনে সক্রিয়। গুজব-গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল, উনাকে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব করা হবে। ষড়যন্ত্র তখনই দানা বাঁধে।
সেমিনার, আলোচনা নামসর্বস্ব নেতারা উঠেপড়ে লাগেন ফখরুল-রিজভীর মতো রাজপথে-আন্দোলনে সক্রিয়দের ঠেকাতে। ইলিয়াস আলী ইস্যুতে ক্রমাগত রাজপথ উত্তপ্ত রাখা মির্জা ফখরুল সহ সক্রিয় নেতাদের সাইজ করা হলো। বিএনপি বিরোধী দল হিসেবে তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী হলে ‘সেমিনার’ সর্বস্ব মওদুদ গংদের ’গুরুত্ব’ কমে যাবে নেত্রী খালেদা জিয়ার কাছে। অগত্যা নিজেদের ‘আধিপত্য’ বজায় রাখার একমাত্র সহজ পথ হচ্ছে দল ও দলের নেতাদের বিভিন্ন মামলা মোকদ্দমায় ব্যতিব্যস্ত রাখা।
এবারের সরকারের দেয়া মামলার বৈশিষ্ট্যে লক্ষ্য করা যায় যে, তৃণমূলের সাথে সম্পর্কিত নেতাদের বিরুদ্ধেই মামলা দায়ের হয়েছে। আর এ সুবাদে আগাম জামিনের নামে উকিল-রাজনীতিকদের গুরুত্ব বেড়েছে বহু গুণ। মামলা সংক্রান্ত বিষয়া নিয়ে আলাপ-আলোচনার জন্যে যখন-তখন  ম্যাডামের ‘দুর্ভেদ্য’দরোজা খোলা পাবার দূর্লভ সুযোগে ধন্য হতে পারছেন। সব মিলিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় উনার বিভিন্ন ‘আলোকচিত্র’ আর বাতচিতের ফলাও প্রচার।
বিরোধী বিএনপি নেতাদের মধ্যে ক্ষমতাসীন সরকারের সাথে ‘নিবিড় ও আন্তরিক’ সম্পর্ক একমাত্র মওদুদ ভাইয়ের। পুরনো অভ্যাস অনুযায়ী তিনি সব সময় সব সরকারের মন্ত্রী হবার শপথের জন্যে সদা প্রস্তুত থাকেন। আত্মীয়তার সূত্রে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারকদের ওপর মওদুদের ‘ইনফ্লুয়েন্স ও সখ্য’ বেশ গভীর। বর্তমান সরকারের আমলে ‘রাজনৈতিক মামলা’ প্রত্যাহার হয়েছে শুধু মওদুদের। এই বিরল সৌভাগ্যপ্রাপ্ত সবেধন নীলমণি বিএনপি নেতা তিনি। বিএনপি’র বিভিন্ন নেতারা মামলা ও হয়রানির সম্মূখীন হলেও মওদুদ এসব ‘দুর্ভাগ্যের’ উর্ধ্বে।
রাজনৈতিক দল চালাতে গেলে লাগে রাজনৈতিক কর্মসূচি। রাজপথের মির্জা ফখরুলেরা দৌড়ের উপর থাকলেও দলের স্বার্থে কর্মসূচি চাই, চাই যোগ্য নেতা। চাই যোগ্য মূখপাত্র। মওদুদ এমন এক নেতা যিনি যুগপৎ আদালতে মামলার কার্যক্রম চালানোর পাশাপাশি বিভিন্ন সেমিনার সিম্পোজিয়ামের অলংকার হতে পারবেন। অ্যান্ড হি ইজ ভেরি মাচ প্রেজেন্টেবল। কথার জোরে আদালত কাঁপিয়ে ফেলেন আর সামান্য পাবলিক সামলাতে পারবেন না?
‘গায়ের রং’ বদলে অভিজ্ঞ মওদুদ এরই মধ্যে বিরোধী নেত্রী খালেদা জিয়ার আস্হাভাজনে সাকাচৌর মতো ‘ধূরন্ধর’কে পেছনে ফেলে এসেছেন। নিশ্চিত ও নিরাপদ আসনে খালেদা জিয়া মওদুদকে জিতিয়ে সংসদে এনেছেন। দলের বর্তমান ‘ক্রাইসিসে’ মওদুদই একমাত্র বিকল্প বেগম জিয়ার কাছে। সরকারের নীতি নির্ধারক মহলের সাথে ভারসাম্য মিলিয়ে আন্দোলনের নামে সেমিনার-সিম্পোজিয়ামের ‘সম্মানজনক’ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে মওদুদই সেরা বাছাই। মওদুদের সংগে রয়েছে বিশাল এক ‘বাতিল ও বৃদ্ধ’ নেতা গ্রুপের আশীর্বাদ, সহানুভূতি ও সমর্থন। বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে ‘জীবিত’ রাখতে মহাসচিব পর্যায়ের একজন নেতার বড়ো প্রয়োজনীয়তা থেকেই মওদুদের ভাগ্যে জুটতে যাচ্ছে মহাসচিবের বরমাল্য। বড় উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ মওদুদের। ঈর্ষনীয় উনার ম্যানিপুলেটিং যোগ্যতা। প্রশ্ন হচ্ছে অভিষেকটা কখন হচ্ছে?
প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে সন্তুষ্ট ইলিয়াসের স্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাত ও অলোচনায় সন্তুষ্ট নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, দোয়া করবেন, আশা করছি, ইলিয়াস উদ্ধার হবে। গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গণভবনে সাক্ষাৎ করেন তাহসিনা রুশদীর। এর প্রায় ৪০ মিনিট পর  সোয়া সাতটার দিকে তিনি গণভবন থেকে বের হন। প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে তাহসিনা রুশদীর সঙ্গে ইলিয়াসের  ছেলে-মেয়েরাও ছিল। ছিলেন ইলিয়াসের ভাই আসকির আলীও। প্রধানমন্ত্রী কী বললেন জানতে চাইলে গণভবন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় লুনা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন। বলেছেন উদ্ধারের ব্যাপারে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।’ উল্লেখ্য, গতকাল বিকেল পাঁচটার মধ্যেই গণভবনে পৌঁছান তাহসিনা রুশদীর। স্বামী নিখোঁজ হওয়ার পর ১৫ দিনেও তার সন্ধান না পেয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের আবেদন করেন তিনি। গণভবনে প্রবেশ করে তিনি প্রথমে বসেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব সাইফুজ্জামান শিখরের কক্ষে। সোয়া ৬টার দিকে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় বসেন লুনা। গত ৩০ এপ্রিল বনানীর বাসায় সংবাদ সম্মেলন করে লুনা বলেছিলেন, সন্তানদের নিয়ে তিনি অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী সুযোগ দিলে তার সঙ্গে দেখা করে এ বিষয়ে কথা বলতে চান তিনি। প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনা ওই দিনই ওই অনুরোধে সাড়া দিয়ে লুনার সঙ্গে দেখা করার সময়  দেন। তাকে আসতে বলা হয় বুধবার সন্ধ্যা ৬টায়। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (মিডিয়া) মাহবুবুল হক শাকিল সাংবাদিকদের বলেন, ইলিয়াস আলীকে খুঁজে বের করতে তার পরিবার প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সব ধরনের ব্যবস্থা  নেয়া হয়েছে। ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, রাজনীতির চেয়ে মানবতা অনেক ঊর্ধ্বে, এই মানবতাকে প্রাধান্য দিয়েই সরকারের দায়িত্ব কোনো নাগরিক নিখোঁজ হলে তাকে খুঁজে বের করা।’ ইলিয়াস আলীর সন্ধান বের করতে তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে তার পরিবারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী শাকিল আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাদের সঙ্গে একান্তে কিছু সময় কাটান। ইলিয়াসের স্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে বলেছেন, ‘পরিবারের  কোনো সদস্য হারিয়ে যাওয়ার ব্যথা প্রধানমন্ত্রী বোঝেন বলেই তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে ছুটে এসেছেন’। বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলী ও তার গাড়িচালক মো. আনসার গত ১৭ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ। তাদের উদ্ধারে র‌্যাব ও পুলিশ গাজীপুর, চাঁদপুরসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালালেও খোঁজ পায়নি। বিএনপির অভিযোগ, সরকারই ইলিয়াসকে ‘গুম’ করেছে। তবে বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে সরকার।
ব্যাংকগুলোকে মানবিক ও দরিদ্রবান্ধব করতে কাজ করছি: ড. আতিউর
সাইদ আরমান


বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার ফলে উন্নত বিশ্বসহ বিকাশমান অর্থনীতির দেশগুলোর আর্থিক খাতে চলছে অস্থিতিশীলতা। ফলে বাংলাদেশের আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা ধরে রাখাটা বড় চ্যালেঞ্জ। অপরদিকে একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে চলছে বর্তমান সরকারের দীর্ঘমেয়াদী রূপকল্পের পর্যায়ক্রমিক বাস্তবায়ন। এজন্য আর্থিক খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশ ব্যাংক নীতিগত, আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক বহুমাত্রিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে।
আর এ পুরো সময়টাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বে রয়েছেন গভর্নর ড. আতিউর রহমান। তিনি ২০০৯ সালের মে মাসে গভর্নর হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের এই গুরুদায়িত্বটি গ্রহণ করেন। বুধবার ২ মে মেয়াদের শেষ বছর শুরু করছেন তিনি। এরই মধ্যে তার অনেক উদ্যোগ প্রশংসিত হয়েছে। পরিচিতি পেয়েছেন গরিববান্ধব গভর্নর হিসেবে। ব্যাংকিং খাতকে মানবিক করতে তার প্রশংসা দেশ ছাড়িয়ে আজ বিদেশে ছড়িয়ে পড়েছে।
সম্প্রতি এর স্বীকৃতি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন ইন্দিরা গান্ধী পুরস্কারের জন্য। আগামী ৭ মে আনুষ্ঠানিকভাবে তা গ্রহণ করতে  ভারতে যাচ্ছেন তিনি। ঠিক এমনই এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের নানাবিধ অর্জন নিয়ে বাংলানিউজের সঙ্গে একান্তে কথা বলেছেন তিনি। তার দেওয়া সাক্ষাৎকারের দ্বিতীয় পর্ব। গত সোমবার রাতে প্রকাশিত হয় সাক্ষাৎকারের প্রথম পর্ব  
সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম-এর সিনিয়র ইকোনমিক করেসপন্ডেন্ট সাইদ আরমান]
দ্বিতীয় পর্ব
প্রিয় পাঠক, প্রথম পর্বের শেষভাগে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ব্যাংকগুলোতে নজরদারির কথা বলেছিলেন। সেই প্রসঙ্গ টেনেই তার কাছে জানতে চাওয়া হয়-
বাংলানিউজ : ব্যাংক নজরদারিতে নতুন কৌশলের এর কথা বললেন। একটু ব্যাখ্যা করবেন। কোন দিককে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে কৌশল নির্ধারণে।
গভর্নর: দেখুন, আমি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকে ব্যাংকিং খাতকে আরো মানবিক ও দরিদ্র বান্ধব করতে কাজ করছি। এরইমধ্যে, আমি মনে করি, অনেকটা সফল হয়েছি। তবে আরও অনেক কাজ বাকি আছে। এরই ধারাবাহিকতাতে আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকিং খাতের নজরদারিতে কৌশলগত পরিবর্তন আনতে শুরু করেছে। ব্যাংক সুপারভিশনের কার্যকারিতা বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকগুলোর ঝুঁকি ন্যুনতম করা বা ঝুঁকি প্রশমনের জন্যে একটি সুসংগঠিত ভিত্তি গড়ে তোলা, ঝুঁকিভিত্তিক সুপারভিশনকে কার্যকর করা,  কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রণীত রেগুলেশনগুলোকে আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম চর্চার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা, সক্ষমতা বাড়ানো ছাড়াও ব্যাংকগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন শক্তিশালী করতে পর্যাপ্ত নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
অনসাইট সুপারভিশনের ব্যবস্থায় ব্যাংকিং কর্মকান্ডের সাথে জড়িত ঝুঁকিগুলোর দিকে আরো গভীর মনোনিবেশ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অফসাইট ও অনসাইট উভয় সুপারভিশনের ক্ষেত্রে কঠোর নজরদারি বজায় রাখা হচ্ছে। একে আরো উন্নত করার জন্যে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে।
আসছে দিনগুলোতে পরিদর্শন প্রতিবেদন দ্রুত তৈরি করা হবে। ব্যাংকগুলোর তারল্যের গতিধারার পরিমাপ ও ব্যবস্থাপনায় নজরদারি আরো জোরদার করা প্রয়োজন রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সে উদ্যোগ নিয়েছে। এরই মধ্যে আমরা ঋণ মঞ্জুরি, ঋণের সদ্ব্যবহার ও আদায়ের সমুদয় প্রক্রিয়ার ওপর পরিদর্শনে সতর্ক নজরদারি বাড়িয়েছি।
বাংলানিউজ : আপনি বলেছেন, অর্থনীতি স্থিতিশীল ও গতিময় রয়েছে। এটা অব্যাহত থাকবে কিভাবে? আর জাতীয় প্রবৃদ্ধি (জিডিপি) ক্ষেত্রে অর্জন সম্পর্কে বলুন।
গভর্নর: আমি মনে করি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সুস্থ ধারাতেই রয়েছে। কৃষি, উৎপাদনশীল ও সেবা খাতের জোরালো প্রবৃদ্ধির কারণে জিডিপির প্রকৃত প্রবৃদ্ধি ২০০৮-০৯ অর্থ বছরে ছিলো ৫ দশমিক ৭ শতাংশ। ২০০৯-১০ বছরে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। আর ২০১০-১১ অর্থবছরে ৬ দশমিক সাত অর্জিত হয়েছে। মাথাপিছু জাতীয় আয়ের প্রবৃদ্ধি প্রায় ২৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। চলতি বছরেও প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৬ শতাংশ হবে বলেই মনে হচ্ছে। এবং আসছে অর্থ বছরে তা সাত শতাংশের কাছাকাছি হবে বলে আমি মনে করছি। গত তিন বছরের গড় প্রবৃদ্ধি সাড়ে ছয় শতাংশের বেশি হবে, যা পূর্ববর্তী যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি। জিডিপি প্রবৃদ্ধির দিক থেকে এ অঞ্চলে একমাত্র ভারতের পর বাংলাদেশের অবস্থান। আমরা এই ক্ষেত্রে পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও মালদ্বীপের চেয়ে ওপরে। তাছাড়া, এ প্রবৃদ্ধির অনেকটাই অংশগ্রহণমূলক ও কাক্সিক্ষত গুণমানের, সে কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়। আমার দেশের কৃষক, শ্রমিক, ক্ষুদে নারী উদ্যোক্তাসহ সকল সৃজনশীল মানুষই এ প্রবৃদ্ধি অর্জনে অবদান রেখে চলেছেন।
বাংলানিউজ : মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে আসা যাক। মূল্যস্ফীতি নিয়ে সাধারণ মানুষের অসন্তুষ্টি রয়েছে। এর ব্যাখ্যা কি দেবেন?
গভর্নর: হ্যাঁ আপনি ঠিকই বলেছেন। বিশ্ববাজারে খাদ্য ও জ্বালানির দামের ব্যাপক বৃদ্ধির কারণে মূল্যস্ফীতি কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। এটা আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ। ২০১১ শেষে বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১ শতাংশ। অন্যদিকে, সর্বশেষ মার্চে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ১০ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে রাখার জন্যে বাস্তবানুগ, সংযত ও সংহত মুদ্রানীতি গ্রহণ করা হয়েছে। আশেপাশের দেশের মতোই বাংলাদেশের বর্তমান মূল্যস্ফীতিও অস্বস্তিকর মাত্রায় দাঁড়িয়েছে। এতে দেশের জনগণেরও কষ্ট বেড়েছে। তবে মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে রাখতে ও গরীবকে রক্ষা করতে গৃহীত পদক্ষেপ এর কারণে খাদ্য মূল্যস্ফীতি স্থিতিশীল ও সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে বলে আশা করি। তবে এ সময়ে মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়েছে প্রায় এক-চতুর্থাংশ। তার মানে হালে মানুষের ক্রয় ক্ষমতাও বেড়েছে যথেষ্ট।
বাংলানিউজ : বর্তমান সরকারের শুরুর দিকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ে। কিন্তু ২০১১ সালে তা কমে যায়। এ সম্পর্কে কিছু বলুন।
গভর্ণর: দেখুন, রিজার্ভ নিয়ে আমি মোটেও দুশ্চিন্তা করছি না। ২০১০-১১ অর্থ বছর শেষে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় হাজার কোটি মার্কিন ডলার। তবে ২০১১ সালের শেষ দিকে এসে তা কিছুটা কমে যায়। এর যৌক্তিক কারণও রয়েছে। তবে বৈদেশিক মুদ্রার যে রিজার্ভ বর্তমানে রয়েছে তা পর্যাপ্ত। এখনও উদ্বেগজনক কোন পরিস্থিতির তৈরি হয়নি। প্রতিনিয়ত তা বাড়ছে। বর্তমানে তা এক হাজার কোটি ডলারের ওপরে। এর মোট অঙ্কের বিচারে আগের তিন বছরের চেয়ে পরের তিন বছরে তা চারগুণেরও বেশি বেড়েছে। গত ২৫ এপ্রিল আইএমএফ প্রতিশ্রুত এক বিলিয়ন ডলার ঋণের প্রথম কিস্তি যোগ হয়েছে। তাছাড়া, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সভাপতিত্বে গঠিত বিদেশি ঋণ বাছাই কমিটি এই অর্থবছরে এক বিলিয়ন ডলারের মতো বিদেশী ঋণের অনুমোদন দিয়েছে। নতুন অনুমোদিত ৩টি এনআরবি ব্যাংকের মূলধন প্রতিটি ৪০০ কোটি টাকা হিসেবে এক হাজার ২০০ কোটি টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আসলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরো বাড়বে বলে আশা করা যায়।
বাংলানিউজ : আপনার মেয়াদের গত তিন বছরে রেমিট্যান্স প্রাপ্তির কি চিত্র। নতুন শ্রম বাজার ছাড়া এই প্রবাহ ধরে রাখা কতটা সম্ভব হবে।
গভর্নর : আপনারা জানেন, গত তিন বছরে প্রাপ্ত রেমিট্যান্সের পরিমাণ প্রায় ৩১ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ বছরের জানুয়ারি মাসে এ যাবতকালের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২২ কোটি ডলার এসেছে। এর আগে কোন এক মাসে এতো পরিমাণে রেমিট্যান্স আসেনি। এছাড়া, সাম্প্রতিক সময়ে বেনিফিশিয়ারিদের কাছে রেমিট্যান্স পাঠানো সকল ক্ষেত্রেই যেন ঝামেলা ও হয়রানিমুক্তভাবে স¤পন্ন হয় তা নিশ্চিচত করাসহ ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স আহরণের নেটওয়ার্ক বৃদ্ধির জন্যে কয়েক ডজন এক্সচেঞ্জ হাউজ খোলা ছাড়াও এমএফআই, পোস্ট অফিস ও মোবাইল অপারেটরগুলোকে রেমিট্যান্স বিতরণের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরে রেমিটেন্স ১৩ বিলিয়ন ছাড়িয়ে যাবে বলে আমি মনে করি। রেমিট্যান্স প্রবাহ আরো বাড়ানোর জন্যে নতুন নতুন বৈদেশিক শ্রমবাজার অন্বেষণ এবং বিদ্যমান শ্রমবাজারে প্রতিনিধিতে¦র বিস্তার ঘটিয়ে সেখানে জনশক্তি পাঠানোর ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।
বাংলানিউজ : আমদানী ও রপ্তানী বাণিজ্য পরিস্থিতিতে আপনি সন্তুষ্ট?
গভর্নর : বর্তমান সরকারের তিন বছরে ব্যাপক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ঘটেছে। এ সময়ে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ঘটেছে ৪৭ শতাংশ। ২০০৯-১০ অর্থবছরে রপ্তানি আয় হয়েছে ১৬ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলার, ২০১০-১১ অর্থবছরে ২২ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলার এবং চলতি অর্থবছরের মার্চ ২০১২ পর্যন্ত রপ্তানি আয় হয়েছে ১৭ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলার। চলতি অর্থবছরের সম্ভাব্য ২৪ বিলিয়ন ডলার হিসাবে নিলে তিন বছরের গড় রপ্তানি আয় ২১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি হবে। এটা ভালো দিক। অপরদিকে, ২০০৯-১০ অর্থবছরে আমদানি ব্যয় হয়েছে ২৩ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার, ২০১০-১১ অর্থবছরে ৩৩ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন ডলার এবং চলতি অর্থবছরের মার্চ ২০১২ পর্যন্ত আমদানি ব্যয় হয়েছে ২১ দশমিক ৭১ বিলিয়ন ডলার। মূলত বিশ্ববাজারে খাদ্য ও জ্বালানির দামের ব্যাপক বৃদ্ধি, রপ্তানি-সহযোগী আমদানি পণ্য বিশেষত তুলার দাম বাড়ায় এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্যে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির জন্যে সামগ্রিকভাবে আমদানি ব্যয় কিছুটা বেড়েছে অস্বীকার করব না। তবে এব্যাপারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সজাগ রয়েছে।
বাংলানিউজ : বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের বিষয়টি রিজার্ভ বাড়ার সাথে জড়িত। এর লেনদেন সহজ করতে বা বিড়ম্বনা কমাতে কি উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক?
গভর্নর: বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের ক্ষেত্রে অধিকতর উদারীকরণের পদক্ষেপ হিসেবে চলতি হিসাবের আওতাভুক্ত বিদেশে ভ্রমণ, প্রশিক্ষণ, শিক্ষা, চিকিৎসা ব্যয়, আমদানিসহ ব্যবসায়িক প্রয়োজন ইত্যাদির জন্যে আগে থেকেই বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নেওয়ার বাধ্যবাধকতা তুলে নিয়েছি আমরা। অনলাইনের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তি সেবা রপ্তানির (আউটসোর্সিং) বিপরীতে পাওয়া আয়  বিদেশ থেকে গ্রহণের বিষয়ে সু¯পস্ট নীতিমালা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে সেবা রপ্তানির বিপরীতে বিদেশ থেকে পাঠানো অর্থ সহজেই আনা যাচ্ছে। বর্তমানে সফটওয়্যার/আইটি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন ছাড়াই আইটি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যয় যেমন রেজিস্ট্রেশন ফি, সার্ভার মেইনটেন্যান্স ফি ইত্যাদি বৈদেশিক মুদ্রায় পরিশোধ করতে পারছে। ফলে তথ্য প্রযুক্তিখাতে রপ্তানি আরও বাড়বে আশা করছি। এছাড়া, রপ্তানি উপকরণ আমদানির জন্যে অগ্রিম প্রেরণের সুযোগ  প্রদান, সফটওয়্যার/আইটি পণ্য/সেবার রপ্তানিকারকদের জন্যে ই-কমার্স ভিত্তিক রপ্তানি ও লেনদেন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। ইন্টারনেট এর মাধ্যমে ভর্তি সংক্রান্ত ফি দেওয়া যাচ্ছে। অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে লেনদেন পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসবই বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন সহজ করতেই করা হয়েছে।
বাংলানিউজ: বাংলানিউজকে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
চিরবঞ্চিত চা শ্রমিকদের জীবনগাথা
ফেরদৌস আহমেদ
তাদের শরীরের ঘাম ও হাড়ভাঙা খাটুনির ওপর ভর প্রায় দু’শ বছর ধরে টিকে রয়েছে এদেশের চা-বাগান তথা চা-শিল্প। কিন্তু সেই চা শ্রমিকরা আজও মৌলিক অধিকারবঞ্চিত। দাবি-দাওয়া নিয়ে কথা বললেই ব্রিটিশ আইনে ধরিয়ে দেওয়া হয় অভিযোগপত্র। অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে বংশানুক্রমে তারা চা বাগানে বাস করে। তাদের জন্ম ও মৃত্যু হয় চা বাগানেরই মাটির জীর্ণ কুটিরে। চা শ্রমিকরা বাগানের ভাষায় কুলি হিসেবে পরিচিত। এ জনগোষ্ঠীর আদি নিবাস ভারতের মাদ্রাজ, উত্তর প্রদেশ ও মধ্য প্রদেশে। ব্রিটিশদের মাধ্যমে এ দেশে তাদের আগমন ঘটে দেড় শতাধিক বছর আগে। চা শ্রমিকদের নেই নিজস্ব বসতভিটা বা এক খণ্ড জমি। বছর ঘুরে মে দিবস আসে, আবার চলে যায়; কিন্ত চা শ্রমিকরা তাদের মৌলিক অধিকারটুকু এখনও অর্জন করতে পারেনি। চা শ্রমিকদের মান উন্নয়নের জন্য তৈরি শ্রম আইন কাগজপত্রেই সীমাবদ্ধ। শ্রম আইনের ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশের সব শ্রেণির শ্রমিক নৈমিত্তিক ছুটি ভোগ করলেও শ্রম আইনে চা শ্রমিকদের এ সুবিধা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসনের ত্যথানুযায়ী জেলার মোট জনসংখ্যার ১ শতাংশ চা জনগোষ্ঠী। তারা সংখ্যায় ৬ থেকে ৭ লাখ। সঙ্গে রয়েছে আরও ১৭ টি নৃ-জনগোষ্ঠী, যাদের অধিকাংশই শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত। বিশাল এ জনগোষ্ঠী শিক্ষাক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকার কারণে এ জেলাও শিক্ষাক্ষেত্রে অনেকটা পিছিয়ে। চা শিল্পের শুরু থেকে এখনও পর্যন্ত শ্রমিকরা অন্ন, বস্ত্র, চিকিৎসা, বাসস্থান, শিক্ষা, বিনোদন ও মজুরির ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার। এরা অস্থায়ী নিয়োগপত্রে কাজ করে থাকে। নেই সার্ভিস রুল, ওভার টাইম মজুরি। বাগান ব্যবস্থাপনায় ব্রিটিশ প্রবর্তিত আইন কানুনের কোনো পরিবর্তন হয়নি এখনও। কাজের ক্ষেত্রে এদের দফাওয়ারি হিসাব হচ্ছে পুরুষ ‘মর্দনা’ এবং মহিলা ‘রেন্ডি’। ইংরেজদের প্রচলিত এই শব্দগুলো আজও চালু রয়েছে। শ্রমিকরা মৌলিক সুবিধাবঞ্চিত হলেও বাগানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, ব্যবস্থাপক, সহকারী ব্যবস্থাপক এমনকি টিলা বাবুরা পর্যন্ত ভোগ করেন স্বর্গীয় সুখ। পানির গ্লাস এগিয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে সাহেবদের জুতোর ফিতা পর্যন্ত খুলে দিতে হয় এদের।দিনভর চা শ্রমিকদের হাড়ভাঙা খাটুনির পর তাদের দৈনিক মজুরি ৩০ টাকা ২৬ পয়সা। এসব নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে ইংরেজদের রীতিতেই তাদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয় অভিযোগপত্র। অথচ চায়ের দাম দিন দিন বেড়ে গেলেও বাড়েনি তাদের মজুরি ও সুযোগ-সুবিধা।
চা শ্রমিকদের নিজস্ব সম্পদ বলতে ছেঁড়া চট, টিনের মগ ও থালা বাটি। বাগানের ভেতর রাস্তার দু’পাশে ছনের চালা আর মাটি দিয়ে তৈরি ৮ হাত প্রস্থ ও ১২ হাত দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট এক একটি ঘর তাদের তিন পুরুষের ঠিকানা। একসাঙ্গে মা, বাবা, ভাই, বোন, স্ত্রী নিয়ে তাদের জীবন। প্রতিনিয়ত জনসংখ্যা বাড়লেও বাড়েনি তাদের ঘরের দৈর্ঘ্য।
আলো বাতাসহীন ঝুপড়ি ঘর, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে শ্রমিকদের রোগব্যাধি লেগেই থাকে। তাদের সন্তানরা ভুগছে পোলিও, ম্যালেরিয়া, হাম, রাতকানা রোগসহ বিভিন্ন জটিল রোগে। এরা চা গাছের নিচে, ডোবা আর ঝোঁপ-ঝাড়ে মলমূত্র ত্যাগ করে থাকে। স্যানিটেশনের ন্যূনতম সুবিধাও পায় না তারা। অধিকাংশ চা বাগানে শিক্ষার আলো বা সর্বজনীন বাধ্যতামূলক শিক্ষার স্লোগান পৌঁছেনি। সারা জেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গমনেচ্ছু অর্ধ-লক্ষাধিক চা শ্রমিক শিশু ও কিশোর রয়েছে। যে সব বাগানে নামেমাত্র প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে অনেক বিদ্যালয়ই সরকারি হয়নি বা রেজিস্ট্রেশন পায়নি। বাগানের বিদ্যালয়গুলোর নিয়ন্ত্রণ সংশ্লিষ্ট কোম্পানি বা বাগান কর্তৃপক্ষের হাতে থাকায় অধিকাংশ বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা হাজিরা খাতায় উপস্থিতির স্বাক্ষর নিশ্চিত করে বাকি সময় বাগানের অফিসে অথবা বাগানে কাজ করেন। যখন ইচ্ছে তখন বিদ্যালয়ের ক্লাস শুরু ও ছুটি হয়। নেই পর্যাপ্ত বেঞ্চ ও ডেস্ক। বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সূত্রমতে, দেশের ১৫৮টি চা বাগানে জনসংখ্যা সাড়ে ৫ লাখ। এর মধ্যে ২ লাখ ৭৫ হাজার অপ্রাপ্ত বয়স্ক ও বৃদ্ধ। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, আগে একজন চা শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ছিল যথাক্রমে ২৬, ২৮ ও ৩০ টাকা। বর্তমানে তা বাড়িয়ে প্রথম শ্রেণীর বাগানে ৪৮ টাকা, দ্বিতীয় শ্রেণীর বাগানে ৪৬ টাকা এবং তৃতীয় শ্রেণীর বাগানে ৪৫ টাকা করা হয়েছে। এছাড়াও প্রতি সপ্তাহে জনপ্রতি ৩ কেজি ২৭০ গ্রাম আটা দেওয়া হয়। আগে বাৎসরিক বোনাস ছিল ৫০০ টাকা। এখন তা বেড়ে ১ হাজার ২৪৮ টাকা হয়েছে। শ্রমিক পরিবারে গড় জনসংখ্যা ৭ জন। হিসেব করলে দৈনিক প্রত্যেকের ভাগ্যে জোটে সোয়া সাত টাকা করে। ফলে বেকার চা শ্রমিকদের অধিকাংশরা বেছে নিচ্ছে ইটভাঙা, রিকশা চালানো, কাঠমিস্ত্রির কাজ, চা কারখানা থেকে তৈরি চা পাতা পাচার, কচি চা পাতা তুলে অবৈধভাবে প্রক্রিয়াজাত করা, বাগানের ছায়াবৃক্ষ চুরি, সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গাছ কেটে পাচার ইত্যাদি। চা বাগানগুলোতে কীটনাশক ব্যবহারের নিয়ম থাকলেও মালিকপক্ষ সে নিয়ম মানছে না। ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ চা সংসদ ও চা শ্রমিক ইউনিয়নের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির ৯(ক) ধারা মতে- চা বাগানের যে সব শ্রমিক বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্য ছিটানোর কাজে জড়িত থাকবে, তাদের প্রত্যেককেই শরীরের প্রতিরোধ পোশাক কর্তৃপক্ষ দেবে। কিন্তু আজ পর্যন্ত এর সুফল পায়নি চা শ্রমিকরা। ফলে চা শ্রমিকরা হাফপ্যান্ট আর হাফশার্ট পরে বা খালি গায়ে কোনো মুখাবরণ ছাড়াই রাসায়নিক ছিটিয়ে থাকে। এ কারণে মাথা ব্যথা, চোখ জ্বালাপোড়া, নাক-কান জ্বালা পোড়া এমনকি হৃদকম্পন, শ্বাসকষ্ট, শরীর কাঁপা, বমিভাবসহ অসংখ্য শারীরিক সমস্যা তাদের নিত্যসঙ্গী। অপরদিকে, সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ চা বাগানগুলো নিয়মিত পরিদর্শন না করায় শ্রম আইন পুরোপুরি লঙ্ঘিত হচ্ছে। পদ মর্যাদার অবস্থান, বিভাগীয় লোকবল, অর্থ বরাদ্দ ও আনুষাঙ্গিক সুযোগ-সুবিধার অভাবে চা শ্রমিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণে নিয়োজিত শ্রম পরিদর্শন বিভাগ কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারছে না। চা বোর্ড সূত্র জানায়, ‘স্ট্র্যাটেজিক ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান্ট ফর টি ইন্ডাস্ট্র্রি অব বাংলাদেশ ভিশন ২০২১’ নামের একটি প্রকল্প চায়ের উৎপাদন ১০০ মিলিয়ন কেজিতে উন্নীত করতে হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের ১২ দফা প্রস্তাবগুলোর মধ্যে শ্রমিকদের দেশে-বিদেশে প্রশিক্ষণ ও শ্রমিক ওয়েলফেয়ার ফান্ড গঠন ও চা শ্রমিকদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, স্যানিটেশন, বসতভিটা উন্নয়নে কোনো নির্দিষ্ট সুপারিশের কথা বলা হয়নি। বরাবরের মতো এবারও প্রকল্পে চা শ্রমিকদের ভাগ্যের উন্নয়নের কোনো প্রস্তাবনা নেই। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরী বাংলানিউজকে জানান, শ্রমিকদের পক্ষ থেকে দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা চাওয়া হয়েছে। বছরে বোনাস ৯ হাজার টাকাসহ বছরে ১০ দিন নৈমিত্তিক ছুটি তাদের দাবি। এছাড়া স্বাধীনভাবে ট্রেড ইউনিয়ন করার সুযোগ, বসতভিটার অধিকার, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচন ইত্যাদি দাবি বাগান মালিক ও সরকারের কাছে রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।গভর্নর: ধন্যবাদ বাংলানিউজকে।
কাফকোর দ্বিতীয় ইউনিটে বিনিয়োগ প্রস্তাব
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানির (কাফকো) দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনে নতুন করে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) আওতায় জাপান ও ডেনমার্কের অর্থায়নে জ্বালানি সাশ্রয়ী নতুন এ সার কারখানা স্থাপন করা হবে। বৃহস্পতিবার বিকেলে কাফকোর পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়ার সাথে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ প্রস্তাব দেন। নতুন এ ইউনিট স্থাপিত হলে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদিত হবে। সে হিসেবে দেশে বছরে ১২ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদন বাড়বে। বৈঠকে কাফকোর চেয়ারম্যান ও শিল্প সচিব কেএইচ মাসুদ সিদ্দিকী, বিসিআইসির চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানী, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মুনসুর আলী সিকদার, কাফকোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন আহমেদ, প্রধান অর্থনৈতিক কর্মকর্তা (সিএফও) ড. ডান, মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) এনএএম মোবায়েদুজ্জামান ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপ-প্রধান নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এ সময় কাফকোর পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা শিল্পমন্ত্রীর কাছে ২০১১-২০১২ সালের বাংলাদেশ সরকারের লভ্যাংশের তৃতীয় কিস্তির ৬৯ কোটি ৫৭ লাখ ৯৪ হাজার ৭শ’ ১৫ টাকার একটি চেক হস্তান্তর করেন। উল্লেখ্য, কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি (কাফকো) ২০১১-২০১২ অর্থবছরে ৩ কিস্তিতে বাংলাদেশ সরকারকে ২শ’ ৪৮ কোটি ৪৯ লাখ ৮১ হাজার ১শ’ ২৫ টাকা লভ্যাংশ হিসেবে বিসিআইসির মাধ্যমে পরিশোধ করেছে। এর পাশাপাশি এ কোম্পানি ২০১১-২০১২ অর্থবছরে সরকারের কোষাগারে ১শ’ ৫৮ কোটি ৬৩ লাখ ৮১ হাজার ২শ’ ৪৪ টাকা জমা দিয়েছে। বৈঠকে কাফকোর দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের জন্য একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। খুব শিগগিরই প্রশাসনিক অনুমোদন নিয়ে এ বিষয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কাফকোর কর্মকর্তারা দিলীপ বড়ুয়াকে জানান, বিশ্বের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তারা কাফকোর দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণে আগ্রহী। এ কারখানা স্থাপিত হলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে। তারা বলেন, নতুন ইউনিট বাংলাদেশের সার আমদানি হ্রাস, খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার ও নতুন কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। এর মাধ্যমে জাপান ও ডেনমার্কের উদ্যোক্তারা অন্যান্য শিল্পখাতে বিনিয়োগে উৎসাহিত হবে বলে তারা উল্লেখ করেন। শিল্পমন্ত্রী কাফকোর দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিবেশবান্ধব সার কারখানা স্থাপনের প্রতি মহাজোট সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘নতুন এ সার কারখানা স্থাপন হলে দেশে সার আমদানি ব্যাপকভাবে হ্রাস পাবে।’ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের ওপর শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে নতুন এ সার কারখানা স্থাপনের বিষয়ে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
আয়কর বিরোধ: এসইসির দারস্থ মার্চেন্ট ব্যাংক
এইচ এম মুর্তুজা
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা অতিরিক্ত আয়কর সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) হস্তক্ষেপ কামনা করেছে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো। সম্প্রতি বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সভাপতি মোহাম্মদ এ. হাফিজ স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি চিঠি এসইসির চেয়ারম্যান ড. খায়রুল হোসেনের কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রসঙ্গত, রাজস্ব আইনের ৮২-এর বিবি ধারা অনুযায়ী ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ হারে আয়কর প্রদান করে আসছে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো। কিন্তু চলতি বছরের ১৩ মার্চ এনবিআর থেকে পাঠানো এক চিঠির মাধ্যমে আয়কর আইনের ১৭৩ ধারা অনুযায়ী আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যানকো ফাইন্যান্স ইনভেস্টমেন্ট নামক একটি মার্চেন্ট ব্যাংককে ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ হারে আয়কর প্রদানের নির্দেশ দেয় এনবিআর। পরবর্তীতে ধারাবাহিকভাবে দেশের ৫০টি সিকিউরিটিজ হাউজের মধ্যে প্রায় সবগুলোকেই ধারাবাহিকভাবে উল্লেখিত হারে আয়কর দেওয়ার জন্য চিঠি পাঠায় রাজস্ব বোর্ড। মার্চ ও এপ্রিলে ধারবাহিকভাবে বেশকয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি এনবিআর। একদিকে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো নিজেদেরকে সেবা খাতের প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাবি করছে। আর এ খাতের ওপর আয়করের হার ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ। অপরদিকে এনবিআর মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে অভিহিত করে তাদের কাছ থেকে ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ হারে আয়কর চাইছে। একই সঙ্গে এনবিআর এসব প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ হারে বিগত বছরগুলোর বকেয়া ৫ শতাংশ করও দাবি করছে। এ বিষয়ে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার হস্তক্ষেপ কামনা করে পাঠানো বিএমবিএ’র চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের লাইসেন্স নেওয়ার মাধ্যমে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ‘আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন-১৯৯৩’ এর মাধ্যমে পরিচালিত হয়। যেখানে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আমানতগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে সঙ্গায়িত করা হয়েছে। আর এসব প্রতিষ্ঠান এ আমানতকে বিভিন্ন কোম্পানি ও প্রজেক্টে ঋণ হিসেবে প্রদান করে। অপরদিকে মার্চেন্ট ব্যাংকের কার্যক্রমের বর্ণনায় বলা হয়, এসইসি’র অনুমোদনক্রমে ‘মার্চেন্ট ব্যাংক ও তহবিল ব্যবস্থাপনা আইন-১৯৯৬’ এর মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালিত ও অনুমোদিত। যা এক ধরনের লিমিটেড প্রতিষ্ঠান, যারা কোম্পানি ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের তহবিল ব্যবস্থাপনা ও উপদেষ্টা হিসেবে সেবা দিয়ে থাকে। পাশাপাশি ওই চিঠিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে আমানতগ্রহণ করতে দেওয়া হয় না। যদি মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে গ্রাহকদের মার্জিন ঋণ সুবিধা দেওয়ার কারণে আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে গ্রাহকদের একই ধরনের সুবিধা দেওয়ার কারণে ব্রোকারেজ হাউজগুলোও এ শ্রেণীতে পড়বে। 


চীনের মহাপ্রাচীরের গল্প
চীনের প্রাচীর বা গ্রেট ওয়াল অব চায়না (Great Wall of China) এর নাম তোমরা নিশ্চয়ই শুনেছ। কিন্তু এটি কেন নির্মাণ করা হয়েছিল তা কি তোমরা জানো? প্রথমেই বলে নেয়া ভালো পৃথিবীর দীর্ঘতম এই প্রাচীরটি দৈর্ঘ্যে প্রায় ২৬৯৫ কিলোমিটার আর চওড়ায় প্রায় ৩২ ফুট। ভূমি থেকে উচ্চতা স্থান ভেদে ১৫ থেকে ৩০ ফুট পর্যন্ত। এই প্রাচীর নির্মাণের কাজ ২২১ খ্রিস্টপূর্বাব্দে শুরু হয়ে শেষ হতে সময় লাগে প্রায় ১৫ বছর। দৃষ্টিনন্দন এই প্রাচীর নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে ইট আর পাথর।
কেন তৈরি হয়েছিল?
প্রতিবেশি মাঞ্চুরিয়া আর মঙ্গোলিয়ার যাযাবর দস্যুদের হাত থেকে চীনকে রক্ষা করার জন্য নির্মাণ করা হয়েছিল চীনের মহাপ্রাচীর বা গ্রেট ওয়াল অব চায়না। ২৪৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দে চীন বিভক্ত ছিল খণ্ড খণ্ড রাজ্য আর প্রদেশে। এ রাজ্যগুলোর একটির রাজা শি হুয়াং-টি (Shih Huang-ti)। প্রভাবশালী এই রাজা আশপাশের রাজাদের সংঘবদ্ধ করে নিজে সম্রাট হন।
চীনের উত্তরে গোবী (Gobi) মরুভূমির পূর্বাংশে দূর্ধর্ষ মঙ্গলদের বাস ছিল। লুটতরাজই ছিল তাদের জীবিকার প্রধান উৎস। এদের হাত থেকে দেশ ও দেশের মানুষকে নিরাপদ রাখার জন্য সম্রাটের নির্দেশে চীনের প্রাচীর নির্মাণের কাজ আরম্ভ হয়।
প্রাচীরটি নির্মাণ হয়েছিল চিহলি (Chihli, পুরানো নাম পোহাই Pohai) উপসাগরের কূলে শানসিকুয়ান (Shansikuan) থেকে কানসু (Kansu) প্রদেশের চিয়াকুমান (Chiakuman) পর্যন্ত।
তবে যে উদ্দেশ্যে প্রাচীরটি নির্মাণ করা হয়েছিল তা কিন্তু সফল হয়নি। কারণ এর অনেক জায়গা প্রায়ই ভেঙ্গে পড়ত। অনেক সময় মঙ্গল দস্যুরা প্রাচীর ভেঙ্গে চীনা লোকালয়ে ঢুকে লুটপাট করতো। এসব ঘটনার স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে প্রাচীরের অনেক জায়গায় এখানো কিছু কিছু ভাঙা অংশ রয়েছে। 
বনের রাজা আমাজন
দক্ষিণ আমেরিকার ব্রাজিল, ভেনিজুয়েলা, কলম্বিয়া, ইকুয়েডরসহ মোট সাতটি দেশ জুড়ে রয়েছে প্রাকৃতিক সপ্তাচর্য আমাজন বন। আমাজন বনের আয়তন প্রায় ৫৫ লাখ বর্গকিলোমিটার। এবনের শতকরা ৬০ ভাগ পড়েছে ব্রাজিলে। বাকি অংশের মধ্যে ১৩ ভাগ বন পড়েছে পেরুতে। আর বাকি অংশ ভেনিজুয়েলাসহ প্রতিবেশী ৫টি দেশজুড়ে বিস্তৃত। বিশাল আমাজন বন এলাকায় এলাকায় প্রায় ৩০০ উপজাতি গোষ্ঠী বাস করে। এদের মধ্যে প্রায় ৭০টি গোষ্ঠীর বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ থাকলেও বাকি গোষ্ঠীগুলো বলা যায় সভ্য জগতের সঙ্গে সম্পর্কহীন।  এক হিসেবে দেখা গেছে, ২ লাখেরও বেশি মানুষ এই অঞ্চলে বসবাস করেন। আমাজনবাসীদের মধ্যে বেশিরভাগই ব্রাজিলিয়ান ভাষায় কথা বলেন। এছাড়া অনেকেই স্প্যানিশ ভাষায়ও কথা বলেন। তবে তাদের অনেক গোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষাও রয়েছে। আমাজনে প্রায় ৪৫ লাখ প্রজাতির পোকামাকড় আছে। এখানে হাজার প্রজাতির পাখি আছে। যা বিশ্বের সমগ্র পাখিকুলের প্রায় এক পঞ্চমাংশ। এছাড়া এখানে কমপক্ষে ৪২৮ প্রজাতির উভচর, ৩৭৮ প্রজাতির সরিসৃপ, ৪২৭ প্রজাতির স্তন্যপায়ী রয়েছে। বিশাল আমাজন বনের ভেতরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা জলাশয়সহ বনের ভেতর দিয়ে যাওয়া বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম নদী আমাজনে কমপক্ষে ৩০০০ প্রজাতির মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী বাস করে। আমাজন বন অজগর জাতীয় বিশাল সাপ অ্যানাকোন্ডাসহ শ্লথ, জাগুয়ার প্রভৃতির জন্য বিখ্যাত। সম্প্রতি বিশ্বের প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্যে নির্বাচনে প্রথম স্থান পাওয়া আমাজন বন প্রতিদিন বিপুল পরিমাণে কার্বন ডাই অক্সাইডকে অক্সিজেনে রূপান্তর করে বলে এর পরিবেশগত গুরুত্বও কম নয়। অক্সিজেন জীবজগতের টিকে থাকার জন্য অপরিহার্য উপাদান।

ঐশ্বর্যময় আমাজন নদী
পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম নদীর নাম আমাজন। দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুর আন্দিজ পর্বতের নেভাদো মিস্‌মি নামক চূড়া হতে এই নদীর উ‍ৎপত্তি। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৬৪০০ কিলোমিটার। আর প্রস্থ কোনো কোনো স্থানে ১০ কিলোমিটার। তবে বন্যার সময় আমাজন প্রস্থে ৩০ কিলোমিটারও ছাড়িয়ে যায়।
ভাবতে পারো! এই দৈর্ঘ্য রাজধানী ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ জেলা একবার গিয়ে ফিরে আসার সমান দূরত্ব। দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ পর্বত থেকে শুরু হয়ে পাঁচটি দেশ জুড়ে বিস্তৃত আমাজন নদী আটলান্টিক মহাসাগরে গিয়ে মিলিত হয়েছে। মজার তথ্য হচ্ছে, আমাজন নদী যে পরিমাণ জল ধারণ করে তা বিশ্বের যে কোনো নদীর তুলনায় বেশি। আমাজন নদী যেখানটায় সাগরে গিয়ে মিশেছে সেখানে প্রতি সেকেন্ডে ৪.২ মিলিয়ন ঘন ফুট পানি সাগরে গিয়ে পড়ে। বর্ষা মৌসুমে এই পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৭ মিলিয়ন ঘন ফুট। আমাজন নদীতে রয়েছে বিচিত্র রকমের জলজ প্রানীর ছড়াছড়ি। এই নদীর বিশিষ্ট বাসিন্দাদের মধ্যে আছে লম্বায় সাড়ে ৪ মিটারের চেয়েও দীর্ঘ ফ্রেশ ওয়াটার ফিশ, বুল শার্ক, ক্যাট ফিশ, ইলেকট্রিক ইল আর ভয়াবহ রাক্ষুসে ‍মাছ পিরানহা। এই নদীর চারপাশ ঘিরে আছে বিশ্বের ১ নম্বর প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্য আমাজন বন। দক্ষিণ আমেরিকার ব্রাজিল, ভেনিজুয়েলা, বলিভিয়া, কলম্বিয়া, ইকুয়েডর জুড়ে বয়ে চলেছে আমাজন নদী। আর একই নামের দুনিয়ার সবচেয়ে বড় বনভূমি আমাজনের বিস্তার ওই ৫ দেশসহ মোট ৭টি দেশে। সুবিশাল আমাজন জঙ্গলের ৬০ শতাংশই পড়েছে ব্রাজিলে। এই বনভূমিতে ৯টি আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর বাস। দুর্গম আমাজনের জীবনে এসব আদিবাসীরা দল বেঁধে একসঙ্গে শিকারে যায়, রান্না করে, এক জাতির সঙ্গে অপর জাতির লড়াইয়ে অংশ নেয়। এই আমাজনেই রয়েছে পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক প্রজাতির গাছ। এখানে আরও আছে ২৫ লাখ প্রজাতির পোকামাকড়, দুই হাজার প্রজাতির পাখি (পৃথিবীর এক-পঞ্চমাংশ), ৪০ হাজার প্রজাতির গাছ, ৪২৮ প্রজাতির উভচর এবং ৩৭৮ প্রজাতির সরীসৃপ প্রাণী। সবশেষে আরও একটি তথ্য- এই আমাজন নদীতেই আছে পৃথিবীর ২০ শতাংশ মাছ।
মিশরের নীল নদ
প্রাথমিক স্তরের সমাজ বইয়ে নীল নদ ও মিশরীয় সভ্যতার ইতিহাস তোমরা নিশ্চয়ই পড়েছ। তারপরও তোমাদের কিছু নতুন তথ্য জানিয়ে দিচ্ছি নীল নদ নিয়ে। নীল নদের ওপর নির্ভর করে গড়ে উঠে প্রাচীন মিশরের সভ্যতা। প্রতি বছর নীল নদের বন্যায় পলি পড়ে অতিমাত্রায়  উর্বর হয়ে ওঠা উভয় কূলের মাটিতে প্রচুর ফসল হতো। এছাড়া খালের সাহায্যে পানি নিয়ে নীল নদের দুই তীরের দূরবর্তী অঞ্চলগুলোতেও চাষাবাদ করা হতো। আফ্রিকা মহাদেশের এই নীল নদ বিশ্বের দীর্ঘতম নদীরও স্বীকৃতি পেয়েছে। এর দুইটি উপনদী রয়েছে। এগুলো হচ্ছে শ্বেত নীল নদ ও নীলাভ নীল নদ। এর মধ্যে শ্বেত নীল নদ দীর্ঘতর। শ্বেত নীল নদ আফ্রিকার মধ্যভাগের হ্রদ অঞ্চল হতে উৎপন্ন হয়েছে। এর সর্বদক্ষিণের উৎস হল দক্ষিণ রুয়ান্ডাতে। এটি এখান থেকে উত্তর দিকে তাঞ্জানিয়া, লেক ভিক্টোরিয়া, উগান্ডা ও দক্ষিণ সুদানের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। নীলাভ নীল (ব্লু নাইল) নদ ইথিওপিয়ার তানা হ্রদ হতে উৎপন্ন হয়ে পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে সুদানে প্রবেশ করেছে। দুটি উপনদীই পরে সুদানের রাজধানী খার্তুমের কাছে মিলিত হয়েছে। নীল নদের উত্তরাংশ সুদানে শুরু হয়ে মিশরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। মিশর সভ্যতা প্রাচীনকাল থেকেই নীলের ওপর নির্ভরশীল। মিশরের জনসংখ্যার অধিকাংশ এবং বেশিরভাগ শহরের অবস্থান নীল নদের উপত্যকায়। প্রাচীন মিশরের অনেক সাংস্কৃতিক এবং ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার অবস্থানও এখানে। কঙ্গো, তাঞ্জানিয়া, কেনিয়া, উগান্ডা, ইথিওপিয়া, মিশর জুড়ে বিস্তৃত নীল নদ ভূমধ্যসাগরে গিয়ে মিশেছে। পৃথিবীর সব নদ-নদী উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হলেও নীল নদ দক্ষিণ থেকে উত্তর দিকে প্রবাহিত হয়। এ ধরনের বৈশিষ্ট্যের আরও একটি নদ হচ্ছে সিন্ধু। এটি দক্ষিণ এশিয়ার পাকিস্তানের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে করাচি বন্দরের পাশ দিয়ে আরব সাগরে পড়েছে।  যাহোক, বলছিলাম নীল নদ নিয়ে। এই নদীর আরও একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, বছরৈর নির্দিপৃষ্থিট সময়ে পৃথিবীর অন্যান্য নদী যখন শুকিয়ে যায় তখন নীল নদ পানিতে কানায় কানায় পূর্ণ থাকে। আর নীদ নদ যখন শুকিয়ে যায় তখন অন্যান্য নদী পানিতে পূর্ণ থাকে।
‘মাথাব্যথা বলে কি মাথা কেটে ফেলতে হবে?’
সাজিদুল হক সাজু

‘মাথাব্যথা বলে কি মাথা কেটে ফেলতে হবে?’-চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ঝরণায় বন্ধুদের নিয়ে বেড়াতে যেতে না পারার আক্ষেপ এভাবেই ব্যক্ত করলেন লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী সানজিদা। শুধু সানজিদাই নয়, এ প্রসঙ্গে একই ধরনের ক্ষোভ রয়েছে চবির অনেক শিক্ষার্থীর।
কলা অনুষদের পেছন দিয়ে সরু রাস্তা ধরে কিছু দূর হেঁটে গেলেই কানে আসে একটানা পানি পড়ার তরলিত কল কল ছন্দধ্বনি। বেশ দূর থেকেই কানের ভেতর দিয়ে মনের দরজায় মধূবর্ষণকারী এই শব্দমালা আসলে চবি ক্যাম্পাসের মনোমুগ্ধকর ঝরনাটির হাসি।
কলা অনুষদ পেরিয়ে ক্যাম্পাসের পশ্চিম দিকে পাহাড়ের একটু ভেতরে গেলেই দেখা মিলবে গাছপালা আর পাহাড়ের ভেতর লুকিয়ে থাকা এই প্রাকৃতিক ঝরনা-রানীর। অবিরাম জলধারার এই অপরূপ সৌন্দর্য তার অমোঘ আকর্ষণে মানুষকে চিরকালই কাছে টেনেছে!
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চট্টগ্রাম সীতাকুণ্ডের পাহাড়শ্রেণী থেকে বয়ে আসা পানি ছড়ার (সরু খাল) মাধ্যমে চবির ওই নির্দিষ্ট এলাকায় একটু উঁচু থেকে পড়তে থাকে সারা বছর ধরে- রূপ ধরেছে অপরূপ ঝরণার। বর্ষায় এর পানির প্রবাহ থাকে বেশি।
ঝরণার সামনে সুবিস্তৃত পাহাড় শ্রেণী। ঝরনা বেয়ে পড়া পানি জমে নিচে তৈরি হয়েছে ছোট্ট একটি লেক। নয়নাভিরাম এমন প্রাকৃতিক পরিবেশে যে কেউই আত্মহারা হয়ে যাবেন। অথচ এই ঝরণায় যাওয়ার আগেই চোখে পড়বে কলা ভবনের দেয়ালে লিখে রাখা একটি অপ্রত্যাশিত বিজ্ঞপ্তি। এ যেন নন্দন কাননে অসুরের উপস্থিতি। বিজ্ঞপ্তিটিতে ঝরনার দিকে না যাওয়ার ব্যাপারে সাবধান করে দেওয়া হয়েছে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে ‘ঝরণা এলাকা বিপদজনক’। যে স্পন্দিত ঝরণার মোহনীয় সুরছন্দে এগিয়ে যাচ্ছিলাম তাকে চাক্ষুষ করার জন্য- ঠিক তার আগেই এ ধরনের নিষেধাজ্ঞার নিগড় দেখে মনে হলো চোখের ওপর যেন মাইক টাইসনের বেমক্কা এক ঘুষি খেলাম। যেখানে নিষ্প্রাণ শহরের সড়কের মোড়ে, ইট-পাথরের দঙ্গল সরকারি-বেসরকারি ইমারতের সৌন্দর্য বাড়াতে আঙ্গিনায় লাখ-কোটি টাকা খর্চায় বানানো হয় কৃত্রিম ঝরণা, সেখানে অসাধারণ অনিন্দ্য ক্যাম্পাসের এই প্রাকৃতিক ঝরনাকে করে রাখা হয়েছে ‘বিপদজনক এলাকা’!
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় কিছু সন্ত্রাসী ওই এলাকায় ভ্রমণকারীদের কাছ থেকে মালামাল ছিনতাই করে আসছে। গত ২৯ অক্টোবর ওই এলাকায় ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন চবির কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের সভাপতি ড. হানিফ সিদ্দিকী ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শামীম আহমেদ। ছিনতাইকারীরা এসময় দুজনের মোবাইল ফোনসেট, ১০ হাজার টাকাসহ মানিব্যাগ ও ক্রেডিট কার্ড নিয়ে যায়। ছিনতাই হয় বলে ওই এলাকায় যাওয়া নিষিদ্ধ করেছে চবি প্রশাসন। শিক্ষার্থীরা বলছে- বাংলাদেশের আর কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন ঝরণা নেই। অথচ এখানে ভ্রমণকারীদের নিরাপত্তা দিতে পারছে না প্রশাসন। সামান্য ছিনতাইকারীদের জন্য এ নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি কতটুকু গ্রহণযোগ্য তা প্রশ্ন সাপেক্ষ। যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী স্মরণিকা ধর বলেন, ‘প্রশাসন ছিনতাইকারীদের ধরতে পারে না। অথচ শিক্ষার্থীদের বলছে ওখানে যাওয়া যাবে না। গুটিকয়েক সন্ত্রাসীর জন্য এমন সৌন্দর্য উপভোগ করতে না দেওয়াটা দুঃখজনক।’ এ বিষয়ে চবির সহকারী প্রক্টর মইনুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, ‘কলা ভবনের পেছন দিয়ে প্রায় সোয়া কিলোমিটার রাস্তাটি সেনসিটিভ। আমরা চেষ্টা করছি কিভাবে ওই এলাকার নিরাপত্তা দেওয়া যায়। নিরাপত্তা দফতরের লোকবল কম থাকাও একটি সমস্যা।’ তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন সময় ঝরণা এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে কথা উঠলেও অন্য কাজের চাপে এ বিষয়টির অগ্রগতি হয়না।’
 
কমদামে মাইক্রোম্যাক্স সুপারফোন
সিজারাজ জাহান মিমি

মাইক্রোম্যাক্স সুপারফোনের তালিকায় যুক্ত হলো ‘এ৫০’ নিনজা মডেলের স্মার্টফোন। এটি সহ প্রতিষ্ঠানের সুপারফোনের সংখ্যা এখন পছাচ। এটি এ ব্র্যান্ডের সবচেয়ে কমদামি ফোন। কিন্তু এর অবিশ্বাস্য মূল্য গ্রাহকদের অস্থির করছে। কেননা ভারতীয় মূল্য হিসাবে মাত্র ৫ হাজার রুপির এ ফোনে আধুনিক সব বৈশিষ্ট্যই আছে। এ ফোনে যুক্ত অন্য সব বৈশিষ্ট্যের মধ্যে মাইক্রোম্যাক্সের সিরি সফটওয়্যারের আর্টিফিসিয়াল ইন্টিলিজেন্স স্পিচ হ্যান্ডসেট অ্যাসিসটেন্ট (এআইএসএইচএ) সর্বোচ্চ গুরুত্ব বহন করছে। আরও আছে গুগলের অ্যানড্রইড ২.৩ সংস্করণ, মাল্টিটাচ, ৩.১ ইঞ্চি পর্দা এবং ২ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা। এআইএসএইচএ হচ্ছে ভয়েস শণাক্তকরণ সফটওয়্যার। এটি ফোনেই ব্লিটইন আছে। নির্মাতা সূত্র জানিয়েছে, এটা ব্যবহারকারীকে অপর প্রান্তের কন্ঠস্বর বুঝতে সাহায্য করবে। এ ছাড়াও মেসেজ, কল, সোশ্যাল নেটওয়ার্ক স্ট্যাটাস আপডেট, টুইট এমনকি আবহাওয়া সম্পর্কে শুধু ভয়েসে জানা সম্ভব। অন্য সব ফিচারের মধ্যে থ্রিজি, জিপিএস, জি-সেন্সর, ব্লুটুথ ২.০, ইউএসবি ২.০ এবং ওয়াইফাই, ১৪০০ এমএএইচ ব্যাটারি ৪ ঘণ্টা পর্যন্ত কথা বলার সুবিধা আছে। এটি ১০ দিন পর্যন্ত সক্রিয় থাকে। এ ছাড়া এর মাইক্রোএসডি কার্ড স্লটের মাধ্যমে ৩২ জিবি পর্যন্ত মেমোরি বাড়ানো যাবে। তবে এর বিশেষমানের আনুষঙ্গিক উপাদান যেকোনো মেমোরি কার্ড সমর্থন করে না। মাইক্রোম্যাক্সের অন্য চারটি সুপারফোন যথাক্রমে এ৮৫, এ৭৫, এ৭৩ এবং এ৭৮। এদিকে কমদামের বিষয়টি খুব বেশি সাড়া ফেলবে বলে অনেকেরই ধারণা। তবে অন্য সব স্মার্টফোনের তুলনায় নিম্নগতির ৬৫০ মেগাহার্টজ প্রসেসর কিভাবে সুবিশাল পরিমাণের ডাটা প্রক্রিয়াসাধন করবে এ নিয়ে কিছুটা দ্বিধাও আছে। এ মুহূর্তে সাদা এবং কালো রঙে ‘এ৫০ নিনজা’ সুপারফোন পাওয়া যাচ্ছে।
ডমেইন শিল্পে নতুন বিন্যাস
সাব্বিন হাসান

ইন্টারনেট বিশ্ব আবারও নতুন বিপ্লবের ইঙ্গিত দিয়েছে। আর এ বিপ্লবের মাধ্যম হচ্ছে ডমেইন নেম। ইন্টারনেট বিশ্বকে আরও সুসংগঠিত করতেই এ অভিনব পরিবর্তন আনা হচ্ছে। সংবাদমাধ্যম সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
এ পরিবর্তনে ডমেইন বিশ্বের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইন্টারনেট করপোরেশন ফর অ্যাসাইন্ড নেম অ্যান্ড নাম্বারস (আইক্যান) আবেদন গ্রহণ করা শুরু করেছে। ফলে অনলাইন সংস্কৃতিতে নিউ জেনিরিক টপ-লেভেল ডমেইন্সের (জিটিডিএস) যুগ শুরু হচ্ছে।
ডমেইন নাম বিপণনে নতুন বিন্যাস আনতেই এ মহাপরিকল্পনা নিয়েছে আইক্যান। এ ব্যাপক পরিবর্তনের ফলে ডমেইন নামের মাধ্যমেই সহজেই প্রত্যাশিত সাইট খুঁজে পাওয়া যাবে। এ ছাড়াও নতুন ডমেইন বিন্যাস পদ্ধতি কার্যকর হলে ইন্টারনেট সংস্কৃতির অপচর্চাকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত করা সম্ভব হবে। আর ভবিষ্যতের ইন্টারনেট বিশ্বও অনেক সুসজ্জিত হবে। তবে এ পদ্ধতি আপাতত সীমিত। কবে নাগাদ বাণিজ্যিকভাবে এ আবেদন গ্রহণ করা হবে তা এখনও নিশ্চিত করেনি আইক্যান। এ প্রসঙ্গে আইক্যানের প্রধান অপারেটিং কর্মকর্তা (সিওও) আকরাম আতাল্লাহ জানান, টপ লেভেল ডমেইন (টিডিএল) নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনায় থাকছে টিডিএল অ্যাপলিকেশন সিস্টেম সফটওয়্যার। ফলে যেকোনো প্রয়োজনে ইউজার এবং ফাইল নেম দিয়ে সাইটের অপচর্চাকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। আইক্যান সিওও আকরাম আতাল্লাহ বলেন, নতুন ডমেইন ডাটা সিস্টেম ক্র্যাশ কমে আসবে। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই আক্রান্ত সাইটকে অফলাইনে নিয়ে তথ্যগুলোতে সুরক্ষিত করে তা আবার ওয়েবেই ফিরিয়ে দেওয়া যাবে। এতে সাইবার সমস্যার সুনির্দিষ্ট তদন্ত করা সহজ হবে। গত জানুয়ারি থেকে আইক্যান ইন্টারনেট ডমেইন পরিচালনায় বিশেষ আবেদন নেওয়া শুরু করেছে। এ জন্য কম্পানি, প্রতিষ্ঠান এবং শহুরে নামের অক্ষরকে সর্বোচ্চ বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে আইক্যান সভাপতি রড ব্যাকস্ট্রম জানান, নতুন ডমেইন বিন্যাস আধুনিক সিস্টেম প্রতিষ্ঠার অংশ। যেমন প্রচলতি ডটকম এবং ডটঅর্গ এর পরিবর্তে ডটঅ্যাপল (কম্পানি), ডটপ্যারিস (শহর) এবং ডটআইএমএফ (অরগেনাইজেশন) এ ডমেইনে অনুমতি দেওয়া হবে। এ জন্য বিশ্বের সুপরিচিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে আইক্যানের কাছে নতুন ডমেইনের জন্য আবেদন করতে হবে। আইক্যান আবেদন যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান এবং করপোরেশনকে সংশ্লিষ্ট ডমেইন বরাদ্দ করবে। এ মুহূর্তে ইন্টারনেট বিশ্বে ২০০ কোটি ব্যবহারকারী আছে। আর এদের প্রায় অর্ধেকই হচ্ছেন এশিয়ার। তাই এশিয়া মহাদেশের অনলাইন বিশ্বকে আরও সুনিয়ন্ত্রত করতে নতুন ডমেইন বিন্যাস কার্যকর হবে। এমনটাই মন্তব্য করেছেন অনলাইন বিশ্লেষকেরা।
নকিয়া নয়, স্যামসাং শীর্ষে!
সাব্বিন হাসান
 এবারে নকিয়াকে ভালোভাবেই টপকে গেল স্যামসাং। এ বছর প্রথম ত্রিমাসিকে স্মার্টফোনের বিক্রির রেকর্ডে শীর্ষে উঠে এসেছে স্যামসাং। গবেষণামাধ্যম সূত্র এ তথ্য নিয়েছে। শুধু মোবাইল ফোননির্মাতা নকিয়াকে নয়, অপ্রতিরোধ্য অ্যাপলকেও স্মার্টফোন বিক্রির রেকর্ডে ছাড়িয়ে গেছে স্যামসাং। এ ছাড়াও মেমোরি চিপ তৈরিতে স্যামসাং শীর্ষ অবস্থানেই আছে। এ ব্যবসায় এ বছরের গত ত্রিমাসিকে ৪৫০ কোটি ডলারের রেকর্ড আয় ঘরে তুলেছে স্যামসাং। এটি মোবাইল শিল্প ব্যবসার জন্য একটি দারুণ ইতিবাচক রেকর্ড। তবে সব মিলিয়ে হ্যান্ডসেট বিক্রিতে রেকর্ড না গড়লেও, স্মার্টফোনে ২০১১ সালে প্রথম ত্রিমাসিকের পুরোটা সময়ে স্যামসাংই দাপট চালিয়েছে। আর ধরাশায়ী করেছে নকিয়া আর অ্যাপলকে। এ তিন স্মার্টফোন নির্মাতার টানটান লড়াইয়ের বার্তাটা আগামই দিয়েছেন বিশেষজ্ঞেরা। গত ১৪ বছরের ইতিহাসে নকিয়াকে কখনই পেছনে ফেলতে পারেনি স্যামসাং। এবারে তাই একেবারে ১৪ বছরের রেকর্ডকেই ভেঙে দিল স্যামসাং। শীর্ষ থেকে নামল নকিয়া। এ ছাড়াও বিক্রির রেকর্ডে এ বছরের প্রথম ত্রিমাসিকে ৮ কোটি ৩০ লাখ স্মার্টফোন বিক্রি করেছে নকিয়া। এ সময়ে স্যামাসং ৯ কোটি ৩৫ স্মার্টফোন বিক্রি করে নকিয়াকে টপকে গেছে। আরেকটি গবেষণা এবং তথ্য সূত্র জানিয়েছে, একটি নির্দিষ্ট সময়ে অ্যাপল ৩ কোটি ৫০ লাখ স্মার্টফোন বিক্রি করেছে। একই সময়ে স্যামসাং বিক্রি করেছে ৪ কোটি ৪৫ লাখ স্মার্টফোন। গবেষণাপ্রতিষ্ঠান রোয়ার উপদেষ্টা প্রধান কিম জিন ইয়াঙ্গ জানান, গত ত্রিমাসিকে স্যামসাং দারুণ সাফল্য দেখিয়েছে। লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। আর তা পূরণও করেছে। একে বলে বাজিমাত করা। এমনকি স্মার্টফোনের জায়ান্ট অ্যাপলকেও হার মানিয়েছে স্যামসাং। এক কথায় স্মার্টফোনের বিশ্ববাজারে ‘গ্যালাক্সি’ সিরিজ দিয়ে আধিপত্য বিস্তার করেছে স্যামসাং। এ ছাড়াও এলসিডি, এলইডি এবং ঘরোয়া ইলেকট্রনিক পণ্য ব্যবসায়ও শক্তিশালী বাজারে অবস্থানে আছে স্যামসাং। সাফল্য আর ব্যবসার এ ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে আগামী সপ্তাহেই নতুন গ্যালাক্সি অবমুক্ত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্যামসাং। বছরের দ্বিতীয় ত্রিমাসিকেও স্যামসাংয়ের সাফল্যের ধারা অব্যাহত থাকবে। এমনটাই বলছেন বাজার বিশ্লেষকেরা।

ব্রিটিশ কাউন্সিলের নতুন সাইট
সাব্বিন হাসান

ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশে ‘লার্ন ইংলিশ টিনস’ বিষয়ে নতুন ধারার ওয়েবসাইট উদ্বোধন করেছে। মাসব্যাপী ‘ফটো ক্যাপশন’ প্রতিযোগিতা প্রথম পুরস্কার একটি এইচপি নোটবুক।
এ ওয়েবসাইটের উদ্দেশ্য হচ্ছে ইংরেজি অনুশীলনে আগ্রহী ১৩ থেকে ১৭ বছরের শিক্ষার্থীদের ভিডিও, খেলা, ভোকাবুলারি এবং পরীক্ষা অনুশীলনের মাধ্যমে সঠিক ইংরেজি শিখতে সহায়তা করা।
১৭ বছরের উর্দ্ধে বা ১৩ বছরের নিচে কেউ এ প্রতিযোগিতায় নিবন্ধন করতে পারবেন না। আর আগ্রহীরা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণে ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করতে হবে। এরপর প্রতিযোগিতার আবেদনপত্র ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং সিলেটে অবস্থিত ব্রিটিশ কাউন্সিলের অফিস থেকে বা ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের (http:// learnenglishteens.britishcouncil.org) এ ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করা যাবে। এতে প্রতিযোগিতার নাম বর্ণনা এবং ফটো ক্যাপশন দিতে হবে। আবেদনপত্রটি পূরণ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং সিলেটে অবস্থিত ব্রিটিশ কাউন্সিলের অফিসে রাখা কম্পিটিশন বক্সে পৌঁছে দিতে হবে। আগ্রহীরা (sarwat.reza@bd.britishcouncil.org) ঠিকানায় ইমেইলও করতে পারবেন। আগামী ২৪ মে আবেদনের শেষ দিন। আর ৩১ মে চূড়ান্ত বিজয়ীর হাতে নোটবুক তুলে দেওয়া হবে।
ট্যাবলেট আনছে নকিয়া!
সাব্বিন হাসান
 নকিয়া পিছিয়ে পড়ছে। আর এ নিয়ে নকিয়া শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যেও অসন্তুষ্টি। তবে নকিয়া সভাপতি জোরমা অল্লিলা দিয়েছেন নতুন একগুচ্ছ নকিয়া পণ্য উন্নয়নের ঘোষণা। সংবাদমাধ্যম সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। নকিয়া সভাপতির ঘোষণায় উঠে এসেছে দারুণ এক তথ্য। এবারে নকিয়া নিয়ে আসছে ট্যাবলেট। তাও আবার হাইব্রিড ট্যাবলেট। তবে কবে নাগাদ এ পণ্য বাজারে আসবে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেয়নি নকিয়া। এ ছাড়াও অচিরেই নকিয়ার সভাপতি পদে পরিবর্তন আসছে। এটিও বড় ধরনের একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে ভবিষ্যৎ নকিয়ার জন্য। ফিনান্সিয়্যাল টাইমস সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জোরমা অল্লিলা জানান, স্মার্টফোনের শিল্প বিপ্লবে নকিয়া তাল মেলাতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। এ হিসেবে মোবাইল বিশ্বের শীর্ষ অবস্থানও হারিয়েছে নকিয়া। তবে নব ধারার পণ্য সম্ভারে নকিয়া আবারও দৃঢ়ভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর সুদীর্ঘ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এরই মধ্যে নকিয়া প্রথম ট্যাবলেট তৈরিতে কাজ শুরু করেছে। এ বছরের শেষদিকে না হলেও আগামী বছরের শুরুতেই দেখা মিলবে নকিয়া ট্যাবলেট পণ্যের। সঙ্গে থাকছে মাইক্রোসফটের সর্বশেষ উইন্ডোজ-৮ অপারেটিং সিস্টেম। বিশ্ব ডিজিটাল পণ্য গবেষক হান্নু রাউহাল জানান, নকিয়া ট্যাবলেটের ভাগ্য পুরোটাই নির্ভর করছে মাইক্রোসফটের ওপর। এর মাধ্যমে দ্বৈত সাফল্য অর্জিত হওয়া সম্ভব। আর তা না হলে দু শীর্ষ নির্মাতাকেই আবারও হতাশায় ডুবতে হবে। এরই মধ্যে স্মার্টফোনের ইঁদুর-বিড়াল দৌঁড়ে অ্যাপল আর গুগলের কাছে একেবারেই ধরাশায়ী হয়েছে নকিয়া। তবে ‘লুমিয়া’ সিরিজ দিয়ে নকিয়া তার অবস্থান আবারও দৃঢ়ভাবে বিশ্বকে জানান দিয়েছে। ফিনল্যান্ডকে একনামেই সমৃদ্ধ করেছে নকিয়া। তাই নকিয়া বলতেই দেশটির নাম সামনে চলে আসে। ১৯৯৮ সালে সেলফোন দিয়ে বিশ্ব আলোচনার উঠে আসে নকিয়া। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। শুধুই এগিয়ে চলা। একদিকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অন্যদিকে কোটি কোটি ভক্তের মনজয়। গবেষণা সূত্রে নকিয়া জানিয়েছে, ট্যাবলেট পণ্য না থাকায় অ্যাপল, গুগল আর স্যামসাংয়ের সঙ্গে লড়াইয়ে অনেকটাই গুটিয়ে গেছে নকিয়া। তাই নকিয়া এবার একই সঙ্গে একগুচ্ছ সময়ের পণ্য নিয়ে হাজির হচ্ছে এ বছরই। সব মিলিয়ে নকিয়া, অ্যাপল আর স্যামসাংয়ের ত্রিমুখি লড়াইয়ের পুরো সুফলটা যাচ্ছে ডিজিপ্রেমীদের বরাতেই।
গুগলের বিখ্যাত কটি ডুডল
সিজারাজ জাহান মিমি

এ বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত প্রদর্শিত সার্চ গুরু গুগলের বিষ্ময়কর বৈশিষ্ট্যপূর্ণ কয়েকটি সেরা ডুডলের নাম উঠে এসেছে। শুরু থেকেই প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের অন্যতম বিষয়, ব্যক্তিদের নিয়ে নির্মিত ডুডল মূল পৃষ্ঠায় প্রদর্শন করে আসছে। চলতি বছরের সেরা ডুডল সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক-
দ্য লার্জেস্ট স্নোফ্ল্যাক ফলস
গীনিস বুকে ধারণকৃত বিশ্বের সর্বোচ্চ তুষারপাতের বৈশিষ্ট্য নিয়ে করা হয়েছে দ্যা লার্জেস্ট স্নোফ্ল্যাক ফলস নামের ডুডল। ১৮৮৭ সালের ২৮ জানুয়ারি  মনটানার ফোর্ট কিয়োতে প্রচন্ড তুষার বর্ষণের ঘটনা ঘটে। তুষার ফলকের পরিমাপ অনুযায়ী এর চওড়া ১৫ ইঞ্চি এবং পুরুত্ব ছিল ৮ ইঞ্চি। যে ঘটনার ১২৫ বছর পূর্তিতে চলতি বছরে গুগল এই বৈশিষ্ট্যের ডুডল প্রদর্শন করে । যেখানে এর অক্ষরভিত্তিক  বৈশিষ্ট্যের অসাধারণ খেলা উপভোগ করে ভক্তরা। তবে সর্বত্রের ব্যবহারকারীদের উপভোগের সুযোগ হয়নি শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং যুক্তরাজ্যের ব্যবহারকারীরা মুহূর্তটাকে উপভোগ করতে পেরেছে। গুগলের মতে যারা এর পুরোটা দেখেছে তাদের অবশ্যই মানতে হবে সীমাবদ্ধতা থাকলেও এটা প্রকৃতই বিষ্ময়কর।
লাভ ইজ ইন দ্য ইয়ার
২০১২’র সবচেয়ে মনছোয়া এবং প্রাণবন্ত ডুডল এটি। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি অনলাইন বিশ্বে এর আবির্ভাব হয়। বিশ্ব ভ্যালেন্টাইন ডে উপলক্ষকে ঘিরে গুগলের এই আয়োজন। এছাড়াও একটি ‘আবেগপ্রবণ গল্প’ ভিডিওতে ছাড়া হয়, এখানে ব্যবহারকারীরা টনি বেনেটের করা ‘ কোল্ড কোল্ড হার্ট ’ উপভোগ করে। বিষ্ময়কর বিষয়, ভিডিও গল্পটি বাস্তবধর্মী প্রেম সম্পর্কিত। যা বিশেষ মুহূর্তের অন্যতম উপহার হিসেবে সীমাহীন। ভিডিওচিত্রের শেষ মুহূর্তে আছে কয়েকটি জুটিদের স্ন্যাপশট। যেমন ব্যাঙ ও তার রাণী, বিড়াল, কুকর জুটি এমনকি মিল্ক এবং কুকিস নিয়ে করা রুপ কথার গল্পকাহিনী।
দ্যা হর্স ইন মোশন
ব্রিটিশ ফটোগ্রাফার এডওয়ার্ড জে.মাইব্রিডা, বিশ্বব্যাপী যিনি ‘গতিশীল পিকচার প্রযুক্তির’ পথিকৃত বলে গণ্য। জন্ম ১৮৩০ সালের ৯ এপ্রিল। বিখ্যাত এই ফটোগ্রাফারের ১৮২ তম জন্মদিনে স্মৃতিচারণমূলক অনুষ্ঠান উপলক্ষে গুগল অশ্ব সম্পর্কিত ভিডিওচিত্র ধারণ করে। উল্লেখ্য, মাইব্রিডা তার গবেষণা অনুসন্ধানের ফলস্বরুপ এটি প্রতিষ্ঠা করে । এর বৈশিষ্ট্য ৪ ফুট আকারের ঘোড়াগুলো মাঠে একই সময়ে একই গতিতে চলতে থাকে। এটি ছেলি গার্ডনার এট এ গ্যালপ নামেও জনপ্রিয়। এর ভিডিও ক্লিপ জুপ্রাক্সসিসকোপে প্রদর্শিত হয়েছিল। এছাড়াও যিনি নিজেই গতিশীল পিকচার ডিভাইস উদ্ভাবন করেন।
আর্থ ডে ২০১২
বিশ্ব আর্থ ডে উপলক্ষে গত ২২ এপ্রিল গুগল ভার্চূয়াল আনন্দ উদ্যাযাপনের লক্ষে পারস্পরিক ক্রিয়াশীল ডুডল হাজির করেছিল তার হোম পেজে। ধারণা মতে ২০১২’র চিত্রাকর্ষক প্রাণবন্ত ডুডলের মধ্যে এটি নিম্নে থাকলেও এটি ক্রিয়াশীল। কিন্তু কমপিউটারে সৃষ্টি গ্রাফিক্সের মত নয়। এই ডুডল সত্যিকারের বাগানের স্ন্যাপশটের মাধ্যমে তৈরি। তবে এর ফুলগুলো কৃত্রিম পদ্ধতিতে যুক্ত করা হয়েছে। সবশেষে এই বাগান ফল নয় ফুল উৎপাদনের বাগান বলে দৃশ্যমান হয়।
জিপ আপ ইওর কিউরিসিটি
এ বছরের সেরা চিত্রাকর্ষক ও ক্রিয়াশীল ডুডল এটি। গিডিঅন সান্ডব্যাকের ১৩২ তম জন্মদিন উপলক্ষে ২৪ এপ্রিল ভক্তরা সরাসরি এটি উপভোগ করতে পেরেছে। সুইডিস-আমেরিকান ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার যিনি জিপার আবিষ্কারের জন্য বিখ্যাত। এই দিনটিতে ডুডল স্ক্রিন জুড়ে বিশাল জিপার উন্মুক্ত হয়। আর জিপারটি খোলামাত্রই সান্ডব্যাক সম্পর্কে অনেককিছু দেখা যায়।
উল্লেখ্য, গুগলের সবগুলো ডুডলের মধ্যে যেটি সবচেয়ে উদ্ভাবনী বৈশিষ্ট্যপূর্ণ। যা ব্যবহারকারীদের প্রচুর কৌতুহলী করেছে।
তাই গুগলের ডুডল ভান্ডারে গুগল ব্যবহারকারীদের জন্য সামনের দিনগুলোতে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ কি বিষয় থাকছে এটাই সবার জানার কৌতুহল। কেননা গুগলের এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের মাধ্যমে অনেক অজানা বিষয় জানতে পারছে ব্যবহারকারীরা। গত দুই বছর ধরে চালু হওয়া গুগলের এই আকর্ষণের উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলোর তালিকায় আছে প্যাক-ম্যান এর ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, ২০১০ সালের ২১ মে এটি প্রদর্শিত হয়। লেস পলের ৯৬ তম জন্মদিন, ২০১১ সালের ৯ জানুয়ারি এটি সরাসরি উপভোগ করা গিয়েছে এবং লুনার ইক্লিপ্স ১৫ জুন ২০১১ তে প্রদর্শন করা হয় গুগলের মূল পৃষ্ঠায়।  
৫৫ ইঞ্চি এলইডি টিভি
সিজারাজ জাহান মিমি

জীবন মানেই শৌখিনতা। এ জন্য বৈচিত্র্যময় পণ্যসামগ্রী প্রয়োজন। এ মুহূর্তে এলইডি টিভি শৌখিন পণ্যের শীর্ষ তালিকায় আছে। এতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসহ অবয়বে দৃষ্টিনন্দন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। এ চাহিদা থেকেই এসেছে চমৎকার স্বচ্ছ গ্লাস ‘ক্রিস্টাল’ টিভি। উন্নয়নশীল দেশে দামের পার্থক্য গুরুত্ব বহন করে। এরই মধ্যে ভাবনা চিন্তা ছাপিয়ে শৌখিন পণ্যের জনপ্রিয় বাজার তৈরি করেছে ভারত। ভারতের টিভি নির্মাতা ভিইউ টেকনোলোজি গত কবছর ধরে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির টিভি তৈরি করে বিশ্বে আলোচিত তৈরি করেছে। যেসব লুকায়িত সম্ভাবনা এখনও অব্যবহৃত আছে সেগুলোর দিকে দৃষ্টি দিয়েছেন এ নির্মাতা। এরই প্রেক্ষিতে ভিইউ টেকনোলজি নতুন করে অতি মূল্যবান অপিউলেন্স ৫৫ ইঞ্চি লেড টিভি উপস্থিত করেছে। তাদের দাবি এ পণ্যের গঠন আবরণ অত্যন্ত সুসংহত। ইনুমেরাবল ড্যাজলিং ক্রিস্টাল স্টাডসের ব্যবহার হয়েছে। অর্থাৎ উৎকৃষ্ট স্বচ্ছ কাচ খচিত ডিসপ্লে। ক্রিস্টাল টিভি ভক্তদের উদ্দেশ্যে বলা হয়, এক নজর দেখলে বোঝা যাবে এর ডিসপ্লে­ অংশে উচ্চক্ষমতার ক্রিস্টাল দারা সুশোভিত যা অহেতুক কি না। এ ছাড়া নতুন এ পণ্যের অধিক মুল্যে যা প্রকাশ্য অন্যগুলোর থেকে অনেক কম। তুলনাগত দিক থেকে বলা হয়, প্রকৃত সত্য যেটি অন্য পণ্যের সঙ্গে তাদের বৈশিষ্ট্যর মাপকাঠি বিচার করা যায় না। এ ছাড়া অত্যাধিক মূল্যে যা ভাল প্রকৌশল কর্মের দৃষ্টান্ত হতে পারে না। বরং প্রয়োজনীয় বৈশিষ্ট্য ও উন্নতমানের  নিরবিচ্ছিন্ন প্রদর্শনই শ্রেয়। এদিকে সম্পূর্ণ উচ্চক্ষমতার অপিউলান্সে ‘ইন্টিলিজেন্ট টিভির’ কিছু মূল বৈশিষ্ট্য রাখা হয়েছে। এর ফলে এতে ২.২ গিগাহার্টজ ইন্টেল কোরআইথ্রি ২৩৩০এম ডুয়্যাল-কোর প্রসেসর, ২ জিবি র ্যাম, ৫০০ জিবি হার্ডড্রাইভ এবং উইন্ডোজ ৭ প্রফেশনাল বিদ্যমান। ভারতীয় মূল্য ৫ লাখ রুপী। কিন্তু এ পণ্যটি থ্রিডি উপযোগী নয়।
ভারতে এল আইপ্যাড
সাব্বিন হাসানঅ্যাপল এবার ভারতে একগুচ্ছ পণ্য সম্ভার নিয়ে হাজির হলো। আগাম ঘোষণা অনুযায়ী ২৭ এপ্রিলেই ভারতে বাজারে নতুন আইপ্যাড এনেছে অ্যাপল। সংবাদমাধ্যম সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। এবারের তালিকায় শুধু ভারত নয়, কলম্বিয়া, এস্তোনিয়া, ইসরায়েল, লাটভিয়া, লিথুনিয়া, মন্টিনেগ্রো, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং থাইল্যান্ডে আত্মপ্রকাশ করল রেটিনা দৃশ্যপটের নতুন আইপ্যাড। এ ছাড়াও নতুন তালিকায় ব্রুনেই, ক্রোয়েশিয়া, সাইপ্রাস, মালয়েশিয়া, পানামা, উরুগুয়ে এবং ভেনিজুয়েলায় আইপ্যাডের বিপণন শুরু হবে। এবারের আইপ্যাডে দাম আর বৈশিষ্ট্যগুণে অনেকগুলো সংস্করণ তৈরি করা হয়েছে। তবে মূল বৈশিষ্ট্য একই রাখা হয়েছে। যেমন ৯.৪ মিলিমিটারের (০.৩৭ ইঞ্চি) পাতলা অবয়ব, রেটিনা ডিসপ্লে, এ৫এক্স চিপ, কোয়াড কোর গ্রাফিকস, ৫ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা ছাড়াও ১০৮০ পিক্সেলে এইচডি ভিডিও ধারণযোগ্য ক্যামেরা এবং একটানা ১০ ঘণ্টার দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি ব্যাকআপ অন্যতম। ভারতে ওয়াইফাই এবং ফোরজি সংস্করণের আলাদা ৬টি মডেল প্রকাশ করা হয়েছে। আর রঙের মধ্যে আছে সাদা বা কালো। এদিকে মেমোরিতে এসেছে তিনটি ধাপ। ১৬, ৩২ এবং ৬৪ জিবির তিনটি সংস্করণ। তবে সবচেয়ে কমদামে এসেছে ১৬ জিবি মেমোরির ওয়াইফাইহীন মডেল। এ মুহূর্তে ভারতীয় রুপিতে এ আইপ্যাডের (১৬ জিবি) দাম ৩০ হাজার ৫০০ রুপি। এদিকে একই বৈশিষ্ট্যের ৩২ জিবি ৩৬ হাজার ৫০০ এবং ৬৪ জিবি ৪২ হাজার ৫০০ রুপিতে বিক্রি হবে।
অন্যদিকে ওয়াইফাই এবং ফোরজি এ দুটি বৈশিষ্ট্যের মেমোরি ভেদে আইপ্যাডের দাম পড়বে যথাক্রমে (১৬ জিবি) ৩৮ হাজার ৫০০, (৩২ জিবি) ৪৪ হাজার ৯০০ এবং (৬৪ জিবি) ৫০ হাজার ৯০০ রুপিতে পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়াও অ্যাপল সূত্র জানিয়েছে, ভারতে আইপ্যাড-২ মডেলের ন্যূনতম দাম হবে ২৪ হাজার ৫০০ রুপি।তৃতীয় প্রজন্মের আইপ্যাড নিয়ে প্রথম দফায় ১২টি দেশে আত্মপ্রকাশ করে নতুন আইপ্যাড। আর দ্বিতীয় দফায় তা কলম্বিয়া, ইসরায়েল, লাটভিয়া, লিথুনিয়া, দক্ষিণ অফ্রিকা এবং থাইল্যান্ড ছাড়াও বেশ কটি দেশে আত্মপ্রকাশ করছে। এ নিয়ে নির্বাচিত দেশগুলোর তরুণ সমাজে দারুণ উন্মাদনার সৃষ্টি হয়েছে। গত ১৬ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রে আইপ্যাডের নতুন মডেলের আত্মপ্রকাশের মাধ্যমে আবারও বিশ্বপ্রযুক্তিতে হইচই ফেলে দেয় অ্যাপল। এরই ধারাবাহিকতায় ভারতেও উন্মাদনা ছড়াতে এল আইপ্যাড।
শিশুর স্মৃতিশক্তি ও বুদ্ধি বাড়াতে আয়ুর্বেদ
হেলথ ডেস্ক
পরীক্ষার সময়ে সাধারণত মানসিক চাপ বেড়ে যায়। তাই এ সময়ে শিশুদের স্মৃতিশক্তি বাড়াতে এবং মানসিক চাপ কমাতে পরিবারের লোকজন চেষ্টার কমতি করেন না। বেশিরভাগ সময় তারা শিশুদের পুষ্টিকর খাবার কিংবা বিজ্ঞাপনে প্রভাবিত হয়ে সেসব খাবার দিয়ে থাকেন। এসব নিয়ে চিন্তিত মা কিংবা পরিবারের অন্য সদস্যদের জন্য ভালো খবর হলো যে, আয়ুর্বেদ মানসিক স্বাস্থ্য উন্নত করে, পরীক্ষার সময়ে চাপ এবং ভয় কমাতে নির্ভরযোগ্য সমাধান দিতে পারে। মানসিক স্বাস্থ্য কিংবা মনের সুস্থ্য ধারার উন্নতি অনেকাংশে নির্ভর করে ইন্দ্রিয়গুলোর অনুভূতির ওপর। ইন্দ্রিয়গুলোর কাজ যেমন- সচেতনতা, তীক্ষ্নতা, মনোযোগ, দৃষ্টিভঙ্গি ইত্যাদির ওপর, যা উন্নত স্মৃতিশক্তি তৈরিতে সাহায্য করে। আয়ুর্বেদ এর ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুর ক্ষীণ স্মৃতিশক্তি এবং বুদ্ধির জন্য অনেক কিছুই দায়ী থাকতে পারে। তবে এগুলোর জন্য প্রাথমিকভাবে অপুষ্টিকে দায়ী করা হয়ে থাকে। অনেক সময় মস্তিষ্কে রাসায়নিক ভারসাম্যহীনতার কারণেও ক্ষীণ স্মৃতিশক্তির অধিকারী হতে পারেন যে কেউ। তবে মস্তিষ্কে রাসায়নিক ভারসাম্যহীনতা দেখা দিতে পারে কোনো শারিরীক অসুস্থতা বা ওষুধ এর কারণে। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে বলা হয় যে, মাটি এবং পানির (কাফা দোশা) কারণে স্মৃতিশক্তির সমস্যা দেখা দেয়। অর্থাৎ মাটি এবং পানির দুর্বল অবস্থানই মনমানসিকতা নিস্তেজ করে দেয় এবং কোনো বিষয়ের প্রতি অনাগ্রহ সৃষ্টি করে।
টিপস: স্মৃতিশক্তি এবং বুদ্ধি বাড়াতে আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে কিছু পরামর্শ দেওয়া হয়েছে তা হলো-
আয়ুর্বেদ শাস্ত্র মতে বায়ু, অগ্নি, পানি এবং মাটি সবগুলোই স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। এদিকে বুদ্ধি ও তীক্ষèতা বাড়াতে এগুলোর কোনো বিকল্প নেই।
 খাদ্যাভাস: যদিও আর্য়ুবেদিক চিকিৎসা বিশেষ ধরণের ব্যক্তিগত খাদ্যাভাসের কথা বলে তবুও মৌলিক কিছু বিষয় না মানলেই নয়। যেমন:
১)    সতেজ এবং সবুজ শাকসবজি, গাজর, ফল, বাদাম, ঘি ইত্যাদি খাবার খেলে স্মৃতিশক্তি এবং বুদ্ধি বাড়ে।
২)    যতটা সম্ভব মাংস এবং মাখন জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।
৩)    মিষ্টি জাতীয় খাবার বেশি খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে আয়ুর্বেদ শাস্ত্র। তবে মিষ্টির মধ্যে মধু খাওয়াকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
৪)    কফি কম খেলে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায়।
জীবনযাপন: জীবনযাপনের মাঝে কিছু ছোটখাট পরির্বতন স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে। যেমন:
১)    দৈনন্দিন জীবন যাত্রায় শারীরিক কাজকর্মের পরিমাণ বাড়িয়ে দিন। এতে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
২)    যেসব শিশু প্রতিদিন ৩০ মিনিট খেলাধুলা করে তাদের বুদ্ধি সাধারণ শিশুদের তুলনায় দ্রুত বাড়ে।
৩)    যোগব্যায়াম স্মৃতিশক্তি উন্নত করতে সহায়তা করে।
৪)    আয়ুর্বেদের তৈরি ব্রাহ্মি তেল এবং হিমসাগর থাইলাম তেল ম্যাসাজ থেরাপি হিসেবে মানসিক চাপ কমায় এবং মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে। শিশুদের ওপর আয়ুর্বেদের এই তেল ম্যাসাজ করে দেখা গেছে যে, তাদের রক্তসঞ্চালন বাড়ে এবং শরীরে বিষক্রিয়া থাকে না। এছাড়া এই থেরাপি উদ্বেগ কমিয়ে দেয় এবং মনোযোগ বৃদ্ধি করে।
হারবাল পণ্য: প্রকৃতি থেকে প্রাপ্ত হারবাল পণ্যগুলো শিশুর জন্য খুবই ভালো। শিশুর মনোযোগ বৃদ্ধি করে, স্মৃতিশক্তি বাড়ায়, বুদ্ধিমত্তা বাড়ায় এবং উদ্বিগ্ন বা দুঃশ্চিন্তা থেকে প্রশান্তি দেয়।
১.    ব্রাহ্মি: ব্রাহ্মি মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালনে সাহায্য করে। রক্তসঞ্চালন দুঃশ্চিন্তা রোধ করে এবং মস্তিষ্ককে চাঙ্গা করে।
২.    ভৃঙ্গরাজ: ভৃঙ্গরাজ মানসিক সহনশীলতা বাড়ায়, স্মৃতিশক্তির সঙ্গে বুদ্ধিমত্তা বাড়ায়।
৩.    শাঙ্কা পুষ্পি: শাঙ্কা পুষ্পি হারবাল পণ্য মনোযোগ বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতিশক্তি এবং বুদ্ধিমত্তা বাড়ায়।
৪.    ত্রিফলা: ত্রিফলা বিপাকে, শরীরের কোষ গঠনে এবং মস্তিষ্কে ও কোষের পুষ্টি যোগায়।
যোগব্যায়াম: ব্যায়াম বিশেষ করে যোগব্যায়াম রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় যার ফলে মস্তিষ্কে অক্সিজেনের সরবরাহ বাড়ে। যা মনোযোগ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ানো, স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি ও বুদ্ধিমত্তা বৃদ্ধি, দুঃশ্চিন্তা হ্রাস, মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শক্রমে কয়েকধরণের যোগব্যায়াম করা যায়। সবশেষে মনে রাখা প্রয়োজন, কোন একটি নির্ধারিত ভেষজ উপাদান বা ওষুধ শিশুর মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি, বুদ্ধি বাড়াতে পারে না। সুষম খাদ্য, সঠিক জীবন শৈলী, ব্যায়াম ইত্যাদির সমন্বয়েই কেবল স্মৃতিশক্তি এবং মনোযোগ বাড়ানো সম্ভব।
শিরোপা জয়ে উৎসব হচ্ছে রিয়াল মাদ্রিদে
স্পোর্টস করেসপন্ডেন্ট

প্রথম গোলের পর থেকেই গ্যালারির দর্শকরা নাচতে থাকেন। রিয়ালের তাবুতেও উৎসবের হাওয়া লাগে। খেলা শেষ হওয়ার অপেক্ষায় প্রত্যেকে। রেফারি বাঁশিতে শেষ ফু দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উৎসব শুরু হয়ে যায়। অ্যাথলেতিকো বিলবাওকে ৩-০ গোলে হারানোর মধ্যদিয়ে লা লিগায় শিরোপা নিশ্চিত করে রিয়াল মাদ্রিদ। ২০০৮ সালের পর লিগে এটি তাদের প্রথম শিরোপা। আর সবমিলে ৩২তম। বার্সেলোনাকে টানা তিন মৌসুম শিরোপা উপহার দেওয়ার পর রিয়ালে যোগ দেন কোচ হোসে মরিনহো। দ্বিতীয় মৌসুমে এসে স্প্যানিশ লিগ চ্যাম্পিয়ন করালেন দলকে। তাও দুই খেলা বাকি থাকতে। প্রতিপক্ষ বার্সেলোনার সঙ্গে সাত পয়েন্ট ব্যবধানে এগিয়ে ছিলো রিয়াল। শিরোপার জন্য বুধবারের ম্যাচটা একটু বেশিই গুরুত্ব পাচ্ছিলো। কোনো রকম অঘটনের সুযোগ না দিয়ে বিজয় মুকুট পড়ে মাঠ ছাড়েন রিয়ালের খেলোয়াড়রা। অ্যাথলেটিকোর স্টেডিয়াম সান মামোতে প্রথম গোলটা করেছিলেন গঞ্জালো হিগুয়েন। পরে মেসুত ওজিল এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো আরও দুটি গোল করেন। দারুণ শুরু করে রিয়াল। স্বাগতিকদের ওপর চড়াও হয়ে খেলতে থাকে। ১১ মিনিটে পেনাল্টিও পায়। কিন্তু রোনলদো সোজা শট নিলে বল থামিয়ে দেন অ্যাথলেতিকোর গোলরক্ষক গারকা ইরাজজ। এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয় পেনাল্টি শট মিস করলেন রোনালদো। অবশ্য কিছুক্ষণ পরে গোল পায় রিয়াল। পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে চলন্ত বলে ২০ গজ দূর থেকে দর্শনীয় গোল করেন গঞ্জালো হিগুয়েন। জার্মান মিডফিল্ডার মেসুত ওজিল ব্যবধান দ্বিগুণ করলে জয় নিশ্চিত হয়। বিরতির পাঁচ মিনিটের মাথায় ব্যবধান আরেকবার বাড়িয়ে নেয় রিয়াল। কর্নার থেকে উড়ে আসা বল হেডে জালে জড়িয়ে দেন রোনালদো। লিগে এটি তার ৪৪তম গোল। অ্যাথলেতিকো কোনো গোল শোধ দিতে তো পারেইনি উল্টো ৭৩ মিনিটে ১০ জনের দলে পরিণত হয়েছে। দ্বিতীয় হলুদ কার্ড পাওয়ায় মাঠ থেকে বহিষ্কার হন মার্টিনেজ। ১০ জনের দলের বিপক্ষেও আর গোল করতে পারেনি রিয়াল। শেষপর্যন্ত ব্যবধান ৩-০ তেই থাকে। রিয়াল অধিনায়ক ইকার ক্যাসিয়াস শিরোপা উৎসর্গ করলেন সমর্থকদের উদ্দেশে, ‘অনেক কঠিন একটা মৌসুম ছিলো। একটা তরুণ দল নিয়ে শেষপর্যন্ত আমরা গন্তব্য খুঁজে পেয়েছি। সমর্থকদের জন্য এটা উৎসর্গ করলাম।’ চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে পেনাল্টি মিস করা সার্জিও রামোসও এদিন আত্মহারা, ‘আমি খুবই খুশি। লিগটা খুবই কঠিন হয়ে উঠেছিলো। বার্সা অসাধারণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। এই জয় সমর্থকদের জন্য।’ কোচ হোসে মরিনহো প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ‘আমাদের জন্য খুবই বড় অর্জন। মৌসুমে কেউ আমাদেরকে কিছু দেয়নি। শুরু থেকে শেষপর্যন্ত লড়াই করে জিতেছি। খেলোয়াড়রা খুব ভালো করেছে এবং তারা এই সাফল্য পাওয়ার যোগ্য।’চ্যাম্পিয়ন কোচ হিসেবে যার খ্যাতি জুটেছে সেই মরিনহোই বলছেন, ‘আমি পর্তুগালে, ইতালি এবং ইংল্যান্ডেও শিরোপা জিতেছি কিন্তু এটা ছিলো সবচেয়ে কঠিন।’
কিউই টেস্ট দলে নতুন দুই মুখ
স্পোর্টস ডেস্ক

 আগামি জুনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরকে সামনে রেখে টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য দল ঘোষণা করেছে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডে চমক না থাকলেও টেস্ট দলে প্রথমবারের মতো অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন নেইল ওয়াগনার ও তরুণ নেথুলা। ঘরোয়া লিগে দারুণ পারফরমেন্স করেই নির্বাচকদের নজর কেড়েছেন পেসার ওয়াগনার ও লেগস্পিনার নেথুলা। দক্ষিণ আফ্রিকান বংশোদ্ভূত ওয়াগনার প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট খেলা শুরু করেন স্বদেশে। এরপর নিউজিল্যান্ডে পাড়ি জমান এই পেসার। ২০০৮ থেকে ২০০৯ সালে ওটাগোর হয়ে কিউই ঘরোয়া ক্রিকেটে অভিষেক হয় তার। ২০১০ থেকে ১০১১ মৌসুমে প্লনকেট শিল্ডের সর্বোচ্চ (৪৬) উইকেট শিকারিও এই ক্রিকেটার।
টেস্ট দলে জায়গা পেলেও টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে থেকে বাদ পড়েছেন ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। এছাড়া চোট কাটিয়ে সীমিত ওভারের খেলায় দলে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন জ্যাকব ওরাম। সফরে দুটি টেস্ট, পাঁচটি ওয়ানডে ও দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে নিউজিল্যান্ড। ৩০ জুন প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে মুখোমুখি হবে উভয় দল। টেস্ট স্কোয়াড: রস টেলর (অধিনায়ক), ড্যানিয়েল ফ্লাইন, মার্টিন গুপটিল, ব্রেন্ডন ম্যাককালাম কেন উইলিয়ামসন, ডেন ব্রাউনলি, বিজে ওয়াটলিং, ক্রগার ভ্যান ওয়েক, ড্যানিয়েল ভেট্টোরি, তরুণ নেথুলা, ডোগ ব্রাসওয়েল, ট্রেন্ট বোওল্ট, নেইল ওয়াগনার, মার্ক গিলেপসি ও ক্রিস মার্টিন। ওয়ানডে স্কোয়াড: টেলর, রব নিকল, গুপটিল, ফ্লাইন, উইলিয়ামসন, ব্রাউনলি, ওয়াটলিং, টম লাথাম, জ্যাকব ওরাম, নাথান ম্যাককালাম, অ্যান্ড্রু এলিস, কাইল মিলস, ব্রাসওয়েল, টিম সাউদি ও তরুণ নেথুলা। টি-টোয়েন্টি স্কোয়াড: টেলর (অধিনায়ক), নিকল, গুপটিল, উইলিয়ামসন, ফ্লাইন, ব্রাউনলি, ওয়াটলিং, লাথাম, ওরাম, নাথান ম্যাককালাম, এলিস, মিলস, ব্রাসওয়েল, সাউদি ও রোন্নি হিরা। মুক্তি পেলেন আসিফ
স্পোর্টস ডেস্ক

স্পট ফিক্সিংয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার অপরাধে এক বছর কারাদণ্ড শেষে বৃহস্পতিবার ইংল্যান্ডের ক্যান্টাবারি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক পেস বোলার মোহাম্মদ আসিফ। ২০১০ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডস টেস্টে স্পট ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকায় মোহাম্মদ আসিফসহ পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক সালমান বাট, পেসার মোহাম্মদ আমির এবং এজেন্ট মাজহার মজিদকে কারাদণ্ড দেন আদালত। আসিফের আগে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন আমির। তবে আড়াই বছর দণ্ড হওয়ায় এখনো লন্ডনের কারাগারই রয়েছেন সালমান।
শিল্পের স্বীকৃতি : চলচ্চিত্রাঙ্গনে উৎসব আমেজ
বিনোদন প্রতিবেদক
এফডিসিতে ৩ মে দুপুরে দেখা গেল, শিল্পী-কলাকুশলী আর নির্মাতা-প্রযোজকদের মধ্যে উৎসব আমেজ। চলছে মিষ্টি বিতরণ। খোঁজ নিয়ে নিয়ে জানা গেল, চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট মানুষদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণের কারণেই চলছে মিষ্টি খাওয়া। অবশেষে সরকার চলচ্চিত্রকে শিল্প হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে চলচ্চিত্রকে শিল্পী হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ২০১০ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে গত ৩ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, সরকার চলচ্চিত্রকে শিল্প হিসেবে ঘোষণার সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত করেছে। শিগগিরই গেজেট আকারে তা প্রকাশ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী এই ঘোষনার বাস্তবায়ন হওয়ায় চলচ্চিত্রাঙ্গনে এখন বইছে আনন্দের হাওয়া। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিল্পমন্ত্রণালয়ের জারিকৃত গেজেট প্রজ্ঞাপনে চলচ্চিত্রকে শিল্প ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব (নীতি) মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান খান স্বাক্ষরিত এ গেজেট প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে - ‘আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, শিল্পী কলাকুশলীদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও চলচ্চিত্র শিল্পের নবজাগরণ সৃষ্টির লক্ষ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার চলচ্চিত্র শিল্প নির্মাণ, বিতরণ ও প্রজেকশন সংশ্লিষ্ট কর্মকান্ডকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা করেছে। এখন থেকে চলচ্চিত্রশিল্প অন্যান্য শিল্পের অনুরূপ যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্য হবে।’ বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে সূতিকাগার এফডিসিতে এই গেজেট প্রজ্ঞাপনের কপি পৌছার সঙ্গে সঙ্গে তৈরি হয়েছে উৎসাহ-উদ্দীপনা। চলচ্চিত্রকে শিল্প ঘোষণা করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়াকে অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিবেশক সমিতি, চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি, চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি, চলচ্চিত্র গ্রাহক সংস্থা, ফিল্ম এডিটর গিল্ড, সহকারী পরিচালক সমিতিসহ  চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সকল শিল্পী ও কলাকুশলী।
আমাদের মিডিয়ায় শ্রমজীবি মানুষের স্থান নেই: মামুনুর রশীদ
প্রীতি ওয়ারেছা
‘নাটক শুধু বিনোদন নয়, শ্রেণী সংগ্রামের সুতীক্ষè হাতিয়ার’ এই স্লোগান নিয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় নাট্যদল আরণ্যক প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আরণ্যক তাদের নাটকে মেহনতি মানুষের কথা বলার চেষ্টা করে আসছে বরাবরই। শ্রম-সংলগ্ন মানুষদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আরণ্যক প্রতি মে দিবসে আয়োজন করে বিশেষ অনুষ্ঠান। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। মহান মে দিবসকে সামনে রেখে আরণ্যক নাট্যদলের প্রধান সংগঠক নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদের মুখোমুখি হয়েছিল বাংলানিউজ। সম্প্রতি একুশে পদকপ্রাপ্ত এই নাট্যজনের সঙ্গে আলাপচারিতার নির্বাচিত অংশ তুলে ধরা হলো।
বাংলানিউজ :  ‘নাটক শুধু বিনোদন নয়, শ্রেণী সংগ্রামের সুতীক্ষè হাতিয়ার’, আরণ্যক নাট্যদলের এই স্লোগানের তাৎপর্য কি?
মামুনুর রশীদ : আরণ্যকের প্রেক্ষাপট নিয়ে কিছু কথা বলি। আরণ্যক প্রতিষ্ঠা করি ১৯৭২ সালে ১ সেপ্টেম্বরে। শুরুতে মুনীর চৌধুরীর ‘কবর’ নাটক দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলাম। তারপর করেছি আমার নিজের লেখা নাটক ‘পশ্চিমের সিঁড়ি’ আর ‘গর্ন্ধব্য নগরী’। আরণ্যক প্রতিষ্ঠার পরবর্তী ৪ বছর আমরা শুধু খুঁজেছি আমাদের পথের দিশাটা কি হবে? আমাদের একেবারে নতুন যাত্রা শুরু হল নাটক ’ওরা কদম আলী’ দিয়ে। এই নাটকটি সারাদেশে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। তারপর করলাম ‘ওরা আছে বলেই’ এবং ‘ইবলিশ’। এই নাটক তিনটিকে আমরা ত্রয়ীনাট্য বলি। এই ত্রয়ীনাট্যের মাধ্যমে আমরা আমাদের স্লোগান নির্ধারণ করতে পেরেছিলাম। আমরা আবিস্কার করেছি, নাটক শুধু বিনোদন নয় শ্রেণী সংগ্রামের সুতীক্ষè হাতিয়ার। আমরা মাঠ পর্যায়ে কাজ করে দেখেছি, আমাদের স্লোগান ভিত্তিহীন নয়। নাটক মানুষের মাথার ভেতরে সুতীক্ষèভাবে কড়া নাড়তে সক্ষম।
বাংলানিউজ : স্লোগানের সার্থকতা কতটুকু অর্জন করতে পেরেছেন?
মামুনুর রশীদ : কিছুটা তো পেরেছিই। হাজার হাজার দর্শক নাটক দেখে। আমাদের একটা গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম ছিল ‘মুক্ত নাটক আন্দোলন’। ১৯৮১ সাল থেকে আমরা গ্রামে গঞ্জে ঘুরে ঘুরে কাহিনী সংগ্রহ করেছি এবং স্থানীয় জনগণকে দিয়ে অভিনয় করিয়েছি। তাদের স্বতর্ফুত অংশগ্রহণ এবং বিষয়বস্তুর অনুধাবন রীতিমত বিস্ময়কর লেগেছে আমাদের কাছে। দর্শকদের মধ্যে তৈরি হয় ব্যাপক সচেতনতা, পাশাপাশি সচেতন হয়েছে আমাদের নাট্যকর্মীরা। আমাদের আন্দোলনের আরেকটা অংশ হল, পথ নাটক। আমাদের পথনাটক রাজনৈতিক পথভূমিকে গনতান্ত্রিক আন্দোলন, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলন সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে ব্যাপকভাবে প্রভাব ফেলেছে।
বাংলানিউজ : মহান মে দিবস আরণ্যক প্রতি বছরই পালন করে থাকে, এটা কেন? আপনাদের এবারের কার্যক্রম জানতে চাই?
মামুনুর রশীদ : মধ্যবিত্ত শ্রেণী বৈশাখ বা অন্য বিশেষ দিনগুলো যেভাবে উদযাপন করে মে দিবসে তাদের সেরকম সম্পৃক্ততা নেই। মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষের মধ্যে মে দিবসের মূল্যবোধ আর সংগ্রামী চেতনা পৌঁছে দেবার চেষ্টা থেকেই আরণ্যক প্রতিবছর মে দিবসটি পালন করে আসছে। এবারও মে দিবসে আরণ্যক গ্রহণ করেছে বিভিন্ন কর্মসূচী। সকাল ১০ টায় রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আরণকের আয়োজনে থাকছে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা । সেখানে পরিবেশিত হবে গান, কবিকন্ঠে কবিতা পাঠ, আবৃত্তি এবং নাটক পরিবেশিত হবে। এবার মোট তিনটি নাটক পরিবেশিত হবে। আমাদের সাথে অতিথিদল হিসাবে যোগ দিচ্ছে প্রাচ্যনাট। সকালে প্রাচ্যনাটের একটি নাটক এবং আরণ্যকের দুটি নাটক ‘ঘুমের মানুষ’ ও ‘আগুনের ডালপালা’ স্ট্রীট থিয়েটারে পরিবেশিত হবে। বিকাল ৪ টায় শিল্পকলার এক্সপেরিমেন্টাল হলে মে’ দিবস এবং আরণ্যকের ৪০ বছর পুর্তি উপলক্ষে একটি অলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় ‘আরণ্যকের ৪০ বছর, শ্রেণী সংগ্রাম ও মে দিবস’ নামে মূলপ্রবন্ধ পাঠ করা হবে। সন্ধ্যায় পরিবেশিত হবে আরণ্যকের নাটক ’ রাড়াঙ’। এই হচ্ছে আমাদের সারাদিনের কর্মসূচী।
বাংলানিউজ : শ্রেণী বৈষম্য বলতে আপনারা কি বোঝাতে চান?
মামুনুর রশীদ : আমাদের দেশে এই বৈষম্য ভয়াবহ আকারের। একদিকে বিত্তের পাহাড়, আরেক দিকে বিত্তহীনের হাহাকার। আমরা বিত্তহীন মেহনতি মানুষের জন্যে কাজ করছি। যারা পুঁজি করেছে তাদের কেউই এক দুই করে করে কিংবা সৎ ও সুস্থ উপায় অবলম্বন করে পুঁজি অর্জন করে নি। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে , অসদুপায় অবলম্বন এবং মানুষের অধিকারে খামচি দিয়ে লুটেরারা পুঁজির পাহাড় জমিয়েছে। তারা মানুষের অধিকারে হস্তক্ষেপ করে তাদেরকে সীমাহীন নিপীড়ন করে চলেছে। শ্রেণীর এই বৈষম্য কখনো মেনে নেওয়া যায় না। সবাইকে এক কাতারে আসতে হবে। সবাইকে সার্বজনিন সুবিধাভোগকারী পর্যায়ে থাকতে হবে।
বাংলানিউজ : নাটক দিয়ে আপনি কী বৃহত্তর রাজনৈতিক পটভূমি পরিবর্তন করার স্বপ্ন দেখেন ? এটা কী করে সম্ভব?
মামুনুর রশীদ : এটা ঠিক যে একমাত্র নাটক দিয়ে কখনই সমাজ পরিবর্তন সম্ভব না। আমি নিজেও এটা বিশ্বাস করি। আমরা মানুষকে আহবান করতে পারি, মানুষকে শিক্ষিত করে তুলতে পারি, মানুষের অধিকারবোধ জাগ্রত করতে পারি। শিক্ষা যে কাজটি করে ঠিক সেই কাজটিই আমরা করতে পারি। আমাদের আন্দোলনটি শিক্ষার পরিপূরক।
বাংলানিউজ : এবারের মে দিবস উপলক্ষে আরণ্যকের অনুষ্ঠানের মূল প্রতিপাদ্য কি?
মামুনুর রশীদ : রাজনীতির ক্ষেত্রে দ্বিদলীয় যে পুনরাবৃত্তি চলছে, এটার অবসান হওয়া দরকার। মেহনতি মানুষের জন্য কোন রাজনীতি নাই। তাদের কোথাও কোন অধিকার নাই। রাজনৈতিক ব্যক্তি গুম হলে তাকে নিয়ে বলার, তাকে নিয়ে হইচই করার মানুষ আছে। আপনি আমি গুম হলে বলার কেউ নেই। শ্রমিকদের স্বার্থ সম্পর্কিত যত রাজনৈতিক দল আছে তাদের কোন কার্যক্রম আমাদের দেশে নাই। মেহনতি মানুষের অধিকার অর্জনের জন্য শ্রমিক দলগুলোর পুনরোজ্জীবন দরকার।
বাংলানিউজ : দেশের অনেক নাট্যদলই নাটকের মাধ্যমে জনসচেতনতা সৃষ্টি করার দাবী জানিয়ে আসছে। কিন্তু এই সচেতনতা মানুষ কোথায় প্রয়োগ করবে এবং কিভাবে নিজের অধিকার আদায় করবে বলে আশা করেন?
মামুনুর রশীদ : অধিকারবোধ প্রয়োগ করার দায়িত্ব কিন্তু আমাদের না। প্রয়োগ এবং অধিকার দুটোই প্রতিষ্ঠা করবে পলিটিক্যাল পার্টি । মেহনতি মানুষদের জন্য আমরা পথনাটক করছি। মধ্যবিত্তদের জন্য মঞ্চ নাটক করছি। আমরা সচেতনতা বৃদ্ধি করছি। কিন্তু সচেতন হয়ে তারা যাবে কোথায়?  শেষ গন্তব্য কিন্তু পলিটিকস্। আমাদের কাজের সীমাবদ্ধতা এই সচেতনতা সৃষ্টি পর্যন্তই। আমি যে দক্ষতা অর্জন করেছি, নাটকের ক্ষেত্রে আমাকে এই পর্যন্তই থাকতে হবে। আমি রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে অধিকার আদায়ে নিবেদিত হওয়ার সামর্থ্য রাখি না। যার যা কাজ তাকে সেখান থেকে কাজ করে যেতে হবে। এখন যে অন্ধকারাচ্ছন্ন অবস্থা চারপাশে, সব জায়গায় যে নৈরাজ্য চলছে সেটা আরো অন্ধকারে ঘনিভূত হবে সামনে। একটা অভ্যুত্থান অবশ্যই ভেতরে ভেতরে আন্দোলিত হচ্ছে। অন্ধকারটাই কিন্তু দিন বদলের পূর্বাভাস। আমরা একটা জায়গা তৈরি করে দিয়ে যাচ্ছি, জনগণ নির্ধারণ করবে তাদের কর্তব্য। ভবিষ্যতে অবশ্যই সব অসামঞ্জস্যতার অবসান ঘটবে।
বাংলানিউজ : আপনার নাট্যদল নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য দেশের আপামর জনসাধারণকে কতখানি সচেতন করতে পেরেছেন?
মামুনুর রশীদ : এটা বলা খুব মুশকিল। এই বিষয়টা তো আসলে মানুষের চেতনার স্তরে স্তরে জমা হয়। হঠাৎ মৃদু বিস্ফোরনের মত আগুনের ফুলকি হয়ে মাঝে মাঝে দেখা দেয়। একটি কবিতা, একটি গান, একটি পেইন্টিং, একটি অনবদ্য নাটক সবগুলো মিলে মানুষের সেরিব্রাল সিস্টেমে একটা ঘটনা ঘটে। মানুষের মস্তিস্কের সেরিব্রাল সিস্টেমে অনেক বিষয় খুব দ্রুত প্রবেশ করে, আবার কোনটা অনেক সময় নিয়ে নেয়। আমাদের সেরিব্রাল সিস্টেম হয়ত বিষয়টা ধরতে পারছে না অথবা একটু বেশিই সময় নিচ্ছে। তবে আমরা আশাবাদী। আমরা অবশ্যই একদিন পুরো জাতিকে এক জায়গায় দাঁড় করাতে পারব। আমরা অনেক কিছুই পারিনি। আমরা জাতিকে বিরতিহীন বিদ্যুত ব্যবস্থা দিতে পারিনি। আমরা ৪০ বছরে একটা শহর সৃষ্টি করতে পারিনি। এটা হতে পারে না যে ১৬ কোটি মানুষের একটা মাত্র শহর ঢাকা। নির্বাহী ক্ষমতা এই একটি মাত্র শহরে আবর্তিত হচ্ছে। যারা ঢাকায় আসছে তারা আর ঢাকা থেকে বেরুচ্ছে না। শুধু কলকাতার কথাই যদি বলি তাহলে দেখব, দিনে আড়াই থেকে ৩ কোটি মানুষ। কিন্তু রাতেই মানুষের সংখ্যা ৫০ লাখে নেমে আসে। তাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা এমনই যে, গ্রাম থেকে প্রতিদিন যাতায়াত করা সম্ভব। তেমন একটা ব্যবস্থা আমরা করতে পারিনি ৪০ বছরেও।
বাংলানিউজ : আমাদের চলচ্চিত্রে ও টিভিনাটকে মেহনতি মানুষের কথা কতটুকু উঠে আসছে?
মামুনুর রশীদ : আমাদের চলচ্চিত্র ও টিভিনাটকে  মেহনতি মানুষ বরাবরই উপেক্ষিত। বানিজ্যিক চলচ্চিত্র মেহনতি মানুষকে বিনোদন দিতে নির্মিত হয়। সেখানে তারা দর্শক, বানিজ্যের ক্ষেত্র। টাকার বিনিময়ে বিনোদিত হয়। কিন্তু চলচ্চিত্রে শ্রমজীবি মানুষ নিজেকে খুঁজে পায় না। শ্রমজীবি মানুষদের নিয়ে টিভিনাটকও তৈরি হয় খুব কম। আমাদের মিডিয়ায় শ্রমজীবি মানুষের স্থান নেই। আসলে এখন সারাবিশ্বের যে পরিস্থিতি সেখানে কৃষক-শ্রমিকের রাজনীতি করারই তো কোনো অধিকার নেই। যারা রাজনীতি করতে পারে না, যাদের কণামাত্র ক্ষমতা নেই; তাদের কথা বলা বা শোনার মতো সময় কই ক্ষমতাবানদের!

বাংলানিউজ : এবারের মে দিবসে আপনার ভাবনা কী?
মামুমুর রশীদ : পাহাড় সমান বৈষম্য দূর করতে হবে। রাষ্ট্রকে মানবিক হতে হবে। রাষ্ট্র মানবিক হলে সবকিছুর অবসান হবে। আমরা কিন্তু রাষ্ট্র গড়তে পারিনি। রাষ্ট্র হল পক্ষপাত দুষ্ট রাষ্ট্র। আমি মনে করি, যিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন তিনি সব দলের প্রধানমন্ত্রী হবেন, শুধু নিজের দলের না। যিনি অন্য রাজনৈতিক দলের তার কি এদেশে কোন অধিকার নাই! সেই ব্যাক্তি যখন কোথাও নিজেকে উপস্থাপন করতে যাবে তখন সে বঞ্চিত হবে। বঞ্চনা গুলো বৃহত্তর হতে হতে রাষ্ট্রটা অমানবিক হয়ে গেছে। মানবিক রাষ্ট্রের আবেদন এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্রব্যবস্থা হোক মে দিবসের সংকল্প।
বাংলানিউজ : রাষ্ট্রকে মানবিক করে তুলতে আমাদের আর কত সময় লাগবে?
মামুনুর রশীদ : অনেক সময় লাগবে মনে হচ্ছে। আমরা ইতিহাসের একটা ক্রান্তিকালে এসে পৌঁছেছি। আমাদের রাজনীতিবিদদের মধ্যে রাজনৈতিক ইগো এতটা প্রকট যে সেটা জাতীয় স্বার্থের ঊর্দ্ধে উঠে গেছে। ঊর্দ্ধগমন থেকে মাটিতে নামতে যতটা সময় লাগার কথা, সে পর্যন্ত হয়ত অপেক্ষা করতে হবে। আমরা অপেক্ষা করছি।
জয়া আহসানের নতুন রূপ
বিপুল হাসান
 ‘ডুবসাতার’ আর ‘গেরিলা’-এর পর এবার নতুন এক জয়া আহসানের অভিষেক হচ্ছে বড়পর্দায়। এই সময়ের সেরা অভিনেত্রী জয়া আহসানের নতুন রূপ দেখার জন্য দর্শকদের খুব বেশি দিন অপেক্ষায় থাকতে হবে না। এই ঈদেই রোমান্টিক-অ্যাকশন চরিত্রে জয়া আহসান আসছেন রূপালী পর্দায়। একজন সাংবাদিক। হন্যে হয়ে ছুটছেন সংবাদের  পেছনে। একটা সময় এক ভয়ংকর অপরাধী চক্রের সুতোর নাগাল পেয়ে যান। আন্ডারওয়ার্ল্ডের সুতো ধরেই এগিয়ে যান উৎসের কাছাকাছি। এবার টনক নড়ে অপরাধীদের। কিডন্যাপ হন সাংবাদিক। অপরাধচক্রের সবচেয়ে দুর্ধর্ষ তরুণটির দায়িত্ব পড়ে তাকে জিম্মি করার জন্য। নাটকীয় মোড় নেয় গল্পের। ভালোবাসা দিয়ে সেই দুর্ধর্ষ তরুণটিকে আলোকিত পথের সন্ধান দেন সেই তরুণী সংবাদিক।
তরুণী সাংবাদিকের চরিত্রেই অভিনয় করেছেন জয়া আহসান আর আন্ডারওয়াল্ডের দুর্ধর্ষ তরুণের ভূমিকায় আছেন কলকাতার নায়ক ‘অটোগ্রাফ’ খ্যাত ইন্দ্রনীল। ছবির নাম ‘চোরাবালি’। পরিচালক রেদোয়ান রনী।
স্ক্রিণ হাউজ এন্টারটেইনমেন্টের প্রযোজনায় রেদোয়ান রনী পরিচালিত প্রথম ছবি ‘চোরাবালি’-এর শুটিং এরই মধ্যে শেষ হয়েছে।  আগামী ঈদে মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে চলছে ছবিটির পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ।
‘চোরাবালি’ ছবিটি সামনে রেখে বাংলানিউজ মুখোমুখি হয়েছিল জয়া আহসানের। ছবিতে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা জানিয়ে জয় বলেন, রেদোয়ান রনী কাজের সঙ্গে আমি আগেই পরিচিত। একটা নতুন কিছু করার প্রেরণা নিয়ে তিনি ছবিটি নির্মাণের কাজে হাত দেন। এ ছবিটিতে আমার অভিনয়টাও হুট করে নয়। সবকিছু দেখে শুনে বুঝেই অভিনয় করেছি। আমার দর্শকদের কোনভাবেই আমি কষ্ট দিতে চাই না। ছবির শুটিং শেষে বলবো, চোরাবালি টিম খুব সম্ভবত তাদের লক্ষ্যের খুব কাছাকাছি পৌছাতে পেরেছে। লক্ষ্য পুরোপুরি বাস্তবায়ন হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হবে মুক্তি পর্যন্ত। দর্শকরাই আসলে সবকিছুর চুড়ান্ত বিচারক। তাদের গ্রহণযোগ্যতা পেলেই স্বার্থক হবে আমার অভিনয়, স্বার্থক হবে ‘চোরাবালি’।
জয়া আহসানের সঙ্গে ছবিতে জুটি বেধে অভিনয় করেছেন বলিউডের কয়েকটি ছবির অভিনেতা ইন্দ্রনীল। জয়ার কাছে ইন্দ্রনীল সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সত্যি বলতে কী একসঙ্গে কাজ করার আগে আমি আমার কো-আর্টিস্ট ইন্দ্রনীলের কোনো ছবি দেখি নি। পরে অবশ্য ‘অটোগ্রাফ’ ছবিটি দেখি। অসম্ভব ভালো অভিনয় করেছেন সেখানে ইন্দ্রনীল। তার সঙ্গে আমি ‘চোরাবালি’-তে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যেই অভিনয় করেছি। তার সঙ্গে কাজ করে আমি তৃপ্ত। ছবিতে আমাদের দু’জনার ক্যামেস্ট্রিটাও নাকি ছিল দারুণ মাননসই, এটা আমার কথা নয়।  এখন পর্যন্ত যারা এ ছবির রাফকাট দেখেছেন, তারাই আমাকে জানিয়েছেন।
আসছে ঈদে প্রথমবার রোমান্টিক-অ্যাকশন চরিত্রে নতুন এক জয়া আহসান দর্শকদের সামনে আসছেন, এ প্রসঙ্গে জয়া অনুভূতি জানতে চাইলে বললেন, আমিও আগ্রহের সঙ্গে অপেক্ষায় আছি। এ ছবিতে আমাকে দর্শক কীভাবে নেন, তা জানার জন্য এখন থেকেই বেশ কৌতুহল অনুভব করছি। আমাদের দেশে ঈদ হলো সবচেয়ে বড় উৎসব। এই উৎসবে ছবিটি মুক্তি পেলে ঈদের আনন্দ ও ছুটি উপভোগের পাশাপাশি দর্শক ছবিটি উপভোগ করবেন বলে আমার বিশ্বাস। আশা করছি, সব ধরনের দর্শকেরই চোরাবালি টিমের কাজটি ভালো লাগবে।  সিনেমা হলে টিকিট কেটে ছবিটি দেখার জন্য দর্শকের ভিড় দেখলে আরো বেশি ভালো লাগবে।
joya‘চোরাবালি’ ছবিটির শুটিংয়ের পর পরই গত মাসে জয়া আহসান কলকাতার একটি ছবির শুটিং শেষ করেছেন। অরিন্দম শীল পরিচালিত এ ছবির নাম ‘আবর্ত’। এতে জয় আহসানের বিপরীতে অভিনয় করেছেন কলকাতার সবচেয়ে প্রতিশ্র“তিশীল নায়ক আবীর চট্টোপাধ্যায়।
এ ছবিতে অভিনয় প্রসঙ্গে জয়া আহসান বললেন, কলকাতায় এখন অনেক মান সম্পন্ন ছবি তৈরি হচ্ছে। তেমনি সেখানকার মূলধারার একটি মানসম্পন্ন ছবি ‘আবর্ত’। ছবিটির গল্প আমার কাছে অসাধারণ মনে হয়েছে। এতে আমাকে দেখা যাবে এক এনজিও কর্মীর ভূমিকায় অভিনয় করতে।  ‘আবর্ত’ ছবিতে আমার চরিত্রের নাম চারু। খুবই সুন্দর একটি চরিত্র। আমার সঙ্গে সবসময় থাকেন বিবি চরিত্রের লকেট। ছবির আরেক নায়িকা হচ্ছেন রেশমী ঘোষ। ছবিটির শুটিংয়ের সময় লকেটজি, রেশমী আর আবীরের সঙ্গে আমার চমৎকার বন্ধুত্ব গড়ে উঠে। শুটিংয়ের পুরো সময়টা আমি দারুণ উপভোগ করেছি।
এবারের ঈদে বড়পর্দায়  নতুনরূপে জয়া আহসান আসলেও পথচলার প্রধান জায়গা ছোটপর্দাতেও তাকে দেখা যাবে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ঈদের জন্য বেশ কিছু নাটক আর টেলিফিল্মের অফার এসেছে। আমি এখনও যাচাই-বাছাইয়ের মধ্যে আছি। অভিনয়জীবনের এই পর্যায়ে পৌছে অভিনয় করার মতো কোনো কিছু না থাকলে সেই চরিত্রে কাজ করতে ইচ্ছে করে না। তবে হাতে আসা স্ক্রিপ্টের মধ্যে কয়েকটা অবশ্যই আমার ভালো লেগেছে। শিডিউল মেলাতে পারলে অবশ্যই আমি এই ঈদেও ছোটপর্দার দর্শকদের সামনে নতুন কিছু নিয়ে আসবো। ভালোবাসি গান নিয়ে স্বাগতা 
বিনোদন প্রতিবেদক


স্বাগতা কেবল একজন অভিনেত্রীই নয়, একই সঙ্গে একজন কণ্ঠশিল্পী ও উপস্থাপিকা। নতুন একটি গানের অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করছেন তিনি। বড়ুয়া মনোজিত ধীমানের প্রযোজনায় ‘ভালোবাসি গান নিয়ে’-এর উপস্থাপনায় তাকে দেখা যাবে শিগগিরই।
অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা প্রসঙ্গে স্বাগতা বাংলানিউজকে বলেন, অনুষ্ঠানটির বিষয় আর আঙ্গিক আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে বলেই এটি উপস্থাপনায় আগ্রহী হয়েছি। এতে আমাদের দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সঙ্গীত প্রতিভাগুলোকে তুলে ধরা হবে। আমি নিজেও একজন কণ্ঠশিল্পী। অভিনেত্রী বা মডেল হিসেবে দেশে আমার যে পরিচিতি রয়েছে, কণ্ঠশিল্পী হিসেবে তা নেই। তারপরও আমি গান করতে ভালোবাসি। এটা আমার আত্মার খোরাক।
স্বাগতা আরো বললেন, আমরা যে মাধ্যমেই কাজ করি না কেন, পরিচিতি আর সাফল্যের জন্য একটি প্লাটফর্ম দরকার পড়ে। আমি যখন নতুন ছিলাম, তখন মিডিয়াতে কাজের বিষয়ে অনেকে নানাভাবে পরামর্শসহ বিভিন্ন উপায়ে আমাকে সহযোগিতা করেছেন। কারও সহযোগিতা না পেলে আমি হয়তো হারিয়ে যেতাম। আমি মনে করি, এই সঙ্গীতানুষ্ঠানটি নতুন শিল্পীদের জন্য একটি প্লাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। আমরা নবীন শিল্পীদের সহযোগিতা করতে চাই ‘ভালোবাসি গান‘ অনুষ্ঠানটির মধ্য দিয়ে। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনায় স্বাগতাকে বেছে নেওয়া প্রসঙ্গে নির্মাতা বড়ুয়া মনোজিত ধীমন বলেন, স্বাগতা জনপ্রিয়তা পেয়েছে অভিনয়ের জন্য। পাশাপাশি তিনি গান করছেন সেই ছোটবেল থেকে। গানে আছে তার বেশ ভালো দখল। এ অনুষ্ঠানটি নবীন শিল্পীদের নিয়ে। নবীনদের স্বাগতা খুব সহজেই কমিউনিকেট করতে পারবে বলে আমার ধারণা। অনুষ্ঠানটি তৈরি করছি আমরা জি-টিভিতে প্রচারের জন্য।
নতুন বিজ্ঞাপনে নিপুন
বিনোদন প্রতিবেদক

ঢালিউডের ফটোজেনিক নায়িকা নিপুন। বড়পর্দার পাশাপাশি ছোটপর্দার বিশেষ বিশেষ নাটকে ইদানিং অভিনয় করছেন। মডেলিংয়ে নিপুণ দ্যুতি ছড়াতে শুরু করেছেন। এবার তিনি হাতে মেহেদির আল্পনা একে ক্যামেরার সামনে দাড়ালেন। হারবাল ব্র্যান্ড মমতাজ প্রোডাক্টের ‘কালার মেচিং মেহেদি’-এর মডেল রূপে তাকে নতুন বিজ্ঞাপনে দেখা যাবে। মমতাজ প্রোডাক্টের আরো দুটি রূপচর্চার পণ্য মমতাজ উপাটান ও মমতাজ হারবালের টিভি ও প্রিন্ট বিজ্ঞাপনের মডেলিংয়ে এর আগে নিপুনকে দেখা গেছে। প্রতিদিনই এখন নিপুন হাসিমুখে টিভি-দর্শকদের সামনে আসছেন। বর্তমানে বিভিন্ন চ্যানেল প্রচারিত হচ্ছে তার বেশ কিছু বিজ্ঞাপন। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কোমল পানীয় প্রাণ-আপ কোলা, ওয়ালটন জেনারেটর, এলিট কালার পেইন্ট, মিতালী টেক্সটাইলস, কিশোয়ান মশলা ইত্যাদি।
ঢালিউডে নায়িকা নিপুনের নতুন ছবি ‘বাজারের কুলি’ মুক্তি পাচ্ছে আগামী মে মাসের চার তারিখে। মনতাজুর রহমান আকবর পরিচালিত এ ছবিতে নিপুন বড়পর্দার ‘বিগহিরো’ খেতাবপ্রাপ্ত ডিপজলের বিপরীতে অভিনয় করেছেন।
বর্তমানে হাফডজনেরও বেশি ছবিতে অভিনয় করছেন। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘জান তুমি প্রাণ তুমি’, ‘এই তো ভালোবাসা’, ‘কাছে এসো ভালোবাসো’, ‘আত্মদান’, ‘অন্তর্ধান’, ‘ধন্যবাদ হে ভালোবাসা’ প্রভৃতি।
  
জুটি বেঁধে নাচতে হবে!
বিপুল হাসান
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
পারফর্মিং আর্টের অন্যসব শাখার মতোই আধুনিক নৃত্যেও জুটিপ্রথা বেশ সমাদৃত। উপমহাদেশের নৃত্যাঙ্গনে জুটি প্রথা প্রবর্তনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন নৃত্যগুরু উদয় শংকর। রাশিয়ান নৃত্যশিল্পী ব্যালেরিনা অ্যানা পাভলোভার সঙ্গে তিনি জুটি গড়ে তোলেন ১৯২৩ সালে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তাদের যুগলনৃত্য রাধা-কৃষ্ণ বেশ প্রশংসিত হয়। সেই থেকে শুরু। এরপর যুগে যুগে পাদপ্রদীপের আলোয় উঠে এসেছে কতো না ঝলমলে নৃত্যজুটি। এই ধারা আজও বহমান আছে আমাদের নাচের জগতে।
প্রথম প্রজন্মের নৃত্যজুটি
binodonভারতীয় উপমহাদেশে পন্ডিত উদয় শংকরকে আধুনিক নৃত্যকলার অন্যতম জনক বলা হয়। তিনিই রুশ-সুন্দরী ব্যালেরিনার সঙ্গে নান্দনিকভাবে নেচে যুগলনৃত্যের আলাদা আমেজ ছড়িয়ে দেন এক মঞ্চ থেকে আরেক মঞ্চে। ব্যালেরিনার সঙ্গে উদয় শংকরের নৃত্যজুটি অবশ্য দীর্ঘস্থায়ী হয় নি। প্রায় বছর খানেক এই জুটি ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন পেশাদার রঙ্গমঞ্চে নৃত্যের ঝড় তোলে। উদয় শংকর সবচেয়ে সফল জুটি গড়ে তুলেছিলেন প্যারিসের পিয়ানোশিল্পী সিমন বার্বিং সিংকির সঙ্গে।। নৃত্যগুরুর কাছে নাচ শিখতে এসেছিলেন সিংকি। নেহাত ঝোঁকের বশে সিংকি আব্দার ধরেন গুরুর সঙ্গে নাচার। তারা জুটি বেঁধে নাচতে শুরু করার পর এতোই প্রশংসিত হলেন যে, বিভিন্ন দেশের রঙ্গমঞ্চ দাঁপিয়ে বেড়ান প্রায় ১০ বছর। এরপর জীবনের পড়ন্তবেলায় উদয় শংকর তার ভারতীয় ছাত্রী শ্রীমতি অমলার সঙ্গে গড়ে তোলেন আরেকটি সফল নৃত্যজুটি।  খণ্ডনৃত্যের পাশাপাশি বহু নৃত্যনাট্যে তারা জুটিবদ্ধ হয়ে নেচে ব্যাপক সাফল্য পান। নৃত্যজুটি থেকে একসময় তারা জীবনজুটিও হয়ে যান। ভারতীয় আধুনিক নৃত্যের প্রথম যুগে সফলতা পেয়েছিলেন আরো বেশ কিছু জুটি। যাদের মধ্যে কুচিপুড়ি নৃত্যগুরু রাজা রেতি-রাধা রেতি, পণ্ডিত বিরজু মহারাজ-শাশ্বতী সেন এবং বনশ্রী রাও-জয় রমারাও আজও স্মরণীয় হয়ে আছেন।
দেশীয় নৃত্যাঙ্গনে জুটিপ্রথা এলো যেভাবে
দেশীয় নৃত্যাঙ্গনে নৃত্যগুরু বুলবুল চৌধুরী সাফল্যের সঙ্গে জুটিপ্রথা যুক্ত করেন। বুলবুল চৌধুরীর কাছে নাচের তালিম নেন আফরোজা বুলবুল। এরপর তারা জুটি বেঁধে দেশ-বিদেশের বহু মঞ্চে নেচে ব্যাপক প্রশংসিত হন। একসময় তারা বিয়ে করেন এবং দেশে নৃত্যকলা বিকশিত করার জন্য প্রতিষ্ঠিত করেন বুলবুল ললিতাকলা একাডেমী। আজকের বহু প্রতিষ্ঠিত নৃত্যশিল্পীই এই একাডেমী থেকে বেরিয়ে এসেছেন ।
দর্শকদের কাছে অভিনেত্রী হিসেবে জনপ্রিয়তা পাওয়ার আগে প্রয়াত রওশন জামিল সুপরিচিত ছিলেন নৃত্যশিল্পী হিসেবেই। তার নৃত্যগুরু ছিলেন গওহর জামিল। পরিবারের অমতেই রওশন জামিল নৃত্যশিক্ষক গওহর জামিলের সঙ্গে নাচতে শুরু করেন। একদিকে দর্শকদের ব্যাপক প্রশংসা পায় এই নৃত্যজুটি, অন্যদিকে পারিবারিকভাবে বাঁধার মুখোমুখি হন রওশন জামিল। একসঙ্গে জুটি বেঁধে নৃত্য পরিবেশন চালিয়ে যেতে তারা একসময় জীবনসঙ্গী হয়ে যান।
স্বাধীনতার আগে এদেশের নৃত্যাঙ্গনে আরো কয়েকটি নৃত্যজুটি সুপরিচিতি পেয়েছিল। এসব নৃত্যজুটির মধ্যে অন্যতম হলো জিএ মান্নান-রাহিজা খানম ঝুনু , আলতামাস আহম্মেদ-শাহেদা আলতামাস,  রাহিজা খানম ঝুনু-দুলাল তালুকদার প্রমুখ। শুধু দেশ-বিদেশের মঞ্চেই নয়, ঢাকায় টেলিভিশন সম্প্রচার শুরু হলে উল্লেখিত নৃত্যজুটিরা জনপ্রিয় অনেক যুগলনৃত্য, খন্ডনৃত্য ও নৃত্যনাট্য উপহার দেন।
স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ের নৃত্যজুটি
binodonস্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের নৃত্যাঙ্গনে উজ্জ্বল হয়ে উঠেন হাসান ইমান। তার সঙ্গে গড়ে উঠে পরপর কয়েকটি নৃত্যজুটি। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত হাসান ইমাম-অঞ্জনা রহমান নৃত্যজুটি বেশ জনপ্রিয় ছিল। পরবর্তীতে অঞ্জনা চলচ্চিত্রে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় খুব বেশিদূর যেতে পারে নি এই জুটি। এরপর হাসান ইমাম জুটি গড়ে তোলেন নৃত্যশিল্পী জিনাত বরকতুল্লাহর সঙ্গে। প্রায় ১০ বছর ধরে এই জুটি দেশ-বিদেশের অসংখ্য স্টেজ শোতে পারফর্ম করেন। ২৫টি দেশে তারা পল্লীকবি জসিমউদ্দিনের ‘নকশি কাঁথার মাঠ’ নৃত্যনাট্য পরিবেশন করে ব্যাপক খ্যাতি পান। দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনেন।
নৃত্যে অসামান্য মেধা ও দক্ষতার অধিকারী হাসান ইমামের সঙ্গে আশির দশকের শুরুতে শামীম আরা নীপা গড়ে তোলেন চমৎকার একটি জুটি। অনেক জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন তারা । একসঙ্গে নাচতে নাচতেই তাদের মন-বিনিময় হয়ে যায় । ১৯৮৩ সালে তারা বিয়ে করেন। বিয়ের পর বছরখানেক তারা পারফর্মেন্স চালিয়ে যান ১৯৮৫ সালে দাম্পত্যজীবনের অবসানের সঙ্গে সঙ্গে তাদের নৃত্যজুটিও ভেঙ্গে যায়।
আদর্শ ও সার্থক নৃত্যজুটি
বাংলাদেশের নৃত্যাঙ্গনে সবচেয়ে দীর্ঘ ও আলোড়ন জাগানো নৃত্যজুটি শিবলী মুহম্মদ ও শামীম আরা নীপা। হাসান ইমামের সঙ্গে সংসার ও নৃত্যজুটি ভেঙ্গে যাওয়ার পর শামীম আরা নীপা নাচতে শুরু করেন শিবলী মুহম্মদে সঙ্গে। সময়টা ছিল ১৯৮৫ সাল।  জনপ্রিয়তার দেখা পান। ১৯৮৯ সালে শিল্পকলা একাডেমীর আয়োজনে তারা ইতালির ৯টি শহরে ‘নকশি কাঁথার মাঠ’ নৃত্যনাট্যটি পরিবেশন করেন। অনবদ্য যুগল পরিবেশনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের সুপরিচিত করে তোলে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশসহ আমেরিকা, কানাডা আর অস্ট্রেলিয়ায় আমন্ত্রিত হয়ে এই নৃত্যজুটি নাচ পরিবেশন করেন। শিবলী মুহম্মদ আর শামীম আরা নীপা দুজনের মতেই, তাদের জুটির টার্নিং পয়েন্ট ছিল ইতালি সফর।  এরপর থেকে টিভিতে, ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানে, সরকারি-বেসরকারি আয়োজনে নৃত্যের ঝংকারে দেশ-বিদেশের মঞ্চ মাতিয়ে চলেছেন এ জুটি। ব্যক্তিজীবনে নিটোল বন্ধুত্ব ধরে রেখে শিবলী মুহম্মদ ও শামীম আরা নীপা একসঙ্গে গঠন করেছেন নৃত্যাচর্চা প্রতিষ্ঠান নৃত্যাঞ্চল। এই প্রতিষ্ঠান থেকে নৃত্যের বিভিন্ন শাখায় তালিম নিচ্ছেন নতুন প্রজন্মের শিল্পীরা।
এ সময়ের জনপ্রিয় নৃত্যজুটি
শিবলী-নীপা জুটির তুমুল সাফল্যের পর যুগলনৃত্যে সাফল্য পেয়েছে নাদিয়া-লিখন জুটি।  প্রায় একযুগ ধরে তারা জুটি বেঁধে নৃত্যপরিবেশন করে চলেছেন। নিঃসন্দেহে  নাদিয়া-লিখনকে এই সময়ের সেরা নৃত্যজুটি বলা যায়। টিভিতে, মঞ্চে, খণ্ডনৃত্যে, নৃত্যনাট্যে সবখানেই আছে এই জুটির উজ্জ্বল উপস্থিতি। সৌন্দর্য, পারস্পরিক বোঝাপড়া আর অভিব্যক্তির অনন্যতায় তারা জয় করেছেন দর্শকহৃদয়।
binodonনাদিয়া-লিখনের আগে নব্বুইয়ের দশকের মাঝামাঝিতে জনপ্রিয়তা পেয়েছিল সোহেল রহমান-রিয়া জুটি। নৃত্যাঙ্গনের সর্বত্রই ছিল সোহেল-রিয়া জুটির উপস্থিতি। গ্ল্যামারাস এই জুটির সম্ভাবনার ইতি ঘটে বিয়ে করে রিয়া মধ্যপ্রাচ্যে চলে যাওয়ার পর। রিয়ার অনুপস্থিতিতে সোহেল রহমান বর্তমানে জুটি গড়ে তুলেছেন নবীন অভিনেত্রী ও মডেল শখের সঙ্গে। তবে এখনো এই জুটি সেইভাবে তাদের সাফল্য প্রমাণ করতে পারে নি। দর্শকদের কাছে বর্তমানে নাদিয়া-লিখনের পরপরই পছন্দের নৃত্যজুটি হলো আনিসুল ইসলাম হিরু-চাঁদনী জুটি। বৈচিত্রময় পরিবেশনা দিয়ে তারা আলোচনায় উঠে এসেছে। বাংলাদেশের নৃত্যাঙ্গনে সবচেয়ে জনপ্রিয় শিল্পী হলেন সাদিয়া ইসলাম মৌ। নৃত্যশিক্ষক কবিরুল ইসলাম রতনের সঙ্গে তাকে বেশ কিছু  স্টেজ পারফর্মেন্সে অংশ নিতে দেখা গেছে। অনেক সম্ভাবনা থাকলেও করিরুল ইসলাম রতন- সাদিয়া ইসলাম মৌকে মাঝেমধ্যেই কেবল একসঙ্গে নাচতে দেখা যায়। নৃত্যপরিবেশনে এই জুটি অনিয়মিত হওয়ায় তাদের ঘিরে সেইভাবে ক্রেজ তৈরি হয় নি।
ওরা আসছে !
বাংলাদেশের নৃত্যাঙ্গনের নবীনশিল্পীরাও  ইদানিং সিনিয়রদের দেখানো পথে হাটতে শুরু করেছেন। কারণ সিনিয়রদের দেখে তারা বুঝে জুটি বেধেঁ না নাচলে হালে পানি পাবেন না। নতুন প্রজন্মের বেশ কয়েকটি নৃত্যজুটি এরই মধ্যে আলোচনায় ওঠে এসেছেন। যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন ইভান শাহরিয়ার সোহাগ-নিসা, ফারহানা চৌধুরী বেবী-আবদুর রশিদ স্বপন, আমিনুল ইসলাম মনি-ইলা, অনীক বসু-স্মিতা দে, শহীদুল ইসলাম বাবু-চিত্রা, তুষার-আনিকা, উপমা-রণবীর মুকুল-মুক্তি প্রভৃতি নৃত্যজুটি। এদের মধ্য থেকেই নিশ্চয়ই আমরা পাবো আগামী দিনের বিশ্ব  কাপাঁনো নক্ষত্রখচিত নৃত্যজুটি।
আজকের প্রজন্মের মেধাবী আর ঝলমলে নাচিয়েদের প্রত্যেকের মধ্যেই এখন এক আওয়াজ... জুটি বেধেঁ নাচতে হবে !
একুশের ধারাবাহিক নাটক ‘রঙ্গিলা’
বিনোদন প্রতিবেদক

একুশে টিভির ধারাবাহিক নাটক ‘রঙ্গিলা’ এরই মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আব্দুস সালামের কাহিনী ও রিজওয়ান খানের চিত্রনাট্যে এটি পরিচালনা করেছেন কায়সার আহমেদ। এতে অভিনয় করেছেন আমিরুল হক চৌধুরী, চিত্রলেখা গুহ, নওশীন, ঈশানা,  শহীদুজ্জামান সেলিম, মীর সাব্বির, অবিদ রেহান ও একঝাঁক মডেল। ধারাবাহিক নাটকটি প্রতি প্রতি শুক্রবার ও শনিবার রাত ৯টা ৩০ মিনিটে প্রচারিত হচ্ছে।
একটি মধ্যবিত্ত পরিবারাকে নিয়ে নাটকের কাহিনী গড়ে উঠেছে। এতে দেখা যাবে, ঐশী মধ্যবিত্ত রক্ষণশীল পরিবারের একমাত্র মেয়ে। সারাক্ষণ পর্দা মেনে চলে, কখনও মাথা থেকে কাপড় পড়ে না। বাবা-মায়ের কাছে সে আদর্শবাদী মেয়ে। প্রতিবেশীরা তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। অন্যদিকে ইউনিভার্সিটির ঐশীকে চেনার উপায় থাকে না। বদলে যায় তার চাল চলন- পরনে তার লেটেস্ট মডেলের প্যান্ট, শার্ট, হেয়ার স্টাইল। সুদর্শন যুবকদের হৃদয়ে ঝড় তোলা ঐশী তখন আধুনিক একটা মেয়ে। ক্যাম্পাসে গ্র“পের শিরোমণি। প্রেমের ক্ষেত্রে ঐশীর আরেক রুপ প্রকাশ পায়। রবিন নামের মধ্যবয়সী ব্যবসায়ীর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক তার। মাঝে মধ্যে ক্লাস ফাঁকি দিয়ে সে রবিনের ফ্ল্যটে যায় , তাকে নিয়ে লংড্রাইভে যায়। একদিন রবিনের গাড়িতে যাচ্ছিল ঐশী, ট্রাফিক সিগনালে গাড়ি দাঁড়ালে একটা রিকশা পাশে এসে দাঁড়ায়। গাড়িতে ঐশীকে দেখে তার বাবা চমকে ওঠেন। ঐশী বাবা-মাকে বোঝাতে পারে যে, গাড়ির মেয়েটা সে হতে পারে না। আরেকদিন ঐশীর মামা একই অবস্থা দেখে। বাবা-মার সন্দেহ হয়। নাটকের মোড় ঘুরে যায় যখন অমিতের সাথে ঐশীকে দেখা যায়, ত্রিমাত্রিক দ্বন্দ্ব শুরু হয়, একটার পর একটা নাটকীয় ঘটনা ঘটতে থাকে।
আমি এখন উত্তেজনার মধ্যে আছি : মোনালিসা
অনন্যা আশরাফ

নাচের দুরন্ত উড়াল পঙ্খী মোজেজা আশরাফ মোনালিসা । নাচ শিখেছেন সেই ছোটবেলা থেকে। মডেলিং আর অভিনয় তাকে তারকা খ্যাতি এনে দিলেও পোষা ময়নার মতো নাচকে আগলে রেখেছেন আদরে আদরে। মোনালিসাকে কখনো কখনো নাচতে দেখা যায় দেশ-বিদেশের বড় বড় স্টেজ শোতে। টিভিপর্দায় একাধিক বিজ্ঞাপনচিত্রে প্রতিদিন বহুবার এই গ্ল্যামার গার্লের মিষ্টি হাসি দর্শকরা দেখতে পেলেও  বছরে বড়জোর দু’একবার বিশেষ বিশেষ দিনে তাকে নৃত্যের ঝংকার তুলতে দেখা যায়। তাই বলে নাচকে অবহেলা করছেন, এটি বলা যাবে না মোটেও। বাসায় প্রতিদিন না হলেও সপ্তাহে দু’তিন দিন নৃত্যচর্চা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
প্রতি বছরের মতো এবারও ২৯ এপিল রোববার বিশ্ব জুড়ে উদযাপন করা হচ্ছে আন্তর্জাতিক নৃত্যদিবস। বাংলাদেশের ছোটবড় বিভিন্ন শহরে উৎসব-আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে দিনটি পালন করছেন নৃত্যশিল্পীরা। বিশ্বের সব নৃত্যশিল্পীর উৎসবের এইদিনে আমাদের প্রিয়মুখ মোনালিসা কী করছেন?  এরকমই কিছু প্রশ্ন নিয়ে আন্তর্জাতিক নৃত্যদিবসে তার মুখোমুখি হয় বাংলানিউজ।
বাংলানিউজ : আন্তর্জাতিক নৃত্যদিবসটি কীভাবে পালন করছেন?
মোনালিসা : আন্তর্জাতিক নৃত্য দিবসে ঘরে বসে হরতাল পালন করছি। এই দিনটি সামনে রেখে বেশ কিছু পরিকল্পনা ছিল আমার। আজকে অনেক জায়গায় নাচের অনুষ্ঠান হচ্ছে, নাচ নিয়ে সেমিনার-এক্সবিশন হচ্ছে। নাচের উৎসব চলছে শিল্পকলায়। খুব ইচ্ছে ছিল নৃত্যদিবসের সারাটা ঘুরে ঘুরে নানা অনুষ্ঠানে যাবো। নৃত্য-সংগঠনগুলোতে আমার অনেক বন্ধুরাই জড়িত। ভেবেছিলাম তাদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ হবে, তাদের পারফর্মেন্স দেখবো। এ জন্য এইদিন কোনো শুটিং রাখিনি। কিন্তু তা আর হলো না। হরতালে ঘরে বসেই নৃত্য দিবস উদযাপন করতে হচ্ছে।
বাংলানিউজ : শুধুই অনুষ্ঠান দেখার পরিকল্পনা! আন্তর্জাতিক নৃত্যদিবসের কোন অনুষ্ঠানে  পারফর্ম করার পরিকল্পনা ছিল না?
মোনালিসা: আসলে চাইলেই তো স্টেজে উঠে নৃত্য পরিবেশন করা যায় না। নাচের জন্য দরকার প্রস্তুতি আর প্র্যাকটিস। কাজ নিয়ে একটানা কিছুদিন খুব ব্যস্ত ছিলাম। গতমাসে সপ্তাহ দুয়েক কাটিয়ে এলাম ভারতে। ২টি নতুন বিজ্ঞাপনের শুটিং শেষ করে দেশে ফিরি। কিছুদিন দেশের বাইরে থাকায় অনেক কাজ জমে গিয়েছিল। এসেই নাটকের কাজ শুরু করতে হয়েছে। বিশ্রাম নেওয়ারও সময় পাই নি। নাচের প্রস্তুতি নেব কীভাবে ! তবে আন্তর্জাতিক নৃত্যদিবসে অন্যদের নাচ উপভোগ করার ইচ্ছে ছিল, তা তো আর হলো না।
বাংলানিউজ : এখন ব্যস্ততা কী নিয়ে চলছে? ঈদের প্রস্তুতি কী এখনই শুর হ্েয় গেছে?
মোনালিসা : নিয়মিত যা কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকি তাই করছি। তিনটি নতুন ধারাবাহিক নাটকের কাজ শুরু করলাম। নাটক তিনটি হলো  ‘আজগর জাদুকর’, ‘উইল পাওয়ার’ ও ‘ফাঁদ’। বেশ কিছু একপর্বের নাটকেও কাজ করেছি। এ মুহূর্তে মনে পড়ছে ‘চোখ গেলে পাখি ফিরবে না’, ‘সমুদ্রে আজ ভিন্ন বাতাস’, ‘মায়া’, ‘টি-শাট’, ‘শঙ্খচিল ফিরবে না ঘরে’, ‘স্পর্শের বাইরে’ প্রভৃতি নাটকের নাম। ঈদের নাটকের কাজ এখনও শুরু করিনি। প্রস্তাব পেয়েছি বেশ কজন নির্মাতার কাছ থেকে। নাটকের গল্প আর চরিত্র পছন্দ হলে এবারের ঈদের বেশ কিছু নাটকে অভিনয় করতে পারি। এর বাইরেও একাধিক চ্যানেল থেকে ঈদের ম্যাগাজিন আর টকশোতে অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ পেয়েছি। এরকম একাধিক বিনোদনধর্মী অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার ইচ্ছে আছে।
বাংলানিউজ : নাচ নিয়ে একটা নতুন ধরণের একটি অনুষ্ঠান করবেন বলে আপনি জানিয়েছিলেন। ঐ কাজটার কী অবস্থা ?
মোনালিসা : নাচের প্রতি আমার আবেগটা একটু বেশি। সেই থেকেই এবার একটি নাচের অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনা চুড়ান্ত করেছি। এ অনুষ্ঠানটি পরিচালনার কাজটিও আমি করবো। একেবারেই নতুন আইডিয়া নিয়ে আমি কাজটি করবো। এখন আমি কাজটি করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। এটা নিয়ে আমি এখন একধরনের উত্তেজনার মধ্যে আছি।
বাংলানিউজ : এতে কী ধরনের নাচ থাকছে একক নৃত্য নাকি অন্যকিছু? আপনি নিজেও কি এ অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করবেন?
মোনালিসা : আরে না। এটি কোনো একক নৃত্যের অনুষ্ঠান হচ্ছে না। একক নৃত্যানুষ্ঠান তো দর্শকরা আগেও অনেক দেখেছেন, আগামীতেও অনেকে দেখবেন। অন দ্য স্ক্রিন আমার না থাকার সম্ভাবনাই বেশি। ৮ জন সেলিব্রেটিকে নিয়ে নাচের অনুষ্ঠানটি সাজানো হবে। তাদের প্রত্যেকেই মেয়ে। ইয়াং জেনারেশনের সেলিব্রিটি নৃত্যশিল্পীদের নিয়ে এটি সাজাবো। আমি আশা করছি, দর্শকদের গতানুগতিক কাজের পরিবর্তে ভিন্নধারা নাচ উপহার দেবো ?
বাংলানিউজ : আপনার পরিচালনায় ভিন্নধর্মী এ নৃত্যানুষ্ঠানটি কবে নাগাদ দেখতে পাবো?
মোনালিসা : ভিন্নধর্মী অনুষ্ঠান সবসময় কোন বিশেষ দিনেই ভালো লাগে। আমার পরিচালনায় প্রথম এ অনুষ্ঠান আমি ঈদকে সামনে রেখেই তৈরি করবো। । ঈদের পর হয়তো আরো বড় ক্যানণাসে ধারাবাহিক নাচের অনুষ্ঠান নির্মাণের পরিকল্পনা করতে পারি।
আবার খোলামেলা বিপাশা বসু
বিনোদন ডেস্কবিপাশা বসু বলিউডে নিজের ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন ‘রাজ‘ ছবির মাধ্যমে। মহেশ ভাট প্রযোজিত ও বিক্রম ভাট পরিচালিত এ ছবিতে ব্যাপক খোলামেলা ও ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয় করে ঝড় তুলেছিলেন তিনি। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন বলিউডের সেক্সসিম্বল অভিনেত্রী হিসেবে। পরবর্তীতে আরো অনেক ছবিতে খোলামেলা অভিনয় করলেও প্রথম ছবির মতো এতোটা উদারভাবে তাকে পর্দায় দেখা যায় নি। বিক্রম ভাট পরিচালিত নতুন ছবিতে আবারও ব্যাপক খোলামেলা হয়ে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াচ্ছে বিপাশা বসু।bipasha-basu_02 বিক্রম ভাট পরিচালিত নাম চুড়ান্ত না হওয়া নতুন ছবিটিতে বিপাশা বসুকে দেখা যাবে বলিউডের সিরিয়াল কিসারখ্যাত ইমরান হাশামির বিপরীতে। ছবির আরেক নায়িকা হচ্ছেন ইশা গুপ্তা। প্রডাকশন সূত্রে জানা গেছে, শিগগিরই ছবির শুটিং শুরু হতে যাচ্ছে। শুরুতেই ছবির বিভিন্ন গানের শুটিং করা হবে। এসব গানে বিপাশা ব্যাপক খোলামেলা হয়ে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াবেন।
ত্রিভুজ প্রেমের এ ছবির আকর্ষণ বাড়াতে বিক্রম ভাট ইমরান হাশমির সঙ্গে দুই নায়িকা বিপাশা বসু আর ইশা গুপ্তার একটি বেড সিকোয়েন্স যোগ করার পরিকল্পনা নিয়েছে। প্রযোজনা সূত্রে জানা গেছে, এটি ব্যবহার করা হবে কোনো গানে। এ ছবিতে অভিনয় প্রসঙ্গে বিপাশা বসু বলেন, দীর্ঘ সময় পর ভাটদের সঙ্গে ছবি করতে যাচ্ছি। তাদের ছবি মানেই অন্যরকম চমক। এ ছবিতেও অনেক অনেক চমক থাকছে। বিশেষ করে ইমরান, ইশা ও আমার যে বিছানার দৃশ্য চিত্রায়ণ করা হবে. সেটি নিয়ে আমি অনেক এক্সাইটেড। এ ধরনের দৃশ্যে এর আগে কখনও আমি কাজ করিনি। এ ছবিতে দর্শকরা তাদের প্রিয় হট বিপাশাকেই দেখতে পাবেন।
 জ্যাকসন-হুইটনির অজানা প্রেম!
বিনোদন ডেস্ক

মাইকেল জ্যাকসন ও হুইটনি হিউস্টন দু’জনই এখন না-ফেরার দেশে। কিন্তু সঙ্গীত জগতের এই দুই কিংবদন্তির তারকা আবার ফিরলেন তাদের ভক্তদের মাঝে নতুন একটি খবরের মধ্য দিয়ে। তা হচ্ছে জ্যাকসন ও হুইটনির প্রেম। যা ছিলো অনেকটাই একতরফা, মাইকেল জ্যাকসনের পক্ষ থেকে। বিয়ে করার ইচ্ছাও তিনি পোষণ করছিলেন দারুণভাবে। আমৃত্যুই সে প্রেম ও প্রত্যাশা বুকে ধারণ করে রেখেছিলেন পপ সম্রাট। হুইটনির তারকাখ্যাতি যখন মধ্যগগনে তখনই তার প্রেমে মজেন মাইকেল জ্যাকসন। নেদারল্যান্ড র‌্যাঞ্চে রম্প সিরিজে দুজনের পারফরমেন্স চলছিলো। সেই দিনগুলোতেই মাইকেলের বুকে বাসা বাঁধেন হুইটনি। বিশ্বের এই দুই ট্রাজিক তারকার প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি জানাজানিতে যেন জন্ম হলো আরেক ট্রাজিডির। জ্যাকসনের ব্রিটিশ দেহরক্ষী ম্যাট ফিডস একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে বিষয়টি সামনে নিয়ে আসেন। তিনি জানান, মৃত্যুর তিন দিন আগেও তার সঙ্গে আলোচনায় মাইকেল জ্যাকসন হুইটনি হিউস্টনের কথা বলেন। মাল্টি মিলিয়নিয়র মার্শাল আর্টস মাস্টার ম্যাট ফিডস অবশ্য ওই সাক্ষাৎকারে মাইকেল জ্যাকসনের আরো কিছু গোপন বিষয় তুলে ধরেন। তিনি জানান প্রচণ্ড মাদকাসক্তির কারণে জ্যাকসন তার মৃত্যুর কয়েক বছর আগেই যৌন ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন। নাৎসিদের প্রতি সহানুভ’তিশীল ছিলেন তিনি। প্রত্যাশা ছিলো সবাই যেনো তাকে নিয়েই মেতে থাকে এমন আরো অনেক কিছু। ম্যাট বলেন, মাইকেলের অনেক অজানা কাহিনীর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে  হুইটনি হিউস্টনের সঙ্গে তার গোপন প্রেম। হুইটনি মাইকেলের বড়ভাই জারমেইন জ্যাকসনের শয্যাসঙ্গী হওয়ার খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর খুবই ক্ষিপ্ত হন মাইকেল। কিন্তু তাও ভালোবাসা দমাতে পারেনি। জীবনের শেষ দিনটি পর্যন্ত সে ভালোবাসার মোমাবাতিটি প্রজ্জ্বলিত রেখেছেন নিজের মনের মণিকোঠায়। ম্যাট জানালেন মাইকেলের সঙ্গে হুইটনির প্রথম দেখা ১৯৯১ সালে। তখন তারা দুজনই বিশ্বখ্যাত তারকা। জ্যাকের বয়স ৩৩। সনি’র সঙ্গে কেবলই ৪০ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি সম্পন্ন করেছেন। হুইটনির তখন ২৮। আলোড়ন সৃষ্টিকারী সেভিং অল মাই লাভ ফর ইউ গানের অভিষেক অ্যালবামেই তার ২৫ মিলিয়ন কপি বিক্রি। হুইটনি এসময় মাইকেলে খামারবাড়িতে দিন কাটান। তাদের যেনো এক উড়ন্ত সময় কাটছিলো, ঠিক যেমনটা কাটে যেকোন যুগলের। কিন্তু মাইকেল যতই চাচ্ছিলেন বিষয়টি আরো একটু গভীরতার দিকে যাক, এমনকি বিয়ের স্বপ্নও দেখতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু দুই সপ্তাহের বেশি টেকেনি সে সম্পর্ক। হুইটনির প্রতি ভালোবাসা মাইকেল যেনো ভুলতেই পারছিলেন না। কিন্তু এর এক বছরের মাথায় হুইটনি বিয়ে করে ফেলেন ববি ব্রাউনকে। মাদকাসক্তির দিকে হুইটনিকে টেনে নেওয়ার জন্য অনেকের অভিযোগের আঙুল ববির দিকে। এর দশ বছর পর মাইকেল ও হুইটনির অশ্রুসিক্ত মিলন হন ২০০১ সালে পপ সঙ্গীতের ত্রিশ বছর পূর্তিতে নিউ ইয়র্কের ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে আয়োজিত কনসার্টে। ওই দিন মাইকেল হুইটনিকে শেষবারের মতো বুকে জড়িয়ে ধরে অনুরোধ করেছিলেন তিনি যেনো মাদক গ্রহণ ছেড়ে দেন, জানান ম্যাট। “তখন ওরা দুজন বিড় বিড় করে বলছিলো তারা একে অন্যকে খুব ভালোবাসে। তাদের মুখেই যেনো ফুটে উঠছিলো সেই অভিব্যক্তি”, বলেন মাইকেলের দেহরক্ষী ম্যাট ফিডস। বড়ভাই জারমাইনের সঙ্গে হুইটনির সম্পর্কের কারণে মনের ভিতর শত তিক্ততা পোষণ করার পরও সেদিন মাইকেল সমস্ত ভালোবাসা দিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরেছিলেন। এরপর হুইটনির আর মাদক ছাড়া হয়নি। মাইকেলও জড়িয়ে যান মাদকে। যা দুজনকেই দেয় করুণ পরিণতি।
স্ট্যালন আবার র‌্যাম্বো নিয়ে
বিনোদন ডেস্ক

বিশ্ব কাপানো হলিউডি ব্লকবাস্টার ছবি `র‌্যাম্বো` নিয়ে আবারও আসছেন অ্যাকশন কিং সিলভেস্টার স্ট্যালোন। এই সিরিজের পঞ্চম ছবিটি তৈরির প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন তিনি। এই সিরিজের মাধ্যমেই র‌্যাম্বো চরিত্রটির সমাপ্তি টানা হবে। সেই সঙ্গে এই ছবির মাধ্যমে সিলভেস্টার স্ট্যালোন তার বর্নাঢ্য ক্যারিয়ারের ইতি টানবেন বলে সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন।
র‌্যাম্বো সিরিজের পঞ্চম ছবি সম্পর্কে  স্ট্যালোন জানিয়েছেন, ছবিটির স্ক্রিপ্ট এরই মধ্যে লেখা হয়ে গেছে। এখন চলছে ফিনিশিংয়ের কাজ। তিনি বলেন, এই সিরিজটিতে র‌্যাম্বো তার শেষ পরিনতিকে উপলব্ধি করবেন। জীবনের শেষ গন্তব্য মৃত্যুকে কীভাবে আলিঙ্গন করবেন, সেই সিদ্ধান্ত নিতে দেখা যাবে তাকে। কৃষকের সাধারণ জীবন নয়, শেষপর্যন্ত বীরের মতোই মৃত্যুর পথে এগিয়ে যায়।
র‌্যাম্বো সিরিজের প্রথম ছবি ‘ফার্স্ট ব্ল্যাড’ মুক্তি পেয়েছিল ১৯৮২ সালে। র‌্যাম্বো’ -তে স্ট্যালোনের চরিত্রটি হলো ভিয়েতনাম ফেরত এক যোদ্ধার। প্রথম ছবিই হলিউডে গড়ে ব্যবসায়িক সাফল্যের রেকর্ড। এরপর ১৯৮৫ সালে নির্মিত হয়ে এই সিরিজের দ্বিতীয় ছবি ‘ফার্স্ট ব্ল্যাড টু’। অ্যাকশন প্রিয় দর্শকরা লুফে নেন দ্বিতীয় সিরিজটিও। সাফল্যের এই ধারা বজায় থাকে তৃতীয় সিরিজ `র‌্যাম্বো থ্রি`-তেও। এই সিরিজের সর্বশেষ মুভিটি মুক্তি পেয়েছিল ২০০৮ সালে।

Year-19 # Issue-10 # 22 April 2012


শত বাধার পরও এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমস-এর অনলাইন সংস্করণের গ্লোবাল বিজনেস বিভাগে “In an Unlikely Corner of Asia, Strong Promise of Growth” শিরোনামে একটি নিবন্ধ প্রকাশ হয় গত ২৩ এপ্রিল। এতে বাংলাদেশের অর্থনীতির ইতিবাচক অগ্রগতির প্রশংসা করা হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশ প্রবৃদ্ধির কেন্দ্র হয়ে উঠছে বলে মন্তব্য করা হয়। পরদিন ২৪ এপ্রিল পত্রিকাটির নিউইয়র্ক সংস্করণেও (প্রিন্ট) নিবন্ধটি প্রকাশ হয় “In Bangladesh, a Quick Evolution From Backwater to Growth Center”  শিরোনামে।
বাংলাদেশ এশিয়ার নতুন দিগন্ত যেখানে সমুদ্র সৈকত ঘেঁষা বিলাসবহুল হোটেল ও রিসোর্টের বিস্তার সহজেই চোখে পড়ে। বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের শহর কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতে গড়ে উঠছে এ রকম অসংখ্য হোটেল ও রিসোর্ট। অনুকূল আবহাওয়ায় কক্সবাজার হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের মানুষের ছুটি কাটানোর সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত স্থান। শীতের সময় মৌসুমি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা না থাকায় ছুটির দিনগুলোতে কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকত মুখরিত হয়ে ওঠে ইতস্তত ছুটে বেড়ানো শিশু আর তাদের অভিভাবকদের পদভারে। বঙ্গোপসাগর উপকূলে অবস্থিত এই ছোট্ট শহরে ৫ বছর আগেও বিলাসবহুল হোটেলের সংখ্যা হাতে গোনা যেত। কিন্তু সেখানে এখন গড়ে উঠেছে অসংখ্য হোটেল, মোটেল আর গেস্টহাউজ। একটি প্রত্যন্ত সমুদ্রতীরবর্তী এলাকা থেকে কক্সবাজারের সৈকত নগরীতে পরিণত হওয়া আসলে ১৬ কোটি মানুষের দেশটিতে গত কয়েক বছরে হওয়া উন্নয়নকেই নির্দেশ করছে। এ ব্যাপারে ঢাকাস্থ এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, কক্সবাজারের এই উন্নয়ন বাংলাদেশের অন্যান্য খাতেও অর্জিত উন্নয়নকেই নির্দেশ করে। অভ্যন্তরীণ চাহিদা এখানে দিন দিন বাড়ছে এবং ক্রমান্বয়ে এটিই অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এই উন্নয়ন সত্ত্বেও অন্যান্য উন্নয়নশীল এশীয় রাষ্ট্রের মতো বাংলাদেশেও ধনী ও গরীবের মধ্যে বৈষম্য দিন দিন বাড়ছে। ফলে সৃষ্টি হচ্ছে সামাজিক অস্থিরতা। আর এই বৈষম্য আর অস্থিরতা মাঝে মাঝেই সহিংস প্রতিবাদে রূপ নিচ্ছে। এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা যায়, বাংলাদেশের প্রখ্যাত শ্রমিক-অধিকারকর্মী আমিনুল ইসলামের মৃত্যুর ঘটনাকে। তিনি মূলত শ্রমিকদের নিম্ন বেতন ও কাজের খারাপ পরিবেশের বিরুদ্ধে সচেতনা বৃদ্ধি ও শ্রমিকদের জন্য পরামর্শমূলক কাজ করতেন। বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাতই ছিলো মূলত তার প্রধান কর্মক্ষেত্র। কিছুদিন আগে তাকে অপহরণ করে হত্যা করা হয়। হত্যার আগে তাকে নির্যাতন করা হয় বলে জানা গেছে ময়নাতদন্তে। ধারণা করা হচ্ছে, শ্রমিকদের বিরুদ্ধে সংগঠিত অন্যায়ের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের সচেতন ও সংগঠিত করার কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে হত্যা করে একটি পক্ষ। এছাড়া বাংলাদেশের গ্রামীণ এলাকায় বসবাস করে দেশের ৭০ শতাংশ জনগণ। কৃষির ওপর নির্ভরশীল এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করতে হয় প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে। প্রতিবছরই দেশটির নিম্নভূমি প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি উপকূলীয় অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হয় মৌসুমি সামুদ্রিক ঝড় এবং জলোচ্ছ্বাসে। বাংলাদেশে  বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ বছরে মাত্র ১০০ কোটি ডলার। যা আলবেনিয়া ও বেলারুশের থেকেও অনেক কম। বিদেশি বিনিয়োগের এই পরিমাণ নিকটবর্তী থাইল্যান্ড এবং মালয়েশিয়ায় হওয়া বিদেশি বিনিয়োগের এক দশমাংশ মাত্র।
অপর্যাপ্ত বিদ্যুৎ এবং নড়বড়ে পরিবহন ব্যবস্থা , দুর্বল অবকাঠামো, রাজনৈতিক সংঘাত, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, দুর্নীতির পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তির অভাব এদেশের বিনিয়োগের উজ্জ্বল সম্ভাবনাকে বাধাগ্রস্ত করছে।  তবে এতসব বাধা সত্ত্বেও বাংলাদেশে গত এক দশক ধরে প্রবৃদ্ধি ছয় শতাংশ।
স্ট্যান্ডার্ড চার্টর্ড ব্যাংকের অর্থনীতিবিদদের হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি খুব শগগিরই ৭ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে। এই হিসেবে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার প্রতি দশকে দ্বিগুণ হবে বলেও ধারণা করছেন তারা। এইচএসবিসি ব্যাংকের হিসেবে বাংলাদেশ ২৬টি শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির দেশের অন্তর্ভুক্ত। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে ভারত ও চীনের মত রাষ্ট্র। এই অর্থনৈতিক গতিশীলতা আগামী বছরগুলোতেও পৃথিবীর অনেক অংশের তুলনায় মোটামুটি স্থিতিশীল থাকবে বলেও আশা করা হচ্ছে। বৈশ্বিক উৎপাদন উন্নত বিশ্ব থেকে ক্রমাগত কম শ্রমব্যয়ের দেশগুলোতে স্থানান্তরিত হওয়া এই প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি। এই ধারাই এশিয়ার অন্যান্য অংশ যেমন চীনকে ৮০ এর দশকের পর থেকে বৈশ্বিক উৎপাদনের কেন্দ্রভূমিতে পরিণত করেছিলো। আর এই ধারাটিই এখন বাংলাদেশের দিকে ধাবিত হওয়া শুরু করেছে। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের প্রধান উৎপাদন খাত মূলত তৈরি পোশাককেন্দ্রিক। বর্তমানে এর রপ্তানি দাঁড়িয়েছে হাজার কোটি ডলারেরও বেশিতে। এতে ৩৬ লাখ শ্রমিক সরাসরি জড়িত। দেশটির অর্থনীতির ৭৮ শতাংশ স্থান দখল করে আছে তৈরি পোশাক খাত। এ ব্যাপারে পরামর্শক সংস্থা ম্যাককিনসে তাদের সাম্প্রতিক রিপোর্টে উল্লেখ করেছে, বহু বছর ধরে বিশ্বের পাইকারি ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে চীন ছিলো সব সমস্যার সমাধান। কিন্তু বর্তমানে পশ্চিমা পাইকারি ক্রেতারা বিশেষ করে গার্মেন্টস খাতের সঙ্গে জড়িতরা  চীনের বিকল্পের খোঁজ করছে। নিঃসন্দেহে তাদের জন্য বাংলাদেশ হতে যাচ্ছে একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য।
অপ্রদর্শিত অর্থের কর ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব 
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
অপ্রদর্শিত অর্থ দেশের অর্থনীতির মূলধারায় আনার লক্ষ্যে অর্থাৎ এসব অর্থ সাদা করার ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ করারোপের প্রস্তাব করেছে দেশের বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন। শনিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কার্যালয়ে প্রাক-বাজেট আলোচনায় দেশের বিভিন্ন চেম্বারের পক্ষ থেকে এমন মন্তব্য করা হয়। বৈঠকে খুলনা মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (কেএমসিসিআই) সভাপতি মইনুল হুদা বলেন, “দেশে হাজার হাজার কোটি টাকার অপ্রদর্শিত অর্থ রয়েছে। উৎস খোঁজা ও উচ্চ করারোপের কারণে তা দেশের মূল অর্থনীতির বাইরে থেকে যাচ্ছে। এ অর্থ দেশের অর্থনীতিতে আনা হোক তা দেশের বাইরের একটি মহল চায় না। তাই বাজেটের মাধ্যমে অপ্রদর্শিত অর্থ সাদা করার সুযোগ না দিয়ে এসআরও’র মাধ্যমে করা হলে তা দেশের অর্থনীতিতে মঙ্গল বলে আনবে।” সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিসিআই) পরিচালক এমএস সেকিল চৌধুরী ‘শুধুমাত্র ব্যবসায়ীদের রাজস্ব আদায়ের মূল লক্ষ্য নির্ধারণ না করে আইনজীবী ও ডাক্তারদের মত যারা অনেক বেশি অর্থ আয় করে তাদের ওপর উচ্চহারে করারোপ’ করার প্রস্তাব করেন। একই সঙ্গে প্রবাসীদের প্রেরিত রেমিটেন্সের ওপর একটি নির্দিষ্ট হারে প্রণোদনা দেওয়ার প্রস্তাব করে তিনি বলেন, ‘এতে বিদেশ থেকে হুন্ডির মাধ্যমে দেশে টাকা পাঠানো বন্ধ হবে। পাশাপাশি বৈধপথে অর্থাৎ ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে রেমিটেন্স পাঠানোর প্রবণতা বাড়বে। কারণ দেশের অর্থনীতির অপ্রদর্শিত অর্থের মোট ৪৮ শতাংশ বিদেশ থেকে প্রেরিত অর্থ। এভাবে অর্থের প্রবেশ করে বিধিসম্মতভাবে তা আনার ব্যবস্থা করা হলে আগামী অর্থবছরে ১৫ বিলিয়ন ডলার রেমিন্টেন্স যোগ হবে।’ এছাড়া সরকারি কমকর্তাদের বাড়িভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করে তিনি বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাড়ি ভাড়া বাড়ানো হলে অফিসে ঘুষ দেওয়া-নেওয়া কমবে, রাস্তায় বস্তা বস্তা টাকা পাওয়া যাবে না। এ ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরাও অফিস আদালতে তাদের কাজ করায় সুবিধা পাবে।’ যশোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (জেসিসিআই) সভাপতি মিজানুর রহমান খান বলেন, ‘আইপিওতে সামান্য ভুলের কারণে বেনাপোল বন্দরে পুরনো গাড়ি আমদানি পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এতে প্রতি বছর সরকার একশ’ থেকে দেড়শ’ কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে।’ এছাড়া ব্যবসায়ী সংগঠনের ওপর থেকে কর পুরোপুরি প্রত্যাহারের আহ্বান জানান তিনি। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সিনিয়র সহ-সভাপতি হায়দার আলী বলেন, “গার্মেন্টস’র মাধ্যমে ভালোই আয় হচ্ছে। কিন্তু এরপরেও আমদানি-রফতানির মধ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে। যা প্রবাসীদের প্রেরিত অর্থের মাধ্যমে সমন্বয় করতে হচ্ছে। তাই ভবিষ্যতে রফতানি বাড়াতে ব্যবসায়ীদের সহায়তা দিতে হবে। কারণ ব্যবসায়ীরা কল-কারখানায় উৎপাদিত পণ্য রফতানির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা না করতে পারলে প্রবাসীদের অর্থের ওপর নির্ভরশীলতা কমবে না।” মানুষের মধ্য থেকে কর বিষয়ক ভীতি কমানোর জন্য করণীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণেরও আহ্বান জানান হায়দার আলী। অপরদিকে, শিল্প মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মোট ১৪টি সুপারিশ আলোচনায় তুলে ধরেন মন্ত্রণালয়ের ডিএস তপন কুমার নাথ। তিনি বলেন, ‘দেশে উৎপাদন হয় ওইসব পণ্যের ওপর সম্পূর্ণ শুল্ক আরোপের মাধ্যমে দেশীয় পণ্য ও আমদানি পণ্যের মধ্যে নূন্যতম ২০ শতাংশ পার্থক্য সৃষ্টি করা প্রয়োজন।’ এছাড়া কারখানার ভাড়ার ওপর প্রদত্ত ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহারের সুপারিশ করেন তিনি। সবশেষে এনবিআর চেয়ারম্যান ড. নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ম্যানুয়াল সিস্টেমে বেশিদূর এগিয়ে যাওয়া সম্ভব না। তাই আমরা এনবিআরকে পুরোপুরি অটোমেশনের কাজে হাত দিয়েছি। আর আগামী ডিসেম্বর নাগাদ এক্ষেত্রে একটি ব্রেকথ্রু দেওয়া সম্ভব হবে।’ এছাড়া ই-পেমেন্টের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘চলতি মাসেই ই-পেমেন্ট চালু করার কথা থাকলেও তা আগামী মাসের মাঝামাঝি সময়ে চালু করা সম্ভব হবে। দেশের মোট ২৬টি ব্যাংকের মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। সর্বোপরি এনবিআরের মনিটরিং টিমকে শক্তিশালী করতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’
ইলিয়াসকে ছেড়ে দেওয়াই একমাত্র সমাধান: ফখরুল
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা এখনো আশাবাদী ইলিয়াস আলীকে জীবিত অবস্থায় ফিরিয়ে দেবে সরকার। এখনো বিকাল পর্যন্ত সময় আছে। এই সময়ের মধ্যেই ইলিয়াস আলীকে ফিরিয়ে দেওয়াই একমাত্রহচ্ছে সমাধান। তা না হলে সরকার নিজেই নিজের ক্ষতি করবে । শনিবার সকাল এগারোটায় জিয়ার মাজার জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
গত ২৩ এপ্রিল হরতালের দ্বিতীয় দিনে পুলিশ বিএনপি’র ভাইস-চেয়ারম্যান সেলিমা রহমানসহ বিরোধী দলের ১৫ জন নেত্রীকে আটক করে। জেল থেকে মুক্ত হওয়ার পর শনিবার সকালে তারা জিয়ার মাজার জিয়ারত করতে যান। এসময় তাদের সঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও উপস্থিত ছিলেন। মাজার জিয়ারত শেষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, ``এই সরকার মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও বাস্তবে গণতন্ত্র বিশ্বাস করে না। এটি তারা আবারও প্রমাণ করলেন। কারণ সরকার বিএনপি’র একজন সিনিয়র নেত্রী সেলিমা রহমানকে আটক করে জেল হাজতে পাঠিয়ে যে কাজটি করেছে তাতে মনে হচ্ছে গণতন্ত্রের প্রতি তাদের একটুও শ্রদ্ধাবোধ নেই।`` জেল থেকে মুক্ত হওয়া নেত্রীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ``আমরা নতুন করে শপথ নিচ্ছি। ইলিয়াস আলীকে ফেরত না পেলে আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো।`` শনিবার বিকেলে আবারও হরতাল ঘোষণা করা হবে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের বেঁধে দেওয়া সময় এখনো বাকি আছে। আমরা সরকারকে সময় দিয়েছি, দেখি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সরকার কি করে। বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে ইলিয়াসকে ছেড়ে না দিলে বিকাল ৫টায় নতুন কর্মসচি ঘোষণা করা হবে বলে জানান তিনি।  সরকারের একজন মন্ত্রী ব্যারিস্টার রফিকুল হকের বক্তব্যকে শিশুসুলভ বলে মন্তব্য করেছেন। এ সম্পর্কে মির্জা ফখরুল বলেন, ``সরকারের কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তির কাছে কেউ এ ধরনের বক্তব্য আশা করে না। কিন্তু, দুর্ভাগ্য তারা এ ধরনের বক্তব্য অব্যাহত রেখেছেন।`` তিনি বলেন, সরকার ইলিয়াস আলীর গুমের ঘটনায় সান্ত্বনা তো দেয়ই না, বরং নানা ধরনের বিদ্রুপ করে কথা বলছে। এ সরকারের সময় ১২৭ জন মানুষ গুম হয়েছেন। দেশে একটি ত্রাসের রাজত্ব কায়েম হয়েছে। তিনি বলেন, ``যে ভাবে মানুষ গুম হচ্ছে তাতে দেশের প্রতিটি মানুষই আতংকগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। সরকার এই গুমের বিষয় নিয়ে নানা কথা বলছে। তারা বলছেন, ইলিয়াস আলী জীবিত ফিরে আসবেন। তাদের এই কথায় প্রতীয়মান হয় এ ঘটনায় সরকারের লোকেরা জড়িত।`` ইলিয়াস আলীর মতো একজন জনপ্রিয় নেতা গুম হওয়ার কারণে রাজনীতিকদের জীবন নিরাপত্তাহীন  হয়ে পড়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। মাজার জিয়ারতের সময় বিএনপি’র ভাইস-চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, মহিলা দলের সভানেত্রী নূরে আরা সাফা, সাধারন সম্পাদক শিরিন সুলতানাসহ মহিলা দলের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আগামী বাজেটে ভর্তুকি কমানো হবে : অর্থমন্ত্রী

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
‘আগামী বাজেটে সার্বিকভাবে ভর্তুকির পরিমাণ কমিয়ে আনা হবে’ বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেন, ‘ভর্তুকি সুবিধা ধনী-গরীব সমানভাবে পায়’। শুক্রবার বিকেলে অর্থ মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত কৃষি বাজেট সংক্রান্ত এক প্রাক-বাজেট মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। মতবিনিময় সভায় চ্যানেল আই-এর কৃষি কার্যক্রম ‘হৃদয়ে মাটি ও মানুষ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের পক্ষ থেকে কৃষি ও কৃষকের জন্য করণীয় ৫৫ দফা সুপারিশমালা অর্থমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হয়। চ্যানেল আই’র বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ এসব সুপারিশমালা তুলে ধরেন। উপস্থাপিত সুপারিশমালার মধ্যে কৃষি খাত সম্পর্কিত ১৮ দফা, পোল্ট্রি খাত সম্পর্কিত ১৪ দফা, মৎস্য খাত সম্পর্কিত ১২ দফা ও দুগ্ধ খাত সম্পর্কিত ১১ দফা সুপারিশ রয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘কৃষি বাজেটের পুরোটাই ভর্তুকি। দু’দিকে এ ভর্তুকি দিতে হয়। একটা হচ্ছে কৃষিতে, আর অন্যটি খাদ্যে।’ চলতি অর্থবছরে কৃষিখাতে যে পরিমাণ ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে এটাকে ‘অসাধারণ’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে কৃষি খাতে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি রাখা হয়েছিল। কিন্তু সংশোধিত বাজেটে এর আকার অনেক বেড়ে গেছে। এবারের মত ভর্তুকি আগামী বাজেটে দেওয়া সম্ভব হবে না।’ তবে আগামী বাজেটে পোল্ট্রি শিল্পকে সহায়তার জন্য একটি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানান তিনি। অন্যান্যের মধ্যে ভুট্টা উৎপাদন কয়েকগুণ বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। সারে ভর্তুকি প্রদানের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে ইউরিয়াসহ অন্যান্য সারের মূল্য বাড়লেও সরকার ভর্তুকি বাড়িয়েছে, কিন্তু দাম বাড়ায়নি। জ্বালানির মূল্যের সঙ্গে সারের মূল্যের সম্পর্ক রয়েছে। এবার কতটা ভর্তুকি দেওয়া সম্ভব হবে, সেটা বলা যাচ্ছে না। তবে সারে ভর্তুকি প্রদানের বিষয়ে এবার একটা কৌশল নির্ধারণ করতে হবে। বিদ্যুৎ ও ডিজেলে ভর্তুকি সরাসরি কৃষকের হাতে পৌঁছে। কারণ এখানে কার্ড সিস্টেম চালু রয়েছে।
সারের ক্ষেত্রে এটা নেই।’ কৃষকের ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তি প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘কৃষি পণ্যের বিক্রয় মূল্য অবশ্যই উৎপাদন ব্যয়ের চেয়ে বেশি হতে হবে। তবে আমাদের বাজার ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা রয়েছে।’ শাইখ সিরাজ বলেন, ‘কৃষি খাতে ভর্তুকি এটা কিন্তু কৃষকের জন্য করুণা করা নয়। তিনি বলেন, এ ভর্তুকিটুকু না দিলে সরকারকে অধিক দাম দিয়ে বিদেশ থেকে খাদ্যশস্য আমদানি করতে হবে।’  অন্যান্য প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে বিদ্যুতের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণের জন্য নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেটা কবে কার্যকর করা সম্ভব হবে জানি না।’ জেলা বাজেট ও একীভূত বাজেট পদ্ধতির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘এতে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ে।’ দেশের শিল্পখাতের জন্য বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন যেসব প্রস্তাব দেয় সেটাকে ‘এলিট শ্রেণীর বাজেট’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। 
রুশ সমরাস্ত্র কিনতে চুক্তি ‘শিগগিরই’
শেখ শাহরিয়ার জামান
ঢাকা, এপ্রিল ২৭ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- রাশিয়া থেকে একশ কোটি ডলারের সমরাস্ত্র কিনতে যাচ্ছে বাংলাদেশ এবং এর চুক্তি শিগগিরই হবে বলে জানিয়েছেন মস্কোয় নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত এস এম সাইফুল হক। রাশিয়ার রাষ্ট্রায়াত্ত তেল-গ্যাস সংস্থা গ্যাজপ্রমের সঙ্গে চুক্তির পরপরই সমরাস্ত্র কেনার এই চুক্তি হচ্ছে। রাষ্ট্রদূত সাইফুল হক শুক্রবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এক থেকে দুই মাসের মধ্যে চুক্তি হবে বলে আমরা আশা করছি।” রাশিয়ার সঙ্গে কী পরিমাণ অর্থের চুক্তি হচ্ছে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এক বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি হবে।” এর আগে একটি সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, মস্কোর কাছ থেকে ৮৫ কোটি ডলারের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কিনবে ঢাকা। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ৭ হাজার ১৪০ কোটি টাকা, যা বাংলাদেশের চলতি অর্থবছরের বাজেটের ৪ শতাংশের বেশি।
রাশিয়ার কাছ থেকে পাওয়া ঋণে এই সমরাস্ত্র কেনা হবে বলে রাষ্ট্রদূত জানান। তবে এই বিষয়ে বিস্তারিত আর কিছু বলেননি তিনি। সম্প্রতি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, দীর্ঘমেয়াদি ঋণের আওতায় রাশিয়ার কাছ থেকে এক স্কোয়াড্রন এমআরসিএ জেট ট্রেইনার বিমান এবং উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন রাডার কিনবে বাংলাদেশ। গ্যাজপ্রমের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে ঢাকায় এসেছিলেন সাইফুল হক। শুক্রবারই তিনি মস্কো রওনা হন। রাষ্ট্রদূত বলেন, “আমাদের বিশ্বস্ত মিত্রদের মধ্যে রাশিয়া অন্যতম। দেশটির সঙ্গে আমাদের নিরাপত্তা সহযোগিতা ক্রমেই বাড়ছে।” আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি ও পারমাণবিক সহযোগিতার ক্ষেত্রও তৈরি হয়েছে। দেশটির সঙ্গে সহযোগিতার ক্ষেত্রে পরিসর আরো বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন রাষ্ট্রদূত। স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় থেকেই বাংলাদেশের সঙ্গে রাশিয়ার সহযোগিতার সম্পর্ক। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের বিজয় যখন সন্নিকটে, তখন যুদ্ধবিরতির জন্য জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে পর পর তিন বার ভেটো দিয়েছিল সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়ন। স্বাধীনতা যুদ্ধের পর চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরকে মাইনমুক্ত করে ব্যবহার উপযোগী করে তুলেছিল সোভিয়েত নৌবাহিনী।
কী দোষ ছিলো কৃষ্ণচূড়ার!

ঢাকা: কী দোষ ছিলো কৃষ্ণচূড়া গাছ দুটির। ঝড়ে সামান্য কাত হয়েছিলো। দু’একটি ডাল হয়তো ভেঙ্গে পড়েছিলো কোনো বাসভবনের ছাদে। কিন্তু তাতেই কতল হতে হলো ঢাকা মেডিকেল কলেজের ড. ফজলে রাব্বী আবাসিক হলের সীমানা প্রাচীরের মধ্যে বেড়ে ওঠা দুটি কৃষ্ণচূড়া গাছকে। শনিবার হলটির একাধিক শিক্ষার্থী বাংলানিউজকে ফোন করে জানালেন তাদের কষ্টের কথা। গাছ দুটিতে লাল ফুলের যেনো আগুন লেগেছিলো। গোটা এলাকা সৌন্দর্যমণ্ডিত করে তুলেছিলো কৃষ্ণচূড়া ফুল। কিন্তু এখন সেখানটি বিরান খা-খা। একটি গাছ কেটে মাটিতে ফেলা হয়েছে। অপরটির ডালপালা কেটে ফেলা হয়েছে। বৈশাখের শুরুতে কৃষ্ণচূড়ার ডাল নয় কাটতে হয় ফুলকেই। এ কাজে একটুও মনখারাপ হয়নি কর্তৃপক্ষের। হলের আবাসিক ছাত্রদের অভিযোগের আঙুল সহকারী প্রভোস্ট ড. হাসানের দিকেই। দু’একজনতো অভিযোগ করেই বসলো অকারণেই গাছ দুটি নগর ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছে কর্তৃপক্ষ। অবশ্য এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে ড. ফজলে রাব্বী হলের অ্যাসিসট্যান্ট প্রভোস্ট ড. হাসানকে পাওয়া যায়নি। তবে হলের নিরাপত্তারক্ষীদের দাবি গাছ দুটি কাত হয়ে পড়ায় না কেটে উপায় ছিলো না।
ওয়াই-ফাই সুবিধা পাচ্ছে মোবাইল গ্রাহকেরা
টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) মোবাইল অপারেটরদেরকে ওয়াই-ফাই সার্ভিস সুবিধা প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইন্টারনেট সুবিধা মানুষের কাছে সহজলভ্য করতেই বিটিআরসি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিটিআরসি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সূত্র জানায়, ওয়াই-ফাই সার্ভিস সুবিধা চালু করতে বিটিআরসি এ সংক্রান্ত একটি গাইডলাইনের খসড়া তৈরি করেছে। শিগগিরই এটি চূড়ান্ত হবে।প্রসঙ্গত,  যেকোনো সার্ভিস চালু করতে হলে বিটিআরসিকে প্রথমে একটি গাইডলাইন তৈরি করতে হয়। ওই গাইডলাইনের ওপর ভিত্তি করেই বিটিআরসি সুনির্দিষ্ট সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। বিটিআরসি’র এক কর্মকর্তা জানান, ওয়াই-ফাই’র মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা সত্যিকারভাবে ওয়ারলেস ইন্টারনেট ব্যবহারের স্বাদ পাবেন। ওয়াই-ফাই অপারেটরেদেরকে স্পেকটার্ম ব্যবহারের জন্য বিটিআরসিকে কোনো অর্থ দিতে হবে না। তবে এজন্য অপারেটরদেরকে ৫০০ টাকা দিয়ে একটি ফর্ম কিনতে হবে এবং প্রসেসিং ফি হিসেবে ৫০০০ টাকা নেওয়া হবে। এই সুবিধা চালু হলে মোবাইল ফোনের গ্রাহক যে কোনো ব্যক্তি, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বীমা সংস্থা তা ব্যবহার করতে পারবে। ওয়াই-ফাই সার্ভিসে অপারেটরের অপারেশন যন্ত্রাংশ থেকে ২০০ মিটার পর্যন্ত এ সুবিধা পাওয়া যাবে। গাইডলাইনে বলা হয়েছে, বিটিআরসির ৮৩.ট মেগাহার্টজ এবং ১৫০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডইউথে অয়ারলেস সার্ভিস চালুর সুযোগ রাখা হয়েছে। এজন্য অপারেটরদেরকে ভাগাভাগির ভিত্তিতে স্পেকটার্ম ব্যবহার করতে হবে। কোনো মোবাইল অপারেটরকে বিশেষ স্পেকটার্ম বরাদ্দ দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে গ্রামীণফোনের প্রধান যোগাযোগ কর্মকর্তা কাজী মনিরুল কবির বাংলানিউজকে বলেন, এটি ভালো খবর। সরকার যদি এই সুবিধা চালুর সুযোগ দেয় তবে তা মোবাইল গ্রাহকদের জন্য ইন্টারনেট সুবিধা সহজলভ্য করবে।
রাজশাহীতে ভুট্টার আবাদ বেড়েছে
শরীফ সুমন
রাজশাহী: ক্রমবর্ধমান চাহিদা সামনে রেখে রাজশাহীতে ভুট্টার আবাদ বেড়েছে। চলতি মৌসুমে ইতোমধ্যে লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। চাষিরা বলছেন, এ মৌসুমে ভুট্টাচাষে কম খরচে বেশি লাভ হবে।
রাজশাহীর পবা উপজেলার মথুরা গ্রামের ভুট্টা চাষি নূরুল আমিন বাংলানিউজকে জানান, বর্তমানে পোল্ট্রি, ডেইরি ও ফিসারি খাতে দিন দিন বাড়ছে ভুট্টার চাহিদা। আর এ চাহিদা মেটাতে বিদেশ থেকে প্রচুর পরিমাণ ভুট্টা আমদানি করতে হয়। ব্যাপক চাহিদা এবং ভালো লাভের কারণে দেশেও বাড়ছে ভুট্টার আবাদ। রাজশাহীতে ভুট্টার আবাদ বেশি হয় চলতি খরিপ-১ মৌসুমে। তিনি জানান, রবি মৌসুমের আলু ওঠানোর পর দেরি না করে ওই জমিতে এখানকার চাষিরা ভুট্টার আবাদ করে থাকেন। আলুর জমিতে আবাদ করার কারণে জমিতে বাড়তি সার দিতে হয় না। এছাড়া এ মৌসুমে একটু বৃষ্টিপাত হওয়ায় জমিতে তেমন সেচও দিতে হয় না। তাই রাজশাহীর চাষিরা এই মৌসুমে ভুট্টার আবাদ করে থাকেন। এ সময় ভুট্টা আবাদে খরচও কম হয়। নূরুল আমিন বলেন, বিঘাপ্রতি ভুট্টাচাসে খরচ হয় দেড় হাজার থেকে ২ হাজার টাকা। বিঘায় ফলন পাওয়া যায় ১৫ থেকে ২০ মণ। গত বছর এ সময় প্রতিমণ ভুট্টা বিক্রি হয়েছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়। ফলে গত বছর এ সময় ভুট্টা আবাদ করে চাষিরা ভালো লাভ পেয়েছেন। একই উপজেলার বড়গাছী গ্রামের চাষি হোসেন আলী বাংলানিউজকে জানান, তার এলাকার চাষিরা এবার আলুর জমিতে ব্যাপকভাবে ভুট্টা আবাদ করেছেন। তিনিও ২ বিঘা জমিতে ভুট্টা আবাদ করেছেন। গত সপ্তাহে কয়েক দফা বৃষ্টির কারণে ভুট্টা খেতে তেমন সেচ দিতে হচ্ছে না। হোসেন আলী বলেন, রাজশাহীতে এবার আবহাওয়া এখনও পর্যন্ত ভুট্টা চাষের অনুকূলে। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া এমন থাকলে এবার ভুট্টা আবাদে খরচ আরও কম পড়বে। এছাড়া অঞ্চলে এবার ভুট্টার বাম্পার ফলন হবে। এতে কৃষকরা গতবারের চেয়ে বেশি মুনাফা পাবেন।  রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নূরুল আমিন বাংলানিউজকে জানান, চলতি মৌসুমে রাজশাহীতে ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৫৪২ হেক্টর। আবাদ হয়েছে ৫ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে। গত বছর হয়েছিল ৪ হাজার ৩৪৫ হেক্টর জমিতে।
ভোগান্তির আরেক নাম বথুয়াবাড়ী ব্রিজ! 

 প্রয়োজন অনুযায়ী ও সঠিক সময়ে অর্থ প্রাপ্তিতে জটিলতাসহ নানা কারণে কচ্ছপ গতিতে এগিয়ে চলা বগুড়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বথুয়াবাড়ী ব্রিজের আরেক নাম এখন ‘ভোগান্তি’। দীর্ঘ ২০ বছর পর পাকাকরণের কাজ শুরু হলেও বগুড়াসহ সংশ্লিষ্ট সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার ৭ উপজেলার মানুষ ১ বছরের ভোগান্তি যেন মেনে নিতে পারছেননা। গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুর ওপর দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে থাকে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ বগুড়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার শেরপুর ও ধুনট উপজেলার সীমান্তবর্তী বথুয়াবাড়ীতে ১৯৯২ সালে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৪০ মিটার দীর্ঘ বেইলি ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। এরপর প্রায় ১৫/২০ দফা মেরামত ও পুনর্মেরামতের পর অবশেষে ২০০৯ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি কর্তৃপক্ষ স্থায়ীভাবে ব্রিজটি যান চলাচলের অনুপযোগী ঘোষণা করলে শুরু হয় যাত্রী ভোগান্তি। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বা কর্তৃপক্ষের সঠিক নজরদারির অভাবে ব্রিজের উভয় পাশের যানবাহন চালকরাও গ্রহণ করেন বাড়তি ও অবৈধ সুযোগ।  এদিকে, দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরেই দেশের প্রধান দুই দলের নেতাদের মুখরোচক বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনের সংসদ সদস্য সাবেক পুলিশ সুপার মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব হাবিবর রহমানের ব্যক্তিগত চেষ্টায় ২০১০ সালের জানুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে পরিকল্পনা কমিশনের সভায় বথুয়াবাড়ী ব্রিজটি পাকাকরণের ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। এরপর নানারকম দেনদরবার শেষে পুরাতন খুঁটির ওপরেই ৩ কোটি ৯০ লক্ষ টাকায় ২০১১ সালের ৫ মার্চ মেসার্স শামসুল হক নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ব্রিজটি নির্মাণের জন্য কার্যাদেশ দেয় সড়ক ও জনপথ।  অন্যদিকে, কচ্ছপ গতিতে নির্মাণ কাজ চলায় এবং দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজটির ওপর দিয়ে যান চলাচল বন্ধ থাকায় বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে নদীর উভয় পাড়ের সঙ্গে সংযোগ আটকে ফেরি বন্ধ রেখে অস্থায়ী রাস্তা করে দেওয়া হয়। এতে করে যাত্রী ভোগান্তি কিছুটা কমলেও বাড়তি ভাড়া ও গাড়ি শ্রমিকদের হয়রানির হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেননা কেউ। সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) বগুড়া অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান মনিরের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলার চেষ্টা করা হলেও এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হন নি। তবে একই অফিসের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (এস.ডি.ই.) মো. হামিদুল হক নির্মাণ কাজের গতির কথা স্বীকার করে বাংলানিউজকে জানান, বর্তমান সময়ে টাকার সমস্যা অকেটাই দূর হয়ে গেছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৪০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে বথুয়াবাড়ী ব্রিজের। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ হবে।  নির্মাণকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাইট ম্যানেজার মো. সুমন বাংলানিউজকে জানান, ২০১১ সালের ৫ মার্চ ১৪৮.১০ মিটার দীর্ঘ এই ব্রিজের কাজ শুরু হয়েছে, যা অক্টোবর মাসের মধ্যেই শেষ করা হবে। তবে সঠিকভাবে অর্থ সরবরাহ না থাকায় এর কাজ কচ্ছপ গতিতে চলছে।
গ্রাফটিংয়ে সাফল্য এবার কাঁঠালে
আশরাফুল ইসলাম

দ্রুত সময়ে ভালমানের ফল পেতে গ্রাফটিং বা কলম পদ্ধতিতে এবার সাফল্য এসেছে কাঁঠাল গাছে। স্বাভাবিক নিয়মে কাঁঠাল গাছে ৬-৮ বছরে ফল ধরলেও গ্রাফটিং পদ্ধতিতে মাত্র তিন বছরেই সেটা সম্ভব হয়েছে।

বাণিজ্যিকভাবে আবাদ, বিদেশে রফতানি, বিভিন্ন খাদ্যপণ্য উৎপাদনে জাতীয় ফল কাঁঠালকে নিয়ে যখন এসব সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে, তখন এ ধরণের সাফল্য খুবই ইতিবাচক বলে মনে করছেন ফল গবেষক ও চাষিরা। দেশে জনসংখ্যার ক্রমবর্ধমান চাপের ফলে খাদ্য ও পুষ্টি ঘাটতি মেটাতে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন ফল এবং ফসলের উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবনের প্রতি। একই সঙ্গে জোর দেওয়া হচ্ছে স্বল্প সময়ে ভালো ফলন পাওয়ার প্রতিও। আর এসব গবেষণার ফসল হচ্ছে গ্রাফটিং পদ্ধতি। যা কম সময়ে দ্রুত ভালমানের ফলন পেতে ইতোমধ্যেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছে। আম ও লিচুর ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে। কাঁঠাল গাছে এ গ্রাফটিং বা কলম পদ্ধতি খুব পরিচিত না হলেও সাম্প্রতিক গবেষণায় তা সাফল্য পেয়েছে। এ পদ্ধতির অন্যতম দিক হচ্ছে, স্বল্প সময়েই সমগুণ সম্পন্ন ফল পাওয়া যাবে।
কাঁঠাল গাছে গ্রাফটিং পদ্ধতির গবেষক ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের ফল বিভাগের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমান বাংলানিউজের কাছে এই গবেষণার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। জিল্লুর রহমান জানান, কাঁঠাল জাতীয় ফল হওয়া সত্ত্বেও অতীতে এটি বেশি গুরত্ব পায়নি। দেশের বিভিন্ন স্থানে পাওয়া কাঁঠালের স্বাদ ও আকৃতির ভিন্নতা রয়েছে। রোপনের ৭-৮ বছর পর ফল ধরে, তাই কাঁঠাল গবেষণায় সাফল্যের জন্য অপেক্ষা করতে হয় দীর্ঘ সময়। এমন বাস্তবতায় এ ফল গবেষণায় বেশি আগ্রহী হন না বিজ্ঞানীরাও। তিনি জানান, সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দেশে কাঁঠালের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। বিদেশে রফতানি ও বাণিজ্যিকভাবে কাঁঠালনির্ভর শিল্প গড়ে ওঠার সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় এনে ২০০৮ সালের জুলাই মাসে বারি’র উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের ফল গবেষণা মাঠে কাঁঠালের গ্রাফটিং করা চারা রোপন করা হয়। পাঁচ ক্যাটগরিতে বিভক্ত ২০টি চারার ওপর এ গবেষণা চালানো হয়। গবেষণার ফলাফল সম্পর্কে জিল্লুর রহমান জানান, ভিন্ন ভিন্ন ক্যাটাগরিতে পৃথক পরিচর্যা করে রোপণের তিন বছরের মাথায় এ মৌসুমে ২টি ক্যাটাগরির গাছে কাঁঠাল ধরে। তবে এ গবেষণা একটি চলমান প্রক্রিয়া, তাই ভালো সাফল্য পেতে এ বিষয়ে অধিকতর গবেষণা প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি।
মুক্তাগাছার জমিদারদের অনন্য স্থাপত্যকীর্তি
এম. আবদুল্লাহ আল মামুন খান
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার জমিদারদের স্থাপত্যসমৃদ্ধ স্থাপনা এখনো পর্যটকদের দারুণ কৌতূহল জাগায়। মুক্তাগাছার জমিদাররা শুধু খাজনা আদায় আর ভোগ-বিলাসেই মত্ত থাকেননি তারা অনন্য সুন্দর স্থাপনা নির্মাণ করে তাদের রুচির পরিচয় রেখে গিয়েছেন। কর্মের মাধ্যমেই ত‍ারা অমর হয়ে রয়েছেন। তাদের স্থাপত্যকীর্তির মধ্যে অন্যতম হলোÑ শশী লজ (বর্তমানে মহিলা টিচার্স ট্রেনিং কলেজ), আলেকজান্দ্রা ক্যাসেল (বর্তমানে টিচার্স ট্রেনিং কলেজ), সূর্যকান্ত হাসপাতাল (বর্তমানে এসকে হাসপাতাল), রাজ রাজেশ্বরী ওয়াটার ট্যাঙ্ক, শিব মন্দির, মহাকালী স্কুল, বিদ্যাময়ী স্কুল, ময়মনসিংহ টাউন হল, পণ্ডিতপাড়া ক্লাব অন্যতম। এরমধ্যে আলেকজান্দ্রা ক্যাসেল লোহার কুঠি বলে পরিচিত। বাড়িটি তৈরি করতে লোহার পরিমাণ বেশি লেগেছিল বলেই এর এ নামকরণ হয়েছে। বহু বিখ্যাত ব্যক্তি এ বাড়িতে রাত কাটিয়েছেন। অন্যতম হলেন- বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।  রবীন্দ্রনাথের স্মৃতি বিজড়িত এ ক্যাসেলের দামি শ্বেত পাথর একে একে খোয়া গেছে। স্মৃতির সঙ্গে এ উদাসীনতা শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষকে রীতিমতো ব্যথিত করে। এ ব্যথা পেরিয়ে সামনে কিছু দূর এগুলেই ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সামনের বিরাট প্রাচীর ঘেরা ফটক। ফটক পেরুলেই ফোয়ারা। ফোয়ারার মাঝে নার্সিসাস ভঙ্গিতে নারী মূর্তি। এটিই শশী লজ। আজ এ লজে নেই বিস্ময়কর সেই মিউজিক্যাল সিঁড়ি। যা বেয়ে উঠতে গেলেই বেজে উঠতো মোহনীয় সঙ্গীত। ১৮৯৭ সালে ভূমিকম্পে এ বাড়ির ক্ষতিগ্রস্ত হয় মিউজিক্যাল সিঁড়ি। এটি যথাস্থানে ফিরিয়ে আনতে শশীকান্ত ব্যয় করেছিলেন ওই সময়ে ৩ লাখ টাকা। মুক্তাগাছার জমিদারদের বিভিন্ন স্মৃতি ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলায় যা পর্যটকদের দৃষ্টি কাড়ে। পূর্ব বাংলার প্রথম ঘূর্ণায়মান নাট্য মঞ্চটি ভূপেন্দ্র কিশোর মুক্তাগাছার আটানী বাড়িতে স্থাপন করেন। আজো তার গোলাকৃতি চিহ্ন সেই বাড়ির পরিত্যক্ত স্থানে স্পষ্ট হয়ে আছে। মুক্তাগাছায় রাজ রাজেশ্বরী মন্দির, শিব মন্দির, বিষ্ণু সাগর (বিশাল আকারের দীঘি), বিভিন্ন পরিখা পর্যটকদের ইতিহাসের ঢঙ্কা বাজায়। বীরেন্দ্র কিশোর শশীকান্ত নামে পরিচিত ছিলেন। তার নির্মিত শশী লজ এখনো অনেকের মনে বিস্ময় জাগায়। তিনি রাজা থেকে মহারাজা পর্যন্ত উপাধি পেয়েছিলেন। ১৯২০ সালে বাংলার গভর্নর রোনাল্ড তাকে মহারাজা উপাধি দেন। তিনি ছিলেন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক। এ বংশের জমিদারদের জন্যই ময়মনসিংহ শহর ‘জমিদারদের শহর’ বলে পরিচিত। দৃষ্টিনন্দন শশী লজ, আলেকজান্দ্রা ক্যাসেল, এঁদেরই কীর্তি। ময়মনসিংহে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এসেছিলেন মহারাজ শশী কান্তের আমন্ত্রণে। ১৯২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কবি ময়মনসিংহে আসেন । বেশ কয়েকদিন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অবস্থান করেছিলেন। কবিগুরু অবস্থান করেছিলেন সূর্যকান্তের বাগানবাড়ি আলেকজান্দ্রা ক্যাসেলে । কবিগুরুর ময়মনসিংহে আগমন ময়মনসিংহবাসীর জন্য পরম গৌরবের। 
ওরা রোদে পোড়ে, বৃষ্টিতে ভেজে
ফিরোজ আমিন সরকার
ফাকা মাঠের মধ্যে বাঁশের খুঁটির ওপর একটি খড়ের চালা। চারদিকে কোনো বেড়া নেই। এক পাশ থেকে তাকালে অন্য পাশের দৃশ্যপট অনায়াসে দেখা যায়। ঘরের পাশে উড়ছে একটি পতাকা। স্কুলের চিহ্ন বলতে ওই পতাকাটি। ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার সর্বমঙ্গলা রেজিস্টার্র্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্র এটি। বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯১ সালে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার সর্বমঙ্গলা গ্রামের কয়েকজন উদ্যোমী তরুণ সর্বমঙ্গলা রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করে। ২০১০ সালে বিদ্যালয়টি নিবন্ধন হয়। বর্তমানে পাঁচটি শ্রেণীতে দেড়শ’ শিক্ষার্থী এখানে পড়াশোনা করছে। শিক্ষক আছেন চারজন। বাঁশের বেড়ার তৈরি ঘরটির দৈর্ঘ্য ৩২ ফুট, আর উচ্চতা ৭ ফুট। চারপাশের অবস্থা জরাজীর্ণ। রোদের তীব্রতা থেকে রক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের মাথার ওপরে খড়ের তৈরি আচ্ছাদনটিও অর্ধেক খসে পড়েছে। সেই ঘরেই তিনটি  শ্রেণিকক্ষ। মাঝখানে নেই কোনো বিভাজন।
তিনটি শ্রেণিকক্ষের মাঝে ঝুলছে একটি মাত্র ব্লাকবোর্র্ড। স্কুলটিতে বেঞ্চ আছে ১৮ জোড়া। তারও অর্ধেক ভাঙা। মূল্যবান কাগজ ও খাতা সংরক্ষণের জন্য কোনো কোনো আলমারি নেই। ফলে জরুরি কাগজপত্র প্রধান শিক্ষক তার বাড়িতে নিয়ে যান। স্কুলটিতে নেই কোনো শৌচাগার। প্রকৃতির ডাকে শিক্ষার্থীরা চলে যায় আশপাশের মাঠে। আর পিপাসা পেলে স্কুলের পাশের বাড়ির নলকূপই তাদের একমাত্র ভরসা। পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী নাসিমা আক্তার বলে, সামান্য বৃষ্টি হলেই ভেসে যায় ক্লাসরুম। প্রখর রোদেও হয় ভীষণ কষ্ট। তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র আল আমিন জানায়, তৃষ্ণা পেলে বাড়িতে গিয়ে পানি খেয়ে আসতে হয়। ফলে পড়ালেখার সময় নষ্ট হয়। পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র মোসাদ্দেক আলী জানায়, প্রচ- রোদের সময় ক্লাসরুমে বসে থাকা যায় না। স্কুলের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম বাংলানিউজকেজ বলেন, ‘এ স্কুলের দুই কিলোমিটারের মধ্যে আর কোনো স্কুল নেই। এই স্কুলটিই এলাকার একমাত্র ভরসা। সমস্যাগুলো অনেকবার কর্র্তৃপক্ষকে জানানো হলেও সমাধানের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। ফলে শিক্ষার্থীরা এ স্কুলে পড়ালেখা করতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘অবকাঠামো না থাকলেও গত বছরে এ স্কুল থেকে ২২ শিক্ষার্থী প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ২১ জন কৃতকার্য হয়’। বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মাজেদুর রহমান জানান, প্রতি বছর নিজ উদ্যোগে স্কুলঘরের বেড়া মেরামত করা হয়। কিন্তু কিছু দিন পর সেগুলো আবারও নষ্ট হয়ে যায়। স্কুলের অবকাঠামো নির্মাণের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে।  বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা প্রত্যুষ চ্যাটার্জী জানান, বিদ্যালয়টির অবকাঠামো নির্মাণের জন্য তালিকা পাঠানো হয়েছে।
মাছ ও দেশি মুরগীর দাম নিয়ে নৈরাজ্য
মহিউদ্দিন মাহমুদ
মাছ-মুরগী ও সবজির বাজারে দাম নিয়ে চরম নৈরাজ্য চলছে। বিক্রেতারা নিয়মকানুনের বালাই না করেই একেক জনের কাছে একেক রকম দাম আদায় করছেন।
এক্ষেত্রে রাজধানীর বাজারগুলোতে ঢাকা সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত মূল্য তালিকা ঝোলানোর কথা থাকলেও বাজার কমিটিগুলো বিষয়টিকে পাত্তা দিচ্ছে না। এ অনিয়ম দূর করার কাজে নিয়োজিত ট্রেড্রিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মোবাইল টিম ঝিমিয়ে পড়েছে অনেক আগেই। ফলে দাম নিয়ে বাজারগুলোতে নৈরাজ্য চরম আকার ধারণ করেছে। শনিবার মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেট ও কৃষি মার্কেটসহ কয়েকটি কাঁচা বাজার ঘুরে এ দৃশ্য দেখা গেছে। দেখা যায় একই মাছ একজন ক্রেতার কাছে যত টাকা বিক্রি করা হচ্ছে তা অন্য আরেকজন ক্রেতা কিনছেন তার চেয়ে অনেক বেশি টাকা দিয়ে। কখনো দেড় থেকে দুই গুণ বেশি দামও আদায় করা হচ্ছে কারো কারো কাছ থেকে। মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেটে এক বিক্রেতা মাঝারি আকারের (২-২.৫ কেজি) কাতল মাছের কেজি বিক্রি করছেন ৩০০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকা। অন্য দিকে সেই একই বিক্রেতা কিংবা অন্য আরেকজন বিক্রেতা একই আকারের মাছের দাম হাকছেন প্রতি কেজি ৪৫০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা। এ রকম ঘটনা ঘটছে সবজির বাজার ও মুরগীর বাজারেও। মুরগী’র বাজারে দেশি ও পাকিস্তানি মুরগীর মধ্যে গোলমাল পাকানো খুব স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঠিকা হিসেবে আধা কেজি ওজনের একটি দেশি মুরগী কারো কাছে ৩০০ টাকা, ৩৫০ টাকা, ৪০০ টাকা যার কাছে যা ইচ্ছে দাম হাঁকছেন বিক্রেতারা। সবজির বাজারেও বিক্রেতার বদলের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন সবজির দাম কেজিতে ২ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত পার্থক্য হয়ে যায়। এর বাইরে আবার মাছ কেজি হিসেবে বিক্রি হওয়ার কথা থাকলেও ইলিশ মাছসহ বিভিন্ন ধরনের মাছ ঠিকা নিয়মে বিক্রি হচ্ছে। এমনিতেই নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে ক্রেতারা দুর্ভোগে রয়েছেন। তার উপর দাম নিয়ে এত অনিয়ম তাদের ভোগান্তিকে বাড়িয়ে দিয়েছে আরো কয়েকগুণ। এ বিষয়ে একজন সাধারণ ক্রেতা বনি আমিন সাগর বাংলানিউজকে বলেন, ‘এরকম অবস্থার মধ্যে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়তে হয়। আমরা বুঝতে পারি না কোন একটা জিনিসের প্রকৃত মূল্য। যার ফলে প্রায়ই প্রতারিত হচ্ছি। এ রকম অনিয়মের অবসান হোক এটাই চাই।’ অন্যদিকে মাছ বিক্রেতা কাউসার আহমেদ বলেন, ‘আমরা যে দামে জিনিস কিনি আনি সেই অনুযায়ীই বিক্রি করতে হয়। মাছের কোয়ালিটির, সাইজের উপর অনেক সময় দাম সামান্য কম বেশি হয়ে থাকে। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য মুঠোফোনে যোগাযোগ করেও ট্রেড্রিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এর চেয়ারম্যান বিগ্রেডিয়ার সারওয়ার জাহান তালুকদারকে পাওয়া যায়নি।

৮৫৭ শিক্ষার্থীকে শিক্ষা বৃত্তি দিলো ডাচ বাংলা ব্যাংক
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
‘হোক দীপ্তিময় জীবনের স্বপ্ন পূরণের সেতু বন্ধন’ মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে আবারও অসহায় ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ালো বেসরকারি খাতের ডাচ বাংলা ব্যাংক লিমিটেড। ব্যাংকের সামাজিক কল্যাণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ৮৫৭ জন শিক্ষার্থীকে প্রদান করা হলো শিক্ষা বৃত্তি। বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা ২০১১ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বর্তমানে বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করছেন। শনিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধান অতিথি হিসেবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত আনুষ্ঠানিকভাবে মেধাবীদের হাতে এ শিক্ষাবৃত্তি তুলে দেন। ডাচ বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান সায়েম আহমেদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান। এছাড়া বক্তব্য রাখেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেএস তাবারেজ।
বিদায় গার্দিওলা
স্পোর্টস ডেস্ক

২০০৮ সালে স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনার দায়িত্ব নেন পেপ গার্দিওলা। তার অধীনেই ভিন গ্রহের ফুটবল খেলার খ্যাতি অর্জন করে বার্সা। ক্লাবের প্রেসিডেন্ট সান্দ্রো রোসেল তাকে ঘোষণা করেছেন বার্সেলোনার ইতিহাসের সবচেয়ে সেরা কোচ। চার মৌসুমে বার্সাকে এনে দিয়েছেন ১৩টি শিরোপা। এত অর্জনও মায়ার বাঁধনে বাঁধতে পারেনি সফল এই কোচকে। মেসি, জাভি, ইনিয়েস্তা ও ভিয়াদের মতো তারকা ফুটবলারদের গুরু সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগের বিষয়ে বলেন, ‘কারণ খুবই সাধারণ। চার বছর যথেষ্ঠ। আমি ক্লান্ত এবং আমার নিজেকে ঝালিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। এখানে প্রত্যাশা অনেক উঁচুতে থাকে এবং একজন ম্যানেজারকে খুবই শক্ত হতে হয়।’ গত ডিসেম্বরেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন বার্সার হয়ে আর থাকছেন না গার্দিওলা। তবে মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই সবকিছু পরিস্কার করে দেওয়ার জন্য লা লিগা ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা হাত ছাড়া হওয়ার বিষয়টি রয়েছে। গার্দিওলা বলেন, ‘আমরা এখন দুটি বড় প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে পড়েছি। তাই ঘোষণা দেওয়ার এখনই উপযুক্ত সময়।’ স্পেনের সাবেক এই মিডফিল্ডার বলেন  ‘আমি প্রত্যেক খেলোয়াড়কে ধন্যবাদ জানাই। তাদের মতো গ্রেট খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ দেওয়া ছিলো আমার সবচেয়ে বড় পাওনা। দিনের পর দিন, বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সবকিছুকেই সম্ভবে পরিণত করেছিলো তারা। তাই আমি ছুটিতে যাচ্ছি।’ চার বছর বার্সার কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন গার্দিওলা। এই সময়ের মধ্যে ১৩ টি শিরোপা জিতেছে বার্সা। এর  মধ্যে রয়েছে ৩টি লা লিগা শিরোপা, ২টি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা ও দুইবার ক্লাব বিশ্বকাপের ট্রফি।
গুরুর বিদায়ে আবেগাপ্লুত মেসি
স্পোর্টস ডেস্ক

মাদ্রিদ: ফিফা ব্যালন ডি’ওরের পুরস্কার, উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ বা লা লিগার শিরোপা সবই জিতেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। যার তত্ত্বাবধানে আলো ছড়িয়েছেন মাঠে এবং উড়েছেন মুক্ত বিহঙ্গের মতো তার বিদায়ের খবরে বিমর্ষ ছিলেন বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড। তাই গুরু পেপ গার্দিওলার পদত্যাগ ঘোষণার সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হননি ২৪ বছর বয়সী এই ফুটবলার। গার্দিওলার সরে দাঁড়ানোর ঘোষণার পর নিজের ফেসবুকে মেসি লিখেছেন, ‘ক্যারিয়ারে তিনি আমাকে সব কিছু দিয়েছেন। এমনকি ব্যক্তিগত অনেক ব্যাপারেও তার কাছে থেকে সহায়তা পেয়েছি। এসবের জন্য তাকে ধন্যবাদ দিতে চাই আমি।’ গার্দিওলা মেসির ওপর যথেষ্ঠ প্রভাব বিস্তার করেছিলেন। তাই আবেগাপ্লুত মেসি বলেন, ‘আমি সিদ্ধান্ত নিয়ে ছিলাম, পেপের (বার্সা কোচ) সংবাদ সম্পেলনে উপস্থিত হবো না। কারণ আমি জানি, তার (গার্দিওলা) দৃষ্টি কষ্টের পাথরের মতো পড়বে খেলোয়াড়দের ওপর। এজন্য সম্মেলনে নিজেকে প্রদর্শন না করার সিদ্ধান্ত নেই আমি।’ মেসি ছাড়াও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম টুইটারে গার্দিওলার পদত্যাগের বিষয়ে নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বার্সার অধিনায়ক কার্লেস পুয়োল, সেস ফ্যাব্রিগাস, গেরার্ড পিকে, দানি আলভেস ও আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা। ফ্রাব্রিগাস বলেন, ‘যদিও আমি এক বছর খেলেছি গার্দিওলার অধীনে। তারপরও আমার কাছে মনে হয়েছে এটা দীর্ঘ সময়। কারণ গার্দিওলা ছিলেন আমার শৈশবের নায়ক।’ আলভেস টুইটারে লিখেন, ‘আমার কাছে এটি দুঃখের দিন। কারণ তিনি আমাদের সন্তানের মতো স্নেহ করতেন।’ ২০০৮ সালে বার্সার কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেন পেপ গার্দিওলা। চার বছর তার অধীনে দারুণ খেলার পরও চুক্তি নবায়ন না করে এই মৌসুমের শেষ দিকে ক্লাব থেকে সরে দাঁড়নোর ঘোষণা দিয়েছেন স্পেনের সাবেক এই মিডফিল্ডার। তার বদলে পরবর্তীতে বার্সার প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেবেন তিতো ভিলানোভা। 
গর্ভবতী মায়ের যত্ন 
মো. আবদুর রহমান
কথায় বলে ‘শিশুর হাসিতে মায়ের খুশি’। আর এই হাসি দেখতে হলে মাকে গর্ভকাল থেকেই থাকতে হবে হাসিখুশি ও দুশ্চিন্তামুক্ত। গর্ভবতী মাকে নিয়মিত ঘুম ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে। সর্বোপরি সুস্থ শিশুলাভের জন্য গর্ভবতী মায়ের পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ ও স্বাস্থ্য পরিচর্যা প্রয়োজন। পরিবারের সবারই গর্ভবতী মাকে এ ব্যাপারে সাহায্য ও সহযোগিতা করা উচিত। গর্ভবতী মায়ের নিজের প্রয়োজনীয় খাবার খাওয়ার পাশাপাশি গর্ভস্থ শিশুর জন্য বাড়তি খাদ্যের প্রয়োজন হয়। তাই গর্ভবতী মা ও তার অনাগত শিশুর সুস্থ জীবনের জন্য গর্ভবতী মায়ের প্রতিদিন পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ করা প্রয়োজন। অজ্ঞতা, কুসংস্কার ও দারিদ্র্যের কারণে আমাদের দেশের অনেক গর্ভবতী মা প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করেন না। মায়ের অপুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ শুধু তার জন্যই ক্ষতিকর নয়, ভ্রুণ এবং নবজাত শিশুর জন্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিকর। গর্ভাবস্থায় মা পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ না করার কারণে শিশু ও গর্ভবতী মা উভয়ই অপুষ্টিতে ভোগেন। আর মা যদি গর্ভাবস্থায় অপুষ্টিতে ভোগেন তাহলে যে শিশু জন্মগ্রহণ করবে তার জন্ম-ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে কম হবে, শিশু জন্মগতভাবেই অপুষ্টি নিয়ে জন্মগ্রহণ করবে। এ ধরনের শিশুর মৃত্যুঝুঁকিও বেশি থাকে। পক্ষান্তরে গর্ভকালীন সময়ে মা যদি পুষ্টিকর খাদ্য না খান, তাহলে মায়ের স্বাস্থ্য ভেঙ্গে পড়বে। এ ধরনের মায়েদের গর্ভপাত, অপরিণত ও মৃতশিশু প্রসব এবং প্রসবকালীন মৃত্যুর ঝুঁকিও বেশি থাকে। গর্ভবতী মায়েদের প্রতিদিন ভাত, মাছ (মলা, ঢেলা ইত্যাদি ছোট মাছ), সম্ভব হলে মাংস, ডিম, দুধ এবং ঘন ডাল, সিমের বিচি প্রভৃতি খেতে হবে। এছাড়া গাঢ় সবুজ ও হলুদ রঙের শাকসবজি ও তাজা ফলমূল, বিশেষত পাকা আম, পেঁপে, কাঁঠাল, পেয়ারা, আনারস, কচুশাক, পুঁইশাক, ডাঁটাশাক, লালশাক, গাজর, টমেটো, মিষ্টি কুমড়া এসব ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ খাবার বেশি করে খাওয়া উচিত। কারণ ভিটামিন ‘এ’ শরীরে আয়রন (লৌহ) ব্যবহারে সাহায্য করে। আমলকি, পেয়ারা, বাতাবিলেবু, কামরাঙা, পাতি লেবু, কাগজী লেবু, কুল ইত্যাদি খেলে সহজেই ভিটামিন ‘সি’-র অভাব পূরণ হবে। শরীরে আয়রন (লৌহ) শোষিত হওয়ার জন্য ভিটামিন ‘সি’ অত্যন্ত জরুরি। গর্ভবতী মায়েদের জন্য ক্যালসিয়ামও গুরুত্বপূর্ণ। ক্যালসিয়ামের অভাবে উচ্চ রক্তচাপ, প্রি-একলাম্পশিয়া হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। দুধ, ঘি, মাখন, ডিমের কুসুম, ছোট মাছ (কাঁটাসহ) কলিজা, ডাল, মাংস এবং সবুজ শাকসবজি ও ফলমূল ইত্যাদিতে প্রচুর ক্যালসিয়াম থাকে। কোনও কারণে সব ধরনের পুষ্টিকর খাবার জোগাড় করা সম্ভব না হলেও বাড়িতে তৈরি স্বাভাবিক খাবার যেমন- একটু বেশি ভাত, বেশি পরিমাণ ঘন ডাল, তরকারি এবং পর্যাপ্ত ফলমূল খেলে এই প্রয়োজন মিটবে। গর্ভাবস্থায় মাকে লৌহসমৃদ্ধ খাবার (যেমন- মাংস, ডিম, কলিজা, ডাল, কাঁচাকলা, কচুশাক, লালশাক, ডাঁটাশাক, পুঁইশাক) এবং অন্যান্য সবুজ শাকসবজি ও টাটকা ফলমূল প্রতিদিন বেশি করে খেতে হবে। গর্ভবতী মায়ের খাদ্যে আয়োডিনযুক্ত লবণ এবং সামুদ্রিক মাছ ও সামুদ্রিক মাছের তেল থাকা উচিত। প্রচুর শাকসবজি ও তাজা ফলমূল খেলেও আয়োডিনের অভাব পূরণ করা যায়। গর্ভকালীন সময়ে দৈনিক ১৫-২০ গ্লাস বিশুদ্ধ ও আর্সেনিক মুক্ত নিরাপদ পানি পান করা উচিত। এ সময় মায়েদের বারে বারে খেতে হয়। সন্তান প্রসবের সময় মায়ের শরীরের ওপর অনেক চাপ পড়ে এবং তার দেহের অনেক ক্ষয় হয়। দেহের এ ক্ষয়পূরণ, পুষ্টি সাধন এবং দেহকে সুস্থ-সবল ও নিরোগ রাখার জন্য গর্ভবতী মায়ের মতো প্রসূতি মাকেও বেশি করে পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। এছাড়া শিশুর জন্মের পরই তার খাবার অর্থাৎ মায়ের দুধ তৈরি হওয়ার জন্য মায়ের অতিরিক্ত পুষ্টির প্রয়োজন হয়। জন্মের পর থেকে পাঁচ মাস বয়স পর্যন্ত শিশুকে শুধু বুকের দুধ খেতে দিতে হবে। শিশুর জন্য মায়ের শাল দুধ ও বুকের দুধ পৃথিবীর সেরা পুষ্টিকর খাবার। মায়ের দেহ থেকে বুকের দুধের উপাদান তৈরি হয়। সুতরাং প্রসূতি মায়ের নিজের স্বাস্থ্য রা ও বুকের দুধ তৈরি করার জন্য মাকে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি সমৃদ্ধ সব ধরনের খাবার খেতে হবে। প্রসূতি মহিলাদের নিজের দেহের ক্ষয়পূরণ ও বুকে দুধ উৎপাদনের জন্য প্রোটিনের প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধি পায়। এজন্য প্রসূতি মাকে প্রতিদিন প্রোটিন জাতীয় খাবার যথা-মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ডাল ইত্যাদি বেশি করে খেতে হবে। সাধারণত প্রসূতি মায়ের বুকে দৈনিক ২০-৩০ আউন্স দুধ তৈরি হয়। ২ গ্রাম খাদ্য প্রোটিন থেকে ১ গ্রাম দুধের প্রোটিন তৈরি হয়। এটি তখনই সম্ভব মায়েরা যদি দৈনিক ১০০ গ্রাম প্রোটিনের মধ্যে কমপে অর্ধেক বা দু-তৃতীয়াংশ প্রাণিজ প্রোটিন যেমন- মাছ, মাংস, ডিম, দুধ ইত্যাদি গ্রহণ করেন। প্রাণিজ প্রোটিন মায়ের দুধের উৎকৃষ্ট উপাদান। শিশুর শরীর বৃদ্ধি শিশুকালই সবেচেয়ে বেশি হয়। এজন্য প্রচুর প্রোটিন প্রয়োজন। আর এ প্রোটিন শিশু মায়ের বুকের দুধ থেকেই পেয়ে থাকে। ক্যালসিয়াম ও লৌহজাতীয় খাবারও প্রসূতি মাকে বেশি করে খেতে হবে, যাতে দুধের মাধ্যমে এ দুটি উপাদান শিশুর দেহের চাহিদা পূরণ করতে পারে। ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণের জন্য প্রসূতি মাকে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। আর লৌহের চাহিদা পূরনের জন্য মার লৌহসমৃদ্ধ খাবার বেশি করে খাওয়া উচিত। স্তন দানকালে মায়ের প্রথম ছয় মাস অতিরিক্ত ক্যালরি প্রয়োজন। এ ক্যালরি দুধ তৈরি ও নিঃসৃত করার কাজে ব্যয় হয়। সেজন্য বেশি করে ভাত, রুটি ইত্যাদি খাওয়া উচিত। তাছাড়া ভিটামিন ‘এ’, ‘বি-১’ (থায়ামিন), বি-২ (রাইবোফেবিন) এবং ভিটামিন ‘সি’র চাহিদা পূরণের জন্য প্রসূতি মাকে প্রতিদিন চাহিদার অতিরক্তি শাক-সবজি ও মৌসুমী ফলমূল খেতে হবে। প্রসূতি মা যখন শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ান, তখন তার শরীর থেকে প্রতিদিন অনেক পানি বের হয়ে যায়। এ ঘাটতি পুষিয়ে নেয়ার জন্য তাকে প্রচুর পানি পান করতে হবে, তাহলে দুধের প্রবাহ সহজ হয়। এছাড়া রসালো ফলমূল এবং বেশি করে ঝোল দিয়ে রান্না করা মাছের তরকারিও বেশ উপকারী। বাচ্চা প্রতিদিন যে পরিমাণে মায়ের দুধ খায় অন্তত সেই পরিমাণ পানি জাতীয় খাবার প্রসূতি মায়ের শরীরে ফিরিয়ে দেয়া উচিত। শিশু জন্মের পর কমপক্ষে ছয় সপ্তাহ প্রসূতি মাকে ভারী কোনও কাজ করতে দেওয়া যাবে না। এ সময় মা যাতে পরিপূর্ণ বিশ্রাম পান সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে। প্রসূতি মায়ের পরিমিত বিশ্রাম যেমন মায়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখে, তেমনি শিশুর স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও সাহায্য করে।


ঢালিউডের নায়িকা নিপুণ
ঢালিউডের নায়িকা নিপুণ। অভিনয় প্রতিভার প্রমাণ রাখছেন একের পর এক চলচ্চিত্রে। মূলধারার বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি জীবন ঘনিষ্ঠ বিকল্প ধারার ছবিতেও সমানে অভিনয় করছেন। সমসাময়িক অন্য চলচ্চিত্র নায়িকাদের মতো মুখ ফিরিয়ে রাখেননি ছোটপর্দা থেকেও। বড়পর্দার পাশাপাশি মাঝেমধ্যে টিভিনাটকেও অভিনয় করছেন। মডেলিংয়েও নিপুণ দেখিয়েছেন নৈপুণ্য। তার করা একাধিক বিজ্ঞাপন পেয়েছে জনপ্রিয়তা। সবমিলিয়ে সময়টা এখন নিপুণের ভালোই কাটছে ।
nipunমৌসুমী আর পূর্ণিমার পর সম্ভাবনার দ্যুতি হয়ে এসেছিলেন নিপুণ। ক্যারিয়ারের দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই পেয়ে যান জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। ২০০৯ সালে দ্বিতীয়বারের মতো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়ে সবাইকে চমকে দেন এই নায়িকা। চলতি বছর নিপুণ প্রথমবার দর্শকদের সামনে আসছেন, আগামী ৪ মে । মনতাজুর রহমান আকবর পরিচালিত ‘বাজারের কুলি’ ছবিতে ডিপজলের বিপরীতে তাকে দেখা যাবে। যদিও নিপুণ অভিনীত প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘পিতার আসন’-এর কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন ডিপজল। ছবিতে নিপুণের নায়ক ছিলেন শাকিব খান। এবার সরাসরি ডিপজলের নায়িকা হিসেবে দর্শকদের সামনে আসছেন তিনি।
‘বাজারের কুলি’ ছবিতে ডিপজলের বিপরীতে অভিনয় প্রসঙ্গে নিপুণ বললেন, নিজের যোগ্যতা দিয়েই ডিপজল ভাই আজকে নায়ক হিসেবে চলচ্চিত্রে অভিনয় করছেন। দর্শকরাও নায়ক হিসেবে ডিপজলকে পছন্দ করছে, তার মুক্তিপাওয়া ছবিগুলোর বাণিজ্যিক সাফল্য তারই প্রমাণ। খুব ভাল লেগেছিল যখন আমি এই ছবিতে ডিপজল ভাইয়ের নায়িকা হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হই। কাজ করতে গিয়ে আরও ভাল লেগেছে। রোমান্টিক গানও রয়েছে আমাদের। আমার বিশ্বাস আমাদের এই নতুন জুটিকে দর্শক বেশ  ভালোভাবেই গ্রহণ করবে।
নিপুণ অভিনীত সর্বশেষ ছবি শাহাদাত হোসেন লিটন পরিচালিত ‘আদরের জামাই’ মুক্তি পেয়েছিল গত বছর ৩০ ডিসেম্বর। এতে নিপুণের সঙ্গে আরো ছিলেন শাকিব খান ও অপু বিশ্বাস। ছবিটি ব্যবসায়িক সাফল্য পেয়েছিল। ‘বাজারের কুলি’ ছবিটি দর্শক গ্রহণযোগ্যতা পেলে ‘লাকি নায়িকা’ হিসেবে খ্যাত নিপুনের সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। বর্তমানে নিপুণ আরটিভি প্রযোজিত ছবি ‘এইতো ভালোবাসা’ ছবির শুটিংয়ে অংশ নিচ্ছেন। এটি পরিচালনা করছেন শাহীন কবির টুটুল। বর্তমানে উত্তরায় চলছে ছবিটির শুটিং। এতে নিপুণের বিপরীতে অভিনয় করছেন নতুন প্রজন্মের দুই নায়ক ইমন ও নীরব। এ ছবিতে অভিনয় প্রসঙ্গে নিপুণ বলেন, ‘এইতো ভালোবাসা’ ছবিটির শুটিং অনেক দিন আটকে ছিল । গতবছর ছবিটির মহরতের পর শুটিংয়ের প্রস্তুতি থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা পিছিয়ে যায়। গতবছর ঈদে ছবিটির গানের  অ্যালবাম রিলিজ পায়।  জনপ্রিয়তা পেয়ে যায় গানগুলো। তারপর থেকেই অপেক্ষায় ছিলাম কাজ শুরু করার। কিন্তু অন্যদের সঙ্গে শিডিউল মেলাতে সমস্যা হওয়ায় শুটিং শুরুর তারিখ কেবলই পিছিয়ে যাচ্ছিল। শেষপর্যন্ত ছবিটির শুটিং শুরু হওয়ায় খুব ভালো লাগছে। বাণিজ্যিক ছবির পাশাপাশি বিকল্পধারার ছবিতেও সমানতালে কাজ করছেন। অয়াহিদুজ্জামান ডায়মন্ড পরিচালিত ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। গত সপ্তাহে ছবিটি বিনা কর্তনে সেন্সর ছাড়পত্র পেয়েছে।।এবারের এইচএসসি পরীক্ষার পরপরই ‘অন্তর্ধান’ মুক্তি পাবে। নায়ক ফেরদৌসের বিপরীতে এ ছবিতে নিপুণকে দেখা যাবে  পদ্মাচরের একজন সাধারণ গৃহিণীর চরিত্রে। সর্বনাশা পদ্মার গ্রাসে চরাঞ্চলের সর্বহারা মানুষের জীবনযাত্রা নিয়ে এ ছবিটি নির্মিত হচ্ছে। নদীর ভাঙনে সবকিছু হারানো পরও একজন অসহায় নারীর ভালোবাসা জিইয়ে রাখার চিত্ররূপ এটি। চাঁপাইনবাবগঞ্জের পদ্মাচরে ছবিটির শুটিং হয়েছে। এ ছবিতে অভিনয় প্রসঙ্গে নিপুণ বললেন, ডায়মন্ড ভাইয়ের ‘গঙ্গাযাত্রা’ দেখে মুগ্ধ হয়েছি। তিনি আমাকে তার নতুন ছবি ‘অন্তর্ধান’-এ অসাধারণ একটি চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ দিয়েছেন বলে আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি। প্রচন্ড গরমের মধ্যে পদ্মার পারে কাজ করতে গিয়ে মনে হচ্ছিল, রোদে পুড়ে যাচ্ছি। এ ধরণের পরিবেশে কাজ করা তো দূরে থাক, আমার আগে কখনো যাওয়াই হয় নি। ভালো কাজের জন্য তো একটু কষ্ট করতেই হবে। এই কষ্টের মধ্যেও আছে স্বার্থকতা।
nipinবতর্মানে নিপুণ অভিনীত নির্মাণাধীন ছবির মধ্যে রয়েছে এম এ আউয়ালের ‘কাছের শত্রু’, শাহীন কবির টুটুলের ‘এইতো ভালোবাসা’, মানিক মানবিকের ‘শোভনের স্বাধীনতা’, শাহনাজ কাকলী`র ‘জল রঙ’, শফিউদ্দিন শফির ‘ঢাকার কিং`’ইত্যাদি। এছাড়াও নিপুণ অভিনীত মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ছবির মধ্যে রয়েছে- রকিবুল আল রাকিবের ‘জান তুমি প্রাণ তুমি’, অনন্য মামুনের ‘কাছে এসে ভালোবাস’, আশরাফুর রহমানের ‘তুমি আসবে বলে’ এবং শাহজাহান চৌধুরীর ‘আত্মদান’ ‌‌‌।
সবশেষে নিপুণ বাংলানিউজের মাধ্যমে দর্শকদের উদ্দেশ্যে বললেন, আপনাদের প্রতি আমার আহ্বান ছবি দেখতে সিনেমা হলে আসুন। এখনো ভালো ছবি তৈরি হয়। আপনারা সিনেমা হলে এলে ভালো ছবির নির্মাতারা উৎসাহিত হবেন। ভালো ছবি নির্মাণের সংখ্যা বাড়বে।

টাইম ম্যাগাজিনের জরিপে প্রভাবশালী তালিকায় পপক্রেজ অ্যাডেল
প্রীতি ওয়ারেছা

টাইম ম্যাগাজিনের জরিপে বছরের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যাক্তিদের তালিকা জায়গা করে নিয়েছেন ব্রিটিশ পপক্রেজ অ্যাডেল। ২৩ বছর বয়সী এই সঙ্গীত তারকার টাইমে এই তালিকায় উঠে আসা ওয়ার্ল্ড শোবিজে তৈরি করেছে আলোচনা। পপক্রেজ অ্যাডেল ছাড়াও প্রভাবশালী ব্যাক্তির তালিকার জায়গা করে নিয়েছেন লাগামহীন ক্ষিপ্রতা সম্পন্ন দৌড়বিদ উসাইন বোল্ট এবং ব্রিটিশ রাজ পরিবারের আত্মীয় পিপ্পা মিডলটন । সারা পৃথিবীর অনুসরণীয় ব্যক্তিদের নিয়ে টাইম ম্যাগাজিন প্রতি বছর সেরা প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব নির্বাচন করে থাকে। ১৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার টাইম ম্যাগাজিন প্রকাশ করেছে এ বছরের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের তালিকা। এ বছর টাইম ম্যাগাজিন মিশ্র ক্যাটাগরির ধনাঢ্য, ক্ষমতাশালী, প্রবক্তা, আইকন এবং নেত্রীস্থানীয় বিখ্যাত সব মানুষদের নিয়ে এই আয়োজনটি করে। অনলাইন জরিপে বিপুল সংখ্যক পাঠকদের অংশগ্রহণে বাছাই পর্ব সম্পন্ন হয়। তালিকায় যেমন আছেন ধনী ব্যক্তিত্ব ওয়ারেন বাফেট, তেমনি আছেন ইউএস ফেডারেল রিজার্ভ চেয়ারম্যান বেন বার্নেক আবার আছেন জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী এবং পারফর্মার অ্যাডেলে এবং বিয়োন্সে। এ বছর টাইম ম্যাগাজিনের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব বাছাইয়ের এই আয়োজনে টপ ১০০ ফাইনালিস্টের মধ্যে ছিল ৩৮ জন মহিলা। যেটা অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি। তালিকাটা ছিল অনেকটাই ইউএস কেন্দ্রিক। ইউএস কেন্দ্রিক তালিকায় স্থান পেয়েছেন জনপ্রিয় এশিয়ান-আমেরিকান বাস্কেটবল খেলোয়ার জেরেমি লিন এবং নিউ জার্সি গর্ভণর ক্রিস ক্রিস্টির মত রাজনীতিবিদ। প্রভাবশালী ব্যাক্তিদের তালিকা পপতারকা অ্যাডেল উঠে আসার ব্যাপারটি এবার সর্বাধিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আতংকিত সাব্বির-চুমকি
অনন্যা আশরাফ

এ সময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা মীর সাব্বির ও তার স্ত্রী অভিনেত্রী ফারজানা চুমকি বেশ কিছুদিন ধরেই একটি নতুন বাসার সন্ধান করছিলেন। কম ভাড়ায় ভালো একটি বাড়ি খুঁজছিলেন তারা। অনেক খোঁজাখুজির পর শেষপর্যন্ত পুরনো একটি বাড়ি খুঁজে পান তুলনামূলক কম ভাড়ায়। বাড়িটি ভাড়া নেওয়ার সময় সাব্বিরকে সেখানকার এক ব্যক্তি সচেতন করে দেন যে, এ বাড়িটি রহস্যে ঘেরা। এখানে প্রায়ই ঘটে রহস্যময় ঘটনা। কিন্তু সাব্বির কোনো কথায় কান না দিয়েই ভাড়া চুড়ান্ত করে ফেলেন। সাব্বির-চুমকি ঐ বাড়িতে উঠার পরপরই ঘটতে থাকে অদ্ভুত সব ঘটনা। আতংক ভর করে সাব্বির ও চুমকির মাঝে। বাড়ি নিয়ে এ সুখী দম্পতির পড়তে হয় একের পর এক বিপদে। বাস্তবে নয়, নাটকে বাড়ি নিয়ে সংকটে পরতে দেখা যাবে এ দম্পতিকে। ফজলুল করিমের রচনা ও হাবিব-ই আলম চৌধুরীর পরিচালনায় ধারাবাহিক নাটক ‘ছায়াসঙ্গী’তে এভাবেই বাড়ি নিয়ে নানা ঝামেলা পোহাতে দেখা যাবে সাব্বির ও চুমকিকে। এ নাটকের মাধ্যমে প্রায় ৬ বছর পর তারা একসঙ্গে আবারও ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করছেন। এ প্রসঙ্গে মীর সাব্বির বলেন, ‘ছায়াসঙ্গী’ নাটকের মধ্য দিয়ে ছয় বছর পর আমরা একসঙ্গে জুটি হয়ে অভিনয় করেছি। সংসারের নানা ব্যস্ততার কারণে চুমকি নাটকে সময় দিয়ে পারে না। নাটকের গল্পটিও ভালো লেগেছে। তাই ব্যস্ততার মধ্যে সময় বের করে নাটকটি আমরা একসঙ্গে করার চেষ্টা করেছি। ধারাবাহিক নাটকটি ৫২ পর্বে আরও অভিনয় করেছেন মীর সাব্বির, ফারজানা চুমকি, সিদ্দিক, মুক্তা হাসান, প্রাণ রায়, শামিম, সোহাগ কাজী, তন্দ্রা, মৌসুমী সরকার প্রমুখ।
সজলকে নিয়ে রুমানা ও নওশীনের মধ্যে টানাপোড়েন
অনন্যা আশরাফ

ছোটপর্দার রোমান্টিক অভিনেতা হিসেবে সজল পেয়েছেন জনপ্রিয়তা। এবার সজলকে নিয়ে দুই অভিনেত্রী নওশীন ও রুমানার মধ্যে তৈরি হয়েছে টানাপেড়েন। একসময় তারা দুজন আবিষ্কার করেন, সজল আসলে একজন মানসিক রোগী। এরকমই এক ত্রিভুজ প্রেমের গল্প নিয়ে তৈরি হয়েছে নাটক ‘মনের আকাশে নীল মেঘ`। অজেয় চৌধুরীর রচনায় ও জিয়াউদ্দিন আলমের পরিচালনায় ‘মনের আকাশে নীল মেঘ’ নাটকটির শুটিং হয়েছে চলতি মাসের ১০, ১১ ও ১৬ এপ্রিল। ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা সজল , অভিনেত্রী ও উপস্থাপিকা নওশীন এবং চলচ্চিত্রাভিনেত্রী রুমানা এর আগে একটি মাত্র নাটকে অভিনয় করেছিলেন। তাদের অভিনয়ে সেই নাটকটি প্রচার হয়েছিল গতবছর রোজার ঈদে।
‘মনের আকাশে নীল মেঘ’ নাটকে অভিনয় প্রসঙ্গে সজল বলেন, এ নাটকে আমি চমৎকার একটি চরিত্রে অভিনয় করছি। নিজের ভেতরের দ্বৈত সত্ত্বা ফুটিয়ে তোলার এই চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে অভিনয় করে আমি বেশ তৃপ্তি পেয়েছি।  নাটকটিতে অভিনয় প্রসঙ্গে নওশীন বলেন, সজল আর রুমানা সঙ্গে আমার অনেকদিনের বন্ধুত্বের সম্পর্ক। নাটকটির শুটিংয়ে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি আমরা একসঙ্গে চমৎকার সময় কাটিয়েছি। রুমানা বলেন, চলচ্চিত্রে কাজ করার পাশাপাশি ভালো গল্পের নাটক হলেই আমি কেবল অভিনয়ে সম্মত হই। ‘মনের আকাশে নীল মেঘ’ নাটকটির গল্প আমার খুব পছন্দ হয়েছি। আশা করি দর্শকরাও নাটকটি উপভোগ করবেন। সজল, রুমানা ও নওশীন ছাড়াও নাটকটিতে আরো অভিনয় করেছেন হাবিবুর রহমান হাবীব ও মাহিন।
বিয়ের জন্য কোনো শিডিউল খালি নেই : কণা
প্রীতি ওয়ারেছা
‘প্রিয় যাই যাই বলো না/ আর করো না ছলনা না না না/ প্রিয় যাই যাই বলো না’ -- নিজের কণ্ঠে গাওয়া নজরুলের এই বিখ্যাত গানটি সঙ্গীতশিল্পী কণার মোবাইলের রিংটোন। আজকের প্রজন্মের জনপ্রিয় গায়িকা কণার গান শেখায় হাতেখড়ি হয়েছিল নজরুল সঙ্গীতেই। নজরুল একাডেমীতে গান শিখেছেন প্রায় ৯ বছর।এখনও নজরুল সঙ্গীত চর্চাটা ধরে রেখেছেন। এ পর্যন্ত কণার ৩টা একক অ্যালবাম বেরিয়েছে ৩টি, গান গেয়েছেন অসংখ্য মিশ্র অ্যালবামে আর প্রায় ৬০০ জিঙ্গেলে কন্ঠ দিয়েছেন। কণার পুরো নাম দিলশাদ নাহার কণা। নিজের শ্বাস- প্রশ্বাসের মতোই কণা ভালোবাসেন গানকে। খুব ছোটবেলায় বয়স যখন মাত্র ৫ কী ৬! সেই বয়সেই হারমোনিয়াম আর তবলার যে ভুবনে এই মিষ্টি মেয়েটির যাত্রা শুরু হয়েছিল সেটা আজ ১৬ কী ১৭ বছর পরে এসেও চলছে দারুণ গতিতে। আজকের কনা সেদিন ভাবতেও পারেননি- একদিন তার গান সারাদেশের তরুণ প্রজন্মের অনেকেই ভালোবেসে গ্রহণ করবে। সম্প্রতি কণার মুখোমুখি হয়েছিল বাংলানিউজ। কণা বলেছেন তার সাম্প্রতিক সময়ের কর্মকান্ড, গান নিয়ে ভাবনা ও ব্যক্তিজীবনের পরিকল্পনা সম্পর্কে। কণার সঙ্গে বাংলানিউজের একান্ত আলাপচারিতার নির্বাচিত অংশে আসুন চোখ রাখি।
বাংলানিউজ : সাম্প্রতিক সময়ে কী কী কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন?
কণা : ইদানিং স্টেজ শো নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে। বিশেষ করে দেশের বাইরে অনেক শো’ করছি। এই তো কদিন আগে অস্ট্রেলিয়া আর ব্রুনাইতে শো’ করে ফিরলাম। দেশেও প্রচুর স্টেজ শো’ করছি। এবারের বৈশাখে বের হওয়া ‘কানামাছি মৌমাছি’, ‘মনের ঠিকানা’ ও ‘নারী’ এই তিনটি মিক্সড অ্যালবামে গান করেছি। আমার শেষ একক অ্যালবাম ‘সিম্পলি কণা’ আর মিক্সড অ্যালবাম থেকে বাছাই করা কয়েকটি গান নিয়ে এখন মিউজিক ভিডিও তৈরির কাজ করছি। সেখানে প্রচুর সময় দিতে হচ্ছে।
বাংলানিউজ : প্লে-ব্যাকে কী কী কাজ করছেন ?
কণা : প্রচুর প্লে-ব্যাক করছি। সত্যি বলতে কী, আমার কাজের প্রধান জায়গা এখন প্লে-ব্যাকে হয়ে যাচ্ছে। ‘অল্প অল্প প্রেমের গল্প’, ‘ভালবাসার রঙ’, ‘ভালবাসার রংধনু’, ‘ফিরিয়ে দাও আমার প্রেম’, ‘এক কাপ চা’, ‘চোরাবালি’সহ আরো বেশ কিছু ছবিতে প্লে-ব্যাক করছি। সম্প্রতি ‘লালটিপ’ ছবির গান নিয়ে একটা অ্যালবাম বের হল। সেখানে আমার ২টা গান আছে। শ্রোতারা ব্যাপকভাবে আমাকে গ্রহণ করেছেন। সবমিলিয়ে প্রচুর সাড়া পাচ্ছি প্লে-ব্যাক করে।
বাংলানিউজ : প্রজন্মের প্রতিভাবান সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক বাপ্পা মজুমদার,  হাবিব,  ফুয়াদ, আরফিন রুমীসহ প্রায় সবার সাথেই কাজ করছেন। কার সঙ্গে কাজ করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন?
কণা : আসলে প্রত্যেকেরই কাজের আলাদা আলাদা ধরণ আছে। আলাদা আলাদা স্টাইল আছে। যে যার জায়গাতে ফিট। বাপ্পা মজুমদারের প্রতি আমার পক্ষপাতটা একটু বেশি।  ইন্টারমিডিয়েট পড়ার সময় থেকেই আমি তার সুর ও সঙ্গীত পরিচালনায় কাজ করার সুযোগ পাই। বাপ্পা ভাইয়ের সঙ্গে আমার খুব শ্রদ্ধা এবং স্নেহের সম্পর্ক । হাবিব ওয়াহিদ অসম্ভব মেধাবী একজন মিউজিশিয়ন। তিনি সঙ্গীতে একটা নতুন ধারা তৈরি করেছেন। কাজে সবসময় তিনি নতুনত্ব যোগ করতে চান। একটা ছড়া তার সামনে দিলে সেটাকে তিনি অবলীলায় গান হিসেবে উপস্থাপন করার ক্ষমতা রাখেন। হাবিব ভাই একাই অডিও জগতকে একটা সম্মানজনক জায়গায় দাঁড় করাতে পেরেছেন। ওয়েস্টার্ন মিউজিকের সব ধারাতেই ফুয়াদ ভাইয়ের আছে অদ্ভুত দখল। সেই ধারার সঙ্গে সংমিশ্রণ করে সঙ্গীতায়োজন করতে তিনি পারদর্শী। আরফিন রুমীও চান গানে নতুন মাত্রা যোগ করতে। আসলে এখনকার অনেক মোস্ট জুনিয়র মিউজিশিয়নদের সঙ্গেও আমি কাজ করেছি। সবারই আলাদা ধরণ কাজ করার এবং নিজস্ব বৈশিষ্ট্য নিয়ে সুন্দর কাজ করার চেষ্টা আছে। আমি নিজেকে একজন ভার্সেটাইল সিঙ্গার মনে করি। সবার সঙ্গে এবং সব ধরণের গান গান গাইতেই আমি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।
বাংলানিউজ : কোন ট্র্যাকটিকে নিজের ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট হিসাবে মনে করেন?
কণা: ‘বর্ষা’ ট্র্যাকটি ছিল আমার ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট। শাহান কবন্ধের লেখা, ফুয়াদ নাসের বাবুর সুরে এবং ফুয়াদ আল মুক্তাদীর এর সঙ্গীতায়োজনে বর্ষার গানটি আমাকে আলাদা শিল্পী ইমেজ দিয়েছে। স্টেজ শো’ করতে গেলে দর্শকশ্রোতাদের কাছ থেকে গান গাওয়ার প্রচুর অনুরোধ আসে তার মধ্যে বর্ষা গানটি শ্রোতাদের টপ ফেভারিট।
বাংলানিউজ : পরবর্তী একক অ্যালবামের পরিকল্পনা সম্মন্ধে জানতে চাই?
কণা : আমার শেষ একক অ্যালবাম ‘সিম্পলি কণা’তে আমি পরীক্ষামূলকভাবে একটি নজরুল সঙ্গীত ‘প্রিয় যাই যাই বলো না’ গেয়েছিলাম। বাপ্পা মজুমদার খুব যতœ নিয়ে এর সঙ্গীতায়োজন করেছিলেন। সবার কাছ থেকে এত প্রশংসা পেয়েছি নজরুলের এই গানটার জন্যে যে আমি অভিভূত। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমার পরের একক অ্যালবামটি নজরুল সঙ্গীতের ওপর করব। নজরুল সঙ্গীতেই আমার হাতে খড়ি, নজরুল সঙ্গীত গাইতেও আমি খুব পছন্দ করি। নজরুল সঙ্গীতের একটি একক অ্যালবাম বের করার জন্য আমি এখন মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি।
বাংলানিউজ : নিজেকে সঙ্গীত জগতের কোন জায়গায় দেখতে চান?
কণা : দেশের বাইরের অনেক মানুষদের কাছে আমাদের দেশটি অপরিচিত একটা দেশ। যারা সঙ্গীত ভালবাসেন তারা জানেন বাংলাদেশ হল রুনা লায়লার দেশ। আমিও আমার দেশের এমন গৌরবাজ্জ্বল প্রতিনিধিত্ব করতে চাই। নিজেকে সেই জায়গায় দেখার স্বপ্ন মনে লালন করি।
বাংলানিউজ : সঙ্গীতে আপনার আইডল কী রুনা লায়লা?
কণা : ঠিক ধরেছেন। রুনা লায়লা আমার আইডল। তার গান আমার সবচেয়ে প্রিয়। । রুনা লায়লার যে কোনো গান শুনলেই আমার ভেতর একধরণের ভালোবাসা তৈরি হয়। আমি তার অন্ধ ভক্ত। এর বাইরে সামিনা চৌধুরী, ফাহমিদা নবী, হাবিব ছাড়াও ভারতের সুনীধি চৌহান আর আঁশা ভোসলে আমার প্রিয় শিল্পী।
বাংলানিউজ : সঙ্গীত জগতে কাজ করতে গিয়ে কোনো অতৃপ্তির মুখোমুখি হয়েছেন কী?
কণা : অতৃ্প্তি আছে অডিও অ্যালবাম নিয়ে। আমাদের অডিও বাজার বলতে এখন আর কিছু নেই বললেই চলে। তাই অডিও অ্যালবামের সাফল্য  থেকে আমরা পুরোপুরি বঞ্চিত। আমরা যে অ্যালবামগুলো করি সেগুলো থেকে আমরা আর্থিকভাবে উপকৃত হই না। নিজের উদ্যোগে আর অর্থায়নে অডিও অ্যালবাম করি এবং সেগুলো নিয়ে মিউজিক ভিডিও করি। কিন্তু অডিও বাজারে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেগুলো পাইরেসির কবলে পড়ে। বিনা পয়সায় যে গান ডাউনলোড করা যায়, পয়সা দিয়ে শ্রোতার তা কেন কিনবে! আমাদের দেশের অডিও বাজারের কোনো প্রটেকশন নেই, নেই কোনো পৃষ্ঠপোষকতা। শ্রোতাদের কাছাকাছি নিজের গান নিয়ে যেতে হলে নিজেরই দায়িত্ব নিতে হয়।  অথচ বাইরের দেশ গুলোকে পৃষ্ঠপোষকতার কোন অভাব নেই। যুগের পরিবর্তন হয়েছে। নিজেকে উপস্থাপনের জন্য মানসম্মত অ্যালবাম ও মিউজিক ভিডিও এখন অনেক গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বায়নের সাথে তাল মেলাতে নিজেকেও আপডেট রাখতে হয়। কিন্তু আমাদের দেশের অডিও ইন্ড্রাষ্ট্রি পৃষ্ঠপোষকতা পাচ্ছে না। যা সত্যিই কষ্টদায়ক।
বাংলানিউজ: এ বছরই নাকি আপনি বিয়ে করছেন ?
কণা : কী যে বলেন! যার বিয়ে তার খবর নাই। এ বছর বিয়ের জন্য কোনো শিডিউল খালি নেই । কারণ সামনের মাস থেকে দেশের বাইরে একটানা কয়েকটা ট্যুর আছে। অনেকদিন থাকতে হবে দেশের বাইরে। ফিরে এসে জমে থাকা কাজগুলো শেষ করতে রাতদিন সময় দিতে হবে। নজরুল সঙ্গীতে অ্যালবামটার কাজ শুরুর ইচ্ছে আছে এবছরই। বিয়ে করব কখন!
বাংলানিউজ : নিজের সম্পর্কে শোনা বিরক্তিকর কোন গুজব নিয়ে বলুন।
কণা : আসলে আমাকে নিয়ে কোনো গুজব নেই। নিজের সম্মানের প্রতি দৃষ্টি রাখলে ইচ্ছে করলেই গুজব-গুঞ্জনের উর্দ্ধে থাকা সম্ভব। তবে মজার একটা ঘটনা আছে। আমার একটি আড়াই বছর বয়সী ভাগ্নি আছে। নাম সোবহানা। সে আমার জান প্রাণ। আমার বাইরে যাওয়া দেখলেই জামা টেনে ধরে। মাঝে মাঝেই ওকে কোলে নিয়ে বাইরে যাই। এভাবেই অনেক সময় ক্যামেরার সামনে পড়ে গেছি। অনেকেরই ধারণা, এটা আমার বাচ্চা। আমি নিজেও অনেকের মুখে শুনেছি- ‘আপনার বাচ্চাটা তো অনেক কিউট’!

স্বপ্নের ঠিকানায় হাসিন

টপ মডেল খেতাব নিয়ে শোবিজে অভিষেক হয়েছিল হাসিনের। বেশ কয়েকটি একক ও ধারাবাহিকে অভিনয় করলেও মডেল হিসেবে কাজ করার সুযোগ পান নি অনেকদিন। অবশেষে স্বপ্নের ঠিকানায় পৌছাতে পেরেছেন হাসিন। সম্প্রতি দুটি বিজ্ঞাপনে কাজ করলেন তিনি। বর্তমানে চ্যানেলে চ্যানেলে প্রচার হচ্ছে নিহার হেয়ার অয়েল ও মেরিল রিভাইভ ট্যালকম পাউডার-এর নতুন বিজ্ঞাপনচিত্র। এই বিজ্ঞাপনচিত্র দুটিতে মডেল হিসেবে পারফর্ম করেছেন ভিট চ্যানেল আই টপ মডেল হাসিন রওশন জাহান। পদ্মাপাড়ের শহর রাজশাহীতে বড় হয়ে উঠেছে হাসিন রওশন জাহান। শৈশব-কৈশোরে স্বপ্ন দেখেছেন, একদিন সারা দেশের মানুষ তাকে চিনবে। রাজশাহীতে কলেজের পাঠ চুকিয়ে মেধাবী ছাত্রী হাসিন ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে। পড়াশোনার পাশাপাশি খুঁজতে থাকেন স্বপ্ন পূরণের সিঁড়ি। বড় বোনের উৎসাহে ভিট-চ্যানেল আইয়ের অডিশন নাম লেখান। নিজের মেধা ও পারফর্মেন্স দিয়ে জিতে নেন টপমডেলের মুকুটটি। শিরোপা জেতা প্রসঙ্গে হাসিন বলেন, ‘অডিশন দেওয়ার সময় আমি মোটেও ভাবিনি যে, সেরা হবো। কিন্তু সেরা দশে আসার পর আমার মনোবোল অনেক বেড়ে গিয়েছিল। সেই প্রত্যয় নিয়েই নিজেকে প্রেজেন্ট করি গ্রান্ড ফাইনালে। আত্মবিশ্বাস আর একাগ্রতায় আমাকে টপ মডেল খেতাব এনে দেয়’। গত বছরের জুলাই মাসে ‘ভিট-চ্যানেল আই টপ মডেল’-এর মুকুট জিতেছিলেন হাসিন রওশন। কিন্ত নিজের  ‘টপ মডেল’ খেতাবের যথার্থতা প্রমাণ করার সুযোগ পান নি অনেকটিদন। সেরা মডেল নির্বাচিত হওয়ার পর স্বাক্ষর রাখতে পারেননি মডেলিংয়ের কোনো শাখায়। যদিও শোবিজে পা রাখার পর পরই তিনি নিজের গন্তব্যের কথা জানিয়ে বলেছিলেন, ‘মডেলিংয়েই আমার আগ্রহটাও সবচেয়ে বেশি। নিজেকে মডেল হিসেবেই পরিচিত করে তুলতে চাই’।
মডেলিংয়ে চমক দেখাবার সুযোগ পাওয়ার আগেই একের পর টিভিনাটকে অভিনয়ের প্রস্তাব তার পিছু নেয়। রিয়েলিটি শো থেকে বেরিয়ে আসা অন্যসব সুন্দরীর তুলনায় হাসিন অল্প সময়েই ব্যস্ত হয়ে পড়েন অভিনয় নিয়ে। টিভিনাটকে গ্ল্যামার যোগ করতে অনেক নির্মাতাই আগ্রহী হয়ে উঠেন হাসিনের প্রতি। প্রথম নাটকেই হাসিন নজর কাড়েন দর্শকদের। মডেল আইকন নোবেলের বিপরীতে প্রথম এক ঘণ্টার নাটক ‘আমাদের ছোট নদী’তে অভিনয় করে প্রশংসিত হন। এরপর দ্বিতীয় নাটক ‘সখা হে’ -তে অভিনয় করেন ছোটপর্দার বড় তারকা মাহফুজ আহমেদের সঙ্গে জুটি বেঁধে। নাটক দুটো প্রচার হওয়ার পর হাসিনের অভিনয় আর গ্ল্যামারের দ্যুতি নজর কাড়ে নির্মাতাদের। অল্প সময়ের মধ্যেই পর পর তিনটি ধারাবাহিক নাটকের অভিনয় করেন ।
‘নো ম্যান্স ল্যান্ড’, ‘পুতুল মানুষ’ আর ‘ব্যাচেলর দ্য ফ্যামিলি’ ধারাবাহিকে অভিনয় করেও অতৃপ্তিতে ভুগছিলেন তিনি। কারণ আর কিছু নয়, মডেলিংয়ের কাজ করতে না পারা। শোবিজে অভিষেকের দীর্ঘ নয় মাস পর অবশেষে গন্তব্যের দেখা পান তিনি। হাতে ধরা দেয় মডেলিং নামের সেই সোনার হরিন। নিহার হেয়ার অয়েল ও মেরিল রিভাইভ ট্যালকম পাউডার-এর বিজ্ঞাপনচিত্রের মাধ্যমে টপ মডেল খেতাবধারী হাসিন পৌছে যান স্বপ্নের ঠিকানায়। দুটি বিজ্ঞাপনচিত্রে ঝলমলে পারফর্মেন্স দিয়ে প্রমাণ করেছেন, নিজের যোগ্যতা। খ্যাতিমান নির্মাতা অমিতাভ রেজা নির্মিত সুপরিচিত ব্র্যান্ড প্যারাসুটের নতুন বিজ্ঞাপনেও তাকে শিগগিরই দেখা যাবে।
বিজ্ঞাপনে কাজ করলেও হাসিন রওশন সমানে চালিয়ে যাচ্ছেন অভিনয়। সম্প্রতি রায়হান খানের পরিচালনায় ধারাবাহিক নাটক ‘দ্য লাস্ট কটেজ’ শুটিংয়ে তিনি অংশ নিয়েছে। থাইল্যান্ডে চিত্রায়িত এই ধারাবাহিকে হাসিন সারা চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এই নাটকে নিজের চরিত্র সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এই চরিত্রে কাজ করার জন্য আমাকে সামনের চুলগুলো কেটে ফেলতে হয়েছে। সম্পূর্ণ ভিন্ন রকমের অভিজ্ঞতা হয়েছে এই চরিত্রে কাজ করতে গিয়ে। আমার চরিত্রটিও অনেক মজার। এই নাটকে অভিনয় করে আমি সিনিয়র আর্টিস্টদের কাছ থেকেও অনেক কিছু শিখতে পেরেছি।’
পারফর্মিং আর্টের সবচেয়ে বড় প্লাটফর্ম চলচ্চিত্রে অভিনয় করার ইচ্ছে থাকে সব শিল্পীরই। তেমনি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের স্বপ্ন আছে ভিট সুন্দরী হাসিনের। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘চলচ্চিত্রের প্রতি আমার বেশ আগ্রহ আছে। সুযোগ পেলে অবশ্যই চলচ্চিত্রে অভিনয় করবো। তবে চলচ্চিত্রটিকে হতে হবে অবশ্যই মান সম্পন্ন।ভালো গল্প, ভালো চরিত্র ও ভালো পরিচালক হলে ছবিতে কাজ করতে আমার কোনো সমস্যা নেই।’
ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্নের কথা জানতে চাইলে হাসিন বলেন, ‘মডেলিংয়ের পাশাপাশি অভিনয় করে যাবো। আমি অভিনয় দিয়ে দর্শকের মনে চিরকাল বেঁচে থাকতে চাই।’ গত ১৭ এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে হাসিনের মাস্টার্স পরীক্ষা। চলবে মে মাসের মাঝামাঝি নাগাদ। পরীক্ষার জন্য আপাতাত মিডিয়া থেকে দূরে আছেন। পরীক্ষা শেষে আবারও জোরেশোরে তিনি শোবিজ কাজ করবেন বলে বাংলানিউজকে জানিয়েছেন।
ভাঙলো সুচরিতার ২৩ বছরের সংসার
বিপুল হাসান
ঢালিউডের সত্তর ও আশির দশকের জনপ্রিয় নায়িকা সুচরিতার সংসার ভেঙে গেছে। স্বামী চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি ও বিশিষ্ট চলচ্চিত্র ব্যবসায়ী কেএমআর মঞ্জুরের সঙ্গে তার ডিভোর্স সম্পন্ন হয়েছে । সেই সঙ্গে ভেঙে গেছে, তাদের দীর্ঘ ২৩ বছরের সংসার। এই নিয়ে দ্বিতীয়বার সুচরিতার সংসার ভাঙলো। আশির দশকের প্রথম দিকে ক্যারিয়ারের তুঙ্গে থাকা অবস্থায় প্রেমের বিয়ে হয়েছিল তার প্রয়াত নায়ক জসিমের সঙ্গে। ভালোবাসার সেই সংসারের আয়ু হয়েছিল বছর-তিনেক। ঢালিউডের চলচ্চিত্রের সোনালী সময়ে   ‘ড্রিমগার্ল’ খ্যাত সুচরিতা দ্বিতীয়বার বিয়ের পিঁড়িতে বসেন ১৯৮৯ সালে। চলচ্চিত্র ব্যবসায়ী ও ঢাকার কয়েকটি সিনেমা হলের মালিক কেএমআর মঞ্জুর সঙ্গে সুচরিতার এই বিয়েটিও ছিল প্রেমের। তাদের সংসারে পর পর আসে ৩টি সন্তান। সন্তান আর সংসারের ব্যস্ততায় সুচরিতা একসময় ঢালিউড থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন। সম্প্রতি অবশ্য আবারও চলচ্চিত্র অভিনয় শুরু করেছেন তিনি।suchorita
বিশ্বস্তসূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে কেএমআর মঞ্জুর ও সুচরিতা আলাদা বসবাস করছিলেন। গতবছর শেষের দিকে কেএমআর মঞ্জুর ডিভোর্স নোটিশ পাঠান সুচরিতাকে। এ বিষয়ে শুনানীর জন্য বিধি অনুযায়ী সুচরিতাকে সিটি কর্পোরেশনের সালিশি পরিষদ একাধিকবার স্বশরীরে হাজির হওয়ার জন্য তলব করে। কিন্তু সুচরিতা এতে সাড়া দেন নি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে পারিবারিক আইন অনুযায়ী নোটিশের তৃতীয় মাসে তাদের ডিভোর্স কাযর্কর হয়েছে। বাংলানিউজ এ বিষয়ে ফোনে কথা বলে সুচরিতার সঙ্গে। তিনি বলেন, কেএমআর মঞ্জুরের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নাই এক যুগেরও বেশি সময় ধরে। সম্পর্কটা কেবল টিকে ছিল কাগজে কলমেই। কেবল কাগজের কোনো সম্পর্কের মূল্য আমার কাছে নেই। এবার কাগজে-কলমে ডিভোর্স হয়ে গেল। এ নিয়ে আমার বলার মতো কিছু নেই। সবই আমি মেনে নিয়েছি। নামে মাত্র সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার চেয়ে না-থাকাই ভালো।
এ প্রসঙ্গে জানার জন্য বিশিষ্ট ব্যবসায়ী চলচ্চিত্র প্রদর্শক কেএমআর মঞ্জুরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বাংলানিউজকে বলেন, ১৪ বছর ধরে আমরা আলাদা আছি। তার সঙ্গে অনেক চেষ্টা করেও কোনো বনিবনা হয়নি। আগামীতে বনিবনা হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। কেবল কাগজে-কলমে স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা অর্থহীন । তাই এবার সবকিছুর ইতি টেনে তাকে মুক্তি দিলাম আর আমি নিজেও মুক্ত হলাম।
kmr-monjurকেএমআর মঞ্জুর ও সুচরিতা দাম্পত্যজীবনে তিন সন্তানের জনক-জননী। তাদের সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, তিনজনই বর্তমানে মালয়েশিয়া পড়াশোনা করছেন। তাদের পড়াশোনাসহ সব খরচই বহন করছেন কেএমআর মঞ্জুর। এ বিষয়ে তিনি বলেন, বাবা হিসেবে সন্তানের জন্য যা কিছু দরকার সবই আমি করছি এবং করবো। তাদের প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য যা কিছু করার দরকার আমি করে যাবো। একজন শিশু শিল্পী হিসেবে সুচরিতা চলচ্চিত্রে প্রথম অভিনয় করেন ১৯৬৯ সালে, যখন তার নাম ছিল বেবী হেলেন। নায়িকা হিসেবে সুচরিতা প্রথম অভিনয় করেন ১৯৭২ সালে আজিজুর রহমান পরিচালিত ‘স্বীকৃতি’ ছবিতে। ১৯৭৭ সালে আবদুল লতিফ বাচ্চু পরিচালিত ‘যাদুর বাঁশি’ ছবির মাধ্যমে তিনি তুমুল জনপ্রিয়তা পান। মায়াময় ফটোজেনিক চেহারা আর আকর্ষণীয় দেহবল্লরী তাকে শক্ত ভীত গড়ে দেয় ঢালিউডে। আশির দশক পর্যন্ত তিনি ছিলেন  দেশের প্রথম সারির নায়িকা।
সুচরিতা অভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে রয়েছে- ‘দি ফাদার’, ‘বদলা’, ‘জীবন নৌকা’, ‘আসামী’, ‘নদের চাঁদ’ ‘কথা দিলাম’, ‘গাদ্দার’, ‘জনি’, ‘নাগরদোলা’, ‘হাঙ্গর নদী গ্রেনেড’ প্রভৃতি। প্রায় দুই দশক বিরতির পর সম্প্রতি ফিরে এসে বেশ কয়েকটি ছবিতে কাজ করেছেন। ইদানিং সময়ের চলচ্চিত্রে নায়ক-নায়িকার মা-খালার গুরত্বপূর্ণ ভূমিকায় অভিনয় করতে বেশি দেখা যায়।

ডিটেকটি ভ মিমো
চলচ্চিত্রে কাজ করার উদ্দেশ্যে ‘সুপার হিরো সুপার হিরোইন’ ইভেন্টে মধ্য দিয়ে মিডিয়ায় পা রেখেছিলেন মিমো। সুপার হিরোইন খেতাব জয় করার পর কয়েকটি ছবিতে অভিনয় করলেও টিভিনাটক নিয়ে এখন তিনি বেশি ব্যস্ত। সম্প্রতি তিনি অভিনয় করেছেন এটিএন বাংলার জন্য নির্মিত প্রতিদিনের ধারাবাহিক নাটক ‘ডিবি’-তে। এতে মিমোকে দেখা যাবে একজন ডিটেকটিভ অফিসারের চরিত্রে। ড. মাহফুজুর রহমানের পরিকল্পনায় জনপ্রিয় অভিনেতা ও নির্মাতা শহীদুজ্জামান সেলিমের পরিচালনায় ব্যয়বহুল বাজেটের ডেইলি সোপ ‘ডিবি’। নাটকটির গল্প লিখছেন নাট্যকার লিটু সাখাওয়াত, মাহবুবা শাহরীন ও জামাল রেজা। এক একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে  ধারা বাহিকটি পাঁচ থেকে সাতটি পর্ব নির্মাণ করা হবে। মোট একহাজার পর্ব শেষ হবে এটি। এই নাটকটিতে পর্যায়ক্রমে দেশের প্রায় সব তারকাকেই অভিনয় করতে দেখা যাবে বলে জানা গেছে। ডেইলি সোপ ‘ডিবি’ প্রথম দিকের পর্বগুলোতে অভিনয় করছেন ডিএ তায়েব, মিমো, শাহরিয়ার শুভ, বিপাশা, বাবু, অপু, মানস বন্দ্যোপাধ্যায়, ড. গনি, শম্পা রেজা প্রমুখকে। এতে ডিটেকটিভ অফিসারের ভূমিকায় অভিনয় করা প্রসঙ্গে বাংলানিউজকে মিমো বললেন, কিছুদিন আগে শহীদুজ্জামান সেলিম ভাইয়ের সঙ্গে একটি একপর্বের নাটকে অভিনয় করছিলাম। তিনি জানান একটি ডিটেকটিভ ডেইলি সোপ নির্মাণ করতে যাচ্ছেন। সেলিম ভাই আমাকে বললেন,  তুই তো বেশ লম্বা তোকে ডিটেকটিভ অফিসার চরিত্রে খুব মানাবে। কাজটি করতে গিয়ে বেশ এক্সাইটেড আমি। 

ক্ল্যাসিক না চেও দক্ষ বলিউডের ফারহা খান

অনন্যা আশরাফ

বলিউডের এসময়ের খ্যাতিমান নৃত্যপরিচালক ও কোরিওগ্রাফার ফারহা খান। নৃতাপরিচালনা ও কোরিওগ্রাফির পাশাপাশি চলচ্চিত্র পরিচালনার কাজটিও করেছেন। তবে নৃত্যপরিচালক হিসেবেই তার বেশি পরিচিতি। এ পর্যন্ত প্রায় বলিউডের ৮০টি ছবিতে ১০০টিরও বেশি গানে কোরিওগ্রাফি করেছেন তিনি। শুধু মর্ডান ড্যান্স নয়, ক্ল্যাসিক নাচেও তিনি বেশ পারদর্শী। ভারতীয় ধ্রুপদী নাচের সঙ্গে ওয়েস্টার্ণ ড্যান্সের সমন্বয়ে দেখিয়ে চলেছেন একের পর এক অদ্ভুত কারিশমা। বিশ্ব নৃত্য দিবসে বলিউডের এই সফল নৃত্যশিল্পী, নৃত্যপরিচালক ও কোরিওগ্রাফারের জীবন এবং কর্মের প্রতি আলোকপাত করা হলো। ভারতের সর্বকালের অন্যতম সফল নৃত্যপরিচালক ফারহা খান ১৯৬৫ সালে ৯ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। বাবা কামরান খান ছিলেন ছবির পরিচালক এবং মা মেনকা একসময় বলিউডের অভিনেত্রী ছিলেন। তার একমাত্র ভাই বলিউডের কমেডিয়ান, অভিনেতা ও পরিচালক খ্যাত সাজিদ খান। এছাড়াও বলিউড ফিল্মডোমে খ্যাতিমান দুজন ব্যক্তিত্ব  ফারহান আকতার ও জয়া আকত্ার হচ্ছেন তার কাজিন। ছোটবেলা থেকেই ফারহা খান শিখেছেন ক্ল্যাসিক। মুম্বাইয়ের এসটি এক্সাভিয়ারস কলেজে সমাজবিজ্ঞানের ছাত্রী থাকার সময় বন্ধুদের সঙ্গে দেখেন মাইকেল জ্যাকসনের ‘থ্রিলার’ গানের সঙ্গে নাচ। ওয়েস্টার্ণ নাচের প্রতি ঝোঁক উঠে সে সময়ই। ওয়েস্টার্ণ ড্যান্স শেখা শুরু করেন কোমড় বেঁধে। নাচে দক্ষতা এলে কয়েকজন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে গড়ে তোলেন একটি নাচের গ্রুপ। ধ্রুপদী ভারতীয় আবহের সঙ্গে ওয়েস্টার্ণ মিউজিক মিলিয়ে নতুন ধারার অনবদ্য পারফর্মেন্সের কারণে তার নাচের দলটি অল্প সময়েই পরিচিতি পেয়ে যায়। একটা শোতে ফারহার পারফর্মেন্স দেখে বিখ্যাত কোরিওগ্রাফার সরোজ খান তাকে বলিউডে কাজ করার পরামর্শ দেয়। সারোজ খানের ছবি ‘জো জিতা ওহি সিকান্দার’-তে ব্রেক পেয়ে যান ফারহা। সেখান থেকেই নৃত্যপরিচালক ও কোরিয়োগ্রাফার হিসেবে তার আত্মপ্রকাশ ঘ। ১৯৯৩ সালের ‘ কাভি হা কাভি না‘ ছবির সেটে প্রথম পরিচয় হয় শাহরুখের সঙ্গে। খুব ভালো বন্ধুত্ব হয়ে যায় তাদের। এরপর তারা একসঙ্গে কয়েকটি ছবিতে কাজ করেছেন।
‘ম্যায় হু না’ ছবির সহকর্মী সিরিশ কুন্দারকে ফারহা ২০০৪ সালে ৯ ডিসেম্বর জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেন। বিয়ের ৮ বছরের মাথায় ২০০৮ সালে ১১ ফেব্রুয়ারি সিজার নামে একটি ছেলে এবং দিভা ও আনিয়া নামে দুইটি মেয়ে মোট ৩টি জমজ সন্তানের মা হন ফারহা খান।
১৯৯২ সালে ‘জো জিতা ওহি সিকান্দার’ ছবিতে কোরিওগ্রাফার হয়ে আত্মপ্রকাশ করা ফারহা খান এ পর্যন্ত প্রতি বছরই অনেকগুলো ছবিতে কোরিওগ্রাফি করেছেন। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো - ‘কাভি হা কাভি না’, ‘ওয়াক্ত হামারা হে’, ‘পেহেলা নাশা’ ‘ইংলিশ বাবু দেশি মেম’ ‘ভিরাসাত’, ‘বর্ডার’, ‘দিল তো পাগল হে’, ‘কাহো না..পেয়ার হে’, ‘কাভি খুশি কাভি গাম’, ‘হাম তোমহারে হে সানাম’, কোয়ি মিল গ্যায়া’, ‘কাল হো না হো’, ‘কৃষ’, ‘কাভি আলভিদা না কেহনা’, ‘ওম শান্তি ওম’, ‘ওয়েলকাম’, ‘দাবাঙ’, ‘মাই নেম ইজ খান’, ‘টিস মার খান’ সহ আরও অনেক ছবি।
কোরিওগ্রাফার ফারহা খান যে কেবল বলিউড হিরো হিরোইনকে নাচিয়েছেন তা নয়, কলোম্বিয়ান ড্যান্স কুইন শাকিরাকেও তিনি তার ইশারায় নাচিয়েছেন। ২০০৬ সালে ৩১ আগষ্ট এমটিভি ভিডিও মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস অনুষ্ঠানে শাকিরার হিট গান ’হিপস ডোনট লাই’ গানে শাকিরাকে কোরিওগ্রাফ করেছেন ফারহা। এছাড়াও ‘ব্লু’ ছবিতে ‘চিগি উগি’ গানে ক্যালি মিনোগকেও কোরিওগ্রাফ করেছেন তিনি।
ফারহা আর্ন্তজাতিকভাবে খ্যাতি পান ‘মনসুন ওয়েডিং,বোম্বে ড্রিমস‘ ও ‘ভ্যানিটি ফেয়ার’ ছবিতে কোরিওগ্রাফিংয়ে। ২০০৪ সালে তিনি এ ছবির জন্যে টনি অ্যাওয়ার্ডে সেরা কোরিওগ্রাফারের জন্যে প্রথম নমিনেশন পান। নাচের মাধ্যমে বলিউডে আসা এ নৃত্যপরিচালক ভক্তদের কাছে তার আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন ছবি পরিচালনার মাধ্যমে । বন্ধু শাহরুখকে নিয়েই তৈরি করেন তার প্রথম ছবি ‘ম্যায় হু না’। রেড চিলিস এন্টারটেইনমেন্টের প্রযোজনায় এ ছবি বক্স অফিসে বিশাল সাফল্য পায়। এরপর তার পরিচালনার দ্বিতীয় ছবি ‘ওম শান্তি ওম’ মুক্তি পেয়ে সে সময় ফিল্ম ইন্ডাষ্ট্রির সর্বোচ্চ ব্যবসা সফল ছবির খেতাব জিতে। এ পর্যন্ত তার শেষ ছবি নাম ‘তিস মার খান’। যেখানে তার কোরিওগ্রাফ করা ‘শীলা কি জাওয়ানি’ গানটি তুমুল দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে। উপস্থাপক হিসেবে ফারহা খান নিজের জাদু দেখিয়েছেন সেলিব্রেটি চ্যাট শো ‘তেরে মেরে বিচমে’তে। এছাড়াও বিচারক হিসেবে অংশ নিয়েছেন জনপ্রিয় টিভি শো ‘ইন্ডিয়ান আইডল’ সিজন-০১ ও সিজন-০২তে, ‘জো জিতা ওহি সুপারস্টার’, ‘এন্টারটেইনমেন্টকে লিয়ে কুচভি কারেগা’, ‘ড্যান্স ইন্ডিয়া ড্যান্স লিটল মাস্টার’ এবং ‘জাস্ট ড্যান্স’ এ। ফারহা খান ও তার স্বামী শিরিশ কুন্দার একসঙ্গে সম্প্রতি ‘থ্রি‘স কোম্পানি’ নামে একটি প্রডাকশন কোম্পানি শুরু করেছেন। যা তাদের ৩টি জমজ সন্তানের নামানুসারে করা হয়েছে।
এক নজরে ফারহার পাওয়া পুরস্কার
ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড
সেরা কোরিওগ্রাফার হিসেবে সর্বোচ্চ সংখ্যক ফিল্মফেয়ার পুরস্কার প্রাপ্তদের মধ্যে প্রথম স্থান দখলকারী সারোজ খানের পর ফারহা খান দ্বিতীয় স্থান দখলে আছেন। তিনি ১৯৯৮, ১৯৯৯, ২০০১, ২০০২, ২০০৪ এবং ২০১১ মোট ৬বার ফিল্মফেয়ার সেরা কোরিওগ্রাফার অ্যাওয়ার্ড জিতেছেন।
ন্যাশনাল ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড
২০০৪ সালের ‘কোয়ি মিল গ্যায়া’ ছবির ‘ইধার চালা ম্যায় উধার চালা’ গানের জন্যে ফারহা খান ন্যাশনাল ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডে সেরা কোরিওগ্রাফারের পুরস্কার পান।
ইন্টারন্যাশনাল ইন্ডিয়ান ফিল্ম একাডেমি
২০০১ ও ২০০২ সালে সেরা টেশনিক্যাল এক্সিলেন্টস, ২০০৫ সালে সেরা নবাগত পরিচালক এবং ২০০৯ ও ২০১১ সালে সেরা কোরিওগ্রাফার হিসেবে ইন্টারন্যাশনাল ইন্ডিয়ান ফিল্ম একাডেমি পুরস্কার জিতেছেন ফারহা খান।
স্টার স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ড
২০০১,২০০২ ও ২০০৪ সালে সেরা কোরিওগ্রাফারের অ্যাওয়ার্ড এবং ২০০৫ সালে সেরা নবাগত পরিচালকের জন্যে স্টার স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন।
জি সিনে অ্যাওয়ার্ড
২০০৫ সালে সেরা নবাগত পরিচালক ও ২০১১ সালে ‘শিলা কি জাওয়ানি’ থেকে জি সিনে অ্যাওয়ার্ডে সেরা কোরিওগ্রাফারের পুরস্কার জিতেন।
গান আমার ছবির হাতিয়ার : মোস্তফা কামাল রাজ
অনন্যা আশরাফ
ছোটপর্দায় দীর্ঘদিন কাজ করে হাত পাকানো তরুণ চলচ্চিত্র নির্মাতা মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ। প্রথম ছবি ‘প্রজাপতি’ নির্মাণেই পরিচয় দিয়েছেন মুন্সিয়ানার। তার দ্বিতীয় প্রজেক্ট ‘ছায়া-ছবি’ তৈরির কাজও এগিয়েছে অনেকদূর। সম্প্রতি বাংলানিউজ এই তরুণ প্রতিশ্রুতিশীল চলচ্চিত্রকারের মুখোমুখি হয়।
বাংলানিউজ : কেমন চলছে আপনার দ্বিতীয় চলচ্চিত্র ‘ছায়া-ছবি’র কাজ?
মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ : ভালোভাবেই ছবিটির কাজ এগিয়ে চলছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী দ্রুততার সঙ্গেই কাজ করার চেষ্টা করছি। এখন পর্যন্ত পরিকল্পনা অনুযায়ীই সবকিছু চলছে।
বাংলানিউজ : কোথায় কোথায় ছবির শুটিং করলেন?
মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ : ছবিটির শুটিং শুরু করি চট্টগ্রাম থেকে। প্রথম দিকে কয়েকটি গানের শুটিং করি চট্টগ্রাম আর কক্সবাজারের বিভিন্ন লোকেশনে। তারপর ঢাকার বিভিন্ন লোকেশনে ছবিটির শুটিং হয়েছে। দেশের মধ্যেই শেষ করবো ছবিটির শুটিং।
বাংলানিউজ : কতখানি শেষ হয়েছে ছবির কাজ?
মোস্তফা কামাল রাজ : ছবির শুটিং এখনো চলছে। মনে হচ্ছে ‘ছায়া-ছবি’-নিয়ে অর্ধেক পথ হাঁটা শেষ। সামনে আরো অর্ধেক পথ যেতে হবে। মাঝেমধ্যে একটু থামতে হচ্ছে  দম নেওয়ার জন্য। বাকি অংশের শুটিং শুরু করবো ২৮ এপ্রিল।
বাংলানিউজ : সম্প্রতি ‘ছায়া-ছবি’-এর গানের অ্যালবাম রিলিজ দেওয়া হয়েছে, ছবি মুক্তির অনেক আগেই এবার অ্যালবাম মুক্তি দেওয়ার কারণটা জানতে চাই?
মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ : একটি ছবির প্রমোশনের পেছনে গানের ভূমিকা থাকে অনেক। গানের মাধ্যমেই দর্শকদের কাছে ছবিটিকে খুব সহজেই পরিচিত করা যায়। তাই আমি আগের ছবির মতো এবারও গানকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। সবার আগে গানগুলোর শুটিং শেষ করি। দর্শকরা গান শুনে আগে মুগ্ধ হবেন, তারপর আমার ছবির দেখতে হলে আসবেন। এসব বিষয় মাথায় রেখেই একটু আগেভাগেই আমার অ্যালবামটি মুুক্তির কাজ শেষ করেছি।
বাংলানিউজ : ছবিটির গানগুলোতে কেমন সাড়া পাচ্ছেন?
মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ : অনেক ভালো সাড়া পাচ্ছি। ছবিতে গানের কম্পোজিশনের দায়িত্ব ছিল আরেফিন রুমীর উপর। অসম্ভব ভালো কাজ করেছে সে। ছবির গল্প মাথায় রেখে গানগুলোর কথা লিখেছেন কবির বকুল, মারজুক রাসেল,মৌসুমী, মাহমুদ মানজুর,রবিউল ইসলাম জীবন ও আরেফিন রুমী নিজে। ছবির বিভিন্ন গানে কন্ঠ দিয়েছেন শান, অভিজিৎ, আকৃতি কাকর, জুনে ব্যানার্জি, রাঘব চ্যাটার্জি এবং অন্বেষার মত ভারতের নামী শিল্পীরা। আর বাংলাদেশী শিল্পীদের মধ্যে জনপ্রিয় আরেফিন রুমী, নিশিতা বড়–য়া ও পড়শি কন্ঠের জাদুও আছে গানগুলোতে। সবমিলিয়ে অ্যালবামের কাজটা কেমন হয়েছে তা তো আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। গানগুলো আমার ছবির সফলতার বড় একটি হাতিয়ার।
বাংলানিউজ : ছবির অভিনয় শিল্পীরা কেমন করছেন?
মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ : ছবির নায়ক চরিত্রে আরেফিন শুভ আমার প্রত্যাশার চেয়েও ভালো অভিনয় করছেন। পূর্ণিমাও তার জায়গায় পারফেক্ট। রোমান্টিক ছবির জুটি হিসেবে আরেফিন শুভ ও পূণিমাকে দর্শক গ্রহণ করবে বলে আমার বিশ্বাস। অন্যরাও প্রত্যেকে সাধ্যমতো ভালো করার চেষ্টা করছেন।
বাংলানিউজ : কোন ধরণের দর্শকদের জন্য ছবিটি তৈরি করছেন?
মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ : ‘ছায়া-ছবি’ সবধরনের জন্যই তৈরি। সবশ্রেণীর দর্শকরা এ ছবিতে কিছু না কিছু ভালো লাগার উপদান খুজে পাবেন। এটি একটি লাভস্টোরি। তাই একটু বেশি খুশি হব সিনেমা হলে তরুণ প্রজন্মের দর্শকদের দেখতে পেলে।
বাংলানিউজ : আপনার আগের ছবি ‘প্রজাপতি’ কতটুকু প্রত্যাশা পূরণ করতে পেরেছে।
মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ : অবশ্যই প্রত্যাশা পূরণ করতে পেরেছে। সিনেমা হলে দর্শকরা এসেছেন ছবিটি দেখতে। একজন নবীন চলচ্চিত্র নির্মাতার ছবিকে দর্শক মনে হয় ভালোভাবেই নিয়েছেন। আমি সবসময় গানকে চলচ্চিত্রে বেশ গুরুত্ব দিয়ে থাকি। ‘প্রজাপতি’ ছবির গানগুলো দর্শক-শ্রোতারা পছন্দ করেছেন। এটি আমার জন্য খুব আনন্দের একটি বিষয়।
বাংলানিউজ : আপনার নেক্সট প্রজেক্ট কী?
মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ : আমি রানিং প্রজেক্টের মধ্যে ডুবে আছি। নেক্সট প্রজেক্টের জন্য এখনও খাতা-কলম নিয়ে বসতে পারি নি। ‘ছায়া-ছবি’ কে ঘিরেই আমার এখন পূর্ণ মনোযোগ। আগে এই প্রজেক্টের কাজ শেষ হোক, তারপর নেক্সট প্রজেক্টের কথা ভাবতে চাই।
 এবার রবীন্দ্র নায়িকা পাওলি
বিনোদন ডেস্ক

কলকাতার বাঙালি নায়িকা পাওলি দাম এ মুহূর্তে বলিউডের সবচেয়ে আলোচিত নাম। সম্প্রতি বলিউডে মুক্তি পেয়েছে তার প্রথম ছবি ‘হেট স্টোরি’। এ ছবিতে পাওলির খোলামেলা অভিনয় তুমুল হৈ চৈ তৈরি করেছে। এই বাঙালি অভিনেত্রী প্রায় বিবস্ত্র হয়ে অন্তরঙ্গ ভঙ্গিমায় ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে সাহসের পরিচয় দিয়েছেন। এ কারণেই বলিউডের অনেক নির্মাতা তার প্রতি হয়ে উঠেছেন আগ্রহী।
‘ছত্রাক’ আর ‘হেট স্টোরি’-এর এই নগ্ননায়িকাকে এবার দেখা যাবে রবীন্দ্রনাথের উপন্যাসের নায়িকা হিসেবে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস ‘চার অধ্যায়’ অবলম্বনে কলকাতায় নির্মিত হচ্ছে ছবি। এতে নায়িকা হিসেবে অভিনয় করছেন পাওলি দাম। ছবিটি পরিচালনা করছেন বাপ্পাদিত্য বন্দ্যোপাধ্যায়।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সর্বশেষ উপন্যাস ‘চার অধ্যায়’। তিন দশকের স্বাধীনতা আন্দোলনের সশস্ত্র ধারার পটভূমিকায় গড়ে ওঠা প্রেমকাহিনী এটি। ১৯৩৪ সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আলোচনার ঝড় ওঠে। এটি প্রেমের গল্প হলেও ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সহিংস ধারার দোষত্রুটির কঠোর সমালোচনা করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ তার এই উপন্যাসে। আর সেটাই আকৃষ্ট করেছে ছবির পরিচালক বাপ্পাদিত্যকে। পাওলি দাম ছাড়াও ছবিটিতে অভিনয় করছেন রুদ্রনীল ঘোষ, বরুণ চন্দ্র এবং আরো অনেকে। রবীন্দ্র-নায়িকা হওয়ার সুযোগ পেয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত পাওলি। এ প্রসঙ্গে নিজের অনুভূতি জানিয়ে তিনি বলেন, একজন বাঙালি হিসেবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সৃষ্ট চরিত্রে অভিনয় করতে পারাটা আমার জন্য দারুণ গৌরবের এক বিষয়। সিনেমাটিতে আমাকে ভারতের স্বাধীনতার আগের এক চরিত্রে দেখা যাবে। আমি সাধ্য মতো পর্দায় চরিত্রটি ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করবো।
মোস্ট বিউটিফুল ওমেন বিয়োন্সে নোয়েল
প্রীতি ওয়ারেছা

‘মোস্ট বিউটিফুল ওমেন ইন দ্য ওয়ার্ল্ড’, এটি কোনো সুন্দরী প্রতিযোগিতার খেতাব নয়। বিশ্বখ্যাত পিপল ম্যাগাজিন প্রতি বছর পাঠকের জরিপে হলিউড-সুন্দরীদের মধ্যে একজনকে এই উপাধি দিয়ে থাকে। চলতি বছর সেরা সুন্দরীর  এই উপাধি জিতে নিয়েছেন নিউ-মাম পপস্টার বিয়োন্স নোয়েল। পিপল ম্যাগাজিনের প্রতি বছর বেশ কিছু জরিপ পরিচালনা করে থাকে। যার মধ্যে অন্যতম হলো ‘মোস্ট বিউটিফুল ওমেন ইন দ্য ওয়ার্ল্ড’। পাঠকদের ভোটেই নির্বাচিত হন বর্ষ সেরা সুন্দরী।
চলতি বছর শ্রেষ্ঠ সুন্দরীর মর্যাদা জয়ী বিয়োন্সে নোয়েল ব্যক্তি জীবনে র‌্যাপার জে-জেডের স্ত্রী। ব্লু আইভি নামে এই দম্পতির একটি কন্যা সন্তান আছে। ৩০ বছর বয়সী বিয়োন্সে পাঠক জরিপে বিশ্বব্রম্মা-ের সুন্দরীতমা উপাধি পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে বলেন, ‘এটি আমার জন্য একটি দামি উপহার। খুব খুশি আমি পাঠকদের রায় পেয়ে। সন্তানের মা হওয়ার পর আমার সৌন্দর্য বেড়ে গেছে বলে মনে করি। মাতৃত্ব সত্যিই সবসময় সুন্দর। এই মর্যাদা পাওয়ার পুরো কৃতিত্বই আমি আমার মেয়ে ব্লু আইভিকে দিতে চাই’। গত বছর পিপল ম্যাগাজিনের পাঠক জরিপে ‘মোস্ট বিউটিফুল ওমেন ইন দ্য ওয়ার্ল্ড’ উপাধি জয় করেছিলেন গায়িকা ও অভিনেত্রী জেনিফার লোপেজ। পিপলের এবারের জরিপে প্রতিদন্দ্বীদের চুড়ান্ত তালিকায় ছিলে তিন অসি সুপারস্টার নিকোল কিডম্যান, রোজ বায়ার্ন এবং এলি ম্যাকফারসন । তাদের মধ্যে ৪৪ বছর বয়সী নিকোল কিডম্যান ২০০২ সালে পিপল পাঠকদের রায়ে সেরা সুন্দরী হয়েছিলেন। এবছরের পাঠক পছন্দের তালিকায় আরো ছিলেন কেট মিডলটন, অ্যাঞ্জেলিনা জোলি, চার্লিস থেরন, অ্যাডেল, সোফিয়া ভারগারা এবং মেগান ফক্স।
সেলিব্রিটি সংঘাত : কারিনা বনাম ক্যাটরিনা
বিনোদন ডেস্ক
বলিউডে শীর্ষতারকাদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব নতুন কিছু নয়। সেই ধারাবাহিকতায় এবার ঠোকাঠুকি লেগেছে বলিউডের দুই শীর্ষ নায়িকা কারিনা আর ক্যাটরিনার মধ্যে। তবে অন্যকিছু নয়, তাদের এই দ্বন্দ্বটা পুরোপুরিই পেশাগত। দুই গ্লামার গার্লের মধ্যে নাম্বার ওয়ান পজিশন নিয়েই শুরু হয়েছে রেষারেষি। এই সময়ের টপ হিরোইন কে, কারিনা কাপুর নাকি ক্যাটরিনা কাইফ ? বলিউডে আছে মতভেদ। একদল মনে করছেন কারিনা কাপুরই নাম্বার ওয়ান। অসাধারণ অভিনয়, তুমুল জনপ্রিয়তা, মোটা অংকের পারিশ্রমিক আর নির্মাতাদের কাছে চাহিদার দৌঁড়ে কারিনাকেই এগিয়ে রাখছেন তারা। অন্যদল মনে করছেন, ক্যাটরিনা এরই মধ্যে কারিনাকে পিছু ফেলে একধাপ এগিয়ে গেছেন। নজরকাড়া সৌন্দর্য, হৃদয়ছোঁয়া অভিব্যক্তি আর পোশাকে-আশাকে তরুণপ্রজন্মের স্টাইল আইকনে পরিণত হয়েছেন ক্যাটরিনা। এবার কারিনা ও কাটরিনার দ্বন্দ্বটা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে ভারতীয় মিডিয়ায়। কিছুদিন আগে একটি মাল্টিন্যাশানাল কোম্পানীর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হতে বলিউড অভিনেত্রীদের মধ্যে সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক নিয়েছেন ক্যাটরিনা কাইফ। ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাটরিনাকে পেতে সেই প্রতিষ্ঠানটিকে গুনতে হয়েছে সাড়ে তিন কোটি রুপি। এর আগে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক তিন কোটি রুপি নিয়েছিলেন কারিনা কাপুর। ব্রান্ড অ্যাম্বাসেডর হওয়ার পারিশ্রমিক নিয়ে এখন কাটরিনা আর কারিনার মধ্যে ইদুঁর-দৌড় প্রতিযোগিতা  শুরু হয়েছে। সম্প্রতি ভারতের একটি খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান কারিনাকে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর করতে চাইলে তিনি দর হাঁকান চার কোটি রুপি। পারিশ্রমিকে কোনো ছাড় দিতে তিনি রাজি হন নি। শেষপর্যন্ত ঐ চার কোটি রুপি দিয়েই প্রতিষ্ঠানটি কারিনাকে চুক্তিবদ্ধ করেছে। কারিনার চার কোটি রুপি পারিশ্রমিক নেওয়াটা বোধহয় মেনে নিতে পারেন নি ক্যাটরিনা। ঘনিষ্ঠজনদের কাছে জানিয়েছেন, শিগগিরই তিনি পাঁচ কোটি রুপি পারিশ্রমিকে আরকটি প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হওয়ার চুক্তিপত্রে সই করবেন। ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডরের পারিশ্রমিক নিয়ে একে অন্যেকে টেক্কা দেওয়ার বাইরেও তাদের দ্বন্দ্ব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে আরো কয়েকটি ঘটনায় । সম্প্রতি যশরাজ ফিল্মস এই দুই শীর্ষনায়িকাকে নিয়ে বিগবাজেটের ছবি নির্মাণের পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু কারিনা আর ক্যাটরিনা কেউই একসঙ্গে অভিনয়ে সম্মতি দেন নি। দুজনই শিডিউলের খালি না থাকার অজুহাতে প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। এছাড়াও সম্প্রতি একটি বড় অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে এই দুই নায়িকাকে একসঙ্গে পারফর্ম করার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কিন্তু তাতে সাড়া দেন নি তারা। এদিকা কারিনার প্রেমিক ও হবু স্বামী সাইফের সঙ্গে ক্যাটরিনাকে জুটি করেও একাধিক ছবি নির্মাণের প্রস্তাব আসলেও সেগুলো বাস্তব রূপ পায় নি। কারিনার আপত্তি তুলতে পারে, এই ভেবেই সাইফ ক্যাটরিনার বিপরীতে অভিনয় করা থেকে বিরত থাকছেন বলে জানা গেছে। কারিনা আর ক্যাটরিনার দ্বন্দ্ব এখন এমন অবস্থায় গেছে যে, বলিউডের কোন পার্টিতেও একজন গেলে আরেকজন অনুপস্থিত থাকছেন ইচ্ছে করেই। সরাসরি একে-অন্যের বিপরীতে এখন পর্যন্ত কেউ মুখ না খুললেও তাদের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, কারিনা আর ক্যাটরিনা দুজনই পরস্পরকে সহ্য করতে পারেন না। বলিউডের এই দুই সুপার হিরোইনের দ্বন্দ্বে কারণ আর কিছু নয়, নাম্বার ওয়ান পজিশন।
 

একদিন হারিয়ে যাওয়া শৈশবে

কাজল কেয়া
এখনও অনেক জায়গায় ঘুরিনি আমি। এর মধ্যে একটি ছিল আশুলিয়ার ফ্যান্টাসি কিংডম। বন্ধু-বান্ধবীদের মুখে অনেক শুনেছি এর এক্সাইটিং সব রাইডের কথা। এরপর থেকেই খুব লোভ হচ্ছিল সেখানে যাওয়ার। কিন্তু এতোদূরে যাওয়ার মত সঙ্গী, সময় বা সুযোগ হয়ে ওঠেছিল না। হঠাৎ একদিন বাংলানিউজের লাইফস্টাইলে চোখ বুলিয়ে দেখি ভালোবাসার গল্প লেখার আহ্বান। প্রকাশের যোগ্য হবে কিনা বা কতটুকু ভালো হবে এসব না ভেবেই লিখে ফেললাম একটি ভালোবাসার গল্প। খুব ভালো লাগলো যথন লাইফস্টাইল বিভাগে অন্যান্যদের গল্পের পাশে আমার গল্পটি দেখলাম। আরও ভালো লাগলো যখন পুরস্কার হিসেবে সব রাইডসহ ফ্যান্টাসি কিংডমের টিকিট হাতে পেলাম। টিকিটের মেয়াদ ছিল ১২ মার্চ পর্যন্ত। কবে যাবো সে প্রহরই গুণছিলাম। প্রায় ১০/১২ দিন পর অবশেষে ঠিক করলাম ২ মার্চ শনিবার যাবো। সঙ্গী আমার বর মেরাজ। সারারাত জেগে অফিস করায় বাসায় এসে সকাল সাড়ে ১০টায় ঘুম দিয়েছিলেন আমার সাহেব। তার ঘুম ভাঙলো দুপুর ২টায়। বাসার সবাই বলছিল আজ যেহেতু দেরি হয়ে গেছে তাই আগামী সপ্তাহে যেন যাই। কিন্তু মন কি আর মানে। আমি বললাম আজই যাব। ব্যস তারাতারি তৈরি হয়ে দুপুরে কিছু না খেয়েই রওনা হলাম। বাসা থেকে যখন বের হই তখন বাজে দুপুর পৌনে ৩টা। আমাদের বাহন হচ্ছে মটোরসাইকেল। বেরিবাঁধ হয়ে ছুটলো আমাদের বাইক। খুব ভালো লাগছিল সেই পথ চলা। দুপাশে সবুজ আর শান্ত। বেরিবাঁধের শেষ মাথা থেকে বায়ে মোড় নিলে আশুলিয়ার রাস্তা। রাস্তাটা যেন শেষ হচ্ছে না, মনে হচ্ছে কখন যাব সেই স্বপ্নের দেশে।
৪৫ মিনিট পর আমরা পৌঁছালাম ফ্যন্টাসি কিংডমের গেটের কাছে। পার্কিংয়ে বাইক রেখে আমরা ভিতরে গেলাম। প্রথমেই ঢুকলাম হেরিটেজ পার্কে। আগেই খাওয়ার দাওয়ার পর্বটা সেরে নিলাম। হেরিটেজ পার্কে রয়েছে আহসান মঞ্জিল, শহীদ মিনার, স্মৃতিসৌধ, সংসদ ভবন, সাতগম্বুজ মসজিদসহ বাংলাদেশের বেশ কিছু ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার ছোট ছোট প্রতিকৃতি। মনে হলো হারিয়ে গেছি সেই যুগে। শুরু হলো আমাদের দুজনার ফটোসেশন। সময় কম বলে হেরিটেজের কোনো রাইডেই চড়তে পারিনি আমরা। হেরিটেজ থেকে বের হয়ে ঢুকলাম ঈগলু হাউজে। অন্ধাকার ঘরটাতে ঢোকার পর একজন এসে হিন্দি একটি গান ছেড়ে দিলেন ফুল ভলিউমে। মাঝখানে রাখা আছে বরফ। আবার ওপর থেকে শিশিরের মতো পড়ছে পানি। এরপর ঢুকলাম ফ্যান্টাসি কিংডমের ভেতরে। ঢুকেই আবার ছবি তোলা। হাঁটতে হাঁটতে চোখে পড়লো রোলার কোস্টার নামে এক্সাইটিং একটি রাইডের দিকে। দু’জনার টিকিট দেখিয়ে মাত্র তিনজন উঠলাম সে রাইডটিতে। আমি আর  মেরাজ বসেছিলাম একেবারে সামনে। রাইডটি যখনি চলতে শুরু করলো আমি ভয়ে প্রাণপণে চিৎকার শুরু করলাম। মনে হচ্ছিল এখনই ছিটকে পড়ে যাবো নিচে। তবে ভয়ের চেয়ে মজাই পেয়েছিলাম বেশি। আর মেরাজ এতোই মজা পেয়েছিল যে আরেকবার ওই রাইডে চড়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেছিল। পরে অবশ্য সময়ের জন্য চড়া হয়নি। ভয়ংকর ওই রাইড থেকে নামার পর সঙ্গীসহ কয়েকজনের সঙ্গে ঢুকলাম অন্ধকার একটি ঘরের মধ্যে। ঘরটির মধ্যে ঢুকে মনে হলো আমি সৌর জগতে আছি। লোহার গ্রিল বিছানো সরু একটি পথ দিয়ে যাওয়ার সময় মনে হলো আমি ঘুরছি। এই বুঝি উল্টে পরে গেলাম। আবারও চিৎকার করতে লাগলাম ভয়ে। সবাই আমাকে বোঝানোর চেষ্টা করতে লাগলো ভয় পাওয়ার কিছু নেই, আমি ঘুরছি না ঘুরছে দেয়াল আলো করে ডিজিটাল ছবি। এরপর আন্ডারগ্রাউন্ডের মতো একটা পথ সোজা ওয়াটার কিংডমের ভেতরে। যাওয়ার সময় মনে হচ্ছিল আমি পানির নিচের জগতে আছি। ভেতরে ঢুকে শুনলাম পানির কৃত্রিম ঢেউ দিতে এখনও ৩০ মিনেটের মতো বাকি।  টায়ার নিয়ে পানির রাইডগুলোতে চড়া শুরু করলাম। খুব মজা পাচ্ছিলাম দুজনই। বার বার টায়ারে নিয়ে ৩/৪ তলার মতো ওপরে ওঠে বড় পাইপের মত জায়গা দিয়ে নিচে নামা। দারুণ লাগছিল। মনে হচ্ছিল একদিনের জন্য একেবারেই হারিয়ে গেছি। যেন ফিরে গেছি পেছনে ফেলে আসা দূরন্ত শৈশবে। পানিতে কৃত্রিম ঢেউ দেওয়ার ৫ মিনিট আগে সবাইকে জানানো হলো, নেমে গেলাম পানিতে। ঢেউ এসে আমাদের ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, যেন সত্যি সত্যি সাগরের ঢেউ। ওয়াটার কিংডম থেকে বের হয়ে দেখি হিন্দি গানের তালে তালে নাচছে একদল ছেলে মেয়ে। সন্ধ্যার নাস্তা খেতে খেতে দেখছিলাম সে নাচ। এরপর চড়লাম আরেকটা রাউডে। নামটা ঠিক মনে করতে পারছিনা। রেইলাইনের মতো একটা খোলা ছোট বগি আস্তে আস্তে উঠছে ওপরে, এরপর হঠাৎ দ্রুত গতিতে নিচে নেমে যাচ্ছে। পর পর তিনবার। বিদ্যুৎ না থাকায় সান্তা মারিয়া আর ম্যাজিক কার্পেটে উঠতে পারিনি। তবে তা পুষিয়ে নিয়েছি অন্য রাইডগুলোর সঙ্গে রিপ্লেস করে। বাম্পার কারে উঠেছি দুবার। গাড়ি কন্ট্রোল করা শিখতে শিখতে রাউডের সময় শেষ। এরপর জুজু ট্রেনে চড়ে দেখে নিলাম পুরো ফ্যান্টাসি কিংডম। সব শেষে ইজিডিজি। সময় একেবারে শেষ পর্যায়ে থাকায় আমরা দু’জনই চড়েছিলাম ওই রাইডে। এরপর আস্তে আস্তে বাড়ির পথে। ফ্যান্টাসি কিংডমে যতক্ষণ ছিলাম মনে হচ্ছিল প্রতিদিনের দায়িত্ব, হাজারো কাজ, সবকিছু ভুলে আমরা দু’জন শৈশব ফিরে পাওয়া মুক্ত মানুষ।
লাক্স ব্রাইডল শো
লাইফস্টাইল ডেস্ক
বিয়ে নিয়ে সাধারনত আমাদের দেশীয় টিভি চ্যানেলে তেমন উল্লেখযোগ্য কোন অনুষ্ঠান হয়না। জনগণের চাহিদা এবং প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে আরটিভি আয়োজন করেছে বিয়ের যাবতীয় খুটিনাটি বিষয় নিয়ে অনুষ্ঠান ‘ব্রাইডল শো’। বর কনে দেখা থেকে শুরু করে বিয়ের আগের প্রিপারেশন, বিয়ের আংটি (এনগেজমেন্ট), বিয়ের কেনাকাটা,কোথায় কি কি পাওয়া যায়, হলুদ সন্ধ্যার আয়োজন, হলুদের কেনাকাটা, বিয়ের সাজ, পোষাক, গহনা, মেকআপ, বিয়ের যাবতীয় অনুষ্ঠানের ছবি ও ভিডিও ধারন, বিয়ের আমন্ত্রনপত্র তৈরি ও বিতরন, বিয়ের দেনমোহর, স্বাক্ষী, উকিল, রেজিষ্ট্রেশন, বিয়ের অনুষ্ঠান কোথায় কোথায় হতে পরে: যোগাযোগ ও খরচ, বিয়ের গাড়ি, বাসর ঘর সাজানো। এছাড়াও দেশীয় বিয়ের বিভিন্ন রীতিনীতি (একটি প্যাকেজ), তারকাদের বিয়ে (একটি প্যাকেজ), সনাতন বিয়ের রীতিনীতি (মুসলিম বিয়ে, হিন্দু বিয়ে ও অন্যান্ন বিয়ের নিয়মকানুন),বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিয়ের আয়োজন (একটি প্যাকেজ) কনেকে ঘরে নেওয়ার যাবতীয় বিষয় নিয়ে বিস্তারিত তলে ধরা হয়। শাহরিয়ার ইসলামের প্রযোজনায় ও শারমিন লাকির সাবলীল উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানটি সপ্তাহের প্রতি সোমবার আরটিভিতে রাত ৯টা ৫০ মিনিটে প্রচার হয়।
কাপড় আয়রন করার পদ্ধতি
লাইফস্টাইল ডেস্ক 
আপনি সঠিক উপায়ে কাপড় আয়রন করছেন তো? আসুন জেনে নিই সঠিকভাবে কাপড় আয়রন করার কয়েকটি টিপস: 
টিপসগুলো দিয়েছেন বিখ্যাত ‘রোয়েন্টা আইরন্স’ এর পণ্য ব্যবস্থাপক ডোনা ওয়েলস। ১. তাপমাত্রা অনুযায়ী পোশাকের তালিকা তৈরি করুন। সিল্ক এবং সিনথেটিক কাপড় নিম্ন ও মাঝারি তাপমাত্রায় (প্রায় ৩৫০ ফারেনহাইট)। পশমি কাপড় মাঝারি থেকে উচ্চ তাপমাত্রায় । এবং সুতি কাপড় উচ্চ তাপমাত্রা ৪০০ থেকে ৪২৫ ফারেনহাইট তাপমাত্রায় ইস্ত্রি করুন। যেহেতু সঠিক তাপমাত্রা ঠিক করা কঠিন কাজ। তাই তাপমাত্রা পরিবর্তন করার পর কয়েক মিনিটের জন্য আয়রন মেশিনটি রেখে দিন। ২. আয়রন করার পর পরই কাপড় ভাঁজ করে হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে রাখুন। ৩. গোল করে কখনোই আয়রন করবেন না। এতে কাপড়ের মধ্যে টান লাগতে পারে। আর লম্বালম্বিভাবে আয়রন করলে কাপড়ের ভাঁজ দূর করে। ৪. অনেক বড় বা লম্বা কোন কাপড় যেমন: পর্দা বা টেবিলকভার আয়রন করার সময় পাশে ২টি চেয়ার বসিয়ে নিন, যাতে কাপড়গুলোতে আপনার আয়রন শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভাঁজ না পরে। টেবিলে তোয়ালে বিছিয়ে নিন যাতে ইস্ত্রির গরমে আয়রন করার টেবিলটি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। ৫. আয়রন সংবেদনশীল কাপড়ের উপরে পরিষ্কার ছোট সুতির কাপড়, রুমাল বা গামছা দিয়ে আয়রন করুন। আয়রন সব সময় কাপড়ের উল্টো পাশে করুন যাতে কাপড় ঝলসে না যায়। ৬ . আপনার লোহার আয়রনের সঙ্গে একটা মাল্টিপ্লাগ ব্যবহার করা জরুরি। এছাড়া ১২ মাত্রার বিদ্যুত্প্রবাহের বৈদ্যুতিক তার হলে ভাল হয়। কম ওজনের বৈদ্যুতিক তার ব্যবহার না করাই ভাল। এতে আয়রন খুব গরম হয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। নিশ্চিত হোন যে আপনি সঠিক মাপের বৈদ্যুতিক তার ব্যবহার করছেন। ৭. কাপড়ের শুরু থেকে শেষ, বাইরে থেকে ভেতরে এভাবে আয়রন কহতে দিন।